শনিবার, ২৯ অক্টোবর, ২০২২

ঘরোয়া পদ্ধতিতে মাথার খুসকি দূর করার উপায়

১/লবণ-লবণ কিন্তু খুশকির যম। মাথায় শ্যাম্পু করার সময় কিছুটা লবণ মাথায় ছিটিয়ে নিয়ে আলতো হাতে ঘষুন। উপকার পাবেন নিশ্চয়ই।

২/রসুন-উপরেই বলেছি খুশকি মূলত ফাঙ্গাসের সংক্রমণ। ফাঙ্গাস দূর করতে রসুন বাটা ব্যাবহার করতে পারেন। তবে রসুনের গন্ধ আপনার কাছে ভালো নাও কাগতে পারে। সে ক্ষেত্রে বাটা রসুনের সঙ্গে মধু মিশিয়ে ক্ষানিক খন রেখে দিন।

৩/মেথি-মেথি সারারাত পানিতে ভিজিয়ে রেখে বেটে নিন। মাথায় মেখে রাখুন আধঘণ্টা। তারপর শ্যাম্পু যোগে মাথা ধুয়ে নিন ভালো করে।

৪/বিট-গোটা বিট সেদ্ধ করে সেই পানি মাথায় ঢালুন ও ম্যাসেজ করুন।

৫/ডিমের সাদা অংশ-ডিমের সাদা অংশের সঙ্গে অর্ধেক পাতি লেবুর রস, নিম পাতা ও আদার রস মিশিয়ে চুলের গোঁড়ায় মাখুন। আধ ঘণ্টা পরে ধুয়ে ফেলুন।

৬/পেঁয়াজের রস-পেঁয়াজের রস খুশকি বিনাশী। পেয়াজ মিহি করে বেটে নিয়ে রস ছেকে নিন। মাথায় মেখে আধঘণ্টা ধৈর্য ধরে বসে থাকুন। সপ্তাহে ২ বার করে চালিয়ে যান। ফল পাবেন দ্রুতই।

৭/অ্যালোভেরা-তাজা অ্যালোভেরার কস মাথার ত্বকে লাগান। ১৫ মিনিট পরে শুকিয়ে গেলে হালকা গরম পানি দিয়ে চুল ধুয়ে নিন। মাসে একবার করে করুন।

৮/আপেল সিডার ভিনিগার-সপ্তাহে একবার আপেল সিডার ভিনিগার দিয়ে মাথার চুল ধুয়ে নিন।

রবিবার, ২৩ অক্টোবর, ২০২২

সহজ ৫টি ধাপে ঘরেই করে ফেলুন পার্লারের মত হেয়ার স্পা


ঘরে বসে মাত্র ৫টি ধাপে করে ফেলুন পার্লারের মত হেয়ার স্পা। হেয়ার স্পা করার সহজ পাঁচটি ধাপ বলে দিয়েছে healthisright,healthcareplusbeauty এবং .boldsky।

১। তেল ম্যাসাজ করা

হেয়ার স্পার প্রথম ধাপ হল চুলে তেল ম্যাসাজ করা। নারকেল, অলিভ বা বাদাম যেকোন তেল কুসুম গরম করে মাথার তালুতে আঙুল দিয়ে ১৫ থেকে ২০ মিনিট ভাল করে ম্যাসাজ করুন। আঙুল দিয়ে ম্যাসাজ করলে মাথার তালুতে রক্ত চলাচল সচল থাকবে।

২। চুল স্টিম করুন
গরম পানিতে সুতির টাওয়েল ভিজিয়ে নিয়ে ভাল করে চিপে নিন। এবার এই টাওয়ালটা দিয়ে চুল গোড়া থেকে আগা ভাল করে পেঁচিয়ে নিন। এটি চুলের গোড়া পর্যন্ত ভাল করে তেল পৌঁছেতে সাহায্য করে। এভাবে চুল টাওয়েল দিয়ে ১৫ থেকে ২০ মিনিট পেঁচিয়ে রাখুন।

৩। চুল শ্যাম্পু করা
এবার চুল হালকা কোন শ্যাম্পু দিয়ে শ্যাম্পু করে ফেলুন। আপনি চাইল আগের দিন তেল দিয়ে রাখতে পারেন। পরের দিন শ্যাম্পু করে ফেলতে পারেন। স্টিম করার পর কুসুম গরম পানি দিয়ে শ্যাম্পু করবেন।

৪। কন্ডিশনার ব্যবহার করা
শ্যাম্পু করার পর ভাল কোন কন্ডিশনার দিয়ে চুল কন্ডিশন করে নিন। আপনি চাইলে প্রাকৃতিক উপায়ে চুল কন্ডিশন করতে পারেন। কিছু পানি গরম করে তাতে চায়ের পাতা দিয়ে লিকার করে নিন। এবার এতে লেবুর রস মিশিয়ে ঠান্ডা করে চুলে কন্ডিশনার হিসেবে ব্যবহার করুন।

৫। চুলে প্যাক লাগান
এটি হেয়ার সবশেষ ধাপ। এটি আপনার চুলে পুষ্টি জুগিয়ে চুলকে নরম কোমল করে তোলে। আপনি আপনার পছন্দের যেকোন প্যাক ব্যবহার করতে পারেন। এমনকি চাইলে বাজারে হেয়ার স্পার প্যাক পাওয়া যায় সেটাও লাগাতে পারেন। কিংবা ঘরে তৈরি করে নিতে পারেন যেকোন হেয়ার প্যাক।

প্যাক:১ দুটি ডিম নারকেল তেলের সাথে মিশিয়ে চুলে লাগান। এবার কসুম গরম পানিতে ভিজানো টাওয়াল পেঁচিয়ে রাখুন চুলে। এভাবে ২০ মিনিট রাখুন তারপর শ্যাম্পু করে ফেলুন। এই প্যাকটি সব ধরণের চুলের জন্য প্রযোজ্য।

প্যাক:২ এবার একটি পাকা কলার সাথে অলিভ অয়েল, ডিম, মধু, দুধ ভাল করে মিশিয়ে প্যাক তৈরি করে নিন। চুলে লাগিয়ে ২০ মিনিট অপেক্ষা করুন। তারপর শ্যাম্পু করে ফেলুন।

প্যাক:৩ পাকা কলা, মধু, টক দই, এবং অলিভ অয়েল মিশিয়ে প্যাক তৈরি করে নিন। এবার এটি চুলে লাগিয়ে রাখুন। তারপর শ্যাম্পু করে চুল ধুয়ে ফেলুন।

হেয়ার স্পা নিয়মটা তো জেনে গেলেন। সপ্তাহে একবার করে ১৫ দিন এভাবে চুলের যত্ন নিন। আর পার্থক্যটা নিজের চোখে দেখুন।

বৃহস্পতিবার, ২০ অক্টোবর, ২০২২

গরমে ত্বকের উপযুক্ত হারবাল ফেসিয়াল

নিজের ত্বক নির্বাচন : আপনার ত্বক তৈলাক্ত নাকি খুব শুষ্ক, হারবাল ফেসপ্যাক ব্যবহারের আগে তা জেনে নিন। মুখমণ্ডলের কপাল অংশ থেকে নাক ও থুঁতনি অংশ পর্যন্ত যদি তেল আসে, তবে তা টিস্যু পেপার ব্যবহারের মাধ্যমে মুচে ফেলুন। ওই স্থানগুলো টিস্যু পেপারে মোছার পর যদি টিস্যু পেপার ভিজে যেতে দেখা যায় তবে বুঝতে হবে ত্বকে ঘামের পরিমাণ বেশি। যদি টিস্যু পেপারটিতে কালছে ভাব আসে তাহলে বুঝতে হবে, আপনার ত্বক অতিরিক্ত তৈলাক্ত। এ ছাড়াও দুই আঙুলের ব্যবহারে আপনি আপনার ত্বকের ঘাম ও তৈলাক্তভাবের পার্থক্য বুঝতে পারবেন। ত্বকে তৈলাক্তভাব এলে মুখমণ্ডল, নাকের চারপাশের অংশে চকেচকে ভাব ফুটে উঠবে।

তৈলাক্ত ত্বকের প্যাক : মুলতানি মাটির সঙ্গে একটু শসা, কমলা লেবুর রস ও একটু চন্দনের গুঁড়া দিয়ে প্যাক তৈরি করে ত্বকে লাগাতে হবে। এ প্যাক ব্যবহারে মুখের ব্রণের ভাব চলে যাবে, কোনো ধরনের ইনফেকশন থাকলে তা দূর হবে এবং ত্বকের উজ্জ্বল ভাব বৃদ্ধি পাবে।তৈলাক্ত ত্বকের জন্য ফ্রুটপ্যাকও ব্যবহার করা যেতে পারে। এ জন্য আপেল, কমলার রস, সামান্য মুলতানি মাটি, একটু টকদই, আর যাদের মধু ব্যবহারে সমস্যা নেই তারা একটু মধু দিয়ে এগুলো একসঙ্গে ব্লেন্ড করে প্যাকটি ত্বকে ব্যবহার করতে পারেন।

ওই প্যাকগুলো ছাড়া ত্বকের যত্নে ভেজিটেবল প্যাকও ব্যবহার করতে পারেন। এ জন্য শসা, আলু ভালো করে ব্লেন্ড করে তার মধ্যে অল্প পরিমাণ পেঁপে ও মসুর ডাল দিয়ে প্যাক তৈরি করতে পারেন। এর সঙ্গে চাইলে সামান্য পরিমাণ চালের গুঁড়া ও একটু টক দই দিয়েও নতুন আরেকটি প্যাক তৈরি করতে পারেন। এ প্যাকটি ব্যবহারের সঙ্গে সঙ্গে ত্বকে সজীবতার ভাবটি ফুটে উঠতে থাকবে।

কম্বিনেশন ত্বকের জন্য : কম্বিনেশন ত্বকের জন্য তৈলাক্ত বা শুষ্ক ত্বকের যে কোনো প্যাক ব্যবহার করতে পারেন। তবে ব্যবহারের আগে মৌসুমের দিকে একটু লক্ষ্য রাখতে হবে। কম্বিনেশন ত্বক গরমের দিনে বেশি তৈলাক্ত ও শীতে বেশি শুষ্ক হয়ে যায়। তাই মৌসুম অনুযায়ী যে কোনো প্যাক আমরা আমাদের ত্বকে অনায়াসে ব্যবহার করতে পারি। অর্থাৎ গরমের সময় তৈলাক্ত ত্বকের প্যাক ও শীতের সময় শুষ্ক ত্বকের প্যাকগুলো ব্যবহার করতে হবে।

শুষ্ক ত্বকের জন্য : শুষ্ক ত্বকে ভেজিটেবল ফেসিয়ালটা বেশ জরুরি। তাই শুষ্ক ত্বকের জন্য গাজরের ব্যবহার খুব উপকারী হতে পারে। এ জন্য প্রথমেই গাজর গ্রেড করে এর মধ্যে সামান্য চালের গুঁড়া দিয়ে প্যাক তৈরি করে মুখে ব্যবহার করা যেতে পারে। এ ছাড়া ত্বকে অ্যালোভেরা ব্যবহার করা যেতে পারে। অ্যালোভেরা থেকে তৈরি জেলটাও শুষ্ক ত্বকের জন্য উপকারী।

সব মিলিয়ে ত্বকের টোন বুঝে প্যাক তৈরি করে ত্বকে ব্যবহার করতে হবে। প্যাকগুলো ১৫ থেকে ২০ মিনিট ত্বকে মেখে ধুয়ে ফেলতে হবে। এরপর ত্বকে ময়েশ্চারাইজিং ক্রিম ব্যবহার করতে হবে। যাদের ত্বক তৈলাক্ত তারা অয়েল ফ্রি ময়েশ্চারাইজিং ক্রিম ব্যবহার করবেন। যাদের শুষ্ক ত্বক তারা অয়েল বেসড ময়েশ্চারাইজিং ক্রিম ব্যবহার করবেন।

প্যাকগুলো ছাড়াও কেউ যদি বাজারের হারবাল ফেসিয়ালগুলো ব্যবহার করতে চান তবে, সে পণ্যটি শতভাগ হারবাল কি-না তা ভালোভাবে পরীক্ষা করে নেবেন। হারবাল ব্যবহারে ত্বকে কোনো সমস্যা দেখা দিলে অবশ্যই অভিজ্ঞ রূপ বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেবেন। মনে রাখবেন, বাজারে হারবাল ফেসিয়ালের নামে অনেক কেমিক্যাল ফেসিয়ালও বিক্রি হচ্ছে। তাই পণ্যটা যেন ভালো ব্র্যান্ডের হয় সে দিকেও খেয়াল রাখবেন।

বুধবার, ১৯ অক্টোবর, ২০২২

চুলের সমস্যা দূর করতে টক দইয়ের হেয়ার প্যাক



চুলের যত্নে নানা রকম হেয়ার প্যাক ব্যবহার করা হয়ে থাকে। এর মধ্যে মেহেদি প্যাক অন্যতম। এটি চুল পড়া রোধ করে প্রাকৃতিকভাবে চুল কালার করে থাকে। আরও একটি উপাদান আছে যা চুল নরম-কোমল করে, খুশকি রোধ করে চুলকে মজবুত করে তোলে। তা হল টক দই। অনেকেই জানেন চুলের খুশকি দূর করার জন্য টক দই বেশ কার্যকর। শুধু খুশকি দূর করা নয় চুলের আরও অনেক সমস্যা সমাধান করে দিতে পারে টক দই-এর হেয়ার প্যাক।
চুলের সমস্যা দূর করতে টক দইয়ের হেয়ার প্যাক-

১। চুল নরম কোমল করতে
টক দই, নারকেল তেল এবং অ্যালোভেরা জেল ভাল করে মিশিয়ে প্যাক তৈরি করে নিন। এই প্যাকটি চুলে ব্যবহার করুন। ১৫ মিনিট পর শ্যাম্পু করে ফেলুন। প্রাণহীন, নির্জীব, রুক্ষ চুলকে নরম, কোমল, এবং ময়োশ্চারাইজ করে তুলবে এই প্যাকটি। নিয়মিত ব্যবহারে এই প্যাকটি চুলের রুক্ষতা দ্রুত দূর করে দেবে।

২। চুল পড়া রোধ
১/৪ কাপ মেথি গুঁড়োর তার সাথে ১ কাপ টক দই মিশিয়ে পেস্ট তৈরি করুন। মাথার তালুসহ সম্পূর্ণ চুলে এই প্যাকটি ব্যবহার করুন। ২ ঘন্টা রেখে শ্যাম্পু করে ফেলুন। এটি সপ্তাহে এক বার ব্যবহার করুন। এই প্যাকটি চুল পড়া রোধ করতে সাহায্য করে।

৩। রুক্ষতা দূর করতে
টকদই, বাদাম তেল এবং একটি ডিম ভাল করে মিশিয়ে প্যাক তৈরি করে নিন। এই প্যাকটি চুলের গোড়া থেকে সম্পূর্ণ চুলে ভাল করে লাগিয়ে রাখুন। ৩০ মিনিট পর চুল শ্যাম্পু করে ফেলুন। ডিমের পুষ্টি এবং তেলে চুলের রুক্ষতা দূর করে দিয়ে চুল স্লিকি করে তোলে।

৪। খুশকি দূর করতে
মাথার তালুর রুক্ষতা, খুশকি দূর করতে এই প্যাকটি বেশ কার্যকর। তিন টেবিল চামচ অলিভ অয়েল টক দইয়ের সাথে ভাল করে মিশিয়ে প্যাক তৈরি করে নিন। এটি মাথার তালুতে ১০ মিনিট চক্রাকারে ম্যাসাজ করে লাগান। ৩০ মিনিট পর শ্যাম্পু করে চুল ধুয়ে ফেলুন। এই প্যাকটি সপ্তাহে দুই বার ব্যবহার করুন।

রবিবার, ১৬ অক্টোবর, ২০২২

শিশুর সুরক্ষায় ডাইপার🤗

 

ডায়াপারের মান ভালো হতে হবে, শোষণক্ষমতাও বেশি থাকতে হবে

শিশুর সঠিক যত্ন নেওয়ার পরও রাতের বেলায় একনাগাড়ে কাঁদতে থাকে। আবহাওয়া ঠান্ডা না হলেও ঘন ঘন ঠান্ডা লেগে যায়। আক্রান্ত হতে থাকে সংক্রমণে। শিশুকে পরানো ডায়াপারের মান যদি ভালো না হয়, হতে পারে অনেক কিছুই। শিশুকে ডায়াপার পরিয়ে রাখলে থাকা যায় নিশ্চিন্তে। কিন্তু এটি ব্যবহারের সময় নিয়ম ও পদ্ধতি না জানার কারণে শিশুর অস্বস্তি হতে পারে। দেখা দিতে পারে শিশুর ত্বকে নানা সমস্যা। এমনকি ভেজা ডায়াপারের কারণে ঠান্ডা লেগে শিশু অসুস্থও হয়ে যেতে পারে। ডায়াপার কেনার সময়ও থাকতে হবে সচেতন। জানতে হবে ডায়াপারের মান ও শোষণক্ষমতা। নিশ্চিত করতে হবে আরামের বিষয়টি।

 ডায়াপার বদলানোর সময় করণীয়

ডায়াপার বদলানোর সময় শিশুর নিম্নদেশ ভেজা কাপড়, বেবি ওয়াইপস দিয়ে খুব যত্ন করে পরিষ্কার করতে হবে। সামনে থেকে পেছন দিকে মোছাতে হয়। অন্যথায় ব্যাকটেরিয়া সংক্রমণ হতে পারে, যা থেকে ইউরিনারি ইনফেকশন হয়।

হাঁটু এবং নিতম্বের ভাঁজগুলোও পরিষ্কার করে দিতে হবে। মোছানো শেষে শুকনো পরিষ্কার কাপড় দিয়ে মুছে দিন। এরপর পুনরায় ডায়াপার পরানোর আগে ডায়াপার অয়েন্টমেন্ট অথবা ময়েশ্চারাইজিং বেবি লোশন ব্যবহার করতে পারেন।

ডায়াপারের মান ভালো হতে হবে, শোষণক্ষমতাও বেশি থাকতে হবে
ডায়াপারের মান ভালো হতে হবে, শোষণক্ষমতাও বেশি থাকতে হবে

মনে রাখতে হবে
* ময়লা ডায়াপার থেকে শুধু দুর্গন্ধই নয়, বরং অনেক ধরনের জীবাণুরও সংক্রমণ ঘটতে পারে।

* অনেক মা-বাবা তাঁদের শিশুকে সারা রাত ডায়াপার পরিয়ে রাখেন। এটি শিশুদের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে। সারা রাত ওই ভেজা ডায়াপারে শুয়ে থাকলে শিশুর ত্বকে ভেজা ভাব থেকে র‌্যাশ হয়। এ কারণে ঠান্ডা লেগে যায়। এ ছাড়াও মল–মূত্র দীর্ঘক্ষণ শরীরে লেগে থাকলে তা থেকে সংক্রমণ ছড়ায়। রাতে শিশুকে প্রয়োজনে ডায়াপার বদলে দিন।

* শক্ত ডায়াপার পরালে অনেক সময় শিশুর পায়ে ও কোমরের আশপাশে দাগ হয়ে যেতে পারে। সেখানে চুলকাতে পারে। সে ক্ষেত্রে শিশু অস্বস্তি বোধ করবে বা বড় শিশু হলে চুলকে ক্ষত তৈরি করতে পারে।
* শিশুর ডায়াপার পরানোর জায়গায় পায়ে ও কোমরে যদি ফুসকুড়ি দেখতে পান, তাহলে কিছুদিন ডায়াপার ব্যবহার করা বন্ধ রাখুন।

* জীবাণু যাতে ছড়াতে না পারে, সে জন্য শিশুর ডায়াপার বদলানোর পর ভালো করে হাত ধুয়ে নিন।

* র‌্যাশ হলে বা প্রস্রাবে ইনফেকশনের মতো মনে হলে ডায়াপার ব্যবহার কয়েক দিন বন্ধ রাখতে হবে।

* ডায়াপার বেশি আঁটসাঁট করে পরানো যাবে না। অন্তত ৬ ঘণ্টা পরপর পরিবর্তন করে নতুন ডায়াপার পরিয়ে দিতে হবে।

* প্রতিবার পায়খানার পর সঙ্গে সঙ্গেই পরিবর্তন করতে হবে।

গরমে ত্বক সুন্দর রাখতে করণীয়

উজ্জলতা বৃদ্ধিতে পেঁপের ব্যবহার

রোদের তীব্রতায় ত্বক পুড়ে কালো হয়ে যায় এবং ঘামের ওপর ধুলোবালি জমে ত্বক কালো দেখায়।ত্বকের হারানো উজ্জলতা ফিরিয়ে আনতে ব্যবহার করুন পেঁপে। পাকা পেঁপে স্লাইস করে কেটে নিন। এরপর এই পেঁপে মুখ, হাত, পা, গলা এবং ঘাড়ের ত্বকে ভালো করে ঘষে নিন। শুকিয়ে উঠলে ঠাণ্ডা পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। সপ্তাহে মাত্র ২ দিন ব্যবহারে বাড়বে ত্বকের উজ্জলতা।

ত্বককে সুস্থ রাখতে ফেইস মাস্ক

২ টেবিল চামচ টকদই এবং ১ টেবিল চামচ তাজা লেবুর রস ভালো করে মিশিয়ে নিয়ে মুখ, গলা এবং ঘাড়ের ত্বকের উপর লাগান। ২০-৩০ মিনিট রেখে পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। এতে ত্বকের গরমকাল জনিত যে কোনো সমস্যা থেকে মুক্তি পাবেন।

ত্বককে ময়েসচারাইজ করতে প্রাকৃতিক ময়েসচারাইজার

গরমকালে আবহাওয়ায় অনেক তাপ থাকে বলে ত্বকের উপরিভাগের আদ্রর্তা একেবারেই চলে যায়। এতে দেখতে বিশ্রী লাগে। এই সমস্যা দূর করতে ত্বক পরিষ্কার করে নিয়ে, ২ টেবিল চামচ মধু এবং ১ টেবিল চামচ তাজা লেবুর রস ভালো করে মিশিয়ে ত্বকে লাগান। ২০ মিনিট পড়ে পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। এতে ত্বকের আদ্রর্তা বজায় থাকবে এবং চেহারা থাকবে সুন্দর।

বৃহস্পতিবার, ১৩ অক্টোবর, ২০২২

গরমে ত্বকের উজ্বলতা ধরে রাখার কিছু উপায়

 

টিপস ১

ত্বকের তৈলাক্ত ভাব দূর করতে সমপরিমাণ শশার রস ও লেবুর রস এক সাথে ভালো ভাবে মিসিয়ে নিন। তুলার সাহায্যে পুরো মুখে আলতো ভাবে লাগিয়ে নিন। মিশ্রণটি মুখে লাগানোর সাথে সাথে যদি জ্বালা করে, তবে দ্রুত ধুয়ে ফেলুন। লেবু ত্বককে অতিরিক্ত শুষ্ক করে ফেলতে পারে, সেক্ষেত্রে ত্বকের উপযোগী একটি ময়েশ্চারাইজার মুখে লাগিয়ে নিন। লেবুর রসে থাকে সাইট্রিক এসিড, যা ত্বকের তেল সম্পূর্ণ রূপে দূর করে এবং ত্বককে শুষ্ক ও উজ্জ্বল করে।তবে বেশিক্ষণ লাগিয়ে রাখবেন না। এতে ত্বক পুড়ে যাওয়ার সম্ভাবনা থেকে যায়।

টিপস ২

ত্বককে ময়েশ্চারাইজ করার জন্যে  খুবই উপকারী একটি উপাদান হল ডিম।এটি একই সঙ্গে স্কিন ফার্মিং করতেও সাহায্য করে। একটা ডিমের সাদা অংশ ভালোভাবে ফেটিয়ে নিয়ে মুখে ও গলায় লাগিয়ে রাখুন। ১৫ মিনিট মতো রেখে ঠান্ডা পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন।

টিপস ৩

মধু ত্বককে ময়েশ্চারাইজ করার পাশাপাশি নানা রকম স্কিন ইনফেকশন এবং ব্রণ কমাতে সাহায্য করে । সারা মুখে ও গলায় পাঁচ থেকে দশ মিনিটের মতো লাগিয়ে রেখে ঠান্ডা পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। ফেস প্যাকেও মধু ব্যবহার করতে পারেন। চন্দনের গুঁড়োর সঙ্গে লেবুররস ও মধু মিশিয়ে সারা মুখে ও গলায় লাগিয়ে রাখুন। শুকিয়ে গেলে ঠান্ডা পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন।

টিপস ৪

স্ট্রবেরিতে রযেছে ভিটামিন সি, অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট এবং এক্সফোলিয়েন্টস্ ।যা আপনার ত্বকের উজ্বলতা ধরে রাকতে সাহায্য করে। শুধু স্ট্রবেরি পেস্ট করেও মুখে লাগাতে পারেন, আবার টক দই ও মধুর সঙ্গে মিশিয়েও লাগাতে পারেন। নিমেষেই ফিরে পাবেন ত্বকের উজ্জ্বলতা।

টিপস ৫

ক্লান্তিহীন ও উজ্জ্বল ত্বক পাওয়ার জন্যে কলা খুবই উপকারী একটি ফল। কলার সঙ্গে মধু মিশিয়ে সারা মুখে ও গলায় ১০ মিনিট লাগি রাখুন। এর পর ঠান্ডা পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন।

টিপস ৬

ত্বক উজ্জ্বল এবং ফর্সা করার জন্য লেবুর রস ও জৈব ঘাস এক সাথে মিশ্রণ করে নিয়ে এটা আপনার মুখে এবং ঘাড়ে ১০ মিনিট লাগিয়ে রাখুন এবং ধুয়ে ফেলুন। এটা প্রয়োগে আপনার মুখের ব্রণ এবং কালো দাগ দূর হবে এবং ত্বক পরিষ্কার হবে।

টিপস ৭

প্রতিদিন কমপক্ষে ২ লিটার বিশুদ্ধ পানি পান করার অভ্যস করুন। পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি পানে ত্বকের শুষ্ক ভাব দূর হয় এবং ত্বক হয়ে উঠে কোমল।

টিপস ৮

মুখে ব্রণ সমস্যা থাকলে চা গাছের তেল তুলার সাহায্যে ব্রণের উপরে কয়েক ঘণ্টা পরপর প্রয়োগ করতে থাকুন। প্রতি রাতে ঘুমাতে যাওয়ার পূর্বে ভিটামিন ই তেল আক্রান্ত স্থানে ১ ঘণ্টার জন্য প্রয়োগ করুন।তার পর ঠান্ডা পানি দিয়ে ধুয়ে নিন।

টিপস ৯

অতি দ্রুত ত্বকের গোলাপি আভা ফিরিয়ে আনতে অলিভ, কোকোনাট এবং জুজুবা তেল কয়েক ফোঁটা আপনার গালে এবং ভ্রু এর হাড়ে ধীরে ধীরে প্রয়োগ করুন।

টিপস ১০

ভাল ঘুম ত্বকের জন্য উপকারী। তাই ত্বকের যত্নে অবশ্যই সিল্ক এর বালিশ ব্যবহার করুন। এতে আপনার ঘুম পরিষ্কার হবে এবং আপনার ত্বক প্রাণবন্ত হয়ে উঠবে।

টিপস ১১

ত্বককে মসৃণ ও কোমল রাখতে সামুদ্রিক কড মাছের যকৃত দ্বারা তৈরি তেল খুবি কার্যকরি একটি উপাদান । এক্ষেত্রে লেবুর রস এবং কড লিভার তেল এর মিশ্রণ তৈরি করে নিয়ে শরীরে প্রয়োগ করতে পারেন।

টিপস ১২

সবুজ শাকসবজি ত্বকের জন্য একটি অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রাকৃতিক উপাদান। এটা আপনি রান্না করে অথবা রস বানিয়ে খেতে পারেন। যদি রস বানিয়ে খেতে চান তাহলে প্রতিদিন এক কাপ করে নিয়মিত খাবেন।