পার্টি মেকাপ লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
পার্টি মেকাপ লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

শনিবার, ৮ নভেম্বর, ২০২৫

পার্টি মেকআপ গাইড ২০২৫ – শীতের বিয়ে মৌসুমে ট্রেন্ডিং লুকস ও প্রো টিপস

 




২০২৫ সালের পার্টি মেকআপ ট্রেন্ড ও প্রো টিপস জানুন। শীতের বিয়ে মৌসুমে কোন মেকআপ লুক সবচেয়ে ট্রেন্ডে, কোন রঙের আইশ্যাডো, লিপস্টিক ও হাইলাইটার আপনার সাথে মানাবে — জানুন বিস্তারিত!

শীতের হাওয়া বইতে শুরু করলেই শুরু হয় বিয়ে ও পার্টির মৌসুম। এই সময়ে সবাই চান নিজেকে আরও পরিপাটি ও আকর্ষণীয়ভাবে সাজাতে। ২০২৫ সালের মেকআপ ট্রেন্ডে এসেছে নতুন কিছু পরিবর্তন — এখন জনপ্রিয় হচ্ছে ন্যাচারাল গ্লো, সফট গ্ল্যাম, আর গোল্ডেন হাইলাইটার লুক।
এই পোস্টে আপনি পাবেন এই মৌসুমের সবচেয়ে ট্রেন্ডিং পার্টি মেকআপ আইডিয়া এবং কিছু প্রফেশনাল টিপস যা আপনার লুককে করবে নিখুঁত ও নজরকাড়া! 


 ২০২৫ সালের ট্রেন্ডিং পার্টি মেকআপ লুকস

১️.Soft Glam Look

  • বেস হবে হালকা, কিন্তু ফিনিশ নিখুঁত ও উজ্জ্বল।

  • গোলাপি বা পীচ টোন ব্লাশ ব্যবহার করুন।

  • চোখে হালকা ব্রাউন বা রোজ গোল্ড আইশ্যাডো লাগান।

  • ঠোঁটে দিন ন্যুড বা গ্লসি লিপস্টিক।

২️. Classic Red Look

  • চিরকালীন রেড লিপস্টিক এখনো সবচেয়ে আকর্ষণীয় ট্রেন্ড।

  • চোখে উইংড আইলাইনার ও গোল্ডেন আইশ্যাডো ব্যবহার করলে আরও এলিগ্যান্ট লাগবে।

  • ফাউন্ডেশন ভালোভাবে blend করে ম্যাট ফিনিশ নিন।

৩️.Golden Glow Bridal Party Look

  • হাইলাইটার ব্যবহার করুন গালের হাড়, নাক ও কপালের ওপর — এতে মুখে প্রাকৃতিক উজ্জ্বলতা আসবে।

  • গোল্ডেন বা ব্রোঞ্জ আইশ্যাডো এই লুকের জন্য একদম উপযুক্ত।

৪️. Minimalist Dewy Look (New Trend 2025)

  • হালকা BB বা CC ক্রিম দিয়ে বেস তৈরি করুন।

  • লিপ টিন্ট, ক্রিম ব্লাশ ও সামান্য হাইলাইটারই যথেষ্ট।

  • সহজ, প্রাকৃতিক এবং ঝলমলে এই লুকটি দিনের পার্টির জন্য আদর্শ।

 প্রো মেকআপ টিপস:

১. মেকআপের আগে ময়েশ্চারাইজার ও প্রাইমার লাগান, যাতে ত্বক শুষ্ক না হয়।
২. Dewy Finish সেটিং স্প্রে ব্যবহার করলে স্কিনে স্বাভাবিক উজ্জ্বলতা বজায় থাকবে।
৩. লিপস্টিকের আগে অবশ্যই লিপবাম লাগান — ঠোঁট ফাটা ঠেকাবে।
৪. শীতের আলোয় গ্লো বাড়াতে হাইলাইটার একটু বেশি ব্যবহার করুন।
৫. পোশাকের রঙের সঙ্গে মিলিয়ে আইশ্যাডো বেছে নিন — গোল্ড, কপার, রোজ গোল্ড বা বারগান্ডি এই মৌসুমে বিশেষ ট্রেন্ডে।


শনিবার, ২৫ মে, ২০২৪

এত গরমেও নিজের মেকআপ ঠিক রাখুন


হালকা মেকআপ


গরমে ভারী মেকআপ না করাই ভালো। এসময় যতটা সম্ভব হালকা মেকআপ করবেন। চুল বেঁধে রাখলে গরম কম লাগবে। সঙ্গে টিস্যু বা রুমাল রাখবেন। যাতে মেকআপ ঠিকঠাক করা সহজ হয়। মেকআপ ব্যবহারের আগে মুখ ভালোভাবে ধুয়ে নিতে হবে। এরপর শুকনা ও পরিষ্কার তোয়ালে দিয়ে মুছুন। এরপর আইস ব্যাগ ব্যবহার করুন। এতে মেকআপের স্থায়িত্ব বাড়বে। মুখ শুকিয়ে গেলে মেকআপ শুরু করুন।

প্রাইমার ব্যবহার

মেকআপ দীর্ঘ সময় ধরে রাখতে চাইলে প্রাইমার ব্যবহার করতে হবে। তাই মেকআপের শুরুতে প্রাইমার লাগিয়ে নিন। এরপর ব্যবহার করুন ফাউন্ডেশন। খুব সুন্দরভাবে ব্লেন্ড করে নিন। এতে ত্বক মসৃণ দেখাবে।


চোখের মেকআপ

গরমের সময়ে সবার আগে গলতে শুরু করে চোখের মেকআপ। তাই চোখের সাজের দিকে নজর রাখা জরুরি। চোখের সাজ যেন নষ্ট না হয়ে যায় সেজন্য ওয়াটার প্রুফ কাজল বা আই লাইনার ব্যবহার করুন। এতে চোখের সাজ লেপ্টে যাওয়ার ভয় থাকবে না। শ্যাডোর ক্ষেত্রে চেষ্টা করুন গাঢ় রংগুলো এড়িয়ে যেতে। গরমে ভারী সাজে দেখতে সুন্দর লাগবে না। হালকা বা ন্যুড শেডের শ্যাডো ব্যবহার করুন। সেইসঙ্গে সেটি যেন ওয়াটার প্রুফ হয় সেদিকে খেয়াল রাখবেন।

ঠোঁটের সাজ

সব রঙের লিপস্টিক সবাইকে মানায় না। লিপস্টিকের কিছু শেড আছে যেগুলোতে হয়তো আপনাকে দেখতে বয়স্ক লাগতে পারে বা আপনাকে কম মানাতে পারে। সেসব শেড এড়িয়ে চলুন। এটি শুধু গরমে নয়, সব সময়েই করবেন। গাঢ় লাল, বেগুনি, হলুদ ইত্যাদি রঙের লিপস্টিক ব্যবহার করলে বয়স্ক বেশি লাগে। তাই এগুলো বাদ দিন। এসময় যতটা সম্ভব ম্যাট ফিনিশ লিপস্টিক ব্যবহার করুন। কারণ ক্রিমি লিপস্টিকের থেকে ম্যাট লিপস্টিক দীর্ঘস্থায়ী হয়।

মেকআপ শেষে

মেকআপ করা শেষ হলেই উঠে চলে যাবেন না। স্থির হয়ে বসুন আয়নার সামনে। খেয়াল করে দেখুন সব ঠিক আছে কি না। আপনাকে সত্যিই মানাচ্ছে কি না। কোনো অসঙ্গতি থাকলে ঠিক করে নিন। আর হ্যাঁ, মেকআপের শেষে অবশ্যই ফিক্সার স্প্রে করে নেবেন।

মঙ্গলবার, ২ মে, ২০২৩

মেকআপের মাধ্যমে সহজেই চোখ বড় ও আকর্ষণীয় করে তোলার উপায়


রূপচর্চা বিষয়ক একটি ওয়েবসাইটে কীভাবে চোখ বড় ও আকর্ষণীয় দেখানো যায় সে বিষয়ে মেইকআপের সহজ কিছু উপায় তুলে ধরা হয়।

ভিতরের অংশে হালকা রংয়ের শ্যাডোঃ
চোখ বড় ও আকর্ষণীয় করে তুলতে চোখের ভিতরের কোণা থেকে মাঝামাঝি পর্যন্ত হালকা রংয়ের শ্যাডো ব্যবহার করতে হবে। কারণ চোখের কোণায় হালকা শ্যাডো চোখ দেখতে বড় দেখাবে। কারণ এতে চোখে ঘুম ঘুমভাব কেটে যায় এবং দেখতে ফ্রেশ লাগবে।

ভ্রুর নিচে হাইলাইটারের ব্যবহারঃ
ভ্রুর ঠিক নিচে ‘ব্রাও বোন’-এর উপর হাইলাইট করে তুলতে হবে। এর জন্য হালকা শিমারি কোন আইশ্যাডো ব্যবহার করা যেতে পারে। ফোর্তে জানান, ওই শ্যাডোটি চোখের একদম ভিতরের কোণায়ও ব্যবহার করা যেতে পারে।

চোখের নিচে কনসিলারের ব্যবহারঃ
কম বেশি সবার চোখের নিচেই কালি বা কালচেভাব থাকে। আর এই কালচেভাব চোখের সৌন্দর্য্য অনেকটাই ম্লান করে ফেলে। তাই চোখের নিচের কালি ঢেকে ফেলতে অবশ্যই কনসিলার ব্যবহার করতে হবে। চোখের চারপাশের কালচেভাবের কারণে চোখ ছোট মনে হয়। তাই ত্বকের রংয়ের থেকে কিছুটা হালকা টোনের কনসিলার ব্যবহার করে চোখের নিচের অংশ কনসিল করে নিতে হবে।
সাদা বা হালকা রংয়ের কাজলের ব্যবহারঃ
চোখের নিচের ওয়াটার লাইনে সাদা বা ন্যুড রংয়ের কাজলের ব্যবহারের ফলে চোখ দেখতে বড় লাগে এবং ‘ড্রামাটিক’ একটি ভাব যুক্ত হয়।

ঠোঁটে ন্যুড লিপস্টিকঃ
মেইকআপের সহজ শর্ত, চোখে গাঢ় মেইকআপ করা হলে ঠোঁটে হালকা বা ন্যুড লিপস্টিক পড়তে হবে। কারণ এতে করে চোখ বেশি আকৃষ্ট করবে সবাইকে।

নকল পাপড়ির ব্যবহারঃ
চোখ অন্যের নজরে বড় দেখাতে নকল পাপড়ির জুরি নেই। তাছাড়া চোখে কয়েককোট মাস্কারাও চোখ বড় দেখাতে সাহায্য করে। তাছাড়া চোখে বাড়তি ‘ড্রামাটিক’ভাব ফুটিয়ে তুলতে ল্যাশ কার্লারও ব্যবহার করা যেতে পারে।

বুধবার, ২২ সেপ্টেম্বর, ২০২১

মেকআপের কিছু অজানা টিপস

আপনার ত্বক যদি বেশ উজ্জ্বল হয়ে থাকে তাহলে কোনো ধরনের ফাউন্ডেশন ব্যবহার করার দরকার নেই। এর জন্য শুধু চোখের নিচে কনসিলার ব্যবহার করুন। পাশাপাশি চোখের শ্যাডোর সঙ্গে ত্বকের উজ্জ্বলতা ঠিক করে নিন।

* মেকআপ করার আগে মুখের ত্বককে পরিষ্কার এবং ময়েশ্চারাইজ করে নিন। এতে করে মেকআপটি ত্বকে ভালোভাবে বসে যাবে এবং বেশ কমনীয় ও নমনীয় দেখাবে। ব্রোনজার মুখের মেকআপে এক ধরনের গ্লামার নিয়ে আসে। এটি কপালে এবং গালে ব্যবহার করলে একটি গ্লামারাস লুক তৈরি করে।

* ত্বকের কালার টোন বুঝে সঠিক ফাউন্ডেশনটি ব্যবহার করুন। ফাউন্ডেশনের গায়ে স্কিন টোন অনুযায়ী নম্বর দেওয়া আছে। এ নিয়মটিকে অনুসরণ করুন। তাহলে মেকআপটি আপনার ত্বকের রংয়ের সঙ্গে মিশে যাবে।

* স্কিনের টোন অনুযায়ী মুখের মেকআপ গাঢ় করুন। এতে করে মেকআপটি বেশ উজ্জ্বল হবে। কখনোই নিজের ত্বকের চেয়ে হালকা রঙের মেকআপ নির্বাচন করবেন না। যদি দ্বিধায় পড়ে যান, তাহলে কাছাকাছি হালকা ও গাঢ় দুটি রংই নিন এবং কাঙ্ক্ষিত রং পেতে ব্যবহারের সময় দুটো মিশিয়ে ব্যবহার করুন।

* ঠোঁটের মেকআপটি ন্যাচারাল করলে ভালো দেখাবে। যেমন- ত্বকের রংয়ের সঙ্গে যায় এমন রংয়ের লিপস্টিক ব্যবহার করুন। ফর্সাদের উজ্জ্বল রঙে বেশ ভালো মানিয়ে যায়। পার্টি মেকআপে অবশ্যই উজ্জ্বল লিপস্টিক ব্যবহার করুন। তবে গায়ের রংটাও মাথায় রাখতে ভুলবেন না যেন।

* ফ্রেশ এবং তারুণ্যতা ফুটিয়ে তুলতে চোখে জেল লাইনার ব্যবহার করতে পারেন। এটি চোখের মেকআপটিকে প্রাণবন্ত করে তুলবে। অন্যের কথার চেয়ে নিজের দৃষ্টির ওপর ভরসা করুন। মেকআপের জন্য যে রংটি আপনার কাছে ত্বকের সঙ্গে সবচেয়ে মানানসই লাগে, সেটিই বাছুন।

* মুখের সৌন্দর্য অনেকটাই নির্ভর করে আইব্রোর ওপর। মেকআপে আইব্রো অাঁকার সময় শেষটা কখনোই হঠাৎ করে করা যাবে না। এতে আপনাকে অনেক বেশি বয়স্ক দেখাবে। এ জন্য আইব্রোর শেষ পর্যন্ত এঁকে সঙ্গে সঙ্গে আরও একটু বাড়িয়ে নিন হালকা করে। তাহলে চেহারায় বেশ একটা শার্পনেস চলে আসবে।

* ফটোগ্রাফিক লুক আনার জন্য মেকআপটিতে হাইলাইটস ব্যবহার করুন। আইব্রোর নিচে এবং নাকের মাঝখানে হাইলাইটস ব্যবহার করলে মুখের আকৃতি শার্প হবে। ফলে ছবি ভালো আসবে।

* চোখের ক্লান্তিভাব দূর করতে বেগুনি এবং সবুজ লাইনার ব্যবহার করতে পারেন। চোখের সাজে শ্যাম্পেন কালারড আইশ্যাডো লাগান। চোখের ওপরের পাতায় মোটা রেখায় কালো আইলাইনার লাগান। চোখের নিচের পাতায় কাজল দিয়ে রেখা টানুন। ঘন করে মাশকারা লাগান চোখের পাপড়িতে।

শনিবার, ১৯ ডিসেম্বর, ২০২০

ব্লাশঅন দেয়ার সঠিক নিয়ম


নারীরা সাজগোজ ছাড়া কি থাকতে পারেন? মোটেই না। একটু আধটু সাজগোজ সব নারীই পছন্দ করেন। কাজল, লিপস্টিক, নেইলপলিশ দেয়া সাধারণ সাজগোজের মধ্যে পড়ে থাকে। যদি ভারী মেকআপ নেয়া হয় তখন আরও অনেক কিছুর দিকে নজর দিতে হয়। মুখের আকার এবং গালের দিকটি ফুটিয়ে তুলতে মুখের আকার আকৃতির সাথে মিলিয়ে ব্লাশঅন দেয়া হয়। কিন্তু সঠিক ভাবে ব্লাশঅন দিতে না পারলে দেখতে বেশ বিশ্রী লাগে। তাই বুঝে শুনে ব্লাশঅন দেয়া উচিত। তাহলে আজকে জেনে নিন কেমন আকৃতির মুখে কোথায় ব্লাশঅন দেয়া উচিত।

১) যদি উঁচু এবং বড় কপাল এবং চোয়ালের দিক চাপা হয় তবে কানের লতি থেকে গালের দিকে এবং থুঁতনির ঠিক মাঝে ব্লাশঅন দিন। এতে করে কপালের থেকে নজর সরে যাবে।

২) যদি থুতনি ও চোয়াল চওড়া এবং ছোটো কপাল হয়ে থাকে তাহলে গালের ওপরের দিকে এবং চোখের নিচের দিকে ও কপালে ব্লাশঅন দিন।

৩) যদি নাক অনেক বড় এবং ছড়ানো হয়ে থাকে তবে ঠিক নাকের মাঝের অংশে ব্লাশঅন দেবেন।

৪) যদি নাক অনেক বেশি চিকন এবং চাপা হয় তবে নাকের দুপাশে ব্লাশঅন দিন।

 মনে রাখুনঃ
 
– নিজের ত্বকের টোনের সাথে মিলিয়ে ব্লাশঅনের রঙ পছন্দ করার চেষ্টা করুন।
– অতিরিক্ত বেশি ব্লাশঅন ব্যবহার করবেন না।
– ব্লাশঅন দেয়ার ব্রাশ সব সময় পরিষ্কার রাখুন।

সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর, ২০২০

পার্লারের মতো ম্যানিকিওর করুন বাসাতেই

১) নেইল পলিশ দেবার আগে উষ্ণ সাবানপানিতে হাত কিছুক্ষণ ভিজিয়ে রেখে হাত ধুয়ে নিতে পারেন। অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল সাবান ব্যবহার করবেন না, এটা হাতের ত্বক রুক্ষ করে দেবে। এরপর হাতে একটা ভালো হ্যান্ড ক্রিম মেখে নিতে পারেন। পার্লারের ম্যানিকিওরের বিকল্প হিসেবে এটা কাজ করবে।

২) বেস কোট এবং টপ কোট দেওয়াটা জরুরী। বেস কোট আপনার নখের স্বাস্থ্য ভালো রাখে, নেইলপলিশের রঙ নখে শুষে নিতে বাধা দেয়। নখ হলদেটে হওয়া থেকে রোধ করে। আর টপ কোট দিলে অনেকদিন নেইল পলিশের রঙ এবং ঔজ্জ্বল্য বজায় থাকে। সহজে চলটা ওঠে না।

৩) ফ্যান ছেড়ে রেখে তার নিচে বসে অনেকে নেইল পলিশ দেন। ভাবেন এতে দ্রুত নেইল পলিশ শুকিয়ে যাবে। কিন্তু এর ফলে আসলে কৌটার নেইল পলিশ শুকিয়ে যায় এবং বেশিদিন ব্যবহার করা যায় না।

৪) নখ দ্রুত শুকানোর জন্য বরফ-পানিতে হাত ডুবিয়ে রাখতে পারেন।

৫) কটন বাড নেইল পলিশ রিমুভারে ডুবিয়ে নিন। নেইল পলিশ দিতে গেলে ছোটখাটো ভুল ঠিক করতে এটা কাজে দেবে।

৬) গ্লিটার নেইল পলিশ সাধারণ নেইল পলিশের চাইতে অনেক বেশি টেকসই হয়। কিন্তু বেস কোট ছাড়া গ্লিটার নেইল পলিশ দেবেন না।

৭) নেইল পলিশ দেওয়া শুরু করার আগেই নেইল পলিশ রিমুভারে ভেজানো একটা কটন বল দিয়ে নখ মুছে নিন। আগের কোন নেইল পলিশ থাকলে সেটা মুছে যাবে আর নখে ভালোভাবে নেইল পলিশ বসবে।

৮) প্রথমে এক স্তর বেস কোট দিয়ে নিন। এটা শুকালে প্রথমে নেইল পলিশের একটা পাতলা স্তর দিন। এরপর দ্বিতীয় একটা স্তর দেওয়া যেতে পারে। সাধারণত তৃতীয় স্তরে নেইল পলিশ দেওয়া লাগে না। এরপরে টপ কোট দিয়ে হাত শুকিয়ে নিন।

৯) অনেকেই বাম হাতে ভালোভাবে নেইল পলিশ দিলেও ডান হাতে দিতে পারেন না। এর জন্য দারুণ একটা ট্রিক হলো আইকা জাতীয় আঠা দেওয়া। এই আঠা আপনার নখের চারপাশের ত্বকে ভালোভাবে মাখিয়ে নিন। এরপরে নখে নেইল পলিশ দিন। এতে আশেপাশের ত্বকে লেগে গেলেও সমস্যা নেই। আইকার স্তর টেনে উঠিয়ে ফেলুন, এর সাথে অতিরিক্ত নেইল পলিশ উঠে চলে যাবে।

১০) খুব বেশি পরিমাণে নেইল পলিশ দেবেন না। এটা মোটা একটা স্তর তৈরি করে যেটা সহজে শুকায় না এবং সহজেই চলটা উঠে আসে। পাতলা করে একটা বা দুটো স্তরে নেইল পলিশ দিন।
১১) নেইল পলিশ জমে ঘন হয়ে গেলে এর কৌটাটাকে ঝাঁকাবেন না। দুই হাতের মাঝে নিয়ে রোল করে নিন।

শুক্রবার, ৩১ জুলাই, ২০২০

তৈলাক্ত ত্বকে দীর্ঘক্ষণ মেকআপ ধরে রাখার উপায়

তৈলাক্ত ত্বকের নারীরা সবসময়েই বেশ বিরক্তিকর একটি সমস্যায় পড়ে থাকেন তা হচ্ছে ত্বকে মেকআপ ধরে রাখার সমস্যা। শীত হোক গরম হোক সামান্যতেই ত্বকের মেকআপ গলে যাওয়ার সমস্যায় পড়েন তৈলাক্ত ত্বকের নারীরা। কারণ কিছুসময় পার হলেই ত্বকের অতিরিক্ত তেলের কারণে মেকাআপ গলতে থাকে। বিশেষ করে গরমকালে এই সমস্যা আরও বেশি দেখা যায়। কিন্তু পার্টিতে গেলে একটু বেশি সময় ত্বকে মেকআপ তো থাকাই লাগে। তখনই মূল সমস্যা শুরু হয়। তবে চিন্তা করার কিছু নেই। এই সমস্যারও রয়েছে দারুণ কিছু সমাধান। চলুন তাহলে জেনে নেয়া যাক তৈলাক্ত ত্বকে কি করে দীর্ঘক্ষণ মেকআপ ধরে রাখবেন।

১) প্রথমেই প্রাইমার ব্যবহার করুন
লস-অ্যাঞ্জেলসের মেকআপ আর্টিস্ট এমিলি ওয়ারেন বলেন, ‘তৈলাক্ত ত্বকে মেকআপ ধরে রাখতে প্রথমেই প্রাইমার ব্যবহার করে নেয়া উচিত। কপাল, নাক ও গালে অর্থাৎ মুখের ‘T’ জোনে ওয়াটার প্রুফ, অ্যান্টি-শাইনিং প্রাইমার ব্যবহার করুন’। প্রথমে মুখ পরিষ্কার করে প্রাইমার ব্যবহার করুন এবং এরপর অন্যান্য মেকআপ করুন।

২) অতিরিক্ত পাউডার ব্যবহার করবেন না
অনেকের মতে পাউডার ব্যবহার তৈলাক্ত ত্বকের জন্য ভালো, কারণ পাউডার ত্বকের বাড়তি তেল শুষে নেবে। কিন্তু সমস্যা এখানেই। অতিরিক্ত পাউডার ব্যবহার করলে পাউডার বাড়তি তেল শুষে নিয়ে মুখের ভাঁজগুলোতে মেকআপ ভেঙে যাওয়ার মতো সমস্যা সৃষ্টি করবে। তাই মুখে অতিরিক্ত পাউডার ব্যবহার না করলেই বেশ খানিকটা সময় ত্বকে মেকআপ ধরে রাখতে পারবেন।

৩) ব্লটিং পেপার সাথে রাখুন
টিস্যু নয় ব্লটিং পেপার সাথে রাখুন। ব্লটিং পেপারের দ্রুত বাড়তি তেল ও ঘাম শুষে নেয়ার ক্ষমতা রয়েছে। যখনই মনে হবে ত্বক ঘেমে যাচ্ছে তখনই ত্বকে ব্লটিং পেপার চেপে ধরে বাড়তি তেল ও ঘাম শুষে নিন। মনে রাখবেন ব্লটিং পেপার ত্বকের ঘষতে যাবেন না, এতে মেকাআপ উঠে যাবে। শুধু চেপে ধরে তেল ও ঘাম শুষে নিন। এতে অনেকটা সময় মেকআপ নষ্ট হবে না।
৪) অয়েল ফ্রি মেকাআপ
একটু বেশি টাকা খরচ করে মেকআপের সরঞ্জাম অয়েল ফ্রি কিনে ফেলুন। প্রাইমার থেকে শুরু করে শ্যাডো পর্যন্ত সব কিছুই অয়েল ফ্রি কিনুন। এতে করে ত্বকে মেকাআপ ধরে রাখতে সমস্যা হবে না।

৫) অরিতিক্ত তৈলাক্ত ত্বক দূর করুন
সপ্তাহে অন্তত ২ দিন ত্বকের অতিরিক্ত তৈলাক্ত ভাব দূর করতে মাস্ক ব্যবহার করুন। শসা, লেবু, চন্দন বা মুলতানি মাটির ঘরোয়া ফেসমাস্ক নিয়মিত ব্যবহারে ত্বকের তৈলাক্ততা অনায়েসেই দূর করে নিতে পারেন। এতে মেকআপের এই সমস্যায় পড়তে হবে না।

রবিবার, ১৯ জুলাই, ২০২০

গায়ের রঙের ধরন অনুযায়ী প্যানকেকের ব্যবহার

প্যানকেক ব্যবহারের সঠিক পদ্ধতি
* প্যানকেক ব্যবহারে দক্ষ হাতের প্রয়োজন। এ ছাড়া জানা থাকতে হবে কী কী শেডের প্যানকেক আপনার জন্য উপযোগী।
* প্যানকেক ব্যবহারের আগে ত্বক ভালো করে পরিষ্কার করে ময়েশ্চারাইজার লাগান।
* ত্বকে ময়েশ্চারাইজার সেট হওয়ার জন্য ২-৫ মিনিট সময় দিয়ে তারপর প্যানকেক ব্যবহার করুন। স্পঞ্জ পাফ পানিতে ভিজিয়ে প্যানকেক ব্যবহার করতে হয়। সে ক্ষেত্রে বরফ ঠাণ্ডা পানি হলে সবচেয়ে ভালো হয়, ত্বকে মেকআপ বেশিক্ষণ স্থায়ী হবে।
* স্পঞ্জ পানিতে ভিজিয়ে অতিরিক্ত পানি চিপে ফেলে ভেজা স্পঞ্জ দিয়ে প্যানকেক নিয়ে (যে যে শেড আপনার দরকার তা একসঙ্গে স্পঞ্জ লাগিয়ে নিন) সমানভাবে পুরো মুখে লাগাতে হবে। একবার পুরু করে না লাগিয়ে হালকা করে স্তরে স্তরে লাগান এবং প্রতিবার পাফ করার আগে মুখে পানি স্প্রে করে নিন, এতে সব জায়গায় সমান হবে।
* সমানভাবে প্যানকেক ব্লেন্ড করতে অনুশীলনের প্রয়োজন হয়। প্যানকেক সেট হতে ১০ থেকে ১৫ মিনিট সময় দরকার। এই সময়ের পরই বুঝতে পারবেন যে আপনার দেওয়া ঠিক হয়েছে কি না এবং কালার ম্যাচিং কতটা ভালো হয়েছে।
* অনেক সময় মুখের মেকআপ একটু হলদেটে হয়। এর কারণ হলো হলুদ প্যানকেক পরে লাগানো। এ ক্ষেত্রে ২-৩টি প্যানকেক মিশিয়ে লাগানোর সময় স্পঞ্জে হলুদ রঙের প্যানকেকটি প্রথমে লাগাতে হবে।
* নাকের দুই পাশ, গালের হাড়, থুঁতনি, চিবুক ইত্যাদি অংশের ভাঁজ ঢাকার জন্য ডার্ক শেড ব্যবহার করতে হবে। তবে সরাসরি না করে, আপনার উপযোগী নির্দিষ্ট শেডের সঙ্গে মিলিয়ে।

কোন শেডটি আপনার জন্য?
* গায়ের রং যদি খুব ফরসা হয়, তাহলে আপনি ২১ নম্বর শেড ও ইয়েলো- এই দুই শেড মিশিয়ে লাগাবেন। মনে রাখবেন, স্পঞ্জে আগে হলুদ প্যানকেক দুবার, তারপর ২১ নম্বর দুবার এভাবে মুখে লাগাতে হবে।
* যদি আপনি ফরসা হন, তবে ২২, ২৩ বা ২৪ ও হলুদ- এই তিনটি শেড মিশিয়ে ব্যবহার করবেন।
* উজ্জ্বল শ্যামবর্ণের অধিকারীরা ২৫ নম্বর এবং হলুদ রঙের প্যানকেকের সঙ্গে ২৩ নম্বর অল্প পরিমাণে মিশিয়ে ব্যবহার করবেন।
* যাঁরা শ্যামবর্ণ তারা ২৩ নম্বর ও হলুদ প্যানকেক ব্যবহার পারেন, তবে কেউ যদি একদম নিউট্রাল বেস চান, তবে তাঁকে ২৮ নম্বর এবং হলুদ শেড মিশিয়ে ব্যবহার করতে হবে।
* যাঁদের গায়ের রং কালো, তাঁরা ২৮, ৩০ এবং হলুদ- এ তিনটি শেড মিশিয়ে মুখে লাগাবেন।
* আপনার কাঙ্ক্ষিত শেডটি না পেলে সাদা ও গোলাপি শেডগুলো সামান্য পরিমাণে মিশিয়ে ব্যবহার করতে পারেন।

প্যানকেকের ধরন
প্যানকেক মেকআপ প্লাস্টিক অথবা টিনের প্যানে কেকের মতো ফর্মে পাওয়া যায়। ওয়াটার বেসড হওয়ায় এটি শুধু পানির সঙ্গে মিশিয়ে ব্যবহার করা যায়। পানি মিশিয়ে ব্যবহার করা হলেও সেট হওয়ার পর মোটামুটি ওয়াটারপ্রুফ মেকআপে রূপ নেয়।

কিছু টিপস মেনে চলুন
* প্যানকেক পরিষ্কার করতে বেবি অয়েল বা অয়েল বেসড ক্লিনজার ভালো কাজ করে। অয়েল ক্লিনজার দিয়ে পরিষ্কার করার পর যদি কুসুম গরম পানি দিয়ে ভালোভাবে গোসল সেরে নিতে পারেন, তাহলে চুলের আশপাশে লেগে যাওয়া মেকআপও পরিষ্কার হয়ে থাকে।
* এ ধরনের ভারী মেকআপ আপনার ত্বককে শুষ্ক করে তুলতে পারে, তাই সম্ভব হলে ইভেন্টের পরদিন ত্বকের বাড়তি যত্ন নিন।
* প্যানকেক কেনার পর চোয়ালে লাগিয়ে দেখে নিন ত্বকের রং ও আন্ডারটোনের সঙ্গে মানাচ্ছে কি না।
* বিয়ে, গায়ে হলুদ বা অন্যান্য বড় উৎসবে ভারী মেকআপের প্রয়োজন হলে প্যানকেক ব্যবহার করা হয়। তাই কেনার সময় পানি প্রতিরোধী কি না বা গরম ও আর্দ্রতায় কতটা কার্যকর, স্থায়িত্ব কেমন দেখে নেওয়া প্রয়োজন।
* সবশেষে প্যানকেক মেকআপ ভারী হওয়ায় অনেক সময় মুখের পোরগুলো বন্ধ করে দেয়। ফলে ব্রণ দেখা দেয়। তাই বরফ ও টোনার ব্যবহার করুন প্যানকেক ব্যবহারের আগে।

সোমবার, ১৫ জুন, ২০২০

মেকাপের খুঁটিনাটি/ মেকওভারের খুঁটিনাটি-

মেকওভারের খুঁটিনাটি-

মেকওভার বা এই রূপবদল আপনি যেকোন সময়ে করতে পারেন। আপনার ইচ্ছা অথবা কোন উৎসবের প্রয়োজনে নিজেকে সাজাতে পারেন সম্পূর্ণ নতুন কোন ভঙ্গিমায়। নিজের চিরচেনা ধারাটা ভেঙ্গে বেরিয়ে এসে নিজেকেই নতুন করে দেখার বিষয়টা সত্যিই মজাদার হবে।

মেকওভার এমন একটা বিষয় যা আপনি একদিনের জন্যেও ধারণ করতে পারেন, আবার চাইলে বেশ অনেকদিনের জন্যেও সেটা তুলে আনতে পারেন নিজের মধ্যে। সেটাও পুরোপুরি আপনার ইচ্ছা বা দরকার মতন হতে পারবে।

ধরে নিন, আপনার খুব বিশেষ একটি উপলক্ষ আছে সামনেই। অথবা কোন উৎসবের দিন ঘনিয়ে আসছে। সেইদিনে নিজেকে নতুন রূপে নতুন সাজে দেখবেন বলে ভাবছেন। তবে এবার প্রস্তুতি নেয়া শুরু করে দিন রূপবদলের জন্য!

চিরচেনা ছবি পাল্টে দেয়ার মানে কেবল এই নয় যে ভারী সাজপোষাকের আড়ালে আপনার এতোদিনের নিজের প্রতি অযত্নের ছাপ ঢেকে দিলেন। যদি অযত্ন করেই থাকেন এতোদিন, তবে এবার খানিক যত্ন নিন নিজের, সেটাও কিন্তু এক অর্থে মেকওভার হবে! খেয়াল রাখুন, সবাই আপনাকে অনেকগুলো দিন ধরে যা দেখেছে, যেমনটা তাদের কাছে আপনার চিত্র তৈরি হয়ে গেছে, সেটাকেই বদলে দিতে চলেছেন আপনি।

নিজের ছোটখাটো সব বিষয়েই বদল আনুন, যতোটা সম্ভব আপনার পক্ষে। মানুষের চেহারার ধরন অনেক বেশি করে তার কেশবিন্যাসের সাথে সম্পর্কযুক্ত। যদি নিজের মেকওভারটা বেশ কয়েকদিন ধরে রাখবেন বলেই ভেবে থাকেন তবে পাল্টে ফেলুন আপনার চুলের বিন্যাস। একেবারে ভিন্ন কিছু বেছে নিন নতুন হেয়ার স্টাইলে, তবে অবশ্যই যেন তা আপনাকে মানিয়ে যায়।

এতোদিনের সাজগোজেও বৈচিত্র আনতে হবে এইবার। চড়া সাজে স্বস্তি পাওয়া মানুষেরা সাজের বহরে একটু রাশ টানুন। হালকা, প্রাকৃতিক ধাঁচের মেকআপে মনযোগী হতে পারেন। মনে রাখুন, এই বদলটাই কিন্তু আপনার উদ্দেশ্য ছিলো। যারা নিত্যদিনের আয়োজনে কখনোই ঠোঁটে রঙের কাঁঠি ছোঁয়ানো পছন্দ করেন না, তারা এবার মাঝে মাঝে লিপস্টিক ব্যবহারের অভ্যাস করে নিতে পারেন। বা গাঢ় কাজল যাদের সবসময়ের অনিবার্য সাজের অংশ হয়ে থেকেছে তারা কাজলের কারবার তুলে দিন কিছু সময়ের জন্য।

গয়নার ব্যাপারেও সেই এক কথা চলবে। যেমনটা আপনার ধরন ছিলো আগে, বদলাতে হবে সেটাই। নতুন ধরনের জিনিস বেছে নিন। যে গয়নাটি কখনো পরা হয়নি, সেটি এবার পরেই দেখুন না কেমন লাগে নিজেকে।

পোশাকের ক্ষেত্রে একটু বেশিই সতর্কতা প্রয়োজন হয়। কারণ এই জিনিষটা স্পর্শকাতর হয় বেশি। আপনার রুচি বা ব্যক্তিত্বের পরিচয় বহনকারী হিসেবে অন্য যেকোন জিনিস থেকে পোশাক অনেক এগিয়ে। এই জায়গাতে পরিবর্তন আনুন রয়েসয়ে, অনেক ভেবেচিন্তে তবেই ভিন্ন পথে হাঁটুন। শাড়ি থেকে সালোয়ার-কামিজ বা সালোয়ার-কামিজ থেকে জিন্স-কুর্তায় নিজেকে গুছিয়ে নেয়াটা হয়তো অতো কঠিন নয়, তা আপনি সহজেই সামলে নিতে পারবেন। কিন্তু খুব বেশি ভিন্নতা আনতে যেয়ে এমন কিছু করে বসবেন না যাতে আপনারই কখনো অস্বস্তি হয়, বা সবার সামনে আপনার ব্যক্তিত্ব ম্লান হয়ে যায়। আপনিই ভালো বুঝবেন কোন কোন পোশাকে আপনার রুচি, ব্যক্তিত্ব এবং সৌন্দর্য ফুটতে পারে, নতুন পোশাকটাও বেছে নিন তার মধ্যে থেকেই।

মেকআপ এবং মেকওভারের পার্থক্য তো জানা হলো। এবার তবে চাইলেই করে নিন নিজের রূপবদল। চলতি ধারায় মন হারিয়ে নিজেকেই হারিয়ে ফেলবেন না যেনো, নিজেকে তেমনটাই সাজান যেমন আপনাকে মানিয়ে যাবে। তাহলে বহুদিনের পুরনো হোক বা আনকোরা নতুন, সব রূপসজ্জায় আপনি অসাধারণ হবেন, বিশ্বাস রাখুন!

রবিবার, ৩১ মে, ২০২০

ব্রণের সমস্যা নিয়েও মেকআপ করার গুরুত্বপূর্ণ টিপস

১) অনেকের ত্বকে খুব সহজেই ব্রণ ওঠে। তারা সাধারণ মেকআপ ব্যবহার না করে নন-কমোডোজেনিক বা নন-অ্যাকনিজেনিক পণ্যগুলো ব্যবহার করতে পারেন। এগুলো ত্বকের পোর বা রোমকূপ বন্ধ করে না ফলে ব্রণের ভয় কমে যায়।

২) পাউডার ধরণের মেকআপ কম ব্যবহার করুন। তার বদলে বেছে নিন ওয়াটার বেসড লিকুইড মেকআপ। যেমন লিকুইড ফাউন্ডেশন এবং ব্লাশ।

৩) ভারী ধরণের ফাউন্ডেশন ব্যবহার করবেন না। এর বদলে ব্যবহার করুন একেবারেই হালকা ফাউন্ডেশন। টিন্টেড ময়েশ্চারাইজারগুলো এক্ষেত্রে বেশি ভালো কাজ করে।

৪) ওয়াক্স আছে এমন পণ্য, অথবা স্টিক, প্যানকেক, পাউডার ধরণের ফাউন্ডেশনগুলো ব্যবহার না করাই ভালো কারণ এগুলো ব্রণের সম্ভাবনা বাড়িয়ে দেয়।

৫) নিয়মিত পরিষ্কার রাখুন আপনার মেকআপ ব্রাশ এবং স্পঞ্জ। কিছুদিন পরপর এগুলো পরিবর্তন করাতাও ভালো। কারণ পরিষ্কার না করলে আপনার ত্বকের ব্যাকটেরিয়া এবং অতিরিক্ত মেকআপ এগুলোতে লেগে থাকে। ফলে ত্বকে মারাত্মক ব্রণের উপদ্রব হতে পারে।

৬) আলতো হাতে মেকআপ দিন। বেশি দ্রুত বা ঘষাঘষি করে মেকআপ দিতে গেলে ত্বকের আরও বেশি ক্ষতি হবে। ত্বকে যতো কম হাত দেওয়া যায় তত ভালো।

৭) ত্বক কখনো বেশি শুষ্ক হতে দেবেন না। ত্বক শুকনো রাখলে তা অতিরিক্ত তেল উৎপাদন করবে এবং আরও বেশি বাড়বে ব্রণ। সারাদিন যেন ত্বক আর্দ্র থাকে তার জন্য হালকা একটি ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করুন দিনে শুরুতেই।

৮) মেকআপ শুরুর আগে অয়েল ফ্রি প্রাইমার ব্যবহার করতে পারেন। এতে তা ত্বক থেকে অতিরিক্ত তেল শুষে নেবে আর সারাদিন মেকআপ ধরে রাখবে।

৯) ব্রণ ঢাকতে ব্যবহার করতে পারেন ম্যাট মেকআপ। গ্লসি মেকআপ ব্যবহার করলে ব্রণ আরও বেশি প্রকট হয়ে ফুটে ওঠে। ম্যাট মেকআপ এগুলোকে ঢেকে দেয় সহজেই।

১০) সম্ভব হলে সম্পূর্ণ প্রাকৃতিক উপাদানে তৈরি মেকআপ ব্যবহার করুন। এগুলো ত্বককে সুস্থ রাখতে সাহায্য করবে।

১১) কিছু কিছু ফাউন্ডেশন ব্রণের প্রকোপ কমাতে সাহায্য করে। এগুলোতে থাকে স্যালিসাইলিক এসিড। সম্ভব হলে এগুলো ব্যবহার করুন।

১২) মেকআপে ডাইমেথিকোন থাকলে তা ব্যবহার করা ভালো এমন ত্বকের মানুষের। কারণ তা ব্রণ ঢাকতে সাহায্য করে।

সোমবার, ২৫ মে, ২০২০

ঈদের নজরকাড়া সাজের টিপস


ঈদে সুন্দরভাবে সাজার জন্য স্কিনকে একটু প্রস্তুত করা প্রয়োজন। তাই ঈদের আগের দিন একটি প্যাক লাগাতে পারেন, যা আপনাকে মরা চামড়াবিহীন, পরিষ্কার, উজ্জ্বল স্কিন দেবে। এক্ষেত্রে আপনি নিতে পারেন— মসুরের ডাল বাটা ২ চা চামচ, আধা ভাঙা চালের গুঁড়া ২ চা চামচ, দারুচিনি গুঁড়া ১/২ চা চামচ, পোস্তদানা বাটা ১/২ চা চামচ, পুদিনাপাতা বাটা ১/২ চা চামচ, ডিম ফেটা ২ চা চামচ, মধু ১ চা চামচ, লেবুর রস ১ চা চামচ, গোলাপ জল পেস্ট করার জন্য প্রয়োজনমতো।

তবে যাদের ড্রাই স্কিন তারা দুধ দিয়ে পেস্ট করবেন। মুখে মেখে ৩০ মিনিট পর ধোবেন।

সকালের সাজ :
সকালের সাজটা হবে স্নিগ্ধ, হালকা। শুধু ফেসপাউডার দিয়ে বেস তৈরি করে কাজল, মাস্কারা ও হালকা লিপস্টিক দিয়ে সাজটা সেরে নিতে পারেন। চুলকে বেণী, হাতখোঁপা, পনিটেল, যে কোনো ক্লিপ দিয়ে গুছিয়ে চট করে বেঁধে নেয়া যায়।

দিনের সাজ :
দিনের সাজ রাতের থেকে হালকা হবে। প্রথমে বেস তৈরির জন্য ফাউন্ডেশন লাগাবেন, যা আপনার স্কিনের রঙের সঙ্গে, স্কিনের ধরনের সঙ্গে মিল রেখে ব্যবহার করতে হবে। ফাউন্ডেশনের ওপর ফেস পাউডার বুলিয়ে নিন। এখন আই শ্যাড হিসাবে একটু হালকা কালার নিন। ন্যাচারাল করতে চাইলে হালকা গোলাপি, হালকা ব্রাউন, পিচ কালার—এভাবে স্কিন কালারের কাছাকাছি যে কোনো রঙ ব্যবহার করতে পারেন। তাছাড়া ড্রেসের সঙ্গে মিল রেখে মোভ, সবুজ, নীল—যাই ব্যবহার করেন না কেন সব কালারের একদম হালকা শ্যাডটা ব্যবহার করবেন। কাজল, কাজল পেন্সিল ব্যবহার করবেন। চাইলে হালকা শ্যাডের সঙ্গে অ্যামারেল গ্রিন, একোয়া মেরিন কালার পেন্সিল দিয়ে চোখে লাইনার টেনে দিতে পারেন, যা চোখকে আকর্ষণীয় করবে। এবার মাস্কারা ব্যবহার করবেন। আইব্রাড এঁকে নিন। লিপ লাইনার দিয়ে ঠোট এঁকে ন্যাচারাল কালার, ব্রাউন, পিংক, পিচ, মোভ দিন। যদিও এখন ডার্ক ও ম্যাট কালার চলছে, তবে দিনে খুব ডার্কার কালার না দিয়ে ডার্ক কালারের হালকা শ্যাডটা ব্যবহার করবেন। হালকা ব্রাউন, গোলাপি, ব্লাশঅন ব্যবহার করবেন। কপালে টিপ পরতে পারেন। চুলকে বেণী, খেজুর পাটি বেণী, ফ্রেঞ্চ বেণী, টপনট, একটু ছেড়ে রেখে বাঁধা, বিভিন্ন স্টাইলে বাঁধতে পারেন। ক্লিপ, আলগা বিভিন্ন খোঁপা দিয়েও চুলকে সাজাতে পারেন। সামনের চুলকে সেট করে অথবা একটু এলোমেলোভাবে বেঁধে পেছনে ক্লিপ বা খোঁপা বেঁধে নিলেই অল্প সময়ে পরিপাটি সাজ হয়।

রাতের সাজ :
রাতে মেকাপ বেস হিসেবে প্যানস্টিক, প্যানকেক, তার ওপর ফেস পাউডার ব্যবহার করবেন। স্কিনে দাগ না থাকলে সরাসরি প্যানকেক ব্যবহার করতে পারেন। আই শ্যাডো যে কোনো ডার্ক কালার ব্যবহার করা যায়। তবে গর্জিয়াস লুকের জন্য সোনালি, সিলভারের টাচ দেয়া যায়। একটু নতুনত্ব আনার জন্য গতানুগতিক শ্যাড না দিয়ে শ্যাড বা কালার পেন্সিল বা কালার লাইনার দিয়ে লাইন করে চোখ আঁকতে পারেন। ভলিউম মাস্কারা ব্যবহার করুন, আইব্রাশ এঁকে নিন। ডার্ক পিংক, ম্যাজেন্টা, ব্রাউন ব্লাশন ব্যবহার করুন। লিপস্টিকের সঙ্গে মিল রেখেও ব্লাশন ব্যবহার করতে পারেন। লিপ লাইনার দিয়ে ঠোঁট এঁকে লিপস্টিক লাগান। এখন ডার্ক কালার, যেমন—রেড, অরেঞ্জ, ম্যাজেন্টা প্রভৃতি গাঢ় শ্যাডের লিপস্টিক চলছে। ইচ্ছেমতো টিপ ব্যবহার করুন। চুল রাতে যেমন খুশি বাঁধতে পারেন। সামনে লুস ফ্রেঞ্চ ব্রেইড বা টুইস্ট করে পেঁচিয়ে নিয়ে পিছে সামান্য বাঁধতে পারেন। চুল সম্পূর্ণ কার্ল বা শুধু নিচে কার্ল করে ছেড়ে রাখতে পারেন। এখন বিভিন্ন স্টাইলের বেণী চলছে, তাও করতে পারেন। তবে চিরন্তন খোঁপা সব সময়ই চলে, তাতেও কোনো সমস্যা নেই।

রবিবার, ২৪ মে, ২০২০

ঘরেই করুন হুবহু পার্লারের মত নিখুঁত মেকআপ

১। ত্বক পরিষ্কার করা

প্রথমে মেকআপের জন্য ত্বককে তৈরি করুন। ভাল মানের ফেইস ওয়াস বা ক্লিনজার দিয়ে মুখ ধুয়েঁ ফেলুন। এতে আপনার মখের ময়লা সব চলে যাবে এবং মেকাআপ ভালভাবে মিশেয়ে যাবে আপনার ত্বকের সাথে।

২। ময়েশ্চারাজিং

হালকা কোন ময়েশ্চারাজিং ক্রিম বা লোশন দিয়ে কপাল, নাক, মুখ, চোখের চারপাশে ম্যসেজ করুন। ১৫/২০ মিনিট অপেক্ষা করুন যাতে লোশন বা ক্রিম ত্বকের সাথে মিশে যায়। ময়েশ্চারাজিং মেকআপের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

৩। ফাউন্ডেশন

ত্বক পরিষ্কারের পর শুরু হবে মেকআপ পর্ব। পারফেক্ট মেকআপ শুরু হয় ভালো বেস দিয়ে। বেসের প্রথম শর্ত হল নিজের ত্বক অনুযায়ে ফাউন্ডেশন ব্যবহার করা। ফাউন্ডেশন নির্বাচন করতে হবে নিজের গায়ের শেড থেকে এক অথবা দুই শেড হালকা। হালকা রং ত্বককে উজ্জ্বল দেখাবে। শেডিং এর জন্য গাঢ় রং দরকার।আপনার ত্বকের শেড অনুযায়ে ওয়েল ফ্রী ফাউন্ডেশন লাগিয়ে নিন। তাহলে মেকআপ ভালো ভাবে বসবে। মুখ তৈলাক্ত হলে পাউডার ফাউন্ডেশন লাগান।

৪। কনসিলার

কনসিলার আপনার মুখের দাগ, চোখের নিচের কালি ঢেকে দেয়। নিজের স্কিনটোনের সাথে মিলিয়ে কনসিলার কিনতে হলে আপনার ফাউন্ডেশন থেকে অর্ধেক শেড হালকা থেকে শুরু করুন। ত্বকের ব্লেমিস বা কালো দাগ black spot দূর করতে আপনার ফাউন্ডেশনের চেয়ে এক শেড হালকা তবে ব্ল্যাক আন্ডারটোনের কনসিলার ব্যবহার করুন। চোখের নিচে ডার্ক সার্কেল থাকলে সবুজ বা হলুদ রঙের কনসিলার বেছে নিলে ভালো কাজ করবে।তবে আপনি যদি ব্রণের দাগ,চোখের নিচের কালো দাগ ফাউন্ডেশন দিয়ে ঢেকে দিতে পারনে তবে কনসিলার ব্যবহার না করলে ও হবে।

৫। ফেইস পাউডার

বড় মেকআপ ব্রাশ দিয়ে সম্পূণ মুখে ফেইস পাউডার face powder ব্রাশ করুন। পাউডার পাফ অথবা ফেইস পাউডারের সাথে দেওয়া স্পঞ্জ দিয়ে হাল্কা করে বেইজের উপর বুলিয়ে বেইজ সেট করে নিন।

৬। চোখের মেকআপ

বেইজের পর আসে চোখ সাজানোর পালা। চোখের সাজে eye shaj শুরুতে চোখের ওপরের পুরো জায়গায় আই প্রাইমার দিন। এরপর আইশ্যাডো দিতে হবে। ড্রেসের সাথে মিলিয়ে দুই বা তিন শেডের আইশ্যাডো দিতে পারেন। বাড়তি সৌন্দর্য যোগ করতে ব্যবহার করতে পারেন বাদামি আইশ্যাডো।

৭। ফলস ল্যাশেস

চোখ দুটোকে চটজলদি বড় আর মায়াবি করে ফেলতে কৃত্রিম পাপড়ি জুড়ি নেই। বাজারে নানা দৈর্ঘ্য ও ডিজাইনের কৃত্রিম পাপড়ি পাওয়া যায়।পছন্দ অনুযায়ী ব্যবহার করতে পারেন যে কোন প্রকারের আই ল্যাশেস।

৮। আইলাইনার

এরপর আইলাইনার চোখের ওপরে বা নিচে দিতে হবে। লিকুইয়েড,জেল,পেন্সিল যেকোন প্রকারে আইলাইনার ব্যবহার করতে পারেন। চাইলে আইলাইনারের বিকল্প হিসাবে কাজল ও ব্যবহার করতে পারেন। আইলাইনার চিকন করে আই ল্যাশসের উপর দিতে হবে। যদি আপনি মোটা করে আইলাইনার দিতে চান তবে প্রথম আইলাইনার শুকানোর পর আরেকবার দিতে পারেন।

৯। মাশকারা

আইলাইনারে পর মাশকারা দেওয়ার পালা।চোখ আকর্ষণীয় করার জন্য ঘন করে মাশকারা দিতে হবে। একবার মাশকারা দিয়ে কিছুক্ষণ রেখে আবার মাশকারা দিন।মাশকারা দেওয়ার সময় চোখের ওপরের পাতা ওপরের দিকে উঠিয়ে দিতে হবে। পাতাগুলো যেন একটার সঙ্গে আরেকটা লেগে না যায়। আইব্রো পেনসিল দিয়ে ভ্রু এঁকে নিয়ে এরপর শুকনো মাশকারা ব্রাশ দিয়ে আঁচড়ে নেবেন।

১০। ভ্রু-র সাজ

ভ্রু-র সাজ়ে আইব্রো পেনসিল দিয়ে ভ্রু এঁকে নিয়ে এরপর শুকনো মাশকারা ব্রাশ দিয়ে আঁচড়ে নেবেন। ভ্রু কে ন্যাচারাল লুক দিতে চাইলে ভ্রু-র রঙ এর থেকে হালকা রঙ-এর আইশ্যাডো বেছে নিয়ে তা হালকা করে ভ্রু এর উপর বুলিয়ে নিন। এরপর সেই রঙ এর কাজল দিয়ে হালকা করে ভ্রু একেঁ নিন। এরপর আইব্রো ব্রাশ দিয়ে ভ্রু এর শেপ ঠিক করে নিন।

১১। লিপষ্টিক

লিপষ্টিক দেওয়ার আগে ঠোঁট ভাল করে পরিষ্কার করে নিন।এরপর হালকা করে লিপ বাম বা ভ্যাসলিন লাগান। ৫০ সেকেন্ড অপেক্ষা করুন।ভ্যাসলিন বা লিপ বাম শুকিয়ে গেলে লিপিষ্টিক দিন। দিনে ঠোঁটের সাজ়ে ম্যাট লিপষ্টিক দিলে ভালো। রাতে ভারী লিপগ্লস ব্যবহার করতে পারেন। লিপষ্টিক দীর্ঘক্ষণ ঠোঁটে রাখার জন্য প্রথমে লিপষ্টিক থেকে এক শেড গাঢ় লিপলাইনার দিয়ে ঠোঁট আঁকতে হবে। এতে লিপষ্টিক ছড়িয়ে পড়বে না। এবার টিস্যু দিয়ে চেপে নিতে হবে। হাতের কাছে পাউডার থাকলে পাউডার দিয়ে চাপ দিয়ে আবার লিপষ্টিকে লাগাতে হবে।

১২। ব্লাশন

পুরো সাজ শেষ হয়ে এলে ব্লাশন ব্যবহার করতে হবে। ব্লাশনের রং হিসাবে আপনি গোলাপি বা পিচ রং ব্যবহার করতে পারেন।উজ্জ্বল রং এর অধিকারীরা হালকা শেডের ব্লাশন আর শ্যামলা বা তার থেকে গাঢ় রঙের ত্বকের জন্য গাঢ় শেডের ব্লাশন ব্যবহার করতে পারেন।

 

মঙ্গলবার, ১৪ এপ্রিল, ২০২০

জেনে নিন ঘরে বসেই কেমন হবে পহেলা বৈশাখের সাজ

পহেলা বৈশাখ আমাদের প্রাণের উৎসব। বিশ্বজুড়ে কোটি বাঙালি এই দিনটি উৎসবে-আনন্দে পালন করেন। বর্ষবরণের রীতি প্রায় সব দেশেই রয়েছে। আমাদের দেশেও এ রীতি বেশ পুরনো। তবে আগে এ উৎসব গ্রামকেন্দ্রিক হলেও বিগত একযুগেরও বেশি সময় ধরে শহরেও পালন করা হচ্ছে বর্ষবরণ। সবাই আনন্দ নিয়ে বরণ করে নেয় বাংলা নববর্ষকে। সাজ এবং পোশাকে নিজেকে অনন্য করে তুলতে চান সব ফ্যাশনপ্রেমী মানুষই। চলুন জেনে নেই কেমন হবে ঘরে বসেই বৈশাখের সাজ-পোশাক-
পোশাক
বৈশাখি পোশাকে কাপড় হিসেবে বেছে নিন কটন, এন্ডিকটন, ভয়েল কিংবা লিলেনের মতো কাপড়। রঙের ক্ষেত্রে বৈশাখ মানেই লাল-সাদা। অন্যান্য রং যে পরা যাবে না, এমন নয়। তাই লাল-সাদার পাশাপাশি হলুদ, লেমন, পার্পেল, বাসন্তির মতো রংও বেছে নিতে পারেন। শাড়ি যদি একদমই সামলে না রাখতে পারেন তবে কামিজ কিংবা কুর্তিও পরতে পারেন।
মেকআপ
এ সময় গরম যেহেতু বেশি থাকে, তাই ভারী সাজ না দিয়ে হালকা সাজ দেয়া ভালো। চোখের শ্যাডো হালকা ব্রাউনিশ বা গ্রিনিশ থাকবে। আইব্রো টাচআপ অবশ্যই দেবেন। আমরা অনেক সময় এটি দিতে ভুলে যাই। চোখে কাজল, আইলাইনার ব্যবহার করতে পারেন। এরপর আইল্যাশ লাগাবেন। লিপস্টিকের ক্ষেত্রে লাল রং বেছে নিতে পারেন। আই মেকআপ হালকা নিতে পারেন।
চুলের সাজ
চুল না ছেড়ে হালকা বেঁধে দিতে পারেন। করতে পারেন সাধারণ বেণী বা ফ্রেঞ্চ বেণী। আবার সামনে একটু মেসি স্টাইল করে, পেছনটা খোঁপা করা যেতে পারে। সামনের দিকে ফ্রেন্স বেণী করে পেছনে খোঁপাও করা যেতে পারে। মাঝখানে একটি সিঁথি করে খোঁপা করতে পারেন। খোঁপা বা বেণীতে ফুল লাগাতে ভুলবেন না যেন।
গয়না
বৈশাখে শাড়ির সঙ্গে মাটির গয়না বেছে নেয়া ভালো। মাটির মালা হতে হবে লম্বা। আবার কাঠ, রুপা, মুক্তা বা তামার মালা পরতে পারেন। ভারী গয়না পরতে না চাইলে ফুলের মালা বেছে নিন। বাঙালি নারী গয়না না পরলেও দু’হাত ভর্তি চুড়ি সাজ পূর্ণ করে দেয়। শাড়ির পাড়ের সঙ্গে মিলিয়ে রেশমি চুড়ি পরতে পারেন। মাটির বা কাঠের চুড়িও কিন্তু বেশ মানিয়ে যায়।

রবিবার, ৯ ফেব্রুয়ারি, ২০২০

বসন্ত দিনের কিছু সাজ-পোশাক সম্পর্কে জেনে নিই।


আসুন বসন্ত দিনের কিছু সাজ-পোশাক সম্পর্কে জেনে নিই।
পোষাক ও মেকআপ
ব্লাউজে বিশেষত্ব নিয়ে আসতে ঘটি হাতার ব্লাউজ বা থ্রি কোয়ার্টার হাতা আবার গলায় কুচি দিয়ে তৈরি করতে পারেন। শাড়ি পরার ক্ষেত্রে এক প্যাঁচেতেই বেশ মানাবে পহেলা ফাল্গুনে। ফাল্গুনেও শীতের হালকা আমেজ থেকে যায়। তাই মেকআপ খুব গাঢ় না করে হালকা করে সেজে নেওয়াই ভালো কারণ দিনের রোদে মেকআপ নষ্ট হয়ে যেতে পারে।  মেকআপ নেওয়ার আগে মুখমণ্ডলটাকে মেকআপ উপযোগী করে তুলতে ভালোভাবে ক্লিনজিং করে নিন। এবার ময়েশ্চারাইজিং ক্রিম লাগিয়ে নিন। ১০ মিনিট পর ফাউন্ডেশনের সঙ্গে কয়েক ফোঁটা পানি মিশিয়ে মুখমণ্ডলে লাগিয়ে নিন। ফাউন্ডেশন মসৃণভাবে ত্বকে মিশিয়ে নিন। তারপর হালকা ফেসপাউডার বুলিয়ে নিন। ত্বকের রঙের সঙ্গে মিলিয়ে শেড নির্বাচন করুন। এবার চোখদুটোকে সাজিয়ে নিন একটু গাঢ় করে মাসকারা, আইলাইনার, কাজল আর হালকা আইশ্যাডো দিয়ে। অবশেষে লিপস্টিক আর কপালে একটি লাল রঙের বড় টিপ। হালকা লিপগ্লস বুলিয়ে নিতে পারেন ঠোঁটে। লিপলাইনার একটু গাঢ় রঙের বেছে নিন।
 
ফুলে ফুলে ফুলেল সাজ
খুব বেশি মেকাপ না নিয়ে ফুল দিয়ে সাজাতে পারেন নিজেকে। এদিন ফুলের কাছে সব ধরনের মেকাপ হার মেনে যায়। ফুল শুধু খোঁপা নয়, চুলের নানা রকম স্টাইলের সঙ্গে ভিন্ন ভিন্ন ফুল ও ফুলের মালা ব্যবহার করা হচ্ছে হাতে, কপালে, পায়ে। জুয়েলারি হিসেবে হাতে, গলায়, কানে, কোমরে ফুল দিয়ে সাজতে পারে এই বসন্তে। সৌন্দর্যকে আরও বাড়িয়ে তুলতে ফুল অনেক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। আবার কোনো সাধারণ জায়গায় ফুলের ভারী গয়না ব্যবহার করলে সেটা খুবই বেমানান লাগে। এসব জায়গায় দু'একটা ফুল মাথায় লাগাতে পারেন। নতুবা অনেক বেশি ফুল লাগলে দেখতে অনেক খারাপ লাগবে। ফুলের ব্যবহারও আমাদের ভালো করে জানতে হবে। এ সময়ে বিয়ের সাজে বেলিফুল বেশি ব্যবহার করা হতো। মাথা ভরে এখন অনেকেই গাজরা ব্যবহার করে। এটা দেখতে আরও বেশি সুন্দর।

চুলের সাজ
ফাগুনের উৎসবে চুল খোলা রাখলেই বেশি সুন্দর দেখা যায়। তবে এ নিয়ে বিড়ম্বনাও হয়। তাই এক পাশে এক পাশে ক্লিপ আটকে তার ওপর ফুল গুঁজে দিতে পারেন। অথবা কানের পাশ দিয়ে হালকাভাবে গুঁজে দিতে পারেন কয়েকটি ফুল। ফুল বড় হলে একটি, ছোট হলে তিন-চারটি। চাইলে সামনের দিকের কিছুটা চুল ব্যাককোম্ব করে নিতে পারেন। পেছনে চুল আটকানোর জায়গাটিতে আটকে দিতে পারেন পছন্দের ফুলটি। দুই পাশ থেকে চুল পেঁচিয়ে এনেও (টুইস্ট) পুরো চুল খোলা রাখতে পারেন।  হালকা অথবা আঁটসাঁট করে খোঁপাও করে নিতে পারেন। খোঁপার চারপাশ দিয়ে মালা না পেঁচিয়ে একটু অন্যভাবেও পরতে পারেন। খোঁপার চারপাশ দিয়ে পরপর ছোট ফুল গেঁথে নিন অথবা একটি বড় ফুল খোঁপা ও কানের মধ্যে আটকে নিন। বেণিতেও অন্যভাবে ফুল আটকে তৈরি করতে পারেন ভিন্ন লুক। সামনে দুই পাশ থেকে চুল টুইস্ট করে টেনে পেছনে নিয়ে আটকে নিন ক্লিপ দিয়ে। এবার সাধারণভাবে বেণি করে মাঝেমধ্যে ফুল আটকে নিতে পারেন। সামনের টুইস্ট করা অংশেও ছোট ফুল আটকে নিতে পারেন।
 
টিপস:
  • মেকআপ অনেকক্ষণ ঠিক রাখতে শুরুর আগে মুখে এক টুকরা বরফ ঘষে নিন।
  • আইশ্যাডো লাগানোর আগে চোখের নিচে পাউডার লাগান। শ্যাডো লাগানোর সময় চোখের নিচে যা পড়বে, তা ঝেড়ে ফেলুন।
  • বাইরে বের হওয়ার সময় ব্যাগে কমপ্যাক্ট পাউডার, টিস্যু পেপার, কাজল, চিরুনি এবং ছোট একটি আয়না রাখুন।
  • চুল খোলা রাখলে ব্যাগে একটা পাঞ্চ ক্লিপ রাখুন।

পার্লারের মত নিখুঁত গ্ল্যামারাস মেকআপ করার কিছু কৌশল

১/ ত্বক পরিষ্কার করা :
প্রথমে মেকআপের জন্য ত্বককে তৈরি করুন। ভাল মানের ফেইস ওয়াস বা ক্লিনজার দিয়ে মুখ ধুয়েঁ ফেলুন। এতে আপনার মখের ময়লা সব চলে যাবে এবং মেকাআপ ভালভাবে মিশেয়ে যাবে আপনার ত্বকের সাথে।

২/ ময়েশ্চারাজিং :
হালকা কোন ময়েশ্চারাজিং ক্রিম বা লোশন দিয়ে কপাল, নাক, মুখ, চোখের চারপাশে ম্যসেজ করুন। ১৫/২০ মিনিট অপেক্ষা করুন যাতে লোশন বা ক্রিম ত্বকের সাথে মিশে যায়। ময়েশ্চারাজিং মেকআপের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

৩/ ফাউন্ডেশন :
ত্বক পরিষ্কারের পর শুরু হবে মেকআপ পর্ব। পারফেক্ট মেকআপ শুরু হয় ভালো বেস দিয়ে। বেসের প্রথম শর্ত হল নিজের ত্বক অনুযায়ে ফাউন্ডেশন ব্যবহার করা। ফাউন্ডেশন নির্বাচন করতে হবে নিজের গায়ের শেড থেকে এক অথবা দুই শেড হালকা। হালকা রং ত্বককে উজ্জ্বল দেখাবে। শেডিং এর জন্য গাঢ় রং দরকার।আপনার ত্বকের শেড অনুযায়ে ওয়েল ফ্রী ফাউন্ডেশন লাগিয়ে নিন। তাহলে মেকআপ ভালো ভাবে বসবে। মুখ তৈলাক্ত হলে পাউডার ফাউন্ডেশন লাগান।

৪/ কনসিলার :
কনসিলার আপনার মুখের দাগ, চোখের নিচের কালি ঢেকে দেয়। নিজের স্কিনটোনের সাথে মিলিয়ে কনসিলার কিনতে হলে আপনার ফাউন্ডেশন থেকে অর্ধেক শেড হালকা থেকে শুরু করুন। ত্বকের ব্লেমিস বা কালো দাগ black spot দূর করতে আপনার ফাউন্ডেশনের চেয়ে এক শেড হালকা তবে ব্ল্যাক আন্ডারটোনের কনসিলার ব্যবহার করুন। চোখের নিচে ডার্ক সার্কেল থাকলে সবুজ বা হলুদ রঙের কনসিলার বেছে নিলে ভালো কাজ করবে।তবে আপনি যদি ব্রণের দাগ,চোখের নিচের কালো দাগ ফাউন্ডেশন দিয়ে ঢেকে দিতে পারনে তবে কনসিলার ব্যবহার না করলে ও হবে।

৫/ ফেইস পাউডার :
বড় মেকআপ ব্রাশ দিয়ে সম্পূণ মুখে ফেইস পাউডার face powder ব্রাশ করুন। পাউডার পাফ অথবা ফেইস পাউডারের সাথে দেওয়া স্পঞ্জ দিয়ে হাল্কা করে বেইজের উপর বুলিয়ে বেইজ সেট করে নিন।

৬/ চোখের মেকআপ :
বেইজের পর আসে চোখ সাজানোর পালা। চোখের সাজে eye shaj শুরুতে চোখের ওপরের পুরো জায়গায় আই প্রাইমার দিন। এরপর আইশ্যাডো দিতে হবে। ড্রেসের সাথে মিলিয়ে দুই বা তিন শেডের আইশ্যাডো দিতে পারেন। বাড়তি সৌন্দর্য যোগ করতে ব্যবহার করতে পারেন বাদামি আইশ্যাডো।

৭/ ফলস ল্যাশেস :
চোখ দুটোকে চটজলদি বড় আর মায়াবি করে ফেলতে কৃত্রিম পাপড়ি জুড়ি নেই। বাজারে নানা দৈর্ঘ্য ও ডিজাইনের কৃত্রিম পাপড়ি পাওয়া যায়।পছন্দ অনুযায়ী ব্যবহার করতে পারেন যে কোন প্রকারের আই ল্যাশেস।


৮/ আইলাইনার :
এরপর আইলাইনার চোখের ওপরে বা নিচে দিতে হবে। লিকুইয়েড,জেল,পেন্সিল যেকোন প্রকারে আইলাইনার ব্যবহার করতে পারেন। চাইলে আইলাইনারের বিকল্প হিসাবে কাজল ও ব্যবহার করতে পারেন। আইলাইনার চিকন করে আই ল্যাশসের উপর দিতে হবে। যদি আপনি মোটা করে আইলাইনার দিতে চান তবে প্রথম আইলাইনার শুকানোর পর আরেকবার দিতে পারেন।

৯/ মাশকারা :
আইলাইনারে পর মাশকারা দেওয়ার পালা।চোখ আকর্ষণীয় করার জন্য ঘন করে মাশকারা দিতে হবে। একবার মাশকারা দিয়ে কিছুক্ষণ রেখে আবার মাশকারা দিন।মাশকারা দেওয়ার সময় চোখের ওপরের পাতা ওপরের দিকে উঠিয়ে দিতে হবে। পাতাগুলো যেন একটার সঙ্গে আরেকটা লেগে না যায়। আইব্রো পেনসিল দিয়ে ভ্রু এঁকে নিয়ে এরপর শুকনো মাশকারা ব্রাশ দিয়ে আঁচড়ে নেবেন।

১০/ ভ্রু-র সাজ :
ভ্রু-র সাজ়ে আইব্রো পেনসিল দিয়ে ভ্রু এঁকে নিয়ে এরপর শুকনো মাশকারা ব্রাশ দিয়ে আঁচড়ে নেবেন। ভ্রু কে ন্যাচারাল লুক দিতে চাইলে ভ্রু-র রঙ এর থেকে হালকা রঙ-এর আইশ্যাডো বেছে নিয়ে তা হালকা করে ভ্রু এর উপর বুলিয়ে নিন। এরপর সেই রঙ এর কাজল দিয়ে হালকা করে ভ্রু একেঁ নিন। এরপর আইব্রো ব্রাশ দিয়ে ভ্রু এর শেপ ঠিক করে নিন।

১১/ লিপষ্টিক :
লিপষ্টিক দেওয়ার আগে ঠোঁট ভাল করে পরিষ্কার করে নিন।এরপর হালকা করে লিপ বাম বা ভ্যাসলিন লাগান। ৫০ সেকেন্ড অপেক্ষা করুন।ভ্যাসলিন বা লিপ বাম শুকিয়ে গেলে লিপিষ্টিক দিন। দিনে ঠোঁটের সাজ়ে ম্যাট লিপষ্টিক দিলে ভালো। রাতে ভারী লিপগ্লস ব্যবহার করতে পারেন। লিপষ্টিক দীর্ঘক্ষণ ঠোঁটে রাখার জন্য প্রথমে লিপষ্টিক থেকে এক শেড গাঢ় লিপলাইনার দিয়ে ঠোঁট আঁকতে হবে। এতে লিপষ্টিক ছড়িয়ে পড়বে না। এবার টিস্যু দিয়ে চেপে নিতে হবে। হাতের কাছে পাউডার থাকলে পাউডার দিয়ে চাপ দিয়ে আবার লিপষ্টিকে লাগাতে হবে।

১২/ ব্লাশন :
পুরো সাজ শেষ হয়ে এলে ব্লাশন ব্যবহার করতে হবে। ব্লাশনের রং হিসাবে আপনি গোলাপি বা পিচ রং ব্যবহার করতে পারেন।উজ্জ্বল রং এর অধিকারীরা হালকা শেডের ব্লাশন আর শ্যামলা বা তার থেকে গাঢ় রঙের ত্বকের জন্য গাঢ় শেডের ব্লাশন ব্যবহার করতে পারেন।

মঙ্গলবার, ৪ জুন, ২০১৯

ঈদের দিন ঘরেই করুন হুবহু পার্লারের মত নিখুঁত মেকআপ

১। ত্বক পরিষ্কার করা

প্রথমে মেকআপের জন্য ত্বককে তৈরি করুন। ভাল মানের ফেইস ওয়াস বা ক্লিনজার দিয়ে মুখ ধুয়েঁ ফেলুন। এতে আপনার মখের ময়লা সব চলে যাবে এবং মেকাআপ ভালভাবে মিশেয়ে যাবে আপনার ত্বকের সাথে।

২। ময়েশ্চারাজিং

হালকা কোন ময়েশ্চারাজিং ক্রিম বা লোশন দিয়ে কপাল, নাক, মুখ, চোখের চারপাশে ম্যসেজ করুন। ১৫/২০ মিনিট অপেক্ষা করুন যাতে লোশন বা ক্রিম ত্বকের সাথে মিশে যায়। ময়েশ্চারাজিং মেকআপের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

৩। ফাউন্ডেশন

ত্বক পরিষ্কারের পর শুরু হবে মেকআপ পর্ব। পারফেক্ট মেকআপ শুরু হয় ভালো বেস দিয়ে। বেসের প্রথম শর্ত হল নিজের ত্বক অনুযায়ে ফাউন্ডেশন ব্যবহার করা। ফাউন্ডেশন নির্বাচন করতে হবে নিজের গায়ের শেড থেকে এক অথবা দুই শেড হালকা। হালকা রং ত্বককে উজ্জ্বল দেখাবে। শেডিং এর জন্য গাঢ় রং দরকার।আপনার ত্বকের শেড অনুযায়ে ওয়েল ফ্রী ফাউন্ডেশন লাগিয়ে নিন। তাহলে মেকআপ ভালো ভাবে বসবে। মুখ তৈলাক্ত হলে পাউডার ফাউন্ডেশন লাগান।

৪। কনসিলার

কনসিলার আপনার মুখের দাগ, চোখের নিচের কালি ঢেকে দেয়। নিজের স্কিনটোনের সাথে মিলিয়ে কনসিলার কিনতে হলে আপনার ফাউন্ডেশন থেকে অর্ধেক শেড হালকা থেকে শুরু করুন। ত্বকের ব্লেমিস বা কালো দাগ black spot দূর করতে আপনার ফাউন্ডেশনের চেয়ে এক শেড হালকা তবে ব্ল্যাক আন্ডারটোনের কনসিলার ব্যবহার করুন। চোখের নিচে ডার্ক সার্কেল থাকলে সবুজ বা হলুদ রঙের কনসিলার বেছে নিলে ভালো কাজ করবে।তবে আপনি যদি ব্রণের দাগ,চোখের নিচের কালো দাগ ফাউন্ডেশন দিয়ে ঢেকে দিতে পারনে তবে কনসিলার ব্যবহার না করলে ও হবে।

৫। ফেইস পাউডার

বড় মেকআপ ব্রাশ দিয়ে সম্পূণ মুখে ফেইস পাউডার face powder ব্রাশ করুন। পাউডার পাফ অথবা ফেইস পাউডারের সাথে দেওয়া স্পঞ্জ দিয়ে হাল্কা করে বেইজের উপর বুলিয়ে বেইজ সেট করে নিন।

৬। চোখের মেকআপ

বেইজের পর আসে চোখ সাজানোর পালা। চোখের সাজে eye shaj শুরুতে চোখের ওপরের পুরো জায়গায় আই প্রাইমার দিন। এরপর আইশ্যাডো দিতে হবে। ড্রেসের সাথে মিলিয়ে দুই বা তিন শেডের আইশ্যাডো দিতে পারেন। বাড়তি সৌন্দর্য যোগ করতে ব্যবহার করতে পারেন বাদামি আইশ্যাডো।

৭। ফলস ল্যাশেস

চোখ দুটোকে চটজলদি বড় আর মায়াবি করে ফেলতে কৃত্রিম পাপড়ি জুড়ি নেই। বাজারে নানা দৈর্ঘ্য ও ডিজাইনের কৃত্রিম পাপড়ি পাওয়া যায়।পছন্দ অনুযায়ী ব্যবহার করতে পারেন যে কোন প্রকারের আই ল্যাশেস।

৮। আইলাইনার

এরপর আইলাইনার চোখের ওপরে বা নিচে দিতে হবে। লিকুইয়েড,জেল,পেন্সিল যেকোন প্রকারে আইলাইনার ব্যবহার করতে পারেন। চাইলে আইলাইনারের বিকল্প হিসাবে কাজল ও ব্যবহার করতে পারেন। আইলাইনার চিকন করে আই ল্যাশসের উপর দিতে হবে। যদি আপনি মোটা করে আইলাইনার দিতে চান তবে প্রথম আইলাইনার শুকানোর পর আরেকবার দিতে পারেন।

৯। মাশকারা

আইলাইনারে পর মাশকারা দেওয়ার পালা।চোখ আকর্ষণীয় করার জন্য ঘন করে মাশকারা দিতে হবে। একবার মাশকারা দিয়ে কিছুক্ষণ রেখে আবার মাশকারা দিন।মাশকারা দেওয়ার সময় চোখের ওপরের পাতা ওপরের দিকে উঠিয়ে দিতে হবে। পাতাগুলো যেন একটার সঙ্গে আরেকটা লেগে না যায়। আইব্রো পেনসিল দিয়ে ভ্রু এঁকে নিয়ে এরপর শুকনো মাশকারা ব্রাশ দিয়ে আঁচড়ে নেবেন।

১০। ভ্রু-র সাজ

ভ্রু-র সাজ়ে আইব্রো পেনসিল দিয়ে ভ্রু এঁকে নিয়ে এরপর শুকনো মাশকারা ব্রাশ দিয়ে আঁচড়ে নেবেন। ভ্রু কে ন্যাচারাল লুক দিতে চাইলে ভ্রু-র রঙ এর থেকে হালকা রঙ-এর আইশ্যাডো বেছে নিয়ে তা হালকা করে ভ্রু এর উপর বুলিয়ে নিন। এরপর সেই রঙ এর কাজল দিয়ে হালকা করে ভ্রু একেঁ নিন। এরপর আইব্রো ব্রাশ দিয়ে ভ্রু এর শেপ ঠিক করে নিন।

১১। লিপষ্টিক

লিপষ্টিক দেওয়ার আগে ঠোঁট ভাল করে পরিষ্কার করে নিন।এরপর হালকা করে লিপ বাম বা ভ্যাসলিন লাগান। ৫০ সেকেন্ড অপেক্ষা করুন।ভ্যাসলিন বা লিপ বাম শুকিয়ে গেলে লিপিষ্টিক দিন। দিনে ঠোঁটের সাজ়ে ম্যাট লিপষ্টিক দিলে ভালো। রাতে ভারী লিপগ্লস ব্যবহার করতে পারেন। লিপষ্টিক দীর্ঘক্ষণ ঠোঁটে রাখার জন্য প্রথমে লিপষ্টিক থেকে এক শেড গাঢ় লিপলাইনার দিয়ে ঠোঁট আঁকতে হবে। এতে লিপষ্টিক ছড়িয়ে পড়বে না। এবার টিস্যু দিয়ে চেপে নিতে হবে। হাতের কাছে পাউডার থাকলে পাউডার দিয়ে চাপ দিয়ে আবার লিপষ্টিকে লাগাতে হবে।

১২। ব্লাশন

পুরো সাজ শেষ হয়ে এলে ব্লাশন ব্যবহার করতে হবে। ব্লাশনের রং হিসাবে আপনি গোলাপি বা পিচ রং ব্যবহার করতে পারেন।উজ্জ্বল রং এর অধিকারীরা হালকা শেডের ব্লাশন আর শ্যামলা বা তার থেকে গাঢ় রঙের ত্বকের জন্য গাঢ় শেডের ব্লাশন ব্যবহার করতে পারেন।

সোমবার, ২০ নভেম্বর, ২০১৭

কেন মেক-আপ থেকে দূরে থাকবেন?

১. ত্বক
সৌন্দর্যকে ঠিকঠাক রাখার এই প্রসাধনীগুলোর ব্যবহার আপনার ত্বককে কিছুটা সময়ের জন্যে ভালো দেখায় বটে, কিন্তু এর কিছু স্থায়ী নেতিবাচক প্রভাবও রয়েছে। আর সেটাও কিন্তু ভবিষ্যতে ভুগতে হবে আপনাকেই। প্রসাধনীগুলো তৈরিতে ব্যবহৃত নানা রকমের রাসায়নিক পদার্থ খুব সহজেই আপনার ত্বকের সজীবতা আর ত্বকের কোষগুলোর নষ্ট হয়ে যাওয়াকে ত্বরান্বিত করে। আর তাই সৌন্দর্যবৃদ্ধির এই উপকরণগুলো থেকে দূরে থাকলে আপনার ত্বকই ধন্যবাদ জানাবে আপনাকে প্রথমে।

২. সময়
এক গবেষনায় পাওয়া যায় যে সারা বিশ্বে নারীরা কেবল মেক-আপ করার জন্যেই ৪৭৪ দিন ব্যয় করে থাকেন। অদ্ভূত হলেও শুনতে সত্যি এই তথ্যটি বারবার সবাইকে যেন ছোটবেলায় পড়া সময়ের মূল্য রচনাটির কথাই মনে করিয়ে দেয়। সত্যিই তো! প্রতিদিন ঠিক কতটা সময় প্রসাধনীর পেছনে খরচ করছেন আপনি সেটা কি হিসেবে রাখছেন? সকালবেলা ঘুম থেকে উঠে, সারাদিন নানা কাজের ফাঁকে বেশ কয়েকবার, রাতে ঘুমাতে যাওয়ার আগেতো রয়েছেই, এছাড়াও আছে বিভিন্ন অনুষ্ঠানের উপলক্ষ্য। আর তাই প্রসাধনীর ব্যবহার বন্ধ করলে আপনার ত্বকই নয়, এতগুলো সময়ও বেঁচে যায়।

৩. মানসিক সুস্থতা
কেন আপনি প্রসাধনী ব্যবহার করেন? চেহারার অসামঞ্জস্যতা ঢাকবার জন্যেই তো? ভাবুন তো, কয়দিন এমন হয়েছে যে আপনি মেক-আপ করে আপনার সূক্ষ ত্রুটিগুলোকে ঢেকে দিয়ে সবার সামনে হাসিমুখে কথা বলেছেন আর আপনার মাথায় সবসময়ই এই ভয়টা কাজ করেনি যে- মেক-আপটা ঠিকঠাক আছে তো? মুখের দাগটা সবার চোখে পড়ে যায়নি তো? ভেবে দেখুন। কখনোই হয়নি। আর এই সারাটাক্ষণের অস্বাভাবিক মানসিক অস্থিরতা আপনার মানসিক সুস্থতার পথেও বাঁধা হয়ে দাড়ায়। খোলা মনে কোন কিছু করা, বিশেষ করে বৃষ্টিতে বন্ধুদের সাথে হঠাত্ করে ভিজতে যাওয়া আপনার পক্ষে কখনোই সম্ভবপর হয়না। তাই মেক-আপ করা ছেড়ে দিন। নিজের মানসিক সুস্থতাকে নিশ্চিত করুন।

৪. ভালোবাসা
অনেকেই বলে থাকেন যে – মেক-আপ করলে নিজেকে আরো সুন্দর বলে মনে হয়। অনেকের ভালোবাসা পাওয়া যায়। কথাটা কিন্তু একদমই ভুল। আপনার মেক-আপ করা মুখকে তারা কখনোই প্রাধান্য দেবে না যারা আপনাকে সত্যিকারের ভালোবাসে। আর যারা প্রাধান্য দেবে তারা কখনোই আপনাকে ভালোবাসেনি। বরং আপনার ত্রুটিগুলোকে যে বা যারা ভালোবাসবে তারাই আপনার প্রকৃত কাছের মানুষ। মেক-আপ করে তাই অযথাই জীবনের পথে কিছু আগাছাকে তুলে আনবেন না।

৫. দৃঢ়তা
প্রসাধনীর ব্যবহার আপনাকে ক্রমশ নিজে ওপরে থাকা আত্ববিশ্বাস আর দৃঢ়তাকে সরিয়ে ফেলে সেখানে এক ধরনের অসহায় ভাবকে ফুটিয়ে তোলে। কারন আপনি জানেন যে আপনার সমস্ত চেহারার অনেকটাই কিছু পণ্যের ওপর নির্ভরশীল। আপনার মনে তখন এক ধরনের অনুভূতি কাজ করতে শুরু করে যে প্রসাধনীগুলো ছাড়া আপনি আসলে কিছুই নন। কিন্তু আসলেই তাই কি? ঝেড়ে ফেলুন নিজের জীব্ন থেকে মেক-আপ শব্দটাকে আর নিজের যা আছে সেটার ওপরেই বিশ্বাস গড়ে তুলুন।

৬. টাকা
এ কথাটা না বললেই নয় যে বিশ্বের প্রতিটি নারী-পুরুষই কোটি কোটি ডলার খরচ করেন কেবল প্রসাধনীর জন্যে। আপনি নিজেরও কি সেখানে খুব একটা কম অবদান রয়েছে? যে টাকাগুলো আপনি প্রসাধনীর পেছনে খরচ করছেন সেগুলো দিয়ে মৌসুমী ফল কিনে খান। এতে আপনার ত্বক এমনিতেই ভালো থাকবে। প্রচুর পানি খান। আর কিছু না হলে জমিয়ে রাখুন টাকাগুলো। কিছুদিন পরে নিজেকে কোন উপহার দিন।

শনিবার, ১৮ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭

মেকআপকে গ্লোয়ি করে তোলার কার্যকরী উপায়




(১) ক্লিঞ্জিং,  টোনিং, ময়েশ্চারাইজিং এরপর রেগুলার প্রাইমারের সাথে ব্যবহার করুন একটি ইল্যুমিনেটিং প্রাইমার। অনেক ধরনের ইল্যুমিনেটিং প্রাইমার রয়েছে। আপনার পছন্দমত বেছে নিতে পারেন। ইল্যুমিনেটিং প্রাইমার আপনার পুরো ফেসে একটা গ্লো তৈরি করবে।

(২) ব্যবহার করতে পারেন লিকুইড হাইলাইটার / ইল্যুমিনেটর। ফাউন্ডেশন ব্যবহারের আগে  লিকুইড হাইলাইটার নিয়ে ফেস এর হাই পয়েন্টগুলো যেমন- চিক বোন, নাকের ব্রিজ, থুতনি, ঠোঁটের উপরের দিকে, কপালে, আই ব্রো বোনের উপরে এবং নিচে  লাগিয়ে নিন এবং ব্লেন্ড করুন হাতের সাহায্যে। এরপর ফাউন্ডেশন লাগান।

(৩) ফাউন্ডেশন একটু ন্যাচারাল এবং গ্লোয়ি করে তুলতে ফাউন্ডেশন প্রথমে হাতে নিয়ে এর সাথে এক ফোটা বেবী অয়েল মিক্স করে নিন। এরপর ফাউন্ডেশন মুখে লাগিয়ে ব্লেন্ড করে নিন। এতে ফাউন্ডেশন অনেক গ্লোয়ি লাগবে। যাদের অয়েলি স্কিন তাদের ভয় পাওয়ার কিছু নেই। এটা ফেসের অয়েলিনেস বাড়িয়ে তুলবে না। তাই নিশ্চিন্তে এই টিপসটি ফলো করতে পারেন।

(৪) গালে পাউডার ব্লাশের পরিবর্তে ব্যবহার করুন কালার লিপ গ্লস। অল্প একটু কালার লিপ গ্লস নিয়ে লাগিয়ে নিন গালে। এবং ভালোভাবে ব্লেন্ড করে নিন। তবে খেয়াল রাখবেন, অনেক বেশী পরিমানে যেন নেয়া না হয়।
লিপ গ্লস গালে একটা ডিউয়ি ইফেক্ট দিবে।

(৫) নারিকেল তেল ব্যবহার করতে পারেন এক্সট্রা গ্লো এর জন্য। এটিও লিকুইড হাইলাইটারের মতো ফেস এর হাই পয়েন্টগুলোতে ব্যবহার করুন ফাউন্ডেশন এর আগে।

(৬) বেইজ মেকাপে পাউডার হাইলাইটার ফেস এ গ্লো যোগ করে। তবে আরো গ্লোয়ি করে তুলতে  প্রথমে হাই পয়েন্টস এ ব্যবহার করুন লিকুইড হাইলাইটার। তার উপরে ব্যবহার করুন পাউডার হাইলাইটার।

(৭) বেইজ মেকাপের শেষের দিকে পাউডার হাইলাইটার ব্যবহার করুন। এরপর সেটিং স্প্রে নিয়ে পুরো মুখে স্প্রে করে নিন। এরপর সাথে সাথে আবার পাউডার হাইলাইটার ব্যবহার করুন। এই ট্রিকসটি ফলো করলে আপনি নিজেই দেখতে পারবেন পার্থক্য। আগের চেয়ে অনেক গ্লোয়ি দেখতে লাগছে হাইলাইটার।

(৮) লিপস্টিকের ক্ষেত্রে ২ টি লিপস্টিক একসাথে মিক্স করে ঠোটে লাগান। একটি মোটামুটি ম্যাট, অন্যটি গ্লসি। এতে অনেক সুন্দর একটা ফিনিস আসবে।

(৯) কানের দিকে এবং গলার এরিয়াতে সামান্য ভ্যাসলিন লাগিয়ে নিন। এতে পুরো ফেস এর মেকাপের সাথে সামাঞ্জস্যতা আসবে।

 (১০) ডিউয়ি / গ্লোয়ি মেকাপের পূর্বশর্ত মসৃন স্কিন। এজন্য মেকাপের আগে স্ক্রাবিং করে নিন। যাতে ত্বকের মরা চামড়া, ব্লাক হেডস, হোয়াইট হেডস চলে যায়।

(১১) চোখের পাতায় ব্যবহার করুন শিমারি আইশ্যাডো। এটি গ্লোয়ি মেকাপের সাথে মানানসই হবে।

(১২) মেকাপ শেষে একটি ডিউয়ি ফিনিস এর মেকাপ সেটিং স্প্রে ব্যবহার করুন। এ ধরনের সেটিং স্প্রে সারাদিন আপনার মেকাপকে গ্লোয়ি রূপ ধরে রাখতে সাহায্য করবে।

জেনে নিলেন, ডিউয়ি / গ্লোয়ি মেকাপের টিপসগুলো। এ ধরনের মেকাপ উইন্টারে অনেক বেশী প্রযোজ্য। উইন্টারে এক্সট্রা গ্লো তৈরি করবে। চাইলে অন্যান্য সময়ে বিশেষ করে পার্টির জন্য অনেক ভালো লাগবে দেখতে।