মঙ্গলবার, ২৭ নভেম্বর, ২০১৮

রূপচর্চায় হলুদের গুণাগুণ

১। কারো গায়ের রঙ সুন্দর বোঝাতে গিয়ে আমরা কাঁচা হলুদের কথা বলি। এই কাঁচা হলুদ আমাদের গায়ের রঙ উজ্জ্বল হতে তো সাহায্য করেই, পাশাপাশি ত্বকের ভেতর থেকেও যত্ন নেয় এটি। রূপচর্চায় হলুদের ব্যবহার দীর্ঘদিনের। ত্বকের যত্নে নিয়মিত হলুদ ব্যবহার করতে পারেন। তবে হলুদ দিয়ে কখনো রোদে বের হবেন না। তাহলে ত্বক পুড়ে যাবে। হলুদ দিয়ে রূপচর্চা করবেন রাতের বেলা। কখনই দিনের বেলা নয়।

২। ব্রণের সমস্যা থাকলে কাঁচা হলুদের রস, মুলতানি মাটি মিশিয়ে নিমপাতার রস এক সঙ্গে মিশিয়ে পেস্ট করে ত্বকে লাগান। প্যাক শুকিয়ে এলে গোলাপজল দিয়ে ম্যাসাজ করে প্যাকটি নরম করে নিন এবং পানির সাহায্যে ধুয়ে ফেলুন।

৩। গোসলের আগে কাঁচা হলুদ, মধু, ডিমের কুসুম ও নারিকেল তেল মিশিয়ে প্যাক তৈরি করে পুরো মুখে-গলায় লাগিয়ে রাখুন। আধ ঘন্টা বাদে তুলে ঠান্ডা পানিতে মুখ ধুয়ে ফেলুন।

৪। হলুদের গুড়োর সাথে শশার রস অথবা লেবুস রস মিশিয়ে লাগান। ১৫ মিনিট পর ধুয়ে ফেলুন। দেখবেন ত্বক কতটা মসৃণ লাগে।

৫। হলুদ বেটে সারা শরীরে স্ক্রাব হিসেবে ব্যবহার করুন। এতে ত্বক কোমল হবে।

৬। কাঁচা হলুদের রস, মুলতানি মাটি মিশিয়ে মুখে লাগান। প্যাক শুকিয়ে এলে গোলাপজল দিয়ে মুছে নিন।

৭। সামান্য একটু কাঁচা হলুদ আর মধু মিশিয়ে প্যাক তৈরি করে লাগাতে পারেন।

৮। অল্প একটু দুধের ক্রিমের সাথে হলুদ মিশিয়ে লাগালে ত্বক হবে কোমল, মসৃণ আর সতেজ।

৯। হলুদের গুঁড়া ব্রণ প্রতিরোধ করে। হলুদ বাটা ক্ষতস্থানের ব্যথা দ্রুত কমায় এবং ঘা প্রতিরোধ করে।

১০। দাগ বা ব্রণ দূর করতে টমেটোর রস, কাঁচা হলুদ আর মধু মিশিয়ে প্যাক তৈরি করে ত্বকে ব্যবহার করুন।

১১। কাঁচা হলুদ, মসুর ডাল একসাথে বেটে পেস্ট তৈরি করে মুখে লাগিয়ে ২০ মিনিট পরে ধুয়ে ফেললে ত্বক উজ্জ্বল হয়ে উঠবে।

রবিবার, ২৫ নভেম্বর, ২০১৮

ত্বকের কালো দাগ দূর করতে নিমপাতা আর গোলাপজল

 
যা যা লাগবে
-দুই চা চামচ নিমপাতা বাটা,
- এক চা চামচ মধু ও
-দুই চা চামচ গোলাপজল।

নিমপাতা ত্বকে অ্যান্টিসেপটিকের কাজ করে।
এ ছাড়া এতে প্রচুর পরিমাণে অ্যান্টিঅক্সিডেন্টস ও ফ্যাটি এসিড রয়েছে, যা ত্বকের কালো ছোপ ছোপ দাগ সহজেই দূর করে।
গোলাপজল ত্বকের ময়লা-ধুলাবালি দূর করে, লোমকূপের মুখ পরিষ্কার করে এবং ত্বকের অতিরিক্ত তেলতেলে ভাব দূর করে।
অন্যদিকে মধু ত্বকের আর্দ্রতা ধরে রাখে এবং ত্বককে নরম ও মসৃণ রাখে।
যেভাবে ব্যবহার করবেন
-প্রথমে একটি বাটিতে নিমপাতা, মধু ও গোলাপজল একসঙ্গে ভালো করে মিশিয়ে নিন।
-এবার মুখ ভালো করে পরিষ্কার করে প্যাকটি লাগান।
-১৫ মিনিট অপেক্ষা করুন।
-ঠান্ডা পানি মুখ ভিজিয়ে হালকাভাবে ম্যাসাজ করুন।
-এরপর ঠান্ডা পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন।
-ভালো ফল পেতে সপ্তাহে অন্তত তিনদিন এই প্যাক ব্যবহার করুন।-

শুক্রবার, ২৩ নভেম্বর, ২০১৮

শ্যাম্পুর পর ঝলমলে সুন্দর চুল পেতে করণীয়

চায়ের লিকার থেরাপি –
ঝলমলে চুলের জন্য দারুণ কাজ করে চায়ের লিকার। চুল যেমনি হোক না কেন তৈলাক্ত, শুষ্ক বা স্বাভাবিক- এই চায়ের লিকার মানিয়ে যাবে খুব সহজে।

এটা তৈরির জন্য দুই কাপ পানি নিন। তার মাঝে ৬ টেবিল চামচ ফ্রেশ চা পাতা দিন। এটাকে এখন অল্প আঁচে চুলায় ফুটতে দিন। ফুটে ফুটে লিকার ঘন হবে। এবং দুই কাপ পানি কমে এক কাপের কম হলে বুঝবেন যে রেডি।

এখন এটাকে ঠাণ্ডা করে ছেঁকে নিন। শ্যাম্পু করার পর ভেজা চুলে এই মিশ্রণ মাখুন। ৫ মিনিট পর সাধারণ পানিতে ধুয়ে ফেলুন।

ভিনেগারে চুলের চমক –
শ্যাম্পু করে ফেলছেন? এবার ভিনেগার মেশানো পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন চুল। আধা কাপ ভিনেগার এক মগ পানিতে মিশিয়ে নিন। তারপর সেটা দিয়ে ধুয়ে ফেলুন শ্যাম্পু করা চুল। ৫ মিনিট পর আবার একটু স্বাভাবিক পানি দিয়ে ধুয়ে নিন। শুকিয়ে নিলেই পাবেন ঝলমলে চুল।

বেকিং সোডায় উজ্জ্বল চুল –
নিস্প্রান চুলকে ঝলমলে করে তুলতে বেকিং সোডার কোন বিকল্প নেই। এ কাপ হালকা গরম পানির মাঝে ১ টেবিল চামচ বেকিং সোডা মিশিয়ে নিন। শ্যাম্পু করা ভেজা চুলে এই মিশ্রণ লাগান। ৫ মিনিট পর ধুয়ে ফেলুন। এবার চুলের চমক দেখে নিজেই অবাক হয়ে যাবেন!

রবিবার, ১৮ নভেম্বর, ২০১৮

মাত্র দুই দিনে চুল পড়া বন্ধ করতে কার্যকরি টিপস!

চুল পড়ে hair fall যাওয়ার সমস্যায় সাধারনত কমবেশি সবাই ভোগেন। এর ফলে বয়স বাড়ার আগেই আপনার মাথায় টাক পড়তে শুরু করে। এই সমস্যার সমাধানে সরিষার তেল ও দারুচিনি গুঁড়া ব্যবহার করুন। প্রাকৃতিক এই উপাদান দুটি অনেক দ্রুত আপনার চুল পড়া hair fall সমস্যার সমাধান করবে।

যা যা লাগবে –

সরিষার তেল এক টেবিল চামচ ও দারুচিনি গুঁড়া দুই চা চামচ। এ উপাদান দুটি চুল পড়া রোধ করে এবং চুলের গোড়া মজবুত করে। এ ছাড়া এটি রুক্ষতা দূর করে চুল নরম ও মসৃণ করে। আর নতুন চুল গজাতেও hair growth এ উপাদান দুটি বেশ কার্যকর।

যেভাবে ব্যবহার করবেন –

প্রথমে একটি বাটিতে সরিষার তেল ও দারুচিনি গুঁড়া একসঙ্গে মিশিয়ে নিন। এই মিশ্রণ চুল ও মাথার তালুতে লাগিয়ে কিছুক্ষণ ম্যাসাজ করুন। ২৫ মিনিট অপেক্ষা করুন। এবার হালকা গরম পানি দিয়ে ধুয়ে চুলে মাইল্ড শ্যাম্পু লাগান। শ্যাম্পু ভালোভাবে পরিষ্কার করে চুলে বেশি করে কন্ডিশনার ব্যবহার করুন।

পরামর্শ –

১. ভালো ফল পেতে হলে পরপর দুদিন এই প্যাক ব্যবহার করুন।
২. খাবারের বিষয়ে সচেতন হতে হবে। ডায়েটের তালিকায় চুলের জন্য পুষ্টিকর খাবার রাখুন।
৩. চুল ঘামলে সঙ্গে সঙ্গে শুকানোর চেষ্টা করুন। না হলে মাথার তালু ভেজার কারণে চুলের গোড়া নরম হয়ে যাবে। আর চুল পড়ে hair fall যাওয়ার অন্যতম কারণ এটি।

শনিবার, ১৭ নভেম্বর, ২০১৮

ত্বকের সৌন্দর্যে অ্যালোভেরা


অ্যালোভেরা ত্বকে লাগাতে হলে প্রথমেই মুখ পরিষ্কার করে ধুয়ে নিতে হবে। এরপর একটি তাজা অ্যালোভেরার ভেতরের অংশ থেকে রস সংগ্রহ করে নিন। সেই রস তুলোর সাহায্যে পুরো মুখে লাগিয়ে নিন। রস শুকিয়ে গেলে এভাবেই ঘুমিয়ে পড়তে পারেন। সারারাত অ্যালোভেরার রস ত্বকের নানা সমস্যা দূর করতে ভূমিকা রাখবে।
তুলো বা সুতি কাপড় ছাড়া অন্যকিছু দিয়ে ত্বকে অ্যালোভেরা লাগানো ঠিক নয়। তাতে অ্যালার্জী হওয়ার ঝুকি তৈরি হয়। অনেক সময় ত্বকে ক্ষত দেখা দেয়। এ ধরনের ক্ষতে নির্ভয়ে ব্যবহার করা যায় অ্যালোভেরা। এতে ক্ষত স্থান দ্রুত মসৃণ হয়। শুধু মুখের জন্য নয়, পুরো শরীরে ব্যবহার করা যায় অ্যালোভেরা। এক্ষেত্রে সাবধানতা হলো, অ্যালোভেরার রস ত্বকে লাগিয়ে রোদে যাওয়া যাবে না। তাতে উল্টো ত্বকের ক্ষতি হতে পারে।

মঙ্গলবার, ১৩ নভেম্বর, ২০১৮

ত্বক এর সৌন্দর্য বাড়াতে মসুর ডাল

আপনারা হয়তো জানেন না যে সুন্দর, মসৃণ, মোলায়েম ও উজ্জ্বল ত্বক পাবার আকাঙ্ক্ষা পূরণ করতে পারে রান্না ঘরের সাধারণ মসুর ডাল। আসুন, জেনে নিই মসুর ডাল দিয়ে রুপচর্চা করার নানা পদ্ধতি।

মুখের কালচে ভাব দূর করতে 
মসুর ডালকে রাতে দুধের মধ্যে ভিজিয়ে রাখুন। সকাল বেলায় ডালটা পিষে মুখে লাগান। রোজ যদি মুখে এই প্যাকটা লাগান আপনার চেহারায় কালো ভাবটা দূর হয়ে যাবে। তবে মনে রাখবেন, ডালটা রোজ তাজা তাজা পিষতে হবে আর কাঁচা দুধ ব্যবহার করবেন।

ত্বক সতেজ করতে
মসুরির ডাল পিষে তার মধ্যে মধু এবং দই মিশিয়ে মুখে লাগান। ২০ মিনিট পর হালকা ম্যাসাজ করে ঠাণ্ডা পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। এতে আপনার ত্বক সতেজ হবে।

মুখে বা পিঠের দাগ দূর করতে 
যদি মুখে বা পিঠে দাগ হয়, তাহলে মসুরির ডালের সাথে পোলাও চাল মিশিয়ে পেস্ট করুন। এর সাথে চন্দন পাউডার, মুলতানী মাটি, কমলা লেবুর শুকনো গুঁড়ো মিশিয়ে পেস্ট তৈরী করুন। ৪ চামচ শশার রসও দিন। মুখে এবং শরীরের নানা স্থানে ঐ পেস্টটা লাগান। শুকিয়ে যাওয়ার পরে ধুয়ে ফেলুন।

 হাতের কনুইর রুক্ষভাব কমাতে এবং কালো দাগ দূর করতে 
দুধে মসুর ডাল ভিজিয়ে বাটুন। মসুর ডাল বাটা, হলুদ বাটা, পালংশাক বাটা, টমেটোর রস, সূর্যমুখীর তেল একসঙ্গে মিশিয়ে কনুইয়ে লাগান। কিছুক্ষণ পর ধুয়ে ফেলুন।

রোদে পোড়া দাগ দূর করতে 
রোদেপোড়া দাগ কমাতে মসুর ডালবাটা, কাঁচা হলুদবাটা ও মধু একসাথে মিশিয়ে ত্বকে লাগান।

বলিরেখা দূর করতে 
বলিরেখা দূর করতে কাঁচা হলুদের সাথে মসুর ডাল বাটা দুধের সর মিশিয়ে মুখে মাখুন ফেস প্যাক হিসাবে। নিয়মিত লাগালে অবশ্যই দারুন উপকার পাবেন।

সোমবার, ১২ নভেম্বর, ২০১৮

৮টি স্বাস্থ্যকর খাবার সকালের নাস্তায় রাখুন

সকালের নাস্তায় আপনি কী খাবার খান? রুটি, পরোটা নাকি ওটস? স্বাস্থ্য সচেতন অনেকেই ফল, ডিম, অথবা ওটস দিয়ে দিনের শুরু করে থাকেন। সকালের খাবার আপনাকে সারাদিনের কাজের শক্তি প্রদান করে। তাই দিনের শুরুতে এমন কিছু স্বাস্থ্যকর খাবার খাওয়া উচিত যা আপনাকে সারাদিন কাজে শক্তি দেবে। ভারী খাবার, অতিরিক্ত ক্যালরিযুক্ত খাবার সকালে না খাওয়াই ভাল। এর পরিবর্তে খেতে পারেন এই খাবারগুলো।

১। জাম্বুরা
সকালের নাস্তায় অনেকেই ফল খেয়ে থাকেন। তারা খুব সহজেই নাস্তায় জাম্বুরা রাখতে পারেন। দেশি এই ফলটা আপনার ওজন হ্রাস করতে সাহায্য করবে। গবেষণায় দেখা গেছে খাবারের আগে অর্ধেকটা জাম্বুরা খেলে খাওয়ার রুচি অনেকখানি কমিয়ে দেয়। এছাড়া এটি শরীর দীর্ঘসময় হাইড্রেটেড রাখে।

২। ডিম
দিনের শুরুটা প্রোটিন সমৃদ্ধ খাবার ডিম দিয়ে শুরু করুন। আপনার যদি মিষ্টি খাবারের প্রতি দুর্বলতা থাকে, তবে সকালে ডিম খান। এটি সারাদিনে কাজের এনার্জি দেবে, তার সাথে মিষ্টি খাবার খাওয়ার আগ্রহ কমিয়ে দেবে।

৩। টকদই
টকদই শুধু ক্যালসিয়ামের উৎস নয়, এটি অনেকগুলো মিনারেল যেমন ফসফরাস, ভিটামিন বি১২, পটাসিয়াম, এবং জিঙ্কের অন্যতম উৎস। টকদইতে থাকা ভাল ব্যাকটেরিয়া হজমশক্তি বৃদ্ধি করে থাকে।

৪। কাজুবাদাম
কাজুবাদাম শরীর থেকে খারাপ কোলেস্টেরল দূর করে ভাল কোলেস্টেরল তৈরি করতে সাহায্য করে। সকালের নাস্তায় এক মুঠো কাজুবাদাম খাওয়ার চেষ্টা করুন।

৫। ওটমিল
ওটমিলে বিটা গ্লুকোন জাতীয় দ্রবণীয় আঁশ রয়েছে যা হাইপারটেশন এবং কলেস্টেরল কমাতে সাহায্য করে। ওটমিল পেট ভরা রেখে সারাদিনে কাজের শক্তি দিয়ে থাকে। এটি ওজন হ্রাস করতেও সাহায্য করে।

৬। কলা
সকালে নাস্তার সাথে একটি কলা খাওয়ার অভ্যাস করুন। কলার পটাসিয়াম রক্তচাপ কমাতে সাহায্য করে। ডিমের মত কলাও সারাদিনের কাজে শক্তি দিয়ে থাকে।

৭। স্ট্রবেরি
ভিটামিন সি, ফলিক অ্যাসিড এবং ফাইবার সমৃদ্ধ স্ট্রবেরি আপনার শরীরে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে থাকে। চেষ্টা করুন ওটস অথবা সালাদের স্ট্রবেরি রাখার। স্ট্রবেরি মিল্কশেকও সকালের নাস্তায় খেতে পারেন।

৮। গ্রিন টি
সবুজ চায়ের অ্যান্টি অক্সিডেন্ট যা ফ্ল্যাভোনয়েড নামক পরিচিত রয়েছে। এটি ডায়াবেটিস এবং ক্যান্সার হওয়ার ঝুঁকি হ্রাস করে। তাই সকালে নাস্তার সাথে এক কাপ গ্রিন টি পান করুন।