বুধবার, ৩১ আগস্ট, ২০২২

কনেরা রেডি তো!


kone

আসছে বিয়ের মৌসুম। বিয়ে প্রত্যেকটা মানুষের জীবনে একটা বিশেষ দিন।এই দিনটা নিয়ে তো জল্পনা কল্পনার শেষ থাকে না সবারই। আর যারা আসছে শীতে বিয়ের সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলেছেন, তাদের তো এখন থেকেই জাকিয়ে প্রস্তুতি নিয়ে ফেলতে হবে। তো আর দেরী কিসে?? আজ থেকেই শুরু হয়ে যাক। আর তাই আজ জানাবো, ব্রাইডদের জন্যে স্কিন কেয়ার রুটিন এবং কিছু টিপস।

কনেদের জন্যে কিন্তু বেসিক স্কিন কেয়ার রুটিন যেমন – ক্লিঞ্জিং, টোনিং এবং ময়েশ্চারাইজিং এর রুলসগুলো মেনে চলতেই হবে। এছাড়াও করতে হবে এক্সট্রা কিছু কেয়ার। বাসায় বসে চটজলদি এগুলো সেরে ফেলতে পারেন।

ক্লিঞ্জিং

নিজের স্কিনের সাথে ভালো যায় এমন ফেইসওয়াস দিয়ে মুখ তো পরিষ্কার করবেনই। মাঝে মাঝে অয়েল ক্লিঞ্জিংও করে নিবেন। কনেদের জন্যে অয়েল ক্লিঞ্জিং বেশ ভালো কাজে দেবে। স্কিন সফট এবং টাইট রাখার জন্যে অয়েল ক্লিঞ্জিং মাস্ট। নারিকেল তেল, অলিভ অয়েল, ভিটামিন ই অয়েল এগুলো দিয়ে তো করা যাবেই তাছাড়া আর একটা বেস্ট অপশন হলো কোকোনাট মিল্ক।
আমরা জানিই যে কোকোনাট মিল্ক থেকেই যেহেতু কোকোনাট অয়েলটা আসে, সেহেতু এটা স্কিনের জন্যে বেশ ভালো কাজে দেবে এবং অতিরিক্ত অয়েলিও করবে না।

– একটা বাটিতে কোকোনাট মিল্ক নিয়ে এটি নরমাল ফ্রিজে ২০ মিনিটের জন্যে ঠান্ডা হতে দিন। এরপর একটি কটন প্যাডের সাহায্যে পুরো মুখে লাগিয়ে নিন। এবার ২ হাতের মধ্যমা এবং রিং ফিংগার দিয়ে মুখে ম্যাসাজ করে নিন ২-৩ মিনিট এরপর ধুয়ে ফেলুন।

টোনিং

স্কিনের পি এইচ ব্যালেন্স রাখতে, পোর টাইট রাখতে রেগুলার ফেইস ক্লিন করার পর টোনার লাগাতে ভুলবেন না। এক্ষেত্রে আপনার পছন্দসই টোনার ব্যবহার করতে পারবেন। তবে খেয়ার রাখবেন, সেটা যেন প্যারাবেন ফ্রি হয়। অথবা, টোনার বাসায়ও বানিয়ে নিতে পারেন।

– একটি বাটিতে হাফ কাপ ঠান্ডা গ্রিন টি এর লিকারের সাথে ২ টেবিল চামচ গোলাপজল মিক্স করে টোনার বানিয়ে নিন। একটি কটনবল টোনারে ডিপ করে নিয়ে পুরো মুখ মুছে নিন। ধোয়ার প্রয়োজন নেই।

ময়েশ্চারাইজিং

এক্ষেত্রে বলবো আপনার পছন্দের রেগুলার ময়েশ্চারাইজারই কন্টিনিউ করতে। ডেইলি ২-৩ বার ক্লিঞ্জিং এবং টোনিং এর পর ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করতে একদম ভুলবেন না। তবে শীতের সিজনে স্কিন অনেক রাফ হয়ে যায়। তাই রাতে শোয়ার আগে,

কোকোনাট মিল্ক ডিপ ফ্রিজে রেখে দিন ২-৩ ঘন্টা। ফ্রিজ থেকে বের করার পর দেখবেন কোকোনাট মিল্কের মিল্ক পার্টটা আলাদা হয়ে গেছে। এই মিল্ক পার্ট থেকে ১ টেবিল চামচ নিয়ে এর সাথে ১ চা চামচ অ্যালোভেরা জেল খুব ভালোভাবে মিক্স করে নিয়ে স্কিনে লাগান এবং ঘুমিয়ে পড়ুন। সকাল মুখ পরিষ্কার করার পর সফট সফট স্কিন পাবেন। এটি শীতের প্রকোপ থেকে স্কিনকে রক্ষা করে।

স্ক্রাবিং

শুধুমাত্র ডেইলি বেসিক স্কিন কেয়ার রুটিনগুলো ফলো করলেই হবে না। এছাড়াও সপ্তাহে ৩ দিন কিন্তু স্ক্রাবিং মাস্ট। স্ক্রাবটাও ঘরেই বানিয়ে নিন। বাজারে কেমিকেলযুক্ত প্রোডাক্টের থেকে সেটাই স্কিনের জন্যে ভালো হবে। এজন্যে,

– একটি বাটিতে ১ টেবিল চামচ চালের গুঁড়া, ১ চা চামচ কফি, হাফ চামচ কোকোনাট মিল্ক যোগ করুন। সবকিছু মিশিয়ে নিন। এটি মুখের সাথে বডিতেও ব্যবহার করা যাবে।

এছাড়াও আরেকটি রেসিপি ফলো করতে পারেন। একটি বাটিতে ১ টেবিল চামচ ওটসের গুড়া, ১ চা চামচ মধু, হাফ চা চামচ কোকোনাট মিল্ক নিয়ে ভালোভাবে মিশিয়ে নিন। স্ক্রাবগুলো মুখ পরিষ্কারের পর মুখে লাগিয়ে অ্যান্টি ক্লকওয়াইজ ২-৩ মিনিট ম্যাসাজ করে নিন। এরপর ধুয়ে ফেলুন।

ফেইস মাস্ক

ফেইস মাস্ক কিন্তু কনেদের স্কিন কেয়ারে খুবই ইম্পরট্যান্ট একটা ধাপ। সপ্তাহে অন্ততপক্ষে ২ বার ফেইস মাস্ক লাগানোর চেষ্টা করবেন।

নিচে কিছু ব্রাইডাল ফেইস মাস্কের রেসিপি দিলাম।

রেসিপি এক

একটি ২ টেবিল চামচ বাটিতে চন্দন পাউডার, ১ টেবিল চামচ টক দই, ১ টেবিল চামচ কোকোনাট মিল্ক, হাফ টেবিল চামচ মধু নিয়ে মিশিয়ে নিন। আঙুল অথবা ফেইস ব্রাশের সাহায্যে পুরো মুখ, গলা এবং চাইলে হাতে পায়েও লাগিয়ে নিতে পারেন মাস্কটি। ২০ মিনিট অপেক্ষা করে ধুয়ে নিন।

রেসিপি দুই

একটি বাটিতে ২ টেবিল চামচ বেসন, কোয়ার্টার টেবিল চামচ হলুদ গুড়ো, ১ টেবিল চামচ অ্যালোভেরা জেল, ১ টেবিল চামচ কোকোনাট মিল্ক নিয়ে ভালোভাবে মিশিয়ে নিন। এই মাস্ক টি পুরো মুখ এবং গলায় ১৫-২০ মিনিট লাগিয়ে রেখে ম্যাসাজ করে ধুয়ে ফেলুন। এই মাস্কটি রাতের বেলায় ব্যবহার করবেন। অবশ্যই মাস্ক লাগানোর পরে টোনার এবং ময়েশ্চারাইজার লাগাবেন।

এই তো গেল হবু বউদের জন্যে কিছু স্কিন কেয়ার রুটিনের বিষয়গুলো। এবার কিছু টিপস দিতে চাই হবু বধুদের জন্যে।

  • অনেকেই বিয়ের আগে অনেক চিন্তিত হয়ে পড়ে যে, বিয়ের দিন সুন্দর দেখাতে হবে তাই ভালো ভালো স্কিন কেয়ার প্রোডাক্ট ব্যবহার করা দরকার। এই ভুলটা একদম ই করবেন না। বিয়ের ১ মাস আগে নতুন কোনো প্রোডাক্ট ট্রাই করার কথা মাথায় না আনাই ভালো। কোন প্রোডাক্ট স্কিনে কি রিয়েক্ট করে তা তো বলা যায় না। এজন্যে আগের ব্যবহারকৃত বিশ্বস্ত প্রোডাক্ট গুলোই চালিয়ে যাওয়া বুদ্ধিমানের কাজ হবে। তবে একান্তই যদি প্রোডাক্ট চেঞ্জ করার দরকার পরে। তাহলে তা বিয়ের অন্তত ৩ মাস আগে ট্রাই করে নিবেন।
  • বিয়ের আগে স্কিনে যদি পিম্পল, র‍্যাশ , ব্রেকআউট থাকে তবে সবচেয়ে ভালো হয় স্কিন ডক্টরের শরণাপন্ন হওয়া ভালো। এটাও বিয়ের ২-৩ মাস আগেই করা উচিত। এতে স্কিনে রিয়েকশন হলেও তা কভার করার জন্যে এনাফ টাইম পাওয়া যাবে।
  • বিয়ের আগে যতবার ই দিনের বেলায় বাইরে যাবেন, সানস্ক্রিন মাস্ট। বাইরে যাওয়ার ২০ মিনিট আগে মুখ, গলা এবং সান এক্সপোজড এড়িয়া গুলোতে এসপিএফ ৪০+ সানস্ক্রিন লাগিয়ে নিবেন।
  • স্কিন কে ভেতর থেকে ভালো রাখতে নিজেকে হাইড্রেট রাখাটা জরুরী। পর্যাপ্ত পানি এবং ফলের রস ডেইলি রুটিনে রাখুন।
  •  বিয়ের অন্তত ৩ দিন আগে ফেসিয়াল, হেয়ার স্পা, বিকিনি ওয়াক্সিং, ফুল বডি ওয়াক্সিং, বডি পলিশিং ইত্যাদি করিয়ে নিন।

এইতো জেনে নিলেন, নতুন কনেদের স্কিন কেয়ার রুটিন এবং কিছু টিপগুলো সম্পর্কে। তো আর দেরি কিসের? আজ থেকেই স্কিনের যত্ন নেওয়া শুরু হয়ে যাক।

মঙ্গলবার, ৯ আগস্ট, ২০২২

চুলের যত্নে জবা ফুলের ব্যবহার



চুল পড়া, চুলের আগা ফাটা, মাথায় খুশকি হওয়া, অসময়ে টাক পড়ে যাওয়া চুলের সমস্যা গুলোর মধ্যে অন্যতম। চুলের সমস্যায় জবা ব্যবহারে ঘরোয়া কিছু উপায়।

ব্যবহার্য অংশ:
(১) জবা ফুল
(২) জবা গাছের পাতা।

প্রণালী:
(১) ৫ চামচ আমলকি পাউডার নিন। তাতে ৫ চামচ জবা পাতা বেটে মিশিয়ে নিন। এই মাস্কটি আপনার চুলে দিয়ে রাখুন প্রায় ৩০ থেকে ৪০ মিনিট। তারপর ধুয়ে ফেলুন। এই মাস্কটিতে চাইলে আপনি আমলকির রস ব্যবহার করতে পারেন। এভাবে মাসে দুই থেকে তিন বার ব্যবহারে আপনি পাবেন মজবুত আর স্বাস্থ্যোজ্জ্বল চুল।

(২) ৫/৬ টি পাতা নিয়ে ২০-৩০ মিনিট পানিতে ভিজিয়ে রাখুন। তারপর পাতাগুলো পিষে পানিতে নিয়ে কিছুক্ষণ হাত দিয়ে ভালোভাবে মিশিয়ে নিন। যা খুব পিচ্ছিল একটি দ্রবণ তৈরি করবে। দ্রবণটি মাথার স্কাল্প সহ পুরো চুলে দিয়ে ৩০ মিনিট রাখুন। শ্যাম্পু দিয়ে ধুয়ে ফেলুন; কন্ডিশনার দিন। এই মাস্কটি নিয়মিত ব্যবহারে চুল পড়া কমে, মাথার ঠান্ডা থাকে, চুল কালো হয়, সিল্কি আর শাইনি হয়।

(৩) তিনটি জবা ফুল একটু পানিতে রাত অবধি ভিজিয়ে রাখুন। পরেরদিন ফুলগুলো পিষে তাতে তিন টেবিল চামচ দুধ আর দেড় টেবিল চামচ অলিভ অয়েল মিশিয়ে নিন। চুলে দিয়ে ত্রিশ মিনিট পরে শ্যাম্পু করে নিন। উত্তম ফলাফলের জন্য এই মাস্কটি মাসে দুই বার ব্যবহার করতে পারেন।

(৪) ৫/৬ টি পাতা বেটে নিয়ে তাতে দুই টেবিল চামচ মধু এবং চার টেবিল চামচ দই দিয়ে একটি মিশ্রণ তৈরি করুন। চাইলে এর সাথে চুলের দৈর্ঘ্য অনুযায়ী নারকেলের দুধও মেশাতে পারেন। মিশ্রণটি চুলে ৪০ মিনিটের মতো রেখে ধুয়ে ফেলুন। এই মাস্কটি ব্যবহারে চুল মোলায়েম হয়, চুল পড়া কমে।

(৫) খুশকির সমস্যায় এক মুঠো জবা পাতা আর সমপরিমাণ মেহেদি পাতা পেস্ট করে নিয়ে তাতে ১ টেবিল চামচ লেবুর রস মিশিয়ে চুলে দিতে পারেন। ৩০ মিনিট রেখে ধুয়ে ফেলুন।
প্রত্যেকটি মাস্কের ক্ষেত্রে জবা ফুল অথবা পাতা এবং তার আনুষঙ্গিক উপাদানগুলো পানি দিয়ে ভালোভাবে পরিষ্কার করে নিবেন। আপনার চুলের সমস্যা ভেদে বেছে নিতে পারেন উপরের যে কোনো মাস্ক। মনে রাখবেন চুলের সমস্যা দুই অথবা তিন দিনে কেটে উঠে না; চুলের প্রয়োজন নিয়মিত যত্ন এবং তা হতে হবে অবশ্যই সঠিক উপায়ে।

টিপস
  • সপ্তাহে দুই থেকে তিন দিনের বেশি শ্যাম্পু করা ঠিক নয়। বেশিদিন শ্যাম্পু ব্যবহারে চুল শুষ্ক হয়ে পড়ে।
  • মাস্ক ব্যবহার করার পাশাপাশি সুষম খাবার আর প্রচুর পরিমাণে পানি পান করুন।
 
 

রবিবার, ৭ আগস্ট, ২০২২

লাইফ স্টাইল নারীদের বয়স ৩০ পার হলে যে কাজ গুলো অবশ্যই করণীয়!

বয়স যখন একটু একটু করে বেড়ে যেতে থাকে তখন শরীরের দরকার বিশেষ যত্ন। বিশেষ করে নারীদের এক্ষেত্রে যত্নটা একটু বেশিই দরকার। কারণ বয়স বাড়ার সাথে সাথে শরীরে আসে নানান পরিবর্তন। নারীদের বয়স ৩০ এর কোঠায় পড়লে প্রয়োজন বিশেষ কিছু যত্ন ও সতর্কতার। আসুন জেনে নেয়া যাক ৫টি কাজ সম্পর্কে যেগুলো তিরিশ বছর বয়সের পর নারীদের অবশ্যই করা উচিত।

ক্যালসিয়াম গ্রহণ
বয়সের সাথে সাথে মানুষের শরীরের ক্ষয় হতে থাকে। বিশেষ করে নারীদের এই প্রবণতাটা অনেক বেশি। বয়স ৩০ পেরুলেই ধীরে ধীরে হাড় ক্ষয় শুরু হয়। আর তাই শরীরের এই ক্ষয় এড়াতে নিয়মিত ক্যালসিয়াম সমৃদ্ধ খাবার খাওয়ার অভ্যাস করা উচিত।

নিয়মিত ব্যায়াম
বয়স তিরিশ পেরোলেই নিয়মিত ব্যায়াম করার অভ্যাস করা উচিত। এ সময়ে নিয়মিত ব্যায়াম করলে মুটিয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে না। এছাড়াও নিয়মিত ব্যায়াম করলে প্রেসার ও কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণে থাকে বলে শরীর সুস্থ থাকে।

ত্বকের বিশেষ যত্ন
বয়সের সাথে সাথে ত্বকে বলিরেখা পড়ে যায়। সেই সঙ্গে অনেকের কালো দাগ, মেছতা ইত্যাদি সমস্যা দেখা দেয়। তাই বয়স তিরিশ পেরুলে প্রতি মাসে একবার ফেসিয়াল করা উচিত। পার্লারে বা বাসায় যে কোনো যায়গাতেই করে নিতে পারেন ফেসিয়াল। এছাড়াও অ্যান্টি এজিং ক্রিম, লোশন ও আই ক্রিম ব্যবহার করা উচিত এসময়।

ধূমপান ও মদ্যপান ত্যাগ
যাদের ধূমপান কিংবা মদ্যপানের বদভ্যাস আছে তারা তিরিশের পড়ে এগুলো ছেড়ে দিন। কারণ বয়সের সাথে সাথে শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যায়। এছাড়াও শরীর নাজুক হয়ে আসে বলে এ ধরণের ক্ষতিকর অভ্যাসগুলোর বিরূপ প্রভাব পড়ে শরীরে।

গাইনি চেকআপ
নারীদের বয়স তিরিশের বেশি হয়ে গেলে শরীরের নানান রকম হরমোনের পরিবর্তন হয়। এছাড়াও স্তন ক্যান্সার, জরায়ু ক্যান্সার ইত্যাদির ঝুঁকি থাকে এসময়ে। তাই বয়স তিরিশ পেরুলে প্রতি বছর অন্তত একবার করে গাইনি চেকআপ করিয়ে নেয়া উচিত।

বুধবার, ২৭ জুলাই, ২০২২

আকর্ষনীয় ভ্রু পাওয়ার কিছু উপায়



বিভিন্ন ধরনের তেল

অলিভ অয়েল, ক্যাস্টর অয়েল, নারিকেল তেল ও বাদামের তেলে আছে পুষ্টিকর প্রাকৃতিক উপাদান। প্রতিদিন অলিভ অয়েল দিয়ে মালিশ করলে ভ্রু হবে মোটা ও ঘন। এসব তেলে আছে ভিটামিন-ই যা ব্যবহারে আদ্রতা ঠিক থাকে এবং প্রতিদিন ব্যবহারে ভ্রুর ঘনত্ব বাড়ে।

ভ্যাসলিন

প্রতিদিন ভ্রুসহ-এর আশপাশের জায়গায় দুই থেকে তিনবার ভ্যাসলিন ব্যবহারের ফলে ভ্রুর ঘনত্ব বাড়বে। কেননা ভ্যাসলিন ত্বকের আদ্রতা ধরে রাখতে সাহায্য করে। রাতের বেলা পুরো ভ্রুতে বা ভ্রু কম আছে এমন জায়গায় ভ্যাসলিন লাগিয়ে সারারাত রেখে দিলেই ধীরে ধীরে ভ্রুর ঘনত্ব বাড়বে। তবে ভ্যাসলিন লাগিয়ে রোদে বের হওয়া উচিত নয়।
কৃত্রিম পদ্ধতি

আই-পেন্সিল ও পাউডার

পাউডার ব্যবহার করে ইচ্ছে মতো ভ্রু হালকা ও গাঢ় করা যায়। তবে নির্ভর করবে চুলের রং, পোশাক ও কতটুকু পরিমাণ ভ্রুর ঘনত্ব চাচ্ছেন তার উপর।
মেইকআপের সাহায্যে ভ্রু ঘন দেখানোর জন্য লাগবে তিন ধরনের শেইড, ব্রাশ এবং ভ্রু তোলার জন্য ছোট চিমটা বা টোইজার্জ।

ভ্রু ঘন দেখাতে চুলের রং থেকে একটু গাঢ় শেইড ব্যবহার করতে হবে। এছাড়া ভ্রু স্বাভাবিক ও মনোরম দেখাতে আই শ্যাডোর মতো ভ্রু শ্যাডো দিয়ে ভ্রু ভরাট করে নেওয়া যেতে পারে। তারপর কৌণিক ব্রাশ দিয়ে ভ্রুর উপরে এবং আশপাশে শ্যাডো লাগাতে হবে। খেয়াল রাখতে হবে যেন আই-ভ্রু লাইনের আশপাশে বেশি শ্যাডো না লাগানো হয়।

তবে ভ্রুর আশপাশে যদি কাটাদাগ বা ক্ষত থাকে সেক্ষেত্রে আই-পেন্সিল ব্যবহার করাই ভালো।

কন্ডিশনার ও হেয়ার গ্রোথ পণ্য

বারবার ভ্রু না তুলে ভ্রু’র কন্ডিশনার ব্যবহার করা ভালো। ভ্রু কন্ডিশনারে থাকা পুষ্টিকর উপাদান এক সপ্তাহে প্লাক করা ভ্রু পুনরায় গজাতে সাহায্য করে। এছাড়া ভ্রু গজাতে বা ঘন করতে চাইলে ‘হেয়ার গ্রোথ’ পণ্য ব্যবহার করা যেতে পারে।

শনিবার, ২৫ জুন, ২০২২

পোশাকের রঙয়ের কথা যে কারণে মাথায় রাখবেন

কেন পোশাকের রঙয়ের কথা মাথায় রাখবেন-

১. ফ্যামিলি পার্টিতে একটু তুলনামূলক উজ্জ্বল রঙের পোশাকই আপনাকে বেশি ভাল মানাবে। গ্রীষ্ম কালে রাতে অনুষ্ঠান থাকলে হালকা রঙের পোশাক আপনারে বেশি ভাল মানাবে। এক্ষেত্রে হালকা মেরুণ, গাঢ় আকাশী, ম্যাজেন্ডা, সিলভার, বটল গ্রিন, ডিপ পিঙ্ক রঙের পোশাক এক্ষেত্রে পরতে পারেন।

২. বাইরে বেড়াতে গেলে সাধারণত সেখানে অবশ্যই বেশ কিছুদিন কাটাবেন। তাই এক্ষেত্রে একেবারে হালকা রঙের পোষাকই সবচেয়ে উপযোগী। এছাড়াও বাইরে ঘুরতে বেড়িয়ে যদি হালকা রঙের পোশাক পরেন তবে এতে আপনাকে অনেক সতেজ ও প্রাণবন্ত বলে মনে হবে।

৩. অফিস যাওয়া মানেই যাতায়ের ঝক্কি। তাই এক্ষেত্রেও হালকা রঙের পোশাকই ভাল। কারণ গরম আবহাওয়া আপনাকে বিধ্বস্ত করে তুলতে পারে৷ সেক্ষেত্রে সাদা, আকাশী, ঘিরে, হালকা গোলাপী, ইত্যাদি রঙকে বেশি প্রাধান্য দিন৷ অফিসে ফরমাল পোশাক পরতে হলেও সেক্ষেত্রেও এই রংগুলো হতে পারে আইডিয়াল।

৪. কলেজ ক্যামপাস মানেই ছাত্র ছাত্রীদের ফরমাল পোশাক পরতে হয়। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই ক্যাম্পাসে সময় থাকে সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত। তাই হালকা রঙের পোশাক পরলে এক্ষত্রে আপনাকে যেমন মানাবে তেমনই আপনি আরামও বোধ করবেন। এক্ষেত্রে হালকা সবুজ,সাদা, ছাই, গোলাপী, ঘিরে রঙের পোশাক পড়তে পারেন৷ হালকা রঙের পোশাক পরলে গরম আবহাওয়া হলেও আপনার গরমে অস্বস্তি কম অনুভব হবে।

৫. তরুণ প্রজন্মের কাছে আড্ডা মারা মানেই একটি উৎসবের মত।  কিন্তু আড্ডা মূলত সন্ধ্যাবেলাতেই জমে। তাই সেক্ষেত্রে একটু উজ্জ্বল রঙের পোশাক পরা যেতেই পারে। তবে সাদা বা ক্রিম রঙও হতে পারে আইডিয়াল। এছাড়াও তুতে, হলুদ, হালকা সবুজ, বাদামী রঙের পোশাক বেশ ভাল মানায়।

অন্যান্য টিপস:
১. গায়ের রং, উচ্চতা ও ওজনের সঙ্গে মানানসই পোশাক পরুন।

২. অনেকের থাই মোটা হতে পারে সেক্ষেত্রে টাইট সেলোয়ার না পরে পাতিয়ালা ব্যবহার করতে পারেন৷ লেগিংস এড়িয়ে চলতে পারেন।

৩. যাদের হাত মোটা তারা হাতা লং বা থ্রি কোয়ার্টার স্লিভ জামা পড়ুন। স্লিভ লেস বা ছোট হাতা একেবারেই পরবেন না।

৪. আপনার শরীরের গড়ন মোটা হলে শাড়িতে কুঁচি কম দিয়ে আঁচল বড় রাখুন। চেহারা স্লিম হলে শাড়িতে সরু করে অনেকগুলো কুঁচি দিয়ে পরুন।

৫. যারা মোটা তারা ব্লাউজের ক্ষেত্রে ছোট প্রিন্ট বা স্ট্রেট চেক কাটের থ্রি-কোয়ার্টার ব্লাউজ পরুন।

৬. যাদের কাঁধ চওড়া তারা ব্লাউজ বা চুড়িদারে ভি শেপের গলা দিতে পারেন। এতে আপনাকে বেশি মোটা বলে মনে হবে না।

শনিবার, ১৮ জুন, ২০২২

মধু-পানি পানের স্বাস্থ্য উপকারিতা

১। ওজন হ্রাস করতে
ওজন কমাতে মধু পানি জাদুর মত কাজ করে।  প্রতিদিন সকালে এক গ্লাস কসুম গরম পানিতে এক চামচ মধু মিশিয়ে নিন। এবার এটি পান করুন। এর সাথে আপনি চাইলে লেবুর রস মিশিয়ে নিতে পারেন। এটি আপনার পেটের চর্বি কমাতে সাহায্য করবে।

২। রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি
প্রতিদিন এক গ্লাস মধু পানি দেহের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে। এর অ্যান্টি ব্যাকটেরিয়াল এবং অ্যান্টি অক্সিডেন্ট উপাদান শরীরকে সবল রাখে এবং যেকোন ব্যাকটেরিয়ার আক্রমণ থেকে দেহকে রক্ষা করে।

৩। অ্যালার্জি দূর করে
প্রতিদিন সকালে খালি পেটে মধু পানি পানে দেহের পোলেন অংশগুলো যেখানে অ্যালার্জি রয়েছে সেসকল স্থানে এক ধরণের প্রতিরক্ষা পর্দা সৃষ্টি করে যা অ্যালার্জির যন্ত্রণা দূর করে দেয়।

৪। হজমশক্তি বৃদ্ধি করে
মধুতে এনজাইম আছে যা খাবার হজম করতে সাহায্য করে। যদি আপনার হজমে সমস্যা থাকে তবে খাওয়ার পর এক গ্লাস কুসুম গরম মধু পানি পান করুন, দেখবেন হজমের সমস্যা দূর হয়ে গেছে।

৫। হৃদরোগের ঝুঁকি কমায়
দারুচিনি এবং মধুর মিশ্রণ হৃদরোগের ঝুঁকি হ্রাস করে। এটি রক্তে কোলেস্টে্রলের মাত্রা ১০% পর্যন্ত কমিয়ে দেয়। এক গ্লাস কুসুম গরম পানিতে এক টেবিল চামচ মধু এবং এক চামচ দারুচিনি গুঁড়ো মিশিয়ে প্রতিদিন পান করুন।

৬। কোষ্টকাঠিন্য প্রতিরোধে
শরীরে পানির অভাব দেখা দিলে কোষ্টকাঠিন্য দেখা দেয়। এক গ্লাস কুসুম গরম পানিতে মধু মিশিয়ে পান করুন। এটি সকালে খালি পেটে একবার এবং রাতে ঘুমাতে যাওয়ার আগে একবার পান করুন। এটি আপনার কোষ্টকাঠিন্য সমস্যা দূর করতে সাহায্য করবে।

৭। এনার্জি বৃদ্ধিতে
দুর্বলতা অনুভব করছেন? তাহলে তাৎক্ষনিক এক গ্লাস মধু পানি পান করুন। শরীরে চিনির মাত্রা কমে গেলে দুর্বলতা অনুভব হয়। মধু পানি শরীরে পানির পরিমাণ বজায় রেখে শরীরের এনার্জি বৃদ্ধি করে।

বুধবার, ১৫ জুন, ২০২২

বিয়ের পরে ওজন বেড়ে গেলে যা করবেন


বান্ধবীর বিয়ের কয়েক মাস পরে তার সঙ্গে দেখা। দেখে আর চিনতে পারছেন না। ফুলেফেঁপে যেন ঢোল। চিরকাল স্লিম ফিগারের বান্ধবীর এমন শারীরিক পরিবর্তন দেখে আপনি অবাক। এরকমটি হয়ে থাকে বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই। বিয়ের পরে স্বামী-স্ত্রী দুজনেরই ওজন বেড়ে যায়। কিন্তু পুরুষের বাড়তি ওজন চোখে তেমন না পড়লেও স্ত্রীর ক্ষেত্রে হয় উল্টো।

হঠাৎ এই ওজন বৃদ্ধির কারণ খুঁজতে শুরু করলে বেশ কয়েকটি বিষয় সামনে আসবে। যেমন, বিয়ের পর মেয়েদের পরিবর্তিত খাদ্যাভ্যাস, বিভিন্ন অনিয়মের কারণে ওজন বাড়তে থাকে। কিছু নিয়ম মেনে চললেই বাড়তি ওজন আর স্থান পাবে না।
খাওয়া-দাওয়ার অভ্যাসে খুব বেশি পরিবর্তন আনা চলবে না। সঠিক সময়ে প্রতিদিন খাওয়ার অভ্যাসটা গড়ে তুলতে হবে। একেকটি পরিবারে খাওয়ার সময় একেকরকম হয়। তাই লজ্জা না করে বিয়ের আগে দিনের যে সময়গুলোতে খেতেন, সেই সময়গুলোতেই খাওয়ার চেষ্টা করুন। রাতের খাবার খুব বেশি দেরি করে না খাওয়াই ভালো।
ডাক্তারের সঙ্গে পরামর্শ করে ভিটামিন বি সাপ্লিমেন্ট খেতে পারেন। নতুন পরিবেশে নতুন দায়িত্ব নেওয়ার প্রয়োজনীয় এনার্জি জোগান দেবে এই ভিটামিন বি।

শরীরে ক্যালসিয়াম কমে গেলে মোটা হয়ে যাওয়ার একটা প্রবণতা দেখা দেয়। সেই জন্য চা, কফি খাওয়া একটু কমিয়ে দেওয়াই ভালো।
ফিট থাকার নিয়ম মেনে না চললে অল্প কিছু দিনের মধ্যে আপনার চেহারায় বদল আসবেই। যতই ব্যস্ত থাকুন না কেন, প্রতিদিন অন্তত ৩০ থেকে ৪৫ মিনিট নিজের শরীরচর্চার জন্য বের করুন।
বিয়ের পর নানা জায়গায় পার্টি, খাওয়া-দাওয়া বা ঘোরাঘুরিটা অনেকটাই বেড়ে যায়। বলাই বাহুল্য যে অনিয়মও হয় প্রচুর। এই অনিয়ম নিয়ন্ত্রণ করতে জানতে হবে আপনাকেই।
একজন ডায়েটিশিয়ান দেখিয়ে ডায়েট চার্ট তৈরি করে নিন এবং ঝটপট ওজন কমাতে সেটা মেনে চলুন।গৃহিণী হলে ঘরেই চেষ্টা করুন পরিশ্রমের কাজগুলো করতে, বসে থেকে আলসেমী ধরতে দেবেন না।