রবিবার, ২ এপ্রিল, ২০২৩

একটি পরিপূর্ণ ফেসিয়ালের ধাপগুলো জেনে নেই

অনেকেই জানি না পরিপূর্ণ ফেসিয়ালে কি কি ধাপ রয়েছে! একটি পরিপূর্ণ ফেসিয়ালের করার ৭ টি ধাপ রয়েছে। চলুনে জেনে নেয়া যাক সেই সব ধাপসমূহ সম্পর্কে।

(১) ক্লিঞ্জিং এবং ম্যাসাজিং (Cleansing and Massaging)
(২) স্টিমিং (Steaming)
(৩) স্ক্রাবিং (Scrubbing)
(৪) ফেসপ্যাক (Facepack)
(৫) টোনিং (Toning)
(৬) ট্রিটমেন্ট (Treatment)
(৭) ময়েশ্চারাইজিং (Moisturizing)

(১) ক্লিঞ্জিং এবং ম্যাসাজিং: ফেসিয়াল করার পূর্ব শর্ত হলো ত্বক পরিষ্কার করা। ত্বকের উপরিভাগ পরিষ্কার করার জন্য ক্লিঞ্জিং ক্রীম, ক্লিঞ্জিং অয়েল, ম্যাসাজ ক্রীম ইত্যাদি ব্যবহার করতে পারেন। ম্যাসাজ ক্রীম  ব্যবহারের ক্ষেত্রে একটি বাটিতে ম্যাসাজ ক্রীম এবং তাতে এক টুকরা বরফ নিয়ে তা ঠাণ্ডা করে নিন। এরপর গলাসহ পুরো মুখে ম্যাসাজ করুন পাঁচ মিনিট। ম্যাসাজ হয়ে গেলে তুলো ভিজিয়ে গলা ও মুখ মুছে নিন।

(২) স্টিমিং: এবার পালা স্টিমিং করার। স্টিমিং করার ফলে ত্বকের পোরসগুলো খুলে যায় এবং ত্বকের ভেতরকার ময়লা দূর হয়। একটি বাটিতে কুসুম গরম পানি নিন এবং তা থেকে গরম পানির ভাপ মুখে নিন। স্টিমিং করতে না চাইলে একটি তোয়ালে সহনীয় গরম পানিতে ভিজিয়ে হালকা করে মুখের উপর চেপে ধরুন পাঁচ মিনিট। যাদের ত্বক শুষ্ক এবং সংবেদনশীল তারা স্টিমিং করবেন দুই মিনিট।

(৩) স্ক্রাবিং:  স্টিমিং করার পরবর্তী কাজ হলো স্ক্রাবিং করা। স্ক্রাবিং করার ফলে ত্বকের মরা কোষ উঠে যায়, ব্ল্যাকহেডস দূর হয় এবং ত্বক ভেতর থেকে পরিষ্কার হয়। ত্বকের ধরণ অনুযায়ী স্ক্রাবিং প্রথমে ত্বকে লাগিয়ে রাখুন তিন মিনিট। এরপর পাঁচ মিনিট ম্যাসাজ করুন। ম্যাসাজ হয়ে গেলে একটি তোয়ালে ভিজিয়ে মুখ মুছে নিন। ত্বকের ধরণ অনুযায়ী প্রাকৃতিক স্ক্রাবার  নিচে দেয়া হলো-
  • তৈলাক্ত ত্বকের জন্য স্ক্রাব: ১ টেবিল চামচ চিনি এবং অর্ধেকটি টমেটো দিয়ে তৈরি করুন স্ক্রাব।
  • শুষ্ক এবং মিশ্র ত্বকের জন্য স্ক্রাব: ২ টেবিল চামচ অটমিল, হাফ চামচ দারুচিনি গুঁড়া এবং ২ চা চামচ তরল দুধ মিশিয়ে তৈরি করুন স্ক্রাব।
  • সংবেদনশীল ত্বকের জন্য স্ক্রাব: ব্যবহৃত গ্রীন টি প্যাক হতে পাতা সমূহ বের করে তাতে ১ চা চামচ মধু মিশিয়ে নিন।
(৪) ফেসপ্যাক ব্যবহার: স্ক্রাবিংকরার পর ফেসপ্যাক ব্যবহার করুন। ত্বকের ধরণ অনুযায়ী ফেসপ্যাক গলাসহ মুখে লাগিয়ে রাখুন ২০ মিনিট। এরপর ঠান্ডা পানির ঝাপটা দিয়ে ভালোভাবে মুখ ধুয়ে নিন। ত্বকের ধরণ  অনুযায়ী ফেসপ্যাক নিচে দেওয়া হল-
  • তৈলাক্ত ত্বক – মসুর ডাল বাটা, শসার রস ও ডিমের সাদা অংশের পেস্ট অথবা মুলতানি মাটি ও গোলাপ জলের পেস্ট।
  • শুষ্ক ত্বক – সয়া পাউডার, দুধের সর, কাঁচা হলুদ ও গাজরের রস মেশানো পেস্ট।
  • সাধারণ ত্বক – বেসন ও গোলাপ জলের পেস্ট ও তার সঙ্গে গ্লিসারিন ।
  • সংবেদনশীল ত্বক – শসা, গোলাপ জল, কাঁচা হলুদের পেস্ট।
(৫) টোনিংটোনিংকরার ফলে ত্বক ঠান্ডাহয় এবং ত্বকের খুলে যাওয়া পোরস বন্ধ হয়। টোনার হিসেবে রোসবেরি ওয়াটার, রোজ-ওয়াটার, শসার রস ব্যবহার করতে পারেন। একটি তুলোর বল তৈরি করে তাতে টোনার নিয়ে লাগিয়ে রাখুন না শুকানো পর্যন্ত।

(৬) ট্রিট: উপরের ছয়টি ধাপ করার পর ত্বক কিছুটা সংবেদনশীল হয়ে পরবে। এর জন্য দরকার ট্রিট। ট্রিট এর জন্য যে কোন ভালো তেল, যেমন – অলিভ ওয়েল , আমন্ড ওয়েল অথবা নারিকেল তেল ব্যবহার করতে পারেন। কয়েক ফোটা তেল মুখে মেখে পাঁচ মিনিট রেখে দিন।

(৭) ময়েশ্চারাইজিং: শেষ ধাপ ময়েশ্চারাইজ করা। ময়েশ্চারাইজ করার ফলে ফেসিয়াল ফলপ্রসূ হয় এবং ট্রিট এর তেল টাকে ত্বকে লক করে রাখে। নিজের ত্বকের ধরণ অনুযায়ী ময়েশ্চারাইজ ক্রিম ব্যবহার করুন।

অনেক সময় ঘরে বসে নিজেই ফেসিয়াল করার সময় ব্ল্যাকহেডস দূর হয় না। এক্ষেত্রে নিচের প্যাক টি অনেক কাজে দেবে –
  • ১ চামচ দুধ
  • হাফ চামচ জেলাটিন (ফ্লেভার ছাড়া)
  • কয়েক ফোটা লেবুর রস
এসব উপকরণ মিশিয়ে ১ মিনিট ওভেনে রাখুন মিশ্রণটি মেল্ট হবার জন্য। মেল্ট হয়ে গেলে হালকা গরম থাকতে নাকের উপর লাগিয়ে রাখুন। শুকিয়ে গেলে উঠিয়ে ফেলুন। ফলাফল দেখে নিজেই চমকে যাবেন।
উপরের সাতটি ধাপে খুব সহজেই নিজের ফেসিয়াল নিজেই করুন আর উপভোগ করুন কোমল ও উজ্জল ত্বক।

মঙ্গলবার, ২৮ মার্চ, ২০২৩

এই অসহ্য গরমে সতেজ থাকতে


প্রচন্ড গরম,সাথে চিটচিটে ঘাম,বাতাসের আর্দ্রতা। এপ্রিল থেকে আগষ্ট মোটামুটি এই কয়েকটি মাস যেন আসে অভিশাপের মত। বিশেষ করে আপনি যদি হন তৈলাক্ত ত্বকের অধিকারী। একজনের মুখের ত্বক হয়ে পড়ে যেন এক একটি তেলের কূপ। সাথে সান ট্যান, ব্রণ তো আছেই। মেকআপ করাই যেন অসম্ভব হয়ে পড়ে। শুষ্ক ত্বকের অধিকারীরা তেলের ঝামেলায় না পড়লেও অতিরিক্ত ঘাম, র‍্যাশ দেখা দেয়।
তাই বলে ঘরে বসে থাকালে চলবে। অফিস, ক্লাস, ঘোরাঘুরি তো আর বাদ দেওয়া যায় না। তাই বের হওয়ার আগে সাথে রাখুন কিছু প্রয়োজনীয় জিনিস, যা আপনাকে এই অসহ্য গরমে সতেজ রাখতে সাহায্য করবে।
১/ওয়েট টিস্যু/ মেকআপ রিমুভিং ওয়াইপ্সঃ
প্রতিদিনতো আর ভারী দীর্ঘস্থায়ী মেকআপ করা সম্ভব হয় না আর ময়েশ্চারাইজার বা বিবি ক্রিম যতই অয়েল ফ্রি হোক এই গরমে ৩-৪ ঘণ্টা পর মুখ আবারো তেল তেলে হয়ে যায়। তাই সাথে রাখুন ওয়েট টিস্যু। এটি দিয়ে মুখ ভালো ভাবে মুছে ফেলুন। ওয়েট টিস্যূ সহজেই সব ধরনের মেকআপ, তেল, ময়লা দূর করতে সক্ষম।
আলমাস, প্রিয়,স্টার ডাস্টে সহজেই পাবেন ওয়েট টিস্যু বা মেকআপ রিমুভিং ওয়াইপ্স।
গোল্ডেন রোজ, পোজি, নিউট্রোজেনা বিভিন্ন ব্র্যান্ডের মেকআপ রিমুভিং ওয়াইপ্স পাওয়া যায়।
দাম ২০০-২৫০ টাকা।
 ২/টোনারঃ
ওয়েট টিস্যু দিয়ে মুখ মোছার পর তুলোয় টোনার নিয়ে মুখ ভালো ভাবে মুছে ফেলুন। এটি বাকি মেকআপ, তেল, ময়লা দূর করার পাশাপাশি লোমকূপ ছোট করে,তেল নিঃসরণ কম করে ও ত্বক সতেজ রাখে।
ক্লিন অ্যান্ড ক্লিয়ার, নিউট্রোজেনা, বডি শপ বিভিন্ন ব্র্যান্ডের টোনার পাবেন যেকোনও বিউটি শপে। দাম পড়বে ১৫০-১০০০ টাকা
এছাড়াও টোনার হিসেবে ব্যবহার করতে পারেন গোলাপ জল। এটি টোনার হিসেবে বেশ ভালো কাজ করে।ত্বক ঠান্ডা ও সতেজ রাখে।
 ৩/সানস্ক্রিনঃ
এই গরমে আর প্রচন্ড রোদে আর যাই ভুলে যান সানস্ক্রিন লাগাতেও সাথে রাখতে ভুলবেন না। মনে রাখবেন যত এসপিএফ যুক্ত সানস্ক্রিন হোক না কেন,৩ ঘণ্টা পর অবশ্যই রিঅ্যাপ্লাই করতে হয়। অন্তত এসপিএফ ৪০ যুক্ত সানস্ক্রিন রাখুন ব্যাগে আর মুখের সাথে হাত পায়ে লাগাতে ভুলবেন না। ব্যবহার করুন এসপিএফ যুক্ত লিপবাম আর আই ক্রিমও।
লোটাস হারবাল, নিউট্রোজেনা, মাইনাস সল, স্পেক্ট্রাব্যান সানস্ক্রিন এই গরমে খুবই উপযোগী। মাইনাস সল সানস্ক্রিনটি তৈলাক্ত ও ব্রণের জন্য বিশেষ ভাবে তৈরি। পাবেন বড় ফার্মেসি গুলোতে।
সানস্ক্রিনের দাম পড়বে ৩০০-১৩০০ টাকা
 ৪/ওয়েল অ্যাবসরবিং শিট বা ব্লটিং পেপারঃ
অনেক সময়ই সম্ভব না পুরো মুখ মুছে আবার মেকআপ করা। আবার তেলের উপর সরাসরি ফেসপাউডার দিলে পোরের মুখ বন্ধ হয়ে দেখা দেয় ব্রণ। তাই সাথে রাখুন ব্লটিং পেপার। এটি মেকআপ নষ্ট না করে শুধু অতিরিক্ত তেল শুষে নেয়। মেকআপ দীর্ঘক্ষণ ভালো রাখে।
আলমাস,স্টার ডাস্টে পাবেন ক্লিন অ্যান্ড ক্লিয়ারের ব্লটিং পেপার। দাম ৩৪০ টাকা। এছাড়া ELF,NYX সহ বিভিন্ন ব্র্যান্ডের ব্লটিং পেপার পাবেন অনলাইনে।
৫/ছাতাঃ
সানস্ক্রিন লাগালেও ছাতার কোন বিকল্প নেই এই তীব্র রোদে। রোদের তাপ খুব বেশি হলে বা দীর্ঘক্ষণ রোদে থাকলে সানস্ক্রিন কিন্তু পুরো নিরাপত্তা দেয় না। তাই মাথার উপর একটি সুন্দর ছাতা তুলে ধরতে ভুলবেন না।
৬/সানগ্লাসঃ
ছাতার মতোই আরেকটি অপরিহার্য জিনিস সানগ্লাস। সূর্যের ক্ষতিকর রশ্মি চোখের পাতলা চামড়াকে অনেক বেশি প্রভাবিত করে। ফলে চোখে বয়সে ছাপ, বলিরেখা,ডার্কসার্কেল পড়ে। বাইরে বের হলে চোখে সানগ্লাস পরতে ভুলবেন না। সুরক্ষার পাশাপাশি এটি স্টাইল স্টেটমেন্টও যোগ করবে।
*বাড়ী ফেরার সাথে সাথে প্রচুর পানি দিয়ে মুখ ধুয়ে ফেলুন।
*প্রতিদিনই কিছু না কিছু ট্যানতো পড়েই। তাই মুখ পরিষ্কারের পর মুখে লাগান অ্যালোভেরা জেল,কাঁচা দুধ বা শশার রস।
*বাসায় রাখতে পারেন ক্যালামাইন লোশন। অতিরিক্ত ট্যান পরে গেলে সাথে সাথে মুখে লাগিয়ে ১০ মিনিট পর ধুয়ে ফেলুন। এটি ত্বকের পোড়া ভাব দূর করতে সাহায্য করে। পাবেন যেকোনও ফার্মেসিতে।
এই গরমে থাকুন সতেজ,সুস্থ আর সুন্দর।

সোমবার, ২১ নভেম্বর, ২০২২

গোলাপের পাপড়ির ময়েশ্চারাইজিং স্ক্রাব তৈরির উপায়

যা যা লাগবে
– ২ টেবিল চামচ নারিকেল তেল
– আধা টেবিল চামচ মধু
– ১ টেবিল চামচ গোলাপজল
– আড়াই টেবিল চামচ চিনি
– ছোট এক জার শুকনো গোলাপের পাপড়ি
– ১/২ ফোঁটা রোজ এসেনশিয়াল অয়েল
প্রণালী
১) একটা ছোট বোলে নারিকেল তেল নিন। গরম পানির ওপর বোলটি রেখে ধীরে ধীরে গলিয়ে নিন তেলটাকে। গলে গেলে এতে দিয়ে দিন গোলাপজল এবং মধু। মেশাতে থাকুন যতক্ষণ না পুরো মিশ্রণের রঙ এক হয়ে যায়।
২) মিশ্রণ একটু ঠাণ্ডা হয়ে এলে একটু একটু করে চিনি দিন এবং মেশাতে থাকুন। এতে একটা খসখসে, নরম মিশ্রণ তৈরি হবে। এ সময়ে এসেনশিয়াল অয়েল মিশিয়ে দিতে পারেন।
৩) একটা শুকনো গোলাপ নিয়ে গরম পানিতে কয়েক সেকেন্ড রেখে নরম করে নিন। এরপর এটাকে ছোট্ট ছোট্ট টুকরো করে মিশিয়ে দিন নারিকেল তেলের মিশ্রণে। এগুলো স্ক্রাবের শক্তি বাড়ায়।
এই রেসিপিতে আড়াই আউন্স স্ক্রাব তৈরি হবে। দুই সপ্তাহ পর্যন্ত এটা ভালো থাকবে। ইচ্ছে হলে এতে এক টেবিল চামচ আমন্ড অয়েলও মিশিয়ে নিতে পারেন মধুর পরিবর্তে।
আরও একটি উপায়ে গোলাপের পাপড়ি ব্যবহার করতে পারেন। আপনি নিজে গোলাপ কিনে নিতে পারেন বা টবে থাকা গোলাপ নিয়ে শুকিয়ে নিতে পারেন। এই শুকনো গোলাপের পাপড়ি গুঁড়ো করেও মিশিয়ে নিতে পারেন ২ কাপ চিনি এবং ২/৩ কাপ নারিকেল তেলের সাথে। এই মিশ্রণটি আগের স্ক্রাবের চাইতে একটু বেশি গুঁড়ো গুঁড়ো হবে।
এই দুই ধরণের যে কোনো একটি স্ক্রাব তৈরি করে নিন। এবার গোলাপের মিষ্টি সুগন্ধ ঘুরে ফিরবে আপনার আশেপাশে। সেই সাথে আপনার ত্বকের ফুটিয়ে তুলবে স্বাস্থ্যোজ্জ্বল আভা।

রবিবার, ২০ নভেম্বর, ২০২২

দাঁত সাদা করতে কলার খোসার ব্যবহার

  প্রথমেই বেছে নিন সঠিক কলা। দাঁত সাদা করার জন্য ঠিক ভাবে পাকা কলা হওয়া জরুরী। খুব বেশি পাকাও নয়, খুব বেশি কাঁচাও নয়। এমন কলা বেছে নিন যারা কিনা এখন নিচের দিকে একটু একটু সবুজ। কেননা এই ধরনের কলায় পটাশিয়াম থাকে উচ্চ মাত্রায়। আর এই পটাশিয়ামই দাঁত সাদা করার দায়িত্ব নেবে।

  কলা উলটো করে ছিলে নিন। হ্যাঁ, যেভাবে আপনি ছিলে থাকেন কলা ঠিক তার উলটো দিক থেকে ছিলে নিন। দেখবেন যে কলার গায়ে লম্বা লম্বা সুতার মতন আঁশ থাকে। উলটো করে ছিলে নিয়ে এই আঁশ গুলো থাকবে খোসার সাথেই।

  খোসা থেকে চারকোনা করে দুটি টুকরো কেটে নিন। আপনার সুবিধা মতন আকারেই কেটে নিন। চাইলে এই কাটা খোসা ফ্রিজেও সংরক্ষণ করতে পারেন।

  এবার সকালে দাঁত ব্রাশ করবার পূর্বে এই কলার খোসার ভেতরের অংশটি দিয়ে আপনার দাঁত খুব ভাল করে ঘষুন। প্রথম টুকরোটি দিয়ে পুরো এক মিনিট ঘষুন। তারপর সেটা বদলে দ্বিতীয় টুকরোটি দিয়ে আরও এক মিনিট। অর্থাৎ পুরো দুই মিনিট দাঁতকে ঘষুন। দাঁতের প্রত্যেকটি অংশে যেন পৌছায় এমন ভাবে ঘষতে হবে।

  দাঁত ঘষা হলে কিছুক্ষণ অপেক্ষা করুন। ১৫ থেকে ২০ মিনিট করতে পারলে ভালো। এই সময়ে পানি বা অন্য কিছু খাবেন না, কিংবা কুলি করবেন না। সময়টা পেরিয়ে গেলে আপনার নিয়মিত ব্যবহারের টুথ পেস্ট দিয়ে দাঁত মেজে নিন।


অবশ্যই মনে রাখতে হবে যে
 এটা কোনও ম্যাজিক নয়। তাই ভালো ফল পেতে নিয়ম মেনে ব্যবহার করতে হবে।
 অবশ্যই কমপক্ষে ২ মিনিট ঘষতে হবে। এই সময়টা জরুরি। বেশি ঘষলে আরও ভালো।
 ঘষার পর অবশ্যই সময় দিতে হবে খনিজ গুলো দাঁতে শোষিত হবার।
 যাদের দাঁত মদ্যপান, ধূমপান বা অসুস্থতার কারণে হলুদ তাদের ক্ষেত্রে একটু সময় লাগবে।
 কলার খোসায় প্রচুর পরিমাণে চিনি থাকে। তাই অবশ্যই দাঁত খুব ভালভাবে মেজে নিতে হবে। এবং এই কারণেই দিনে ১ বারের বেশি ব্যবহার করা যাবে না।
 যাদের দাঁত খুব একটা বেশি হলুদ নয়, তারা সপ্তাহে একবার ব্যবহার করুন।


বুধবার, ১৬ নভেম্বর, ২০২২

চুল ঘন করার সহজ উপায়

ঘন আর সুন্দর চুলের আকাঙ্ক্ষা থাকে সবারই। অনেক সময় চুল ঘন হলেও বিভিন্ন কারণে তা ঘন দেখায় না। আবার কখনো চুল পড়ে যাওয়ার কারণে ধীরে ধীরে চুলের ঘনত্ব কমে আসে। তবে এসব প্রতিরোধেও আছে উপায়। কিছু সহজ উপায় রয়েছে যার মাধ্যমে চুল সহজেই ঘন করে তোলা সম্ভব। চলুন তবে জেনে নেই-

ডিম হচ্ছে প্রাকৃতিক প্রোটিন, যা চুলকে ঘন করতে সাহায্য করে। একটি ডিমের সাদা অংশ নিয়ে ভালো ভাবে ফেটিয়ে নিতে হবে। তারপর পরিষ্কার চুলে সরাসরি হাত অথবা ব্রাশের সাহায্যে ওপর থেকে নিচ পর্যন্ত লাগাতে হবে। ডিম দিতে গেলে অনেকে চুল জট বেঁধে এলোমেলো হয়ে যায় বলে এড়িয়ে যান। চুলে ডিমের সাদা অংশ লাগানোর পর একটি মোটা দাঁতের চিরুনির সাহায্যে সাবধানে চুল আঁচড়ে নিন। তারপর হালকা ঝুটি করে নিন বা শাওয়ার ক্যাপ পরে নিন। ২০-৩০ মিনিট রেখে নরমাল পানিতে চুল ধুয়ে নিন এবং শ্যাম্পু করুন। যেদিন ডিম দেবেন সেদিন আর আলাদা করে কন্ডিশনার দেবার প্রয়োজন হবেনা।

যেসব জায়গায় চুল বেশি পাতলা, পেঁয়াজ কেটে ঘষলে সেই অঞ্চলের ব্লাড সার্কুলেশন বাড়ে, ফলে তা নতুন চুল গজাতে সাহায্য করে। আপনার হেয়ার ফলিকল এর কোনও অংশ ক্ষতিগ্রস্ত থাকলে নিয়মিত ব্যবহারে তা সারিয়ে তোলে। যাদের চুল পাতলা তারা সপ্তাহে ২-৩ দিন ১০-১২ মিনিটের জন্য মাথার তালুতে পেঁয়াজ ঘষে ব্যবহার করলে কিছুদিনের মধ্যেই ফল পাবেন।

অ্যালোভেরার জেল বের করে নিন, ৪ চামচ মধুর সাথে মিক্স করে সরাসরি চুলে এবং মাথার তালুতে লাগিয়ে ফেলুন। চাইলে এর সাথে কোনও ট্রিটমেন্ট ক্রিমও যোগ করতে পারেন। চুল ঘন করার সাথে সাথে এটি আপনার চুলের আগা ফেটে যাওয়া রোধ করবে।

শনিবার, ১২ নভেম্বর, ২০২২

ত্বকের ধরন ভেদে শীতকাল উপযোগী ঘরোয়া স্ক্রাব

(১) ফেস স্ক্রাব 

ফেস স্ক্রাব টি আপনি ব্যবহার করবেন শুধুমাত্র মুখেই। কারন, মুখের ত্বক অনেক পাতলা হয়। তাই, সেটি খেয়াল রেখেই সবসময়  স্ক্রাব ব্যবহার করতে হবে।
  • চালের গুঁড়ো
  • অ্যালোভেরা জেল
  •  মধু
যেভাবে তৈরি করবেন – 
চালের গুঁড়ো এর সাথে মধু এবং এলোভেরা জেল মিশিয়ে পেস্ট তৈরি করে নিন। বেশী ঘন হয়ে গেলে একটু পানি মিশিয়ে নিন এবং ব্যবহার করুন।

(২) হাত-পায়ের জন্যে স্ক্রাব

  • দারুচিনি
  • মধু
  • লেবুর রস
  • অলিভ অয়েল
যেভাবে তৈরি করবেন-
দারুচিনি গুঁড়ো  করে নিন। দানা-দানা ভাব যেন থাকে। এবার দারুচিনির সাথে বাকি উপকরণ মিশিয়ে নিন।   হাত এবং পায়ে ভালো করে লাগিয়ে নিন।

(৩) বডি স্ক্রাব

  • চিনি
  • আমন্ড বাদাম
  • গুঁড়ো দুধ
  • টমেটোর রস

যেভাবে তৈরি করবেন – 
আমন্ড বাদাম গুড়ো করে নিন। এবার বাকি সব উপকরণ এক সাথে মিশিয়ে নিন।

(৪) লিপ স্ক্রাব 

  • চিনি
  • অলিভ অয়েল
  • ভ্যানিলা ফ্লেভার
যেভাবে তৈরি করবেন-
সব উপকরণ একসাথে ভালোভাবে মিশিয়ে নিয়ে ঠোঁটে ব্যবহার করুন।

(৫) নখের জন্যে স্ক্রাব 

শুনতে একটু অদ্ভুত লাগলেও, নখেও স্ক্রাবিং এর প্রয়োজন রয়েছে। নখ এবং নখের আশেপাশের মড়া চামড়া দূর করে নখকে শক্ত করে তুলতে স্ক্রাবিং জরুরী।
  • অলিভ অয়েল
  • লেবুর রস
  • ছোট ব্রাশ
যেভাবে তৈরি করবেন –
অলিভ অয়েল এবং লেবুর রস ভালোভাবে মিশিয়ে নিন। একটি কটন বলের সাহায্যে নখে মিশ্রন টি কিছুহ্মন লাগিয়ে রাখুন। এবার ছোট ব্রাশের সাহায্যে নখ এবং নখের চারদিক ঘষে নিন এবং ধুয়ে ফেলুন।

(৬) হাত ও পায়ের তালুর জন্যে স্ক্রাব 

হাত ও পায়ের তালুও শীতের রুক্ষতা থেকে রেহাই পায় না। যার ফলাফল হাত ও পায়ের তালু শক্ত হয়ে যাওয়া, চামড়া ওঠা, ফেটে যাওয়া। এজন্য এই সব স্থানেও স্ক্রাবিং প্রয়োজন।
  • চিনি
  • অলিভ অয়েল
যেভাবে তৈরি করবেন –
চিনি এবং অলিভ অয়েল মিশিয়ে নিন। এই মিশ্রণটি হাত-পায়ের তালুতে ঘুরিয়ে ঘুরিয়ে ম্যাসাজ করুন ৫ মিনিট।

ভ্রমণে শিশুর প্রস্তুতি


অনেক মা আছেন, যাঁরা না বুঝে বেশি আঁটসাঁট কাপড় পরিয়ে বাচ্চাদের ভ্রমণে নিয়ে যান। এতে অনেক সময় বাচ্চাদের বমি হয়, তাদের অস্থির লাগে আর কান্নাকাটি করে।’

‘বাচ্চা তো ছোট, তাই কোথাও ঘুরতে যেতে পারি না। ও একটু বড় হলে তখন ঘোরাঘুরি করব।’ এমন কথা অনেক বাবা-মায়ের মুখেই শোনা যায়।

শিশুদের সঠিক সময়ে খাওয়া, খেলা, ঘুম—সবকিছুর ওপর কড়া নজর রাখতে হয় মা–বাবার, হতে হয় একটু বেশিই যত্নবান। কিন্তু অতিরিক্ত এ যত্ন ও সতর্কতার জন্য অনেক সময়ই তাঁরা তাঁদের শিশুকে নিয়ে কোথাও ঘুরতে যেতে চান না। বিশেষত, শূন্য থেকে চার বছরের বাচ্চাদের নিয়ে একটু দূরে কোথাও বেড়িয়ে আসার চিন্তাও করেন না তাঁরা। কিন্তু কিছু ছোট ছোট উদ্যোগ নিলেই আপনার ছোট্ট সোনামণিকে নিয়ে আপনি বেড়িয়ে আসতে পারেন ইচ্ছেমতো জায়গায়

যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের সহকারী পরিচালক সৈয়দা তসলিমা আক্তারকে মাঝেমধ্যেই দেশে এবং দেশের বাইরে যেতে হয়। ছোট্ট শিশু, বিশেষত চার বছর বয়স পর্যন্ত শিশুদের নিয়ে ভ্রমণের বেলায় তিনি বললেন, ‘বাচ্চাদের জন্য সব থেকে গুরুত্বপূর্ণ হলো ভ্রমণটা যেন তাদের জন্য আরামদায়ক হয়। ঠিক সময় খাওয়ানো আর ঘুমের দিকে খেয়াল রাখার সঙ্গে সঙ্গে তাকে খুব ঢিলেঢালা কাপড় পরাতে হবে। অনেক মা আছেন, যাঁরা না বুঝে বেশি আঁটসাঁট কাপড় পরিয়ে বাচ্চাদের ভ্রমণে নিয়ে যান। এতে অনেক সময় বাচ্চাদের বমি হয়, তাদের অস্থির লাগে আর কান্নাকাটি করে।আগে যে জায়গায় যেতে চান, সেখানকার আবহাওয়া সম্পর্কে জেনে নিন। সে অনুযায়ী শিশুর জামাকাপড় নিয়ে যেতে হবে। তিনি বললেন, ‘খেয়াল রাখতে হবে যেন আঁটসাঁট পোশাক না হয়। এ ক্ষেত্রে তিনটি বিষয় অবশ্যই খেয়াল রাখতে হবে। যেমন যেকোনো সময় যেন ডায়াপার বদলানো যায়, বুকের দুধ খাওয়ানোর সময় যেন কোনো সমস্যা না হয় এবং ঘুমানোর সময় জামাকাপড়ের জন্য বাচ্চা যেন অস্বস্তিবোধ না করে।

* ভ্রমণের সময় জানালার পাশের আসনে বসার চেষ্টা করবেন। অনেক সময় শিশুরা ট্রেনে, বাসে বা বিমানে বেশি মানুষ দেখে ঘাবড়ে যায়, তখন তাকে জানালার বাইরে বিভিন্ন জিনিস দেখিয়ে শান্ত করা যায়।

* কোন কোন খাবারে শিশুর অ্যালার্জি রয়েছে, তার তালিকা সঙ্গে রাখা উচিত। সর্দির জন্য নাকের ড্রপ, গ্যাস্ট্রিকের জন্য ওষুধ, খাবার স্যালাইন এবং অ্যান্টি-ভমিটিং ওষুধ সঙ্গে রাখতে হবে।

* বিমান উড্ডয়ন বা অবতরণের সময় শিশুদের কান বন্ধ হয়ে যাওয়া এবং একটু শ্বাসকষ্ট হতে পারে। উড্ডয়নের কিছু সময় আগে খাইয়ে যদি হালকাভাবে পিঠ চাপড়ে ঢেঁকুর তোলানো যায়, তবে বাচ্চাদের এমন সমস্যা হবে না।

* শিশুর পছন্দের কিছু খেলনা নেওয়া, আশপাশের লোকজনের সঙ্গে কথা বলানো ইত্যাদি কাজ করলে শিশুরা বিরক্ত ও কান্নাকাটি করে না। এতে করে আনন্দের সঙ্গে ভ্রমণটা উপভোগ করা যায়।