শুক্রবার, ২০ আগস্ট, ২০২১

তৈলাক্ত ত্বকের জন্য কার্যকরী ৫টি ফেসপ্যাক

১। বেসন এবং হলুদের ফেসপ্যাক

দুই টেবিল চামচ বেসন, আধা চা চামচ হলুদের গুঁড়ো এবং কিছু পরিমাণ লেবুর রস একসাথে মিশিয়ে প্যাক তৈরি করে নিন। এই প্যাকটি ত্বকে লাগিয়ে ২০ মিনিট অপেক্ষা করুন। শুকিয়ে গেলে ম্যাসাজ করে মুখ পরিষ্কার করে নিন। বেসন এবং হলুদ ত্বকের উজ্জ্বলতা বৃদ্ধি করবে।

২। মুলতানি মাটির ফেইস প্যাক

মুলতানি মাটি, গোলাপ জল এবং অল্প একটু লেবুর রস একসাথে মেশান। এবার এটি মুখে লাগিয়ে নিন। শুকিয়ে গেলে পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। মুলতানি মাটি ত্বকের অতিরিক্ত তেল শুষে নেয়। গোলাপ জল ত্বক ময়শ্চারাইজ করে এবং লেবুর রস প্রাকৃতিক ব্লিচিং হিসেবে কাজ করে থাকে।

৩। টমেটো এবং লেবুর রস

দুই টেবিল চামচ টমেটো রস এবং লেবুর রস মিশিয়ে প্যাক তৈরি করে নিন। এটি মুখে ২০ মিনিট লাগিয়ে রাখুন। ২০ মিনিট পর পানি দিয়ে মুখ ধুয়ে ফেলুন। এই প্যাক স্কিন টোন ধরে রেখে ত্বকের উজ্জ্বলতা বৃদ্ধি করতে সাহায্য করবে।

৪। নিম ফেইস প্যাক

চারটি নিম পাতা কুচি করে সিদ্ধ করে বেটে নিন। এরপর এর সাথে এক চা চামচ গোলাপ জল বা লেবুর রস মিশিয়ে প্যাক তৈরি করুন। আপনার ত্বকে এই প্যাকটি ভাল করে লাগান। ১৫ মিনিট পর শুকিয়ে গেলে কসুম গরম পানি দিয়ে মুখ ধুয়ে ফেলুন। ব্রণ দূর করতে নিম অনেক কার্যকরী। এর অ্যান্টি ব্যাক্টেরিয়াল উপাদান ব্রণ দূর করে ত্বক পরিষ্কার করে থাকে।

৫। কমলার খোসার ফেসপ্যাক

কমলার খোসা শুকিয়ে গুঁড়ো করে নিন। এরসাথে পানি অথবা টকদই মিশিয়ে প্যাক তৈরি করুন। কমলার এই প্যাকটি মুখ এবং ঘাড়ে ব্যবহার করুন। শুকিয়ে গেলে পানি দিয়ে মুখ ধুয়ে ফেলুন। কমলার এই প্যাকটি ত্বকের অভ্যন্তরীণ ময়লা পরিষ্কার করে। এছাড়া এটি ত্বক থেকে অতিরিক্ত তেল দূর করে দেয়।

বৃহস্পতিবার, ১৯ আগস্ট, ২০২১

আইশ্যাডো ব্যবহারের ক্ষেত্রে সচেতনতা



১) আইশ্যাডো প্যালেটের ছোট্ট ব্রাশ দিয়ে ব্লেন্ড করা
আইশ্যাডো প্যালেট কিনলে তার সাথে ছোট্ট ব্রাশ পাওয়া যায়। এটি মূলত আইশ্যাডো লাগানোর ব্রাশ। অনেকে এই ব্রাশ দিয়েই ব্লেন্ড করার মতো ভুলটি করে থাকেন। এই কাজটি করবেন না। আইশ্যাডো ব্লেন্ডার ব্রাশ দিয়েই ব্লেন্ড করুন। এতে করে পারফেক্ট ভাবে ব্লেন্ড করতে পারবেন।

২) ভালো করে ব্লেন্ড না করা
আইশ্যাডো যদি ভালো করে ব্লেন্ড না কর হয় তাহলে তা চোখের পাতায় ভেসে থাকে যা দেখতে বেশ বিশ্রী দেখায়। বিশেষ করে যদি ২/৩ টি রঙের আইশ্যাডো ব্যবহার করে ভালো করে ব্লেন্ড না করা হয় তাহলে তা আলাদা করে বোঝা যায় যা পুরো মেকআপ নষ্ট করে দেয়। সুতরাং আইশ্যাডো ব্লেন্ড করার ব্যাপারে সতর্ক থাকুন।

৩) আইশ্যাডো ব্যবহারের আগে কনসিলার লাগানো
অনেকেই ডিম আগে না মুরগী আগের মতো আইশ্যাডো আগে না কনসিলার আগে ব্যাপারটির মধ্যে গণ্ডগোল করে ফেলেন ফলে আইশ্যাডো সঠিকভাবে লাগানো হয় না। তাই মনে রাখুন, প্রথমে আইশ্যাডো লাগিয়ে ভালো করে ব্লেন্ড করে নিন এবং তার পর কনসিলার ব্যবহার করুন।

৪) চোখের নিচের পাতায় বেশি আইশ্যাডোর ব্যবহার
চোখের নিচের পাতায় অনেকেই বেশ গাঢ় করে এবং মোটা করে আইশ্যাডো ব্যবহার করেন যার ফলে আপনাকে অনেক ক্লান্ত দেখায়। চোখের নিচের পাতায় শুধুমাত্র চোখের পাপড়ির কোল ঘেঁষে হালকা করে আইশ্যাডো দিন।

৫) চোখের রঙের সাথে মিলিয়ে আইশ্যাডো দেয়া
অনেকেই পছন্দের রঙের লেন্স পড়ে লেন্সের রঙের সাথে মিলিয়ে চোখে আইশ্যাডো দিয়ে থাকেন যা সম্পূর্ণ ভুল। নিয়ম অনুযায়ী চোখের রঙের উল্টো রঙটিই আইশ্যাডো দেয়া উচিত নতুবা মেকআপ ভালো দেখাবে না।

সোমবার, ১৬ আগস্ট, ২০২১

খাঁটি নারকেল তেল তৈরির পদ্ধতি

চারিদিকে শুধু ভেজালের জয়জয়কার। খাঁটি পণ্য পাওয়ার কথা তো কেউ স্বপ্নেও ভাবে না। এই ভেজালের মেলায় অপেক্ষাকৃত কম ভেজালযুক্ত পণ্য কেনার প্রতিযোগিতায় মত্ত হয়ে আছে সবাই। আর নারকেল তেল ? খাঁটি নারকেল তেল চুলে ব্যবহার করা আর সোনার হরিণ পাওয়া যেন একই কথা।

উপকরণ
ঘরে বসে খাঁটি নারকেল তেল তৈরি করতে যা যা লাগবে-
  • দুটি নারকেল
  • একটি ছুড়ি
  • একটি ব্লেন্ডার বা নারকেল কোড়ানি
  • একটি রান্নার প্যান বা পাত্র
  • একটি ছাঁকনি

পদ্ধতি

আপাতদৃষ্টিতে নারকেল তেল তৈরি করা ঝামেলার মনে হলেও এটি আসলে খুব-ই সোজা।
  • প্রথমেই নারকেলটি কেটে বা ফাটিয়ে এর মধ্যে থেকে নারকেল বের করে নিন।
  • যদি ব্লেন্ডার ব্যবহার করতে চান তাহলে ছুড়ি দিয়ে ছোট ছোট পিস করে নারকেল গুলো বের করে নিন।
  • কোড়ানি ব্যবহার করলে ছুরি দিয়ে আলাদা করে কেটে বের করার প্রয়োজন নেই; সেক্ষেত্রে নারকেল কোড়ালেই হবে।
  • ছোট ছোট টুকরাগুলি ব্লেন্ডারে দিয়ে ব্লেন্ড করে পেস্ট তৈরি করুন।
  • ব্লেন্ডারে ব্লেন্ড করার সময় কিছুক্ষণ পর পর সামান্য পরিমাণে পানি দিন। এতে পেস্টটি নরম এবং মিহি হবে।
  • পেস্টটি তৈরি করার পর ভাল করে পিষে এর থেকে নারকেলের দুধ আলাদা করে নিন। নারকেলের দুধ আলাদা করলে নারকেলের চিটা থেকে যাবে। নারকেলের চিটা খাবার হিসেবে গ্রহণ করতে পারেন। চাইলে গাছের সার হিসেবেও ব্যবহার করতে পারেন।
  • এবার এই নারকেলের দুধটি একটি রান্নার পাত্রে রেখে গরম করতে থাকুন।
  • কিছুক্ষণ পরেই দেখতে পাবেন নারকেলের সাদা অংশের উপরে তেল আলাদা হতে শুরু করেছে।
  • নারকেলের অংশটুকু বাদামী রঙ ধারণ না করা পর্যন্ত অল্প আঁচে জ্বাল দিতে থাকুন।
  • নারকেলের অংশটুকু পুরোপুরি বাদামী রঙ ধারণ করলে বুঝবেন বিশুদ্ধ তেল সম্পূর্ণরূপে নিঃসৃত হয়েছে।
  • একটি ছাঁকনি দিয়ে ছেঁকে তেলটি আলাদা করে নিন।
  • এভাবে মাত্র কয়েক ঘণ্টার মধ্যে আপনি পেয়ে যাবেন আপনার মনের মত বিশুদ্ধ নারকেল তেল ।

সতর্কতা

  • নারকেলের সাদা অংশ যেন পরিষ্কার থাকে। নারকেলে ময়লা বা ধুলা থেকে গেলে নারকেল তেল তার গুণগত মান হারায়।
  • নারকেলের দুধ বের করার সময় খেয়াল রাখবেন তার মধ্যে যেন নারকেলের টুকরা বা দানাদার অথবা কোড়ানো কোন অংশ থেকে না যায়। ভুলেও যদি এরকম কিছু থেকে যায় তাহলে জ্বাল দেয়ার সময় সেগুলো পুড়ে তেলের রঙ কালো করে ফেলবে।
  • মাঝারি বা অল্প আঁচে ধীরে ধীরে জ্বাল দেবেন। একটু পর পর চামচ দিয়ে নাড়বেন। খেয়াল রাখবেন যেন কোন ভাবেই পোড়া না লাগে। এক্ষেত্রে নন-স্টিকি ফ্রাই প্যান হলে ভাল হয়।

রবিবার, ১৫ আগস্ট, ২০২১

শিশুর জন্মের পর মায়ের চুলপড়া প্রতিরোধে করণীয়

নরমাল ডেলিভারি ও সিজারিয়ান কোনটিতে বেশি চুল পড়ে?

নরমাল ডেলিভারি একটি স্বাভাবিক ঘটনা। তাই হরমোনের মাত্রা কমে স্বাভাবিকভাবে আর সিজারিয়ান সেকশন অপারেশনের পর হরমোনের মাত্রা হঠাৎ করে কমে যায়। তাই সিজারের পর চুল পড়ার আশঙ্কা বেশি।
মায়ের ঘুম না হলেও চুল পড়ে। শিশুকে খাওয়ানোর জন্য রাতে বার বার মাকে উঠতে হয়, সারা দিন মাকে হিমশিম খেতে হয় শিশু সামলাতে, নিজের দিকে খেয়ালই রাখা যায় না। আমাদের দেশের বেশির ভাগ পরিবারেরই সদ্যপ্রসব করা নারীর তেমন খাওয়া-দাওয়াও হয় না। ফলে ঘুম হয় না। তখন চুল পড়ে।
এ চুল গজানোর জন্য ক্ষেত্রবিশেষে চিকিৎসক মাথায় স্টেরয়েড ড্রপ ম্যাসাজ করতে বলেন। তাতে খানিকটা কাজ হয়। তা ছাড়া মাথায় ভালোভাবে ম্যাসাজের জন্য রক্তসঞ্চালন বাড়ে, তাতে চুল গজায়।
সন্তান হওয়ার সাধারণত দুই থেকে তিন মাস পর্যন্ত চুল পড়ে। তবে ঠিকমতো খাওয়া-দাওয়া ও যত্ন পেলে এই চুল আবার স্বাভাবিকভাবে গজিয়ে যায়।

যত্নআত্তি

সন্তান গর্ভে থাকাকালীন এই যত্ন শুরু হওয়া দরকার। গর্ভাবস্থা ও বুকের দুধ খাওয়ানো—এই দুই অবস্থাতেই মেয়েদের স্বাভাবিক প্রয়োজনীয় ক্যালরির ওপরে আরো ৩০০ থেকে ৫০০ ক্যালোরি অতিরিক্ত প্রয়োজন হয়। তাই প্রোটিন, কার্বোহাইড্রেট, ফ্যাট—সবই ঠিকমতো খেতে হবে। একবারে না পারলে বার বার অল্প অল্প করে খাওয়া দরকার। ফল ও দুধ খেতে হবে পর্যাপ্ত। আমাদের দেশে সন্তান হওয়ার পর দুধ, সাগু খাওয়ার যে প্রথা প্রচলিত আছে তা ক্যালোরির জোগান দেয়।

খুব বেশি তেল-মশলা দেওয়া খাবার এবং অতিরিক্ত ভাজাপোড়া না খাওয়াই ভালো।

রক্তস্বল্পতা একটি বড় সমস্যা। আমাদের দেশের ৮০ শতাংশ মায়ের হিমোগ্লোবিন ১০ গ্রাম শতাংশের নিচে। এর চিকিৎসা অবশ্যই ডাক্তারের নির্দেশ অনুযায়ী করতে হবে। চিকিৎসা মানে ইচ্ছেমতো আয়রন বড়ি বা ক্যাপসুল খাওয়া নয়। কোন ওষুধ কার ক্ষেত্রে কার্যকর তা একমাত্র চিকিৎসকই বলতে পারবেন। এ ছাড়া দেওয়া হয় অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট।
দুপুরের দিকে শিশুকে দুধ খাইয়ে ঘুম পাড়িয়ে যদি বাড়ির অন্য কোনো আত্মীয় বা পরিচারিকার কাছে রেখে মা নিজে অন্তত দু-তিন ঘণ্টা ঘুমিয়ে নিতে পারেন, তাহলে খুব ভালো হয়। দরকার হলে এ সময় শিশুকে খাওয়ানোর জন্য বুকের দুধ বের করে সঞ্চয় করে রেখে দেওয়া যেতে পারে।
সপ্তাহে দুদিন নন-মেডিকেটেড শ্যাম্পু দিয়ে মাথা ঘষে ফেলুন। রাতে শোয়ার আগে মাথায় লাইট হেয়ার অয়েল তুলোয় ভিজিয়ে নিয়ে ম্যাসাজ করুন অন্তত পাঁচ মিনিট।
সন্তান জন্মদানের পর মায়ের শরীর-স্বাস্থ্যের সঙ্গে চুল ও ত্বকের পূর্ণাঙ্গ পরিচর্যা খুবই দরকার। অনেক সময় সন্তান জন্মদানের পর মা তার স্বাভাবিক জৌলুস হারিয়ে ফেলেন। চুলের প্রকৃত যত্ন না নেওয়ার ফলে মায়ের মাথায় টাক পর্যন্ত দেখা যেতে পারে। তাই চুল পড়াকে অবহেলা না করে চিকিৎসকের শরণাপন্ন হোন ও চিকিৎসা নিন।

শনিবার, ১৪ আগস্ট, ২০২১

হাতের আঙুলের গিঁটের কালো দাগ দূর করার উপায়

১। লেবু এবং চিনির স্ক্রাব

২ চা চামচ মধু, ১ চা চামচ লেবুর এবং ১ চা চামচ চিনি ভাল করে মিশিয়ে নিন। এবার এই মিশ্রণটি দিয়ে আঙ্গুলের গিঁটে ম্যাসাজ করে লাগান। এভাবে ১৫ মিনিট ম্যাসাজ করুন। লেবুর ব্লিচিং এজেন্ট কালচে দাগ দূর করে এবং মধুর প্রাকৃতিক ময়েসচারাইজার ত্বকের রুক্ষতা দূর করে মসৃণভাব ফুটিয়ে তোলে। যা আঙুলের গিঁটের কালো দাগ দূর করতে সাহায্য করে।

২। দুধের সর এবং হলুদের গুঁড়ো

১ চা চামচ দুধের সর এবং ১/২ চা চামচ হলুদের গুঁড়োর সাথে ২-৩ ফোঁটা বাদামের তেল মিশিয়ে প্যাক তৈরি করে নিন। এবার প্যাকটি আঙুলের গিঁটসহ কালো হয়ে যাওয়া ত্বকে ম্যাসাজ করে লাগিয়ে নিন। ২০ মিনিট অপেক্ষা করুন। শুকিয়ে গেলে পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। দ্রুত ফল পেতে এটি সপ্তাহে তিনবার ব্যবহার করুন।

৩। দুধ এবং ভিটামিন ই ক্যাপসুল

১ চা চামচ দুধ, দুধের সরের সাথে একটি ভিটামিন ই ক্যাপসুল মিশিয়ে নিন। এই পেস্টটি ত্বকে ম্যাসাজ করে ১০ মিনিট লাগিয়ে নিন। এটি আপনি প্রতিদিন ব্যবহার করতে পারেন।

৪। অলিভ অয়েল এবং চিনি

৩ টেবিল চামচ অলিভ অয়েল এবং ২ চা চামচ চিনি মিশিয়ে স্ক্রাব তৈরি করে ফেলুন। এবার এটি হাতের গিঁটের কালো স্থানে ৫ মিনিট ধরে ম্যাসাজ করে লাগিয়ে নিন। ৫ মিনিট পর পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। এরপর হালকা কোন ময়োশ্চারাইজার ব্যবহার করুন।

বুধবার, ১১ আগস্ট, ২০২১

তিনটি উপাদান ব্যবহারে ত্বকের কালো দাগ দূর!!!!

ব্রণের কালো দাগ, রোদে পোড়া ত্বক কিংবা মেছতার কালো ছোপ ছোপ দাগ দূর করবে মাত্র তিনটি প্রাকৃতিক উপাদান—গ্রিন টি, চিনি ও ময়দা। এই উপাদানগুলো একসঙ্গে মিশিয়ে মুখে স্ক্রাবিং করলে ত্বকের যেকোনো দাগই দূর হয়ে যাবে। কারণ, এতে রয়েছে অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট উপাদান, যা দাগ দূর করে ত্বককে উজ্জ্বল ও মসৃণ করে।




এই তিনটি উপাদান কতটুকু পরিমাণে এবং কীভাবে ব্যবহার করবেন, একনজরে চোখ বুলিয়ে নিন।

যা যা লাগবে

দুটি গ্রিন টি ব্যাগ, দুই টেবিল চামচ চিনি ও এক টেবিল চামচ ময়দা।

যেভাবে তৈরি করবেন

প্রথমে গরম পানির মধ্যে গ্রিন টি ব্যাগ দুটি ১০ থেকে ১৫ মিনিট ভিজিয়ে রাখুন। এবার পানি থেকে তুলে টি ব্যাগ দুটি কেটে এর পাতা বের করে নিন। কিছুক্ষণ ঠান্ডা করুন। ঠান্ডা হয়ে গেলে এর সঙ্গে চিনি ও ময়দা ভালো করে মিশিয়ে প্যাক তৈরি করুন।

যেভাবে ব্যবহার করবেন

প্যাকটি পুরো মুখে লাগিয়ে হালকাভাবে ৫ থেকে ১০ মিনিট ম্যাসাজ করুন। এবার ১৫ থেকে ২০ মিনিট অপেক্ষা করুন। এর পর হালকা গরম পানি দিয়ে মুখ ধুয়ে ফেলুন।

পরামর্শ

১. প্যাক দিয়ে স্ক্রাবিং করার সময় বেশি জোরে ঘষবেন না।
২. সপ্তাহে অন্তত দুদিন এই প্যাক দিয়ে স্ক্রাবিং করুন।
৩. স্ক্রাবিং করার পর অবশ্যই মুখে ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করবেন।

যেভাবে সাজাবেন আপনার প্রি-ব্রাইডাল প্যাকেজ

থ্রেডিং
ব্রাইডাল মেক-আপের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ হচ্ছে চোখের সাজ আর চোখের সাজ সুন্দর আকর্ষণীয় একজোড়া ভ্রু ছাড়া অসম্ভব। পারফেক্ট শেপের এক জোড়া ভ্রু পালটে দিতে পারে আপনার পুরো চেহারাটাই। তাই ভালো কোন পার্লার থেকে থ্রেডিং করিয়ে নিন বিয়ের ৪-৫ দিন আগে। আপনার মুখ যদি লম্বা বা ডিম্বাকার হয় তবে রাউন্ড শেপ আর গোলাকার হলে ভি শেপের ভ্রু আপনাকে ভালো মানাবে। ভ্রু এর সাথে থ্রেডিং করে নিন আপার লিপ আর ফোরহেডও। ভ্রু যদি পাতলা ও অসমান হয় ২ – ১ মাস আগে থেকে নিয়মিত রাতে ক্যাস্টর ওয়েল মাখুন।

ওয়াক্সিং
সুন্দর মুখের সাথে প্রয়োজন সুন্দর লোমহীন হাত পাও। পার্লার থেকে অথবা বাড়িতেই করে নিন ওয়াক্সিং। আপনার বিয়ের দিনের ৭ দিন হাতে রেখেই ওয়াক্সিং করুন। কারণ ওয়াক্সিং এর পর অনেকেই হাত পায়ে র‌্যাশ ওঠে বা ফুলে যায়। ওয়াক্সিং পর হাত পায়ের বাড়তি যত্ন নিন।

– ওয়াক্সিং শেষে হাত পায়ে বরফ ঘষুন।
– ভালো মানের ময়েশ্চারাইজার লাগান।
– অ্যালোভেরা জেল /টি ট্রি অয়েল লাগাতে পারেন। এটি ত্বককে ঠান্ডা ও সতেজ রাখে, র‌্যাশ ওঠা প্রতিরোধ করে।

পার্লারে হাত ও পায়ের ওয়াক্সিং এ খরচ পড়তে পারে ৩০০-৫০০ টাকা।
বিয়ে একটি মেয়ের জীবনে নিয়ে আসে মনোঃদৈহিক নানা পরিবর্তন। এজন্য প্রয়োজন মানসিক ও শারীরিক প্রস্তুতি। ওয়াক্সিং করতে পারেন আপনার বিকিনি লাইন ও আন্ডার-আর্মও। কিন্তু বিকিনি লাইনের ওয়াক্সিং অত্যন্ত বেদনাদায়ক। বাড়িতে চেষ্টা না করাই ভালো। অনেক পার্লারে ওয়াক্সিং ছাড়াও বিকিনি লাইন ও আন্ডার-আর্মে থ্রেডিং এর ব্যবস্থা থাকে।

ফেসিয়াল
বিয়ের কনের থাকা চাই দাগমুক্ত, উজ্জ্বল, সুন্দর আর ঝলমলে ত্বক। সুন্দর কোমল ত্বকে মেক-আপ বসে ভালো আর সুন্দর দেখায়। এজন্য প্রয়োজন ত্বকের নিয়মিত যত্ন। বিয়ের অন্তত ৬ মাস আগে থেকেই নিয়মিত ফেসিয়াল করা উচিত। গোল্ড ফেসিয়াল, সিল্ভার, ডায়মন্ড বা পার্ল ফেসিয়াল বিয়ের কনের জন্য উপযুক্ত।পার্লার ভেদে এসব ফেসিয়ালে খরচ পড়বে ১০০০-২৫০০ টাকা। চাইলে বাড়িতেও করতে পারেন। নিউমার্কেট, গাউসিয়াতে গোন্ড, সিল্ভার ফেসিয়াল কিট কিনতে পাওয়া যায়।

মেনিকিউর-পেডিকিউর
সুন্দর কোমল হাত পায়ের জন্য চাই হাত-পায়ের নিয়মিত যত্ন। বিয়ের ৩ মাস আগে থেকেই মাসে ২ বার মেনিকিউর-পেডিকিউর করুন। হাত পায়ের যত্নে নিয়মিত মুলতানি মাটি ও হলুদের প্যাক ব্যবহার করুন। পার্লারে মেনিকিউর-পেডিকিউরে খরচ পড়বে ৭০০-১০০০ টাকা।

বডি পলিশিং
বিয়ের নানা রকম স্ট্রেস, শপিং আর হাজার কাজের চাপে প্রভাব পড়ে শরীরের ত্বকেও। তাই মুখের সাথে নিন শরীরের যত্নও। এজন্য করতে পারেন বডি পলিশিং। এটি দেহের মরা কোষ দূর করে ত্বক উজ্জ্বল ও কোমল করে। বডি পলিশিং বা বডি স্পা করতে খরচ পড়বে ১৫০০-২৫০০ টাকা।

চুলের যত্ন
বিয়ের সময় চুলের উপর দিয়ে যায় নানা রকম অত্যাচার। হেয়ার সেটিং স্প্রে, হিটিং, গ্লিটার, কালারিং এসবে চুল হয়ে পড়ে দূর্বল, প্রাণহীন। তাই আগে থেকে চুলের যত্ন নিয়ে চুলকে প্রস্তুত করে তুলুন। চুলের যত্নে করতে পারেন হেয়ার স্পা, ডিপ কন্ডিশনিং বা হেনা। চুলের ধরন ও দৈর্ঘ্যের উপর নির্ভর করে এই সেবা গুলোতে খরচ পড়বে ১০০০-১৫০০ টাকা।

পারসোনা, ওমেন্স ওয়ার্ল্ড, ড্রিমস, লা বেল, ফারজানা শাকিলস এসব নামকরা পার্লার গুলোতে বিভিন্ন প্রি-ব্রাইডাল প্যাকেজ অফার করে থাকে। খরচ পড়বে ১০০০০-১৫০০০ টাকা। আপনার পছন্দ অনুযায়ী যেকোনো পার্লার থেকে প্রি-ব্রাইডাল সেবা গুলো নিতে পারেন। বিবাহ পূর্বক সৌন্দর্য চর্চায় হয়ে উঠুন অনন্য।