মঙ্গলবার, ১১ অক্টোবর, ২০২২

গরমে শিশুর যত্ন নেবেন কীভাবে ?

 

গ্রীষ্মকালের গরম সবার জন্যই কষ্টকর। শিশুদের বেলায় তা অসহনীয়। খুব বেশি স্পর্শকাতর বলে তারা অনেক গরম আবহাওয়ায় সহজে খাপ খাওয়াতে পারে না।

তীব্র গরমে নানান স্বাস্থ্য জটিলতার মুখোমুখি হয় শিশুরা। তাই বাবা-মার উচিত সব সময় তাদের যত্ন বিষয়ে সচেতন থাকা।

শিশু মাত্রই যত্নের দরকার প্রতি মুহূর্তেই। তা হোক শীত, গ্রীষ্ম কিংবা বর্ষা কাল।

তবে অন্যান্য সময়ের তুলনায় গরম কাল শিশুদের জন্য বেশি কষ্টকর হয়ে ওঠে। এ সময়ে শিশুদের নানা অসুখ-বিসুখ হতে পারে।

এই গরমে বাচ্চার যত্ন নেবেন কীভাবে, আসুন জেনে নিই :

জলবসন্ত বা চিকেন পক্স :

এ সময়টায় শিশুদের জলবসন্ত হয়ে থাকে। এটা সাধারণত ১-৫ বছরের শিশুদের বেশি হয়। তবে চিকেন পক্সের টিকা নেয়া থাকলে রোগটি হওয়ার আশঙ্কা অনেকটাই কমে যায়। এ অসুখের সময় শিশুর বিশেষ যত্ন নিতে হবে। তাকে নরম হালকা সুতি কাপড় পরাতে হবে। তরল বা নরম জাতীয় খাবার খাওয়াতে হবে। দরকার বেশি করে পানি পান। এর সঙ্গে অবশ্যই মায়ের দুধ খাওয়াতে হবে।

চামড়ার র‌্যাশ বা ফুসকুড়ি :

শিশুদের গরমকালে এ সমস্যাটা বেশি দেখা যায়। সাধারণত ঘামাচি বা চামড়ার ওপরে লাল দানার মতো ফুসকুড়ি হয়ে থাকে। শিশুকে অবশ্যই পরিষ্কার রাখতে হবে। নিয়মিত গোসল ও পরিষ্কার জামা পরাতে হবে। ফুসকুড়ির জায়গাগুলোয় বেবি পাউডার লাগাতে পারেন। এতে চুলকানি কিছুটা কমে যাবে।

প্রতিবার কাপড় বদলানোর সময় শিশুকে নরম ভেজা কাপড় দিয়ে মুছে পাউডার লাগিয়ে দিতে হবে। অনেক সময় ডায়াপায়ের কারণেও হতে পারে। তাই খেয়াল রাখতে হবে, ভেজা ডায়াপার যেন শিশুর গায়ে বেশিক্ষণ না থাকে। ডায়াপার নষ্ট হয়ে গেলে সঙ্গে সঙ্গে তা খুলে নতুন ডায়াপার পরিয়ে দিন। তবে গরমের সময় বেশিক্ষণ ডায়াপার না পরিয়ে রাখাই ভালো। অনেক সময় র‌্যাশ বেশি হয়ে গেলে ঘা হয়ে যেতে পারে। সে ক্ষেত্রে অবশ্যই বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিতে হবে।

পেট খারাপ :

গরমের সময় সাধারণত বেশি হয়ে থাকে পেট খারাপ। শিশুর পেট খারাপ হলে তাকে ঘন ঘন স্যালাইন খাওয়াতে হবে। সে সঙ্গে পানি অথবা ডাবের পানি খাওয়াতে হবে। একইসঙ্গে তাকে তরল খাবারও দিতে হবে। যতক্ষণ পর্যন্ত শিশুর পায়খানা স্বাভাবিক না হচ্ছে ততক্ষণ পর্যন্ত এ নিয়ম মেনে চলতে হবে।

লক্ষ্য রাখতে হবে যেন শিশুর পানিশূন্যতা না হয় এবং তার প্রস্রাবের পরিমাণ স্বাভাবিক থাকে। এছাড়া শিশুর পায়খানার সঙ্গে যদি রক্ত যায় তবে অবহেলা না করে অবশ্যই বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিতে হবে। ছয় মাস বয়সী শিশুদের ক্ষেত্রে এ সময় কোনো অবস্থায়ই মায়ের দুধ বন্ধ করা যাবে না। সে সঙ্গে পানি ও অন্যান্য খাবারও দিতে হবে।

ঠান্ডার সমস্যা :

গরমে শিশুদের ক্ষেত্রে ঠাণ্ডার সমস্যাটাও বেশি হতে দেখা যায়। গরমে অতিরিক্ত ঘামের ফলে ঠাণ্ডা লেগে যেতে পারে। তাই শিশু ঘেমে গেলে সঙ্গে সঙ্গে তার শরীর মুছে দিয়ে কাপড় বদলে দিতে হবে। গরমে শিশুকে নিয়মিত গোসল করাতে হবে। পরিষ্কার রাখতে হবে শরীর ও পরিবেশ। এ সময় ঠাণ্ডা লেগে  শিশুর মামস হতে পারে। মামস অনেক সময় অল্পদিনে সেরে যায়। কিন্তু বেশিদিন গড়ালে শিশুকে এমএমআর ইঞ্জাকশন দেয়া হয়। এছাড়া বিশেষজ্ঞের পরমার্শমতো ব্যবস্থা নিতে হবে।

এছাড়া এ গরমে আদরের ছোট্টমণির চুলের দিকেও নজর দিতে হবে। গরমে চুলের ঘোড়া ঘেমে যায়, সঙ্গে ধুলাবালির আক্রমণ তো রয়েছেই। তাই রোগপ্রতিরোধে প্রথমেই শিশুদের চুলের প্রতি বিশেষ যত্ন নিন। অনেক সময় অতিরিক্ত গরমে চুলের ত্বকে খুশকি বা ঘামাচি বের হয়। তাই গরমের শুরুতেই শিশুর চুল ছেঁটে ছোট করে দিতে হবে। এতে চুলের গোড়া ঘেমে গেলেও তাড়াতাড়ি শুকিয়ে যায়।

এক বছর বা তার কম বয়সে শিশুদের গরমের সময় মাথা অবশ্যই ন্যাড়া করে দিতে হবে। আর চুল একান্তই লম্বা রাখতে চাইলে তার প্রতি আরো একটু যত্নশীল হোন। গোসল করার পর চুল ভালোভাবে মুছে দিন। বড় ফাঁকওয়ালা চিরুনি দিয়ে চুলটা ঠিকভাবে আঁচড়ে দিন। এরপর চুল শুকিয়ে গেলে তা ভালোভাবে বেঁধে দিন। শিশুর চুলে তাদের উপযোগী ও ভালোমানের শ্যাম্পু ব্যবহার করতে হবে। তাদের জন্য আলাদা চিরুনি ব্যবহার করা উচিত। সপ্তায় দু-দিন শিশুর চুলে শ্যাম্পু করা ভালো।

 দরকারি টিপস :

১. গরমে শিশুকে নিয়মিত গোসল করাতে হবে এবং ধুলাবালি থেকে যতটা সম্ভব দূরে রাখতে হবে।

২. বাইরে বের হলে শিশুর জন্য বিশুদ্ধ খাবার পানি সবসময় সঙ্গে রাখতে হবে।

৩. ঘেমে গেলে ঘাম মুছে দিতে হবে। শরীরের ঘাম শুকিয়ে গেলে শিশুর ঠাণ্ডা লাগতে পারে।

৪. যতটা সম্ভব শিশুকে নরম খাবার খাওয়ানো ভালো।

৫. ত্বক পরিষ্কার রাখতে হবে, যেন র‌্যাশ জাতীয় সমস্যা না হয়।

৬. প্রচুর পানি খাওয়াতে হবে, যেন প্রস্রাবের পরিমাণ স্বাভাবিক থাকে।

৭. সদ্যজাত শিশুদের সবসময় ঢেকে রাখতে হবে, যেন শরীর উষ্ণ থাকে। তবে খেয়াল রাখতে হবে যেন ঘেমে না যায়।

৮. গরমের সময় মশা, মাছি, পিঁপড়া ইত্যাদি পোকামাকড়ের প্রকোপ দেখা যায়। এগুলো শিশুর অসুস্থতার কারণ হতে পারে। ঘরকে পোকামাকড় মুক্ত রাখতে হবে।

সোমবার, ১০ অক্টোবর, ২০২২

বিভিন্ন বয়সে শিশুর খাদ্য যেমন হবে


সঠিক পুষ্টিকর খাবার শিশুর বৃদ্ধিতে সহায়ক।  

জন্মের পর থেকে পাঁচ মাস বয়স পর্যন্ত শিশুর জন্য মায়ের দুধই যথেষ্ট। এ সময়ে শিশুকে অন্য কোনো খাবার দেওয়া উচিত নয়। পাঁচ মাসের পর থেকে মায়ের দুধের পাশাপাশি শিশুকে বাড়তি খাবার দিতে হবে। যদিও পাঁচ মাসের পর মায়ের বুকে দুধের পরিমাণ কমে যায় না। তবে এ সময়ে শিশুর বাড়তি পুষ্টির প্রয়োজন হয়। তাই শিশুকে অন্যান্য খাবার দিতে হয়। শিশু অন্যান্য খাবারের সঙ্গে দুই বছর বয়স পর্যন্ত মায়ের দুধ খেতে পারে।

জন্ম থেকে পাঁচ মাস

— জন্মের পরপরই যত তাড়াতাড়ি সম্ভব শিশুকে মায়ের দুধ দিতে হবে।

— শিশু যতবার কাঁদবে, ততবার তাকে মায়ের দুধ খেতে দিতে হবে।

— দুধ দেওয়ার আগে ভালো করে স্তনের বোঁটা পরিষ্কার করে শিশুর মুখে দিতে হবে।

— বুকে পর্যাপ্ত দুধ না এলে চিকিৎসকের পরামর্শমতো ‘মেটোক্লোপ্রামাইড’ সেবন করলে বুকে দুধ বাড়বে। তাতেও কাজ না হলে কিংবা কোনো কারণে শিশুকে বুকের দুধ দেওয়া সম্ভব না হলে চিকিৎসকের পরামর্শমতো ব্যবস্থা নিতে হবে।

— চার মাস বয়সের পর থেকে শিশু কিছুটা শক্ত খাবার হজম ক্ষমতা অর্জন করে। তখন বিশেষজ্ঞের পরামর্শমতো ব্যবস্থা নেবেন।

ছয় মাস থেকে দুই বছর

 —  শিশুকে দিনে চার-পাঁচবার খাওয়াবেন। সাধারণত সকাল ৬টায়, সকাল ১০টায়, দুপুর ২টায়, সন্ধ্যা              ৬টায় ও রাত ৯টা বা ১০টায় খাওয়াবেন। প্রতিবারে শিশু পাঁচ থেকে আট আউন্স খাবে।

— সকাল ৬টায় দুধ। সুজি বা চালের গুঁড়ার সঙ্গে মিশিয়ে ঘন করে রান্না করা দুধ।

— সকাল ১০টায়, ডিম, হালুয়া, খিচুড়ি, পায়েস, ফলের রস ইত্যাদি।

— দুপুর ২টায় ভাত, মাছ, গোশত, শাকসবজি, ফলমূল। শিশু খাবার শেষে দুধ খেতে চাইলে দুধ।

— সন্ধ্যা ৬টায় সকাল ১০টার মতো।

— রাত ৯-১০টায় সকাল ৬টার মতো।

— শাকসবজির মধ্যে শিশু যেসব শাকসবজি খাবে তা হলো : গাজর, আলু, টমেটো, শিম, বরবটি, লাউ,      বেগুন, কাঁকরোল, ঝিঙে, পটোল, ফুলকপি, বাঁধাকপি, পালংশাক, লেটুস, লালশাক, কুমড়ো শাক,          লাউশাক ইত্যাদি।

— শিশুকে যেসব ফলমূল খাওয়াবেন তা হলো কলা, কমলা, পেঁপে, পেয়ারা, আপেল, আঙুর ইত্যাদি।

দুই বছর থেকে পাঁচ বছর

— দুই থেকে পাঁচ বছরের শিশুরা বড়দের সব খাবার খেতে পারবে। তাকে দিনে চার-পাঁচবার খাওয়াতে হবে। এ সময় খাদ্যে ক্যালরির দিকে বিশেষ নজর দিতে হবে। দুই বছরের শিশুর খাদ্যে ১৩০০ কিলোক্যালরি, তিন বছরের শিশুর খাদ্যে ১৫০০ কিলোক্যালরি, চার বছরের শিশুর খাদ্যে ১৬০০ কিলোক্যালরি এবং পাঁচ বছরের শিশুর খাদ্যে ১৭০০ কিলোক্যালরি থাকা জরুরি।

— সকাল ৭টা : ডিম, রুটি, ভাজি, হালুয়া, খিচুড়ি বা ডাল-রুটি। শেষে দুধ ও ফলমূল।

— দুপুর ১২টা : ভাত, মাছ, গোশত, ডাল, শাকসবজি। শেষে খেতে চাইলে দুধ।

— বিকেল ৫টা : সকাল ৭টার মতো।

— রাত ৯-১০টা : দুপুর ১২টার মতো।

— দিনে পাঁচবার খাওয়াতে চাইলে সকাল ৭টায় নাশতা দেওয়ার পর সকাল ১০টায় আবার নাশতা দেবেন। তারপর দুপুরের খাবার দেবেন ১টা থেকে দেড়টার মধ্যে।

রবিবার, ৯ অক্টোবর, ২০২২

চুলে রঙ করুন ঘরোয়া উপাদানে


প্রয়োজন কিংবা শখের বশে চুলে রঙ করেন অনেকেই। কিন্তু বাজার থেকে কিনে আনা রঙে অনেক রকমের ক্ষতিকর রাসায়নিক দ্রব্য থাকে। এই ক্ষতিকর রাসায়নিক মিশ্রিত হেয়ার ডাই ব্যবহারের ফলে মাথার ত্বকে চুলকানি, ফুসকুড়ি থেকে শুরু করে দেখা দেয় নানা রকম চর্মরোগ। তাই চুলে রাসায়নিক মিশ্রিত ক্ষতিকর রঙ না লাগিয়ে জেনে নিন এমনই কিছু প্রাকৃতিক উপাদানের কথা যা দিয়ে বাড়িতেই তৈরি করে নেওয়া যাবে চুলের রঙ।

চুলে গাঢ় বাদামি কিংবা কালো রঙ করতে চাইলে বাড়িতে খানিকটা চা বা কফি দিয়েই তা সম্ভব। প্রথমে কয়েক কাপ চা কিংবা কফি দিয়ে কড়া লিকার তৈরি করুন। এর পর সেটা ঠান্ডা হয়ে এলে নিজের পরিষ্কার চুলের ওপর ঢেলে দিন। ২০-৩০ মিনিট সময় দিন দ্রবণটিকে চুলের সঙ্গে ভালোভাবে মিশে যাওয়ার জন্য। প্রথম সপ্তাহে অন্তত দু’বার এই কাজটি করুন যাতে করে কাঙ্ক্ষিত চুলের রঙটি পাওয়া যায়। এরপর এক সপ্তাহ বা দুই সপ্তাহ পরপর প্রয়োজনমতো চুল রাঙিয়ে নিন।


চা বা কফি ছাড়াও বেশ কিছু উপাদান আপনার চুল কালো করতে পারে। যেমন, লেবুর রস আর আমলকি চূর্ণের মিশ্রণ। এই মিশ্রণটি চুল আর মাথার ত্বকে লাগালে কিছু দিনের মধ্যেই আপনার চুল কালো হয়ে উঠবে।

মেহেদি পাতা চুলে লালচে ভাব এনে দেওয়ার জন্যে খুবই কার্যকরী। এক্ষেত্রে মেহেদি পাতা বেটে নিয়ে চুলে মাখিয়ে নিন। শুকিয়ে যাওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করুন। শুকিয়ে গেলে চুল ভালো করে ধুয়ে ফেলুন। আপনার চুল যদি হালকা লালচে হয় আর আপনি সেটাকে আরও বেশি লাল করতে চান, সে ক্ষেত্রে ন্যাচারাল ডাই হিসেবে বিট (সবজি) ব্যবহার করে দেখতে পারেন। এতে আপনার চুলে হালকা গোলাপি বা লালচে ভাব চলে আসবে।

 রেউচিনি বা রুবার্ব গাছের মূল সোনালি চুলের জন্যে অত্যন্ত কার্যকরী। এ জন্যে ২ কাপ পানিতে তিন টেবিল চামচ রুবার্ব সেদ্ধ করে নিন। অল্প আঁচে ১৫ মিনিট রাখুন। এর পর দ্রবণটিকে ঠান্ডা হতে দিন। সারা রাত দ্রবণটি একইভাবে রেখে দিয়ে পরের দিন এটি চুলে লাগান আর চুলে সোনালি আভা ফিরে পান।

শুক্রবার, ৭ অক্টোবর, ২০২২

গরম পানি পানের উপকারিতা


১. ওজন কমাতে সাহায্য করে
শরীরের বাড়তি ওজন কমাতে গরম পানি বেশ কাজের। এটি খুব সহজেই আপনার শরীরের জমানো চর্বিকে গলতে সাহায্য করবে। তাই প্রতিদিন সকালেই এক গ্লাস গরম পানি পান করুন। এসময় ইষদুষ্ণ এই পানিতে মিশিয়ে নিন খানিকটা লেবুর রসও। ব্যস! দেখবেন খুব দ্রুতই আপনার বাড়তি মেদকে কতটা চমৎকারভাবে কাটাতে সাহায্য করে এই দ্রবণটি। কেবল তাই নয়, গরম পানি বাড়তি কাজ হিসেবে এসময় আপনার শরীরের এডিপোস টিস্যুকেও ভাঙতে সাহায্য করবে।

২. ঠান্ডা ও ব্যথার উপশমে কাজ করে
সর্দি লেগেছে কিংবা মাথাব্যথা? ঠান্ডাজনিত যেকোন সমস্যায় এক গ্লাস গরম পানি আপনাকে দিতে পারে অসম্ভব ভালো ফলাফল। কেবল তাই নয়, নানারকম পেটের ব্যথায়, বিশেষ করে নিছের অংশের পেশীকে সহজ করে দিয়ে নারীদের পিরিয়ডের প্রচন্ড ব্যথাকে সহনীয় পর্যায়ে আনতে সাহায্য করে ইষদুষ্ণ এক গ্লাস পানি।

৩. শরীরের বিষাক্ততাকে দূর করে
আমাদের শরীরে প্রতিদিন মৃত কোষের পরিমাণ বাড়ে, শরীরের ভেতরে নানারকম বিষাক্ত পদার্থ জমা হয়। আর এসবকে ঝেটিয়ে বিদায় করতে এক গ্লাস গরম পানি অপ্রত্যাশিতভাবে সাহায্য করবে আপনাকে। গরম পানি পান করলে আপনার শরীর গরম হবে ও তাতে ঘামের জন্ম হবে। আর এই ঘামের মাধ্যমেই নিজের যত বিষাক্ত পদার্থ সেটা বাইরে বের করে দেবে শরীর। এভাবে সহজেই আপনি আপনার শরীরকে রাখতে পারবেন অনেকটা জীবাণুমুক্ত।

৪. ত্বকের সুস্থতা নিশ্চিত করে
গরম পানি পান যেহেতু শরীরের সব কোষ থেকে বিষাক্ত পদার্থ দূর করতে সাহায্য করে, ফলে সহজেই এর মাধ্যমে আপনি মুক্তি পেতে পারেন প্রচন্ড ঝামেলাময় ও বিরক্তিকর পিম্পলের হাত থেকে। এছাড়াও গরম পানি ত্বকের নষ্ট হয়ে যাওয়া লাবণ্যকেও ফিরিয়ে আনতে সাহায্য করে। তাই এক গ্লাস গরম পানি পান করলে আপনার ত্বক থেকে থেকে খুব সহজেই বয়সের ছাপকে দূরে রাখতে পারবেন আপনি।

৫. চুল ও মাথার ত্বককে সুস্থ রাখে
গরম পানি পান চুলের কোষগুলোকে তাজা রাখে, চুলের গোড়াকে অনেক বেশি শক্তিশালী করে তুলে চুলকে কোমল ও পরিমাণে অনেকটা বেশি হয়ে উঠতে সাহায্য করে। এছাড়াও এর মাধ্যমে চুলের বৃদ্ধিকেও ত্বরান্বিত করতে পারে যে কেউ সহজেই। শুধু কি তাই? দিনে এক গ্লাস গরম পানি পান আপনার মাথার ত্বককেও খুশকিমুক্ত করে দিতে পারে পুরোপুরিভাবে। এই কয়েকটি উপকারিতা শুনেই যারা ভাবছেন, বাহ! বেশ কাজের তো দিনে এক গ্লাস গরম পানি পান করা। তাদেরকে জানাচ্ছি, এটুকুই শেষ নয়। খাবার হজম করা, কোষ্ঠকাঠিন্য রোধসহ এমন আরো অনেক অনেকভাবে আমাদেরকে দৈনন্দিন জীবনে সুস্থ রাখতে সাহায্য করে এক গ্লাস গরম পানি। তাই আর দেরী কেন? আজ থেকেই শুরু করে দিন এক গ্লাস গরম পানি পান করার প্রক্রিয়া।

বৃহস্পতিবার, ৬ অক্টোবর, ২০২২

ত্বকের সতেজতা ধরে রাখতে অ্যালোভেরার প্যাক

ত্বকের যত্নে অ্যালোভেরা বেশ কার‌্যকরী। এটি ত্বককে শীতল পুনঃরুজ্জীবিত করে। অ্যালেভেরা জেলে পানি থাকে। এছাড়া খনিজ উপাদান ভিটামিন অন্যান্য পুষ্টি উপাদান রয়েছে। আজকাল ত্বকের যত্নে অনেক স্কিনকেয়ার কোম্পানি তাদের পণ্যে গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হিসেবে অ্যালোভেরা ব্যবহার করে।

অ্যালোভেরা এবং শশা:
অ্যালোভেরা জেল, শশার রস, দই, রোজ অয়েল বা এসেনশিয়াল অয়েল এর ফেসপ্যাক সেনসেটিভ ত্বকের জন্য বেশ উপকারী। অ্যালোভেরা জেল, শশার রস, টক দইয়ের সাথে কয়েক ফোঁটা রোজ অয়েল বা এসেনশিয়াল অয়েল মিশিয়ে প্যাক তৈরি করে নিন। প্যাকটি মুখে লাগিয়ে ১৫ মিনিট অপেক্ষা করুন। প্যাক শুকিয়ে গেলে ঠান্ডা পানি দিয়ে মুখ ধুয়ে ফেলুন।এতে ত্বকের অতিরিক্ত তেল, ময়লা দূর করে ত্বক পরিষ্কার করে থাকে। মুখে সতেজ ভাব এনে দেয়। এটি সেনসিটিভ ত্বকের জন্য বেশ কার্যকর।

অ্যালোভেরা এবং গোলাপ জল:
 ত্বকের দাগ দূর করতে এই প্যাকটি বেশ কার্যকর। অ্যালোভেরা জেল এবং গোলাপ জল একসঙ্গে মিশিয়ে নিন। এই প্যাকটি মুখ এবং ঘাড়ে ব্যবহার করুন। ১৫-২০ মিনিট পর শুকিয়ে গেলে ম্যাসাজ করে পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। এটি ত্বকের কালো দাগ, বয়সের ছাপ, ব্রণের দাগ দ্রুত দূর হবে।

অ্যালোভেরা এবং লেবুর রস:
 অ্যালোভেরা জেল এবং কয়েক ফোঁটা লেবুর রস একসঙ্গে মিশিয়ে প্যাক তৈরি করুন। মুখ এবং ঘাড়ে ব্যবহার করুন। ১৫ মিনিট পর শুকিয়ে গেলে কুসুম গরম পানি দিয়ে মুখ ধুয়ে ফেলুন। এই প্যাক রোদেপোড়া ভাব দূর করতে সাহায্য করে।

বিয়ের ছবি সুন্দর করার কিছু টিপস

 


বিয়ের দিন হল এমন একটি দিন, যে দিন আপনি নিজেকে সুন্দর করে সাজিয়ে তুলতে পারেন। তাই বিয়ের সাজটা হতে হবে সব থেকে ভিন্ন। এ সাজের মধ্যে থাকতে পারে,
- চুল সুন্দর করে বাধা,
- মেকাপ ফুটিয়ে তোলা ,
- চমৎকার একটি ড্রেস ,
- আর থাকবে একজন ক্যামেরাম্যান, যে সব আপনার সাথে সব সময় থাকবে আর আপনি যেখানে যাবেন সেখানেই আপনাকে অনুসরন করবে। যদিও সারাদিন ব্যাপি ছবি করা অনেক বিরক্তিকর ব্যাপার।
বিয়ের ছবিতে সুন্দর বা গর্জিয়াস দেখানোর জন্য আপনাকে সঠিক সময় বেছে নিতে হবে। চিন্তিত বা ক্লান্ত অবস্থার ছবি ভালো আসে না। ভালো মেকাপ আস্টিস থেকে আপনাকে মেকাপ করতে হবে যাতে মেকাপ আপনার মুখের সাথে মিলে সুন্দর ফুটে উঠে। তবেই ছবি ভালো আসবে না। মুখের মেকাপ পাউডারের মত সাদা হয়ে ভেসে থাকলে, আপনার ছবির মান নষ্ট হবে ।
কিছু টিপস অনুসরণ করলে আপনার বিয়ের ছবি হবে, সব থেকে আলাদা ও আকর্ষনীয়। আসুন দেখে নেই, সেই টিপস গুলো:

যখন মেকাপ করবেন, তখন এটি হবে খুব সিম্পল
বিয়ের দিন সবাই চায় একটা ভিন্ন লুক নিয়ে আসতে। এজন্য অনেকে গর্জিয়াস মেকাপ করে। গর্জিয়াস মেকাপের জন্য আপনি যদি অনেক ফাউন্ডেসন ও লিপস্টিক ব্যবহার করেন তবে লাইটের সামনে গেলে, আপনার অরিজিনাল মুখ চিনা যাবে না। আপনার ছবিও সুন্দর আসবে না। যদি আপনি সব ছবি সুন্দর করতে চান তবে, অবশ্যই আপনাকে এমন ভাবে মেকাপ করতে হবে যাতে নেচারাল লুক চলে আসে। এতে বার বার মেকাপ নষ্ট হয়ে যাওয়ার কোন ভয় থাকবে না। মেকাপ করার আগে আপনার স্কিনে বিভিন্ন মাস্ক ও ময়েশ্চারাইজার লাগিয়ে স্কিনকে করে নিবেন নরম ও আকর্ষনীয়। সুন্দর ছবি করার জন্য আপনাকে অবশ্যই ভালো ক্যামেরাম্যান বেছে নিতে হবে। যে সব সময় আপনার সাথে থাকবে ।

ত্বকের যত্ন নিবেন বিয়ের কিছু দিন আগে থেকেই:
আপনার যদি বিয়ে ঠিক হয় তবে বিয়ের তারিখের সপ্তাহখানেক আগে থেকেই ত্বকের যত্ন নেওয়া শুরু করবেন । আপনার হাত পায়ের ওয়াক্সিং , চুলের ট্রিটমেন্ট আপনি আগেই করে ফেলবেন । নাইলে আপনি যদি বিয়ের দিন এসব কিছু এক সাথে করতে যান তবে আপনার বিয়ের সাজই নষ্ট হয়ে যেতে পারে । আপনার বিয়ের তারিখের ১–২ দিন আগেই আপনি ভ্রু প্লাক করে রাখতে পারেন । আপনি যদি বিয়ের দিন ভ্রু প্লাক করতে যান তবে মেকাপ করার সময় ওই জায়গাটি লাল হয়ে যেতে পারে । এতে আপনার বিয়ের লুক নষ্ট হবে ।

চেহারার ভিন্ন রুপ:
ভালো মেকাপের সব থেকে ভালো গুণ হল একটা ন্যাচারাল সাজের মেকাপ বেছে নেয়া। আপনি যদি বিয়ের দিন ভালো ছবির আশা করে থাকেন তবে আপনাকে ন্যাচারাল লুক রাখতে হবে। এমনিতেই বিয়ের দিন আপনি খুব জরোয়া শাড়ি ও অনেক গহনা পরে থাকেন। এর সাথে যদি আপনার মেকাপটাও অনেক বেশি গর্জিয়াস হয়, তবে আপনাকে দেখতে ভালো লাগবে না। আপনার বিয়ের ছবি গুলোও বেশি ভালো হবে না। আপনি শুধু আপনার মুখই সাজাবেন না, সাথে সাথে আপনার গলা , হাত , পা ও সমান ভাবে সাজাবেন। নয় তো মুখের তুলনায় আপনার হাত , পা এবং গলা অনেক বেমানান লাগবে । আপনার মেকাপ শেষ হলে কয়েকটি ছবি করে দেখবেন। কোথাও খারাপ দেখাচ্ছে কি না , আপনার মেকাপ সব জায়গায় ঠিক মত বসছে কি না আগেই দেখে নিবেন। সে ক্ষেত্রে আপনার শুধরে নেওয়ার সময় থাকবে। আপনি হাতে অনেক সময় নিয়ে বিয়ের দিন পার্লারে যাবেন । নয় তো আপনার মেকাপ সুন্দর হবে না। আপনার বিয়ের সাজ যদি পারফেক্ট হয় তবে আপনার বিয়ের ছবিও বেশি অনেক সুন্দর হবে । আর ছবি হবে সব থেকে আলাদা ও আকর্ষনীয়।

শনিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২২

সকালে ঝলমলে চেহারা পেতে রাতে করণীয় কিছু কাজ

সকালের তাড়াহুড়োয় তখন কোন কিছুরই আর ভালো করে যত্ন নেয়া হয় না। সুতরাং রাতের কিছু রূপচর্চা অবশ্যই দরকার। চলুন তবে দেখে নেয়া যাক সকালের এইসকল ঝামেলা থেকে মুক্ত পাওয়ার কিছু টিপস।
 
– সকালে উঠে সুন্দর কোমল একজোড়া ঠোঁট দেখতে চাইলে রাতে ঘুমানোর আগে ঠোঁটে লাগান লিপবাম অথবা অলিভ অয়েল। এতে করে ঠোঁটের সৌন্দর্য বৃদ্ধির পাশাপাশি আপনার সকালের সময়ও বাঁচবে।


– যারা প্রতিদিন সকালে উষ্কখুষ্ক চুল নিয়ে ঘুম থেকে ওঠেন, যার একমাত্র সমাধান সকালে শ্যাম্পু করে গোসল করা তারা রাতে ঘুমানোর আগে চুলে লাগান হেয়ার সিরাম। এতে সকালে চুল থাকবে ঝলমলে।

– সকালে উঠে হাত পা রুক্ষ দেখলে মেজাজটাই খারাপ হয়ে যায় এবং ফলে দিন খারাপ হয়। এই ঝামেলায় না পরে রাতে শুতে যাওয়ার আগে হাত পায়ের ত্বকে লাগান ময়েসচারাইজার। সকালে উঠে পাবেন কোমল নরম ত্বক।

– যারা একটু কম ঘুমান তাদের চোখের নিচের ত্বক কুচকে যায়। এতে দেখতে বিশ্রী লাগে, বয়স্ক মনে হয়। তাই রাতে ঘুমাতে যাওয়ার আগে চোখের নিচে এবং চারপাশে লাগান আন্ডার-আই সেরাম। এতে ত্বক কুচকে যাওয়ার ঝামেলা থেকে মুক্তি পাবেন।