বুধবার, ১৩ মার্চ, ২০১৯

রূপচর্চায় মধুর ব্যবহার

  • ব্রণ দূরীকরণে
মধুতে রয়েছে অ্যান্টি-ব্যাক্টেরিয়াল উপাদান যা মুখের ব্রণ সমস্যা সমাধানে বেশ কার্যকরী। এক চা চামচ মধু এবং হাফ চা চামচ সিনামন ( Cinnamon ) একসাথে ভালভাবে মিশিয়ে নিন। তারপর এই মিশ্রণ টি কটন বাড অথবা তুলো দিয়ে ব্রণের জায়গায় লাগান এবং তা ১০মিনিট পর ভালোভাবে ধুয়ে ফেলুন। ব্রণের পাশাপাশি এটি মুখের অতিরিক্ত লাল ভাবও দূর করে।
  • চুলের প্যাক হিসেবে
একটি বাটিতে দুই ভাগ মধু এবং এক ভাগ অলিভ অয়েল ( সুবিধা অনুযায়ী অন্য তেল ) মিশিয়ে চুলের উপরিভাগে এবং নিম্নভাগে ভালোভাবে লাগিয়ে নিন। চাইলে এই প্যাকটিতে একটি ডিমের সাদা অংশ আর পেঁয়াজের রস মিলিয়ে নিতে পারেন। এবার চুল ওপরের দিকে উঁচু করে বেঁধে রাখুন। ৩০মিনিট পর শ্যাম্পু করে ভালভাবে ধুয়ে ফেলুন। চুল হবে মজবুত, সিল্কি আর উজ্জ্বল।
  • শুষ্ক ঠোঁটের জন্য
রুক্ষ ও প্রাণহীন ঠোঁটের জন্য এক ফোঁটা খাঁটি মধুই যথেষ্ট। প্রতিদিন অন্তত একবার ঠোঁটে তর্জনী অথবা তুলোর সাহায্যে মধু লাগিয়ে নিন। ১০-১৫ মিনিট পর হালকা গরম পানিতে তুলো বা নরম কাপড় ভিজিয়ে ঠোঁট মুছে ফেলুন। আর যদি কোন অস্বস্তি বোধ না হয়, তাহলে ধুয়ে ফেলার দরকার ও নেই।
  • ফেসিয়াল মাস্ক
মুখের রোদে পোড়া কাল দাগ দূর করে চকচকে ভাব ফিরিয়ে আনতে মধুর তুলনা হয় না। বাইরে যাওয়ার ফলে যে ধুলো-ময়লা আমাদের মুখে নিয়মিত জমছে তা পরিষ্কার করাটা খুবই জরুরী। বাজারে যেসব স্ক্রাব পাওয়া যায় তা নিয়মিত ব্যবহারে ত্বকের নানান ক্ষতি সহ গর্তের সৃষ্টি হতে পারে। তাই ঘরোয়া পদ্ধতিতে এক টেবিল চামচ মধু এবং এক টেবিল চামচ ওটস মিশিয়ে মুখে ভালকরে ম্যাসেজ করুন। তারপর উষ্ণ পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। বাসায় ওটস না থাকলে চালের গুঁড়োও ব্যবহার করতে পারেন। এই মাস্কটি আপনার ত্বকের মৃত কোষগুলো পরিষ্কার করবে, ব্ল্যাক হেডস দূর করবে এবং ত্বককে করবে আগের মতন প্রাণবন্ত।
  • ত্বক উজ্জ্বল করে
এক টেবিল চামচ মধু, এক চা চামচ টকদই এবং অল্প পরিমাণে লেবুর রস মিশিয়ে ফেইস ব্রাশ দিয়ে মুখে লাগিয়ে নিতে হবে। যাদের এলারজির সমস্যা আছে তারা লেবু না দেয়াই ভাল। ২০মিনিট পর ধুয়ে ফেলতে হবে। শুধু মুখেই নয় গলায়, ঘাড়ে, হাতে, পায়েও এই মিশ্রণটি নিয়মিত ব্যবহারে ত্বক উজ্জ্বল হবে। সেক্ষেত্রে মিশ্রণটির পরিমাণটা বেড়ে যাবে। হাতের কাছে যদি দই বা অন্য কিছু না থাকে তাহলে কিন্তু শুধু মধুও ত্বকে লাগিয়ে নিতে পারেন। এটিও কম কার্যকরী নয়।

ছোট্ট কিছু টিপস-
(১) উন্নতমানের ব্র্যান্ডের মধু ব্যবহার করবেন, বিশ্বস্ত সুত্রে আনিয়ে নিতে পারলে বেশি ভালো হবে।
(২) মৌমাছির মধুতে  অ্যালার্জি থাকলে ফুলের মধু ( যে ফুলে আপনার অ্যালার্জি নেই ) ব্যবহার করতে পারেন।
(৩) মধু ত্বকে লাগানোর পাশাপাশি খেতে পারলে বেশি কাজে দিবে। প্রতিদিন সকালে খালি পেটে কুসুম কুসুম গরম পানির সাথে অল্প লেবু এবং এক চামচ মধু অথবা গ্রিন টি এর সাথে মধু আর লেবু মিলিয়ে খেতে পারেন। এতে ত্বক সুন্দর হওয়ার সাথে পেটের চর্বি কমবে এবং নানান অসুখ-বিসুখ থেকে মুক্তি লাভ করবেন।
(৪) মধু পরিষ্কার কৌটোয় সংরক্ষণ করবেন এবং ফ্রিজে রাখার প্রয়োজন নেই।

মঙ্গলবার, ১২ মার্চ, ২০১৯

চোখের নিচের ফোলাভাব দূর করার সহজ উপায়

কেন চোখের নিচের অংশ ফোলার সমস্যা হয়

চোখের নিচ ফুলে যাওয়ার অনেক কারণ রয়েছে। এই কারণগুলো যতোটা সম্ভব বাদ দেয়ার চেষ্টা করা উচিত। এতে করে চোখ ফোলার সমস্যা হবেই না।
  • – ঘুম কম হলে বা ঘুমের সমস্যা থেকে থাকলে চোখের নিচ ফুলে যায়। সুতরাং আপনাকে নিয়ম করে ৭-৮ ঘণ্টা ঘুমাতে হবে।
  • – অতিরিক্ত মানসিক চাপের কারণে চোখের নিচ ফুলে যায় অনেক বেশী।
  • – অতিরিক্ত লবণাক্ত খাবার খাওয়ার কারণে দেহে পানি বেশী জমতে থাকে। এতে করেও অনেকের চোখের নিচে ফুলে যায়।
  • – সাইনাসের সমস্যা থাকলে চোখের নিচের ফোলাভাব বেড়ে যায়।
  • – অতিরিক্ত ধূমপান এবং মদ্যপানের কারণেও চোখের নিচ ফুলে থাকে।
  • – পরিবারের সদস্যদের যদি এমন সমস্যা থাকে তাহলে সেটি আপনার জেনেটিক্যাল ব্যাপার, আর সে কারণেই আপনার চোখের নিচ ফোলা।
জেনে নিন তানিজা আহমেদের খুবই সহজ দুটি সমাধান

১) আলুর রসের ব্যবহার

আলুর রসের অ্যান্টিইনফ্লেমেটরি উপাদান চোখের নিচের ফলাভাব এবং সেই সাথে কালচে ভাব দূর করতে বিশেষভাবে কার্যকরী।প্রথমে একটি আলু গ্রেট করে নিয়ে চিপে রস বের করে নিন। এবং এই রস একটু ফ্রিজে রেখে ঠাণ্ডা করে ফেলুন। ঠাণ্ডা আলুর রস তুলোর বলে লাগিয়ে চোখের উপরে দিয়ে রাখুন ২০ মিনিট। এই ২০ মিনিট রিলাক্স করুন। ২০ মিনিট পর তুলোর বল ফেলে ঠাণ্ডা পানি দিয়ে মুখ ধুয়ে নিন। দেখবেন ফোলাভাব অনেকটাই কমে গিয়েছে।

২) ডিমের ব্যবহার

ডিম ত্বকের জন্য খুবই কার্যকরী একটি উপাদান। বিশেষ করে ত্বকের টানটান ভাব ধরে রাখতে ডিমের সাদা অংশের জুড়ি নেই। একারণেই চোখের নিচের ফোলাভাব দূর করতে ডিমের সাদা অংশ কার্যকরী। একটি ডিম ভেঙে কুসুম আলাদা করে নিন। এরপর ডিমের সাদা অংশ ভালো করে ফেটিয়ে নিন। আঙুলের ডগা দিয়ে এই সাদা অংশ চোখের নিচে লাগান তবে সাবধান থাকবেন যেনো চোখের ভেতরে না যায়। সম্পূর্ণ শুকিয়ে যাওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করুন চোখ বন্ধ করে। এরপর ঠাণ্ডা পানি দিয়ে ভালো করে ধুয়ে নিন। চোখের ফোলাভাব খুব সহজেই দূর হয়ে যাবে।
যদি এর চাইতেও সহজ পদ্ধতি চান, তাহলে দুটো টেবিলচামচ ডীপে রেখে ঠাণ্ডা করে নিন। এরপর এই চামচ চোখের উপরে ধরে রাখুন ১০ মিনিট, এতেও ভালো ফলাফল পাবেন।

রবিবার, ১০ মার্চ, ২০১৯

কিভাবে আপনার ভ্রুর যত্ন নিবেন?

চোখ বা ঠোঁটের যত্নে মনোযোগ, কিন্তু ভ্রুর ক্ষেত্রে করা হয় শুধু আই ব্রো প্লাক। আবার ভ্রুর সঠিক সাজ না থাকায় চেহারায় কোথাও একটা ফাঁক থেকে যায়। তাই প্লাক, যত্নআত্তি কিংবা সাজে ভ্রু অবহেলা করবেন না।

ঘন ঘন আই ব্রো প্লাক করবেন না। মাসে একবারই যথেষ্ট। ঘন ঘন আই ব্রো প্লাক করলে শেপ তা সম্পুর্ন কৃত্রিম দেখায়। মাসে একবার প্লাক করলে শেপ টা ন্যাচারাল থাকে।

অনেকে ভ্রুতে কাজল লাগান। কিন্তু কাজল দিলে ভ্রু খুব মোটা লাগে আর বোঝা যায় যে এটা আসল না। তাই ভ্রুর কালার অনুযায়ী হালকা শেডের আই ব্রো পেন্সিল দিয়ে খুব হালকা ভাবে এক একবার টেনে নিন।

ভ্রু প্লাকের সময় বেশি ধনুকের মতো শেপ দেবেন না। আপনার ভ্রু ঠিক যেমন তার থেকে সামান্য বাঁকা ধনুকের শেপ দিন। যেমন ভ্রু তেমন ভাবে প্লাক করুন তাহলে ন্যাচারাল লাগবে।

ভ্রুর কর্নার আর নিচের সাইড বেশি করে প্লাক করবেন। তাহলে ভ্রু বেশ তীক্ষ্ণ দেখাবে। যাই দিয়ে প্লাক করুন না কেন, তা একবার ডেটল জলে ধুয়ে নিতে পারেন। কারণ ডেটল ব্যাকটেরিয়াল ইনফেকশন থেকে রক্ষা করে।

যাদের ভ্রু পাতলা, প্রতিদিন রাতে ঘুমানোর আগে সামান্য পরিমাণ ক্যাস্টর অয়েল তুলায় ভিজিয়ে ভ্রু জোড়ায় লাগাতে পারেন। এটি ভ্রু ঘন করতে সাহায্য করবে।

ভ্রু মোটা রাখলে সাজের ক্ষেত্রেও কিছু বিষয় মাথায় রাখতে হবে। চোখে খুব বেশি ভারী মেকআপ নয়, বরং চোখের ওপর মোটা করে এবং কিছুটা টেনে আইলাইনার লাগালেই দেখতে ভালো লাগবে। সে ক্ষেত্রে চোখের নিচে কাজল দেওয়ার দরকার নেই। তবে পাপড়িতে ঘন করে মাশকারা লাগাতে ভুলবেন না।

চোখের সাজটা হালকা হওয়ায় ঠোঁট সাজাতে পারেন নিজের পছন্দের যেকোনো উজ্জ্বল রঙে। চলতি ফ্যাশনের সঙ্গে তাল মিলিয়ে লাল, কমলা ইত্যাদি গাঢ় রঙের লিপস্টিক অনায়াসেই ব্যবহার করতে পারেন ঠোঁটে।

শুক্রবার, ৮ মার্চ, ২০১৯

চুলের ধরণ ভেদে ৩টি কার্যকরী প্যাক

তৈলাক্ত চুলের প্যাক  
আমার হেয়ার হচ্ছে অয়েলি ধরণের। শ্যাম্পু করার পরদিনই মনে হয় চুলে তেল দিয়ে রেখেছি। চুলের স্কাল্প এবং চুল তেলতেলে হয়ে যায়। তো এই ধরণের চুলের জন্যে আমি যে হেয়ার প্যাকটা ব্যবহার করতে পছন্দ করি, তার রেসিপিই দিচ্ছি। এটি চুলের এক্সটা অয়েলিনেস দূর করে চুলকে ঝরঝরে এবং স্মুদ বানিয়ে দেয়।
  • মেহেদির গুঁড়া
  • আদার রস
  • টি ট্রি অয়েল
  • চায়ের লিকার
  • আপেল সাইডার ভিনেগার
প্রথমে একটি পরিষ্কার বাটিতে ৩ টেবিল চামচ মেহেদির গুঁড়া নিয়ে নিন। পারলে তাজা মেহেদি পাতা বাটা ব্যবহার করুন। আদাটুকু বেটে নিয়ে এর থেকে রসটা ছেঁকে নিন যেন ২ টেবিল চামচ পরিমাণ হয়। ২-৩ ফোটা টি ট্রি অয়েল, ২ টেবিল চামচ ঠান্ডা চায়ের লিকার এবং ১ টেবিল চামচ অ্যাপেল সাইডার ভিনেগার নিয়ে নিন। উপকরণগুলো ভালোভাবে মিশিয়ে একটি থিক পেস্ট তৈরি করুন। হাতের সাহায্যে চুলে সিঁথি কেটে কেটে এই প্যাকটি লাগিয়ে নিন এবং ৪০ মিনিট অপেক্ষা করে শ্যাম্পু এবং কন্ডিশনার লাগিয়ে নিন।


সাধারণ চুলের প্যাক 
নরমাল চুলগুলো অতিরিক্ত অয়েলি / ড্রাই ধরণের হয় না। এই ধরণের চুলে বিশেষ করে কমবেশি সব  প্যাকই স্যুট করে। তবে নরমাল চুলের জন্যে নিচের হেয়ার প্যাকটি বেশ ভালো কাজে দিবে। এটি চুলের গোড়াকে শক্তিশালি করে চুলকে সফট বানিয়ে দেবে এবং চুল পড়াও কমিয়ে আনবে।
  • নারকেলের দুধ
  • অ্যালোভেরা জেল
  • টক দই
  • জবা ফুল এবং পাতা
প্রথমে একটি পরিষ্কার ব্লেন্ডারে ৩ টেবিল চামচ নারিকেলের দুধ নিন। অ্যালোভেরা পাতাটির দুই পাশের কাটা এবং উপরের সবুজ অংশ ছুরি দিয়ে কেটে জেল-টুকু বের করে নিন। তাজা অ্যালোভেরা না পেলে কৌটার অ্যালোভেরা জেল ব্যবহার করতে পারেন। ১ টেবিল চামচ পরিমাণে। জবা ফুলের পাপড়িগুলো ছিড়ে নিন এবং পাতাগুলো ধুয়ে নিয়ে ব্লেন্ডারে নিয়ে নিন। এক্ষেত্রে ২ টি জবা ফুল এবং ৫-৬ টি পাতা হলেই যথেষ্ট।  ২ টেবিল চামচ টক দইও নিয়ে নিন ব্লেন্ডারে। এবার সবকিছু ব্লেন্ড করে নিন। ব্লেন্ড করা হয়ে গেলে আপনার প্যাক রেডি। এবার চুলের গোড়া এবং পুরো চুলে লাগিয়ে নিন প্যাকটি। ৩০-৪০ মিনিট অপেক্ষা করে ধুয়ে ফেলুন। শ্যাম্পু এবং কন্ডিশনার লাগাতে ভুলবেন না।


 শুষ্ক চুলের প্যাক 
এই ধরণের চুলগুলো গোড়াসহ পুরো চুলই ড্রাই এবং রুক্ষ থাকে। চাই ডিপ কন্ডিশনিং প্যাক।
  • মেয়োনিজ
  • ওটস
  • কাঁচা দুধ
প্রথমে একটি পরিষ্কার বাটিতে ২ টেবিল চামচ ওটস নিয়ে এতে ২ টেবিল চামচ কাঁচা দুধ মিলিয়ে নিন। এরপর অপেক্ষা করুন যতক্ষণ না ওটস নরম হয়। ওটস নরম হয়ে এলে হাত দিয়ে কঁচলে নিন ভালোমতো। এবার এর মধ্যে ৩-৪ টেবিল চামচ মেয়োনিজ নিয়ে সবকিছু ভালোমতো মিশিয়ে নিন। হাতের সাহায্যে চুলের গোড়া থেকে আগা পর্যন্ত ভালোভাবে লাগিয়ে নিন। ৩০ মিনিট অপেক্ষা করে শ্যাম্পু এবং কন্ডিশনার লাগিয়ে নিন।
এই তো ছিলো, চুলের ধরণভেদে ৩ টি হেয়ার প্যাকের রেসিপি। নিজের চুলের ধরণ বুঝে এগুলো ব্যবহার করলে আশা করি ভালো ফল পাবেন।

যে ১০টি ভুলের কারণে গোসলের আগে ও পরে আপনার চুল পড়ে অনেক বেশী!

 অনেকেরই, বিশেষ করে মেয়েদের চুল পড়ার একটি বিশাল কারণ হচ্ছে এই ভুলগুলো। জেনে নিন ১০টি ভুল, যেগুলো কমবেশি আমরা সবাই করি।

১) সবচাইতে বোর যে ভুলটি করি আমরা, সেটি হচ্ছে রোজ চুল ধোয়া। হ্যাঁ, রোজ গোসল করা খুবই জরুরী, কিন্তু রোজ চুল ধোয়া বা চুলে পানি লাগানো জরুরী নয়। আপনি দৈনিক কতটা সময় বাইরে থাকেন সেটার ওপরে নির্ভর করে চুল ধোবেন। চুল নোংরা না হলে রোজ চুলে পানি লাগানোর কোন প্রয়োজন নেই। বিশেষ করে যাদের বেশী লম্বা ও ঘন চুল, তাঁরা তো মোটেও এটা করবেন না। এমন চুল শুকাতে সময় লাগে, অনেকটা সময় গোঁড়া ভেজা থাকার ফলে চুল দুর্বল হয়ে যায়।

২) দিনে ২/৩ বার গোসলের অভ্যাস থাকলেও ২/৩ বারই চুল ভেজাবেন না। এর চাইতে খারাপ অভ্যাস আর কিছুই হতে পারে না।

৩) রোজ চুলে শ্যাম্পু করবেন না, সেটা যত ভালো ও দামী শ্যাম্পুই হোক না কেন।

৪) প্রত্যেকবার শ্যাম্পু করার সময় কন্ডিশনার ব্যবহার করা আরেকটি বড় ভুল। আমরা প্রায় সকলেই মনে করি যে কন্ডিশনার লাগালে চুল ভালো থাকে। এটি আসলে খুবই ভুল একটি ধারণা। কন্ডিশনার লাগালে চুল ভালো থাকে না, বরং সাময়িক একটা নরম ও উজ্জ্বলতা আসে কন্ডিশনারে উপস্থিত রাসায়নিকের কারণে যা মোটেও ভালো নয়। বরং নিয়মিত কন্ডিশনার ব্যবহার করলে চুল পড়ার হার বেড়ে যায় অনেক বেশী।

৫) গোসলের পর পরই ভেজা চুল আঁচড়াতে বসে যাওয়া আরেকটি বড় চুল। গোসলের পর চুল থাকে নরম ও ভঙ্গুর। এমন সময়ে আঁচড়ালে চুল ভেঙে ও ঝরে যাওয়ার হার বেড়ে যায় অনেক।

৬) গোসলে যাওয়ার আগে বা শ্যাম্পু করার আগে মোটা দাঁতের চিরুনি দিয়ে চুল আঁচড়ে নিন। এতে চুলে জট পড়বে না, চুল ভাঙবে না ও ছিঁড়বে না।

৭) তোয়ালে দিয়ে ঘষে ঘষে চুল মোছার অভ্যাস বাদ দিন। এই বাজে অভ্যাসের কারণে চুলের আগা ফেটে যায় ও প্রচুর চুল ঝরে।

৮) গোসলের পর অনেকটা সময় মাথায় তোয়ালে পেঁচিয়ে রাখবেন না। এতে চুলের ওপরে চাপ পড়ে, চুল ভেঙে যায়, যত দ্রুত সম্ভব চুল শুকিয়ে ফেলুন।

৯) চুল দ্রুত শুকাবার জন্য হেয়ার ড্রায়ার ব্যবহার করা বা রোদে বসে চুল শুকানো আরেকটি ভুল অভ্যাস। অতিরিক্ত উত্তাপে চুলের মারাত্মক ক্ষতি হয়। ফ্যানের বাতাসের নিচে চুল শুকানোই উত্তম।

১০) অনেকেই আছে দুপুরে বা রাতে গোসলের পর চুল পুরোপুরি না শুকিয়েই ঘুমিয়ে পড়েন, এই কাজটি মোটেও করবেন না। এতে চুলের গোঁড়া দুর্বল হয়ে যায়।

সোমবার, ৪ মার্চ, ২০১৯

ব্রণের দাগ দূর করার টিপস


ব্রণ হবে আর চিহ্ন রেখে যাবে না, তাই কি হয়! ব্রণ যদিওবা চলে যায়, এর দাগ কিন্তু নাছোড়বান্দা। আর এই দাগের কারণে নষ্ট হয় চেহারার স্বাভাবিক সৌন্দর্য। বাজার থেকে কেনা ক্রিমের ওপর ভরসা না করে বরং ঘরোয়া উপাদানেই সারিয়ে ফেলুন ব্রণের দাগ। রইলো টিপস-

-চন্দন গুঁড়ার সঙ্গে একটু গোলাপজল মিশিয়ে মুখে লাগান। এরপর ঠান্ডা পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন।

শুধু মধুও প্রতিদিন দাগের উপরে লাগাতে পারেন। এতে করে দাগ কমে আসবে। তবে খেয়াল রাখবেন আপনার ত্বকে মধুর ব্যবহারে কোনো পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হচ্ছে কিনা।

তৈলাক্ত ও সাধারণ ত্বকে শশার রস, আলুর রস দিয়ে দশ মিনিট রেখে ধুয়ে ফেলুন। প্রতিদিন এই রস ব্যবহার করতে পারেন।

শুধুমাত্র তৈলাক্ত ত্বকে টক দই, লেবুর রস ও আটা মিশিয়ে প্যাক তৈরি করে নিন। সপ্তাহে দুইদিন এটি ব্যবহার করুন।

অ্যালোভেরার রস প্রতিদিন দাগের জায়গায় লাগালে দ্রুত কমে যাবে।

তৈলাক্ত ত্বকে মুলতানি মাটি, লেবুর রস ও টকদই মিশিয়ে ব্যবহার করুন। এতে উজ্জ্বলতা বাড়বে, দাগও কমবে।

মিশ্র ও সাধারণ ত্বকে দাগ হলে ল্যাভেন্ডার তেল লাগাতে পারেন।

শনিবার, ২ মার্চ, ২০১৯

চুলের যত্নে তেল


 ক্যাস্টর অয়েল : চোখ ও ভ্রু ঘন করতে নিয়মিত দু'তিন ফোঁটা ক্যাস্টর অয়েল ধৈর্য ধরে লাগান।
আমন্ড অয়েল : চোখের নিচে কালি দূর করতে ও ব্যথা, ফোলা ও চুলকানি কমাতে সাহায্য করে এ তেলটি।

সরিষার তেল : গরম করে তালুতে লাগিয়ে ২০ মিনিট রেখে শ্যাম্পু করুন। দেখবেন খুশকি একেবারেই সেরে যাবে।
 সরিষার তেল ত্বকে আর্দ্রতা জোগাতে পারে। শীতে ফাটা ত্বকে এর মালিশ খুব উপকারী। শিশুর ত্বকেও খাঁটি সরিষার তেলের ম্যাসাজ অন্য রাসায়নিকযুক্ত তেলের তুলনায় নিরাপদ। ঠা-ার সময় উষ্ণতাও দেয় এই তেল। ঠা-া, কফ, মাথাব্যথা কমাতে সরিষার তেলের ম্যাসাজ উপকারী।
এপ্রিকট অয়েল : ময়েশ্চারাইজার ও ত্বকের পুষ্টির জন্য এপ্রিকট অয়েল খুবই উপকারী।

ইভনিং প্রিমরোজ : অ্যাকনে, একজিম, খুশকির ক্ষেত্রে বেশ উপকারী।

ক্যারট অয়েল : বয়সের ছাপ কমানো ও পুড়ে যাওয়া রোধে ব্যবহৃত হতে পারে এ তেল।

অ্যাভোকাডো : নতুন কোষ তৈরিতে সাহায্য করে।

হ্যাজেলনাট অয়েল : ত্বকের শৈথিল্য দূর করে কোষ উৎপন্ন করে।

তিলের তেল : ছোট ছোট সাদা ফুল থেকে হয় কালচে তিলের দানা। এ দানার গুণাগুণের শেষ নেই। এ থেকে হয় তিলের তেল। তিলের তেলের ব্যবহারে ত্বক হয় সজীব। যাদের ত্বকে রোদে পোড়া ভাব রয়েছে, তাদের ওই পোড়া দাগ দূর করতে পারেন এ তেল ম্যাসাজের মাধ্যমে। এই তেল ব্যবহারে চুল পড়া বন্ধ হয়। মাথাও ঠা-া থাকে। শীতের সময় রাতে ঘুমানোর আগে সামান্য কর্পূর তিলের তেলের সঙ্গে মিশিয়ে ত্বকে ম্যাসাজ করলে উষ্ণতা পাওয়া যায়। তিলের তেল চুলের খুশকিও দূর করে। এ জন্য সপ্তাহে একবার নারকেলের তেলের সঙ্গে মিশিয়ে চুলে ম্যাসাজ করতে পারেন।

তিসির তেল : ত্বকের কোমলতা ফিরিয়ে আনতে ত্বকে ম্যাসাজ করতে পারেন তিসির তেল। এতে ত্বকের ভাঁজগুলো ধীরে ধীরে কমে যায়। তিসির তেল খেতেও পারেন। এতে মেধা বাড়ে। চোখের দৃষ্টির জন্যও ভালো।

জলপাই তেল : যাদের কোলেস্টেরলের মাত্রাটা বেশি, তাদের জন্য জলপাই তেলের কোনো বিকল্প নেই। এ তেলের রান্না যেমন ভালো, ত্বকে এর ব্যবহারও উপকারী। যাদের ত্বকে চুলকানির সমস্যা রয়েছে, তারা নির্দ্বিধায় এ তেল ম্যাসাজ করতে পারেন। শিশুর ত্বকেও নিরাপদ। জলপাই তেল মাথার ত্বকের খুশকি দূর করার জন্যও উপকারী।

বাদাম তেল : পুষ্টি আর শক্তি এ দুটো একসঙ্গে পেতে বেছে নিতে পারেন আমন্ড বাদাম তেল। চেহারায় লাবণ্য ছড়ায় এ তেল। মাথায় ব্যবহার করতে পারেন। শরীরে ম্যাসাজ করতে পারেন ময়েশ্চারাইজার হিসেবে। চিনাবাদামের তেল খেতেও পারেন বিস্কিট বা কেকের সঙ্গে বেক করে।

সূর্যমুখী তেল : এই তেলের সুবিধা হলো, ত্বকে ব্যবহার করলে কোনো অস্বস্তিকর তেলতেলে অনুভূতি হয় না। বরং বেশ ভালো বোধ হয়। ত্বক সজীব ও লাবণ্যময় করতে সূর্যমুখীর তেল ম্যাসাজ করতে পারেন।

নিম তেল : যাদের ত্বকে ব্রণের সমস্যা আছে, তারা নিম তেল ব্যবহার করতে পারেন সপ্তাহে দুই দিন। দুএক ফোঁটা নিম তেল খেতেও পারেন প্রতিদিন।

এসেনশিয়াল অয়েল : তেলের ব্যবহার শুধু খাওয়া আর রূপচর্চায় সীমাবদ্ধ নেই। এখন মনকে প্রফুল্ল করতেও তেলের ব্যবহার দেখা যায়। তেলের সঙ্গে বিভিন্ন গাছের ফুল, লতাপাতা, মূলের নির্যাস মিশিয়ে এখন তৈরি করা হচ্ছে এসেনশিয়াল অয়েল। সুগন্ধির পাশাপাশি বেশ উপকারীও এটি। আমরা তেলের সঙ্গে বিভিন্ন ভেষজ উপাদান ও সুগন্ধি যোগ করে পেতে পারি সজীবতা ও সতেজতা।
 যেমন_
* লবঙ্গ, রোজমেরি, লেবু একসঙ্গে তেলে মিশিয়ে ত্বকে ম্যাসাজ করলে সতেজ হওয়া যায়।
* জায়ফল, কমলা, ভ্যানিলা একসঙ্গে তেলে মিশিয়ে ম্যাসাজ করে আপনার স্নায়ুবিক চাপ কমিয়ে ফেলতে পারেন।
* ক্যামোমাইল, ল্যাভেন্ডার, গোলাপের নির্যাস তেলে মিশিয়ে শরীরের আবর্জনা দূর করুন।
* ত্বকের উজ্জ্বলতা আনতে তেলে লেবুর নির্যাস ও জেসমিন যোগ করে ম্যাসাজ করতে পারেন।
নানারকম এসেনশিয়াল অয়েল পাবেন যেকোনো সুগন্ধির দোকানেই। এছাঙা নানা বিউটি পার্লারেও এসব তেল কিনতে পাওয়া যায়।