শনিবার, ১২ জুন, ২০২১

ফেয়ার পলিশ বা হোয়াইটেং ফেসিয়াল করুন ঘরে বসেই

০১ ক্লিনজিং
শুরুতেই সমস্ত মুখমন্ডল ভালো কোন ব্র্যান্ডের ক্লিনজার দিয়ে পরিষ্কার করে নিন। বাজারের পণ্য ব্যবহার করতে না চাইলে তৈলাক্ত ত্বকের অধিকারীরা শশা ও শুষ্ক ত্বক হলে কাঁচা দুধ দিয়ে এ কাজটি সেরে নিতে পারেন ।

০২ এক্সফ্লোয়েশনঃ
ছোট ছোট দানাযুক্ত ফেস ওয়াস বা স্ক্রাবার দিয়ে সমস্ত মুখ ধুয়ে নিন কিংবা প্রাকৃতিক উপাদান চাইলে ১/২ কাপ আতপ চালের গুঁড়ো, ২ টেবিল চামচ লেবুর রস, ২ টেবিল চামচ টমেটোর রস ও কয়েক ফোঁটা অলিভ অয়েল ভালো ভাবে মিশিয়ে মুখের ত্বকে হালকা হাতে স্ক্রাব করে নিন।

০৩ স্টিম
ফেসিয়ালের ক্ষেত্রে স্টিম বেশ জরুরী। এটি লোমকূপ খুলতে সাহায্য করে এবং ত্বককে গভীর থেকে পরিষ্কার করে। প্রথমে খুব অল্প পরিমাণ বাদাম তেল সারা মুখে মালিশ করে নিন। তারপর বাজারের পাওয়া যায় এমন স্টিমারের সাহায্যে স্টিম নিন অথবা যে কোন গরম পানির পাত্রে পাতলা কাপড় দিয়ে পেঁচিয়ে তার ভাপ নিতে পারেন।

০৪ ব্ল্যাক হেড পরিষ্কারকরণ
একটা ব্ল্যাক হেড পরিষ্কারক যন্ত্রের সাহায্যে ব্ল্যাক হেড গুলো পরিষ্কার করে নিন। যেহেতু লোমকূপ খোলা আছে তাই যন্ত্রের হালকা চাপেই উঠে আসবে ব্ল্যাক হেড ।

৫ টোনিং
অনেকেই ভেবে থাকে এর হয়ত প্রয়োজন নেই। কিন্তু এ ধারণা ভুল। যেহেতু স্টিমের মাধ্যমে লোমের গোড়া খোলা হয়েছে টোনিং এ তা বন্ধ করা জরুরী; নয়ত খোলা পোর দিয়ে ময়লা ঢুকে ব্রণ সৃষ্টি করতে পারে। বাজারের টোনারে অনীহা থাকলে গোলাপ জল লাগিয়ে নিন।

০৬ মাস্ক
এবার হচ্ছে আসল কাজ; হোয়াইটেনিং মাস্কের ব্যবহার। আপনারা অনেকেই হয়ত জানেন জাফরানের উপকারী দিক সমূহ। তাহলে এটাও জেনে থাকবেন যে জাফরানে আছে হোয়াইটেনিং প্রোপার্টি, যা ত্বকের রঙ উজ্জ্বল করতে সাহায্য করে।

উপকরণঃ
– ৫-৬ টা জাফরানের আঁশ
– ১/২ কাপ টক দই/দুধ/দুধের সর
– ২-৩ টা গোলাপের পাপড়ি,
– ১ টেবিল চামচ চন্দন/মুলতানি মাটি/নিমের(স্পর্শকাতর ত্বক হলে) গুঁড়ো ,
 – ২-৩ টা কাঠ বাদামের গুঁড়ো,
– ১ টেবিল চামচ গোলাপ জল ।

প্রস্তুত প্রণালীঃ
জাফরান গুলো তরল দুধে ২-৩ ঘণ্টা ভিজিয়ে রাখুন; যতক্ষণ না এর রঙ হলুদাভ হয়। এবার গোলাপের পাপড়িগুলো ভালো করে ধুয়ে নিন। তারপর পাপড়িগুলোর পেস্ট তৈরি করে নিন। এবার একে একে দুধ-জাফরান, গোলাপ পেস্ট, মুলতানি ও বাদামের গুঁড়ো গোলাপ জলে গুলিয়ে রাখুন। সুন্দর পেস্ট তৈরি হয়ে গেলে মুখের ত্বকে লাগিয়ে ২০-২৫ মিনিট অপেক্ষা করুন। শুকিয়ে গেলে কলের ঠান্ডা পানিতে ভালো করে ধুয়ে ফেলুন।

০৭ ময়েশ্চারাইজেশন
সব শেষে ভালো একটি ময়েশ্চারাইজার দিয়ে ত্বকের আর্দ্রতায় তালা লাগিয়ে দিন।
এবার আয়নায় আপনার চেহারাটি মিলিয়ে নিন, নিজেই অবাক হয়ে যাবেন ত্বকের জেল্লা দেখে। হোয়াইটেনিং ফেসিয়ালের ফলে আপনার ত্বকে আসবে এক অদ্ভুত সুন্দর আভা ও দ্যুতি আর মেক-আপের ভরিক্কি ভাব যাবে কমে। সেই সাথে মেক-আপ বসবে নির্ঝঞ্ঝাটে।

মঙ্গলবার, ১৮ মে, ২০২১

বিয়ে পরবর্তী রূপচর্চা

 

26551400_1585440064859096_372559539_n

খুব ধুমধাম করে তো বিয়ের পর্ব শেষ হয়ে গেল! আর এই বিয়েকে ঘিরে নানা প্রস্তুতির সাথে সাথে তো স্কিনের কেয়ার টাও ঠিক মতোই নিয়েছিলেন আশা করি। নয় তো বিয়েতে তো আর সুন্দর লাগার সম্ভবনাটুকুও শেষ হয়ে যেত। ভাবচ্ছেন বিয়ের ঝামেলা শেষ এখন আর কি হাফ ছেড়ে বাঁচলেন তো! আসলে এই সময় তা আর বেশি গুরুত্বপূর্ণ। বিয়ের আনুষ্ঠানিকতায় একগাদা মেকাপ, হেয়ার স্টাইল এসবের কারণে ত্বক এবং চুল দুটোই প্রাণ খুলে শ্বাস নিতে পারে না। তাই বিয়ের সময় অনেক গর্জিয়াস এবং সুন্দরি বউ মেকাপ তোলার পরেও যেন একই রকম সৌন্দর্য বজায় রাখতে পারেন তাই নিয়ে আজ কিছু কথা হবে।

শুরুতেই বিয়ের পরে কীভাবে যত্ন নিবেন তা নিয়ে বলার আগে প্রথমে আসা যাক হলুদের পর্বে। এই দিন তো খুব একটা মেকাপ না নেয়া হলেও হলুদ সামান্য হলেও ছোঁয়া হয়। স্কিনে হলদেভাবের কারণে বেশির ভাগ সময় মেকাপ করলে দেখতে ভালো লাগে না। তাই গায়ে হলুদের প্রোগ্রাম শেষ করার পর আপনি নেমে পড়ুন এই হলদে ভাব তোলার যুদ্ধে!!

শাড়ি চেঞ্জ করে বড় গলার ম্যাক্সি পড়ে নিন। মেকাপ রিমুভার দিয়ে মেকাপ তুলে নিন। এবার এমন একটি প্যাকের কথা বলব যেটা ত্বক থেকে হলদে ভাব তুলে দিতে সাহায্য করবে এবং ত্বকে ইনস্ট্যান্ট গ্লো এনে দিবে।

এর জন্য যা যা লাগবে-

  • কোকোনাট মিল্ক ২ চা চামচ
  • লেবু ১ চা চামচ
  • টক দই ১ চা চামচ
  • মধু ১/২ চা চামচ
  • র মিল্ক ১ চা চামচ
  • চালের গুঁড়ো ৩ চা চামচ

সব উপকরণ মিশিয়ে নিন। এবার মেকাপ তোলার পর মুখ, ঘাড়, হাত-পা  ভালো করে পানি দিয়ে ধুয়ে নিন। এবার পরিষ্কার মুখে-ঘাড়ে- হাতে-পায়ে পুরো প্যাক লাগিয়ে ১০ মিনিট অপেক্ষা করুন। প্যাকটি একটু ভেজা ভেজা অবস্থায় হাতের তালুতে সামান্য র মিল্ক নিয়ে মুখ এ হালকা করে ম্যাসাজ করতে থাকুন দেখবেন মেকাপ রিমুভের পরেও আরো রেসিডিউ বেরিয়ে আসছে। এভাবে ৫ মিনিট ম্যাসাজ করে পানি দিয়ে ধুয়ে নিন। ব্যস এবার ময়েশ্চারাইজার লাগিয়ে নিন। তারপর মেহেদী লাগাতে বসে পড়ুন। একটি কথা,  এই প্যাকটি কিন্তু কেবল হলদে ভাব দূর করতেই নয় ত্বকে গ্লো এনে দিবে নিয়মিত ব্যবহারে। কাজেই বিয়ের পরে আপনি চাইলে এই প্যাক ইউজ করে যেতে পারেন।

রাতটা কেটে গেলেই তো রিসিপশনের প্রস্তুতির পালা। সময় মতো পার্লারে যাওয়ার আগে ত্বককে ময়েশ্চারাইজ করে অবশ্যই সানস্ক্রিন মেখে বের হবেন। মেকাপ করতে বসে খেয়াল করেছেন নিশ্চয়ই ত্বকের উপর একগাদা প্রোডাক্ট অ্যাপ্লাই করা হয়েছে। আর এই দিনটিতে চুলও তো বাদ যায় না! স্ট্রং হেয়ার স্প্রে, টিজ, কার্ল করা স্বাভাবিক হলেও চুলের স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর। তাই বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা শেষে যখন নতুন বাড়িতে উঠবেন তখন নিশ্চয়ই হুট করে রান্না ঘরে ঢুকে প্যাক বানিয়ে মুখে লাগিয়ে বসে থাকতে পারবেন না! তাই লাগেজে নারকেল তেল, লোশন, চালের গুঁড়ো, মুলতানি মাটি, মধু এমন কিছু উপাদান একটি বক্সে গুছিয়ে রেখে নিবেন আগে থেকেই।

রাতে শোবার আগে মেকাপ তুলে চালের গুঁড়োর সাথে সামান্য পানি মিক্স করে স্ক্র্যাব করে নিন। এবার মুলতানি মাটির সাথে মধু এবং লেবুর রস মিক্স করে মুখে লাগিয়ে নিন। ১০ মিনিট রেখে ধুয়ে ফেলুন  এরপর ময়েশ্চারাইজার লাগিয়ে ঘুমোতে চলে যান। এই প্রক্রিয়াটি খুব সহজ এবং অল্প উপকরণেই সম্ভব তাই বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা শেষে সপ্তাহে ১ দিন এই প্যাকটি কন্টিনিউ করতে থাকুন।

রাতে চুলের জট ছাড়াতে গিয়ে চুলের সর্বনাশ করে বসবেন না যেন। চুল থেকে ক্লিপ কাটা খুলে নারকেল তেল নিয়ে চুলে লাগিয়ে নিন। ভালো করে লাগাবেন। এরপর কিছুক্ষণ সময় নিন। তারপর দেখবেন একাই সিঁথি কেটে তেল স্ক্যাল্পেো লাগাতে পারছেন। এভাবে সারা রাত রেখে দিন। পরদিন সকালে উঠে চুলে হালকা করে চিরুনি বুলিয়ে নিন। তারপর সাধারণ নিয়মে শ্যাম্পু করে কন্ডিশনার লাগিয়ে নিন।  এরপর ২ দিন গ্যাপ দিয়ে চুলের জন্য প্রোটিন প্যাক লাগিয়ে নিন।

  • ঘন কোকনাট মিল্ক ২ চা চামচ
  • ১ টি ডিম
  • মধু – ১ চা চামচ
  • কলা ৩ চা চামচ

ভালো করে মিক্স করে নিন। পুরো চুলে লাগিয়ে ১৮ মিনিট রেখবেন। পুরোপুরি শুকাতে দিবেন না। তাহলে শ্যাম্পু করলেও কলা যেতে চাবে না। তাই ১ কাপ পানিতে ২ চা চামচ শ্যাম্পু গুলিয়ে নিন। এই তরল শ্যাম্পু দিয়ে চুল ধুয়ে নিন। ব্যস হয়ে গেল চুলের যত্ন! এতো ধকলে চুলের যে খারাপ অবস্থা হওয়ার কথা ছিল তা আর হবে না।

বিয়ের পর সপ্তাহে অন্তত ৩ দিন স্ক্র্যাবিং, ত্বকের ধরণ অনুযায়ী ফেইস প্যাক এবং ময়েশ্চারাইজিং অবশ্যই অ্যাপ্লাই করবেন। নিয়মিত ত্বকের যত্ন নিলে কিন্তু খুব বেশি উপকরণের প্রয়োজন পড়ে না। নিজের ত্বকের যত্ন নিন বিয়ের আগের সৌন্দর্য ধরে রাখুন বিয়ের পরেও।

শুক্রবার, ২৩ এপ্রিল, ২০২১

মা হওয়ার পরে...


অনেকেই মনে করেন, মা হলেই বুঝি ওজন চলে যাবে বাড়তির দিকে। আর লোকমুখে প্রচলিত রয়েছে, অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে শিশুর জন্ম হলে নাকি মায়েরা মুটিয়ে যান। তবে এমন ধারণার আসলে কোনো ভিত্তি নেই।
বিশেষজ্ঞদের মতে, সন্তান জন্মের পর মা আবার তাঁর আগের ওজন ফিরে পেতে পারেন, যদি কিছু ব্যাপার খেয়াল রাখা হয়। শিশুর সুস্বাস্থ্যের জন্য মাকে বেশি করে খেতে হবে এটি যেমন ঠিক, তেমনি আবার খেয়াল রাখতে হবে যেন অতিরিক্ত খাওয়া না হয়। আবার মাকে স্বাভাবিক কাজকর্মও করতে হবে। আর অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে শিশুর জন্ম হলে মা অতিরিক্ত মুটিয়ে যান, এ কথা একেবারেই ঠিক নয়।গর্ভকালীন সময়ে তাঁর ওজন ১৬ কেজি বেড়েছিল। অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে তাঁর সন্তানের জন্ম হয়। সন্তান জন্মের পর থেকে তিনি বুকের দুধ খাওয়াতেন। আর এতেই তাঁর ১২ কেজি ওজন কমে যায় মাত্র তিন মাসের মধ্যেই। আর পরে বাকি ওজনটা কমতেও খুব বেশি সময় লাগেনি। তিনি মনে করেন, মিষ্টি, পনির বা এ জাতীয় খাবারের পরিবর্তে লাউ বা অন্যান্য সবজি, কালিজিরা, দুধ, ডিম এবং ফলমূল খাওয়া ভালো। আর প্রচুর পানি পান করা উচিত। তিন-ছয় মাস পর হাঁটাহাঁটি বা হালকা ব্যায়াম শুরু করা উচিত। সন্তানের যত্ন নিতে গিয়ে অনেকে তেমন সময় পান না, তেমন হলে সন্তানকে কোলে নিয়েই হাঁটা উচিত। হালকা কিছু ব্যায়াম তিনিও করেছেন, তবে যাঁদের অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে সন্তানের জন্ম হয়, ব্যায়াম শুরু করার আগে তাঁদের কিছু বিষয়ে সতর্ক থাকা প্রয়োজন।
এ প্রসঙ্গে কথা বলেছেন ঢাকা মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের স্ত্রীরোগ ও প্রসূতিবিদ্যা বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ফেরদৌসী ইসলাম। তিনি বলেন, শিশুর জন্মের পর থেকে অবশ্যই তাকে বুকের দুধ খাওয়াতে হবে। এতে যে শুধু শিশুর স্বাস্থ্য ভালো থাকবে তা-ই নয়, শিশুকে বুকের দুধ খাওয়ালে মায়ের শরীরের অতিরিক্ত ওজনও কমে যাবে।
জেনে নেওয়া যাক ফেরদৌসী ইসলামের কিছু পরামর্শ

 শিশুর জন্মের পর থেকে প্রথম ছয় মাস শিশুকে শুধু মায়ের দুধই খেতে দিন। এতে মায়ের শরীরের অতিরিক্ত চর্বি কমে যাবে। গর্ভধারণের আগে যাঁদের ওজন স্বাভাবিক ছিল, তাঁরা শুধু বুকের দুধ খাওয়ানোর মাধ্যমেই আগের ওজনে ফিরে আসতে পারেন

 ভাত, মিষ্টিসহ শর্করাজাতীয় অন্যান্য খাবার অতিরিক্ত পরিমাণে খাওয়া যাবে না। বিশেষ করে যাঁরা গর্ভধারণের আগে থেকেই একটু মুটিয়ে গিয়েছেন, তাঁদের এ ব্যাপারে খেয়াল রাখতে হবে।
 ফলমূল, শাকসবজি এবং আমিষজাতীয় খাবার বেশি করে খেতে হবে।
 অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে যাঁদের শিশুর জন্ম হয়েছে, তাঁরা শিশুর জন্মের ছয় সপ্তাহ পর থেকে ব্যায়াম শুরু করতে পারেন। ছয় সপ্তাহের আগে পেটের ব্যায়ামগুলো কোনো অবস্থাতেই করা যাবে না।
 শিশুর জন্ম অস্ত্রোপচারের মাধ্যমেই হোক আর স্বাভাবিক প্রক্রিয়ায়ই হোক, মায়ের পক্ষে যখনই স্বাভাবিক কাজকর্ম করা সম্ভব হবে, তখন থেকেই সেসব কাজ শুরু করতে হবে। তবে ভারী কাজ করা যাবে না। আবার অস্ত্রোপচার হয়েছে বলে দীর্ঘদিন পর্যন্ত ঘরে শুয়ে থাকেন অনেকে, যেটি একেবারেই ঠিক নয়।
এ প্রসঙ্গে আরও পরামর্শ দিয়েছেন ঢাকা মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের স্ত্রীরোগ ও প্রসূতিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক নূর সাঈদা।
 গর্ভাবস্থায় একজন নারীর ওজন অন্তত ১০-১২ কেজি বৃদ্ধি পায় এবং এটিই স্বাভাবিক। তবে শিশু জন্মের পরপরই পুরো ওজনটা একবারে কমে যায় না। একটু নিয়মের মধ্যে থাকলে সাধারণত ছয় সপ্তাহের মধ্যেই তিনি আবার আগের ওজনে ফিরে আসেন।
 শর্করাজাতীয় খাবার অতিরিক্ত খাওয়া যাবে না। তেমনি আবার এটাও খেয়াল রাখতে হবে, বুকের দুধ খাওয়াচ্ছেন যে মা, তিনি যেন পুষ্টিবঞ্চিত হয়ে না পড়েন। তাই এগুলো খেতে হবে পরিমিত পরিমাণে।
 মা প্রতিদিন দুই গ্লাস দুধ ও একটি ডিম খেতে পারেন। একবেলা খাবারের সময় তাঁকে একটু বেশি ভাত খেতে হবে। আর অল্প অল্প করে বার বার খাবার অভ্যাস করতে হবে।
 স্বাভাবিক প্রক্রিয়ায় যাঁদের সন্তানের জন্ম হয়েছে, তাঁরা দুই সপ্তাহ পর থেকে কিছু হালকা ব্যায়াম (পেরিনিয়াল এক্সারসাইজ) করতে পারেন।
মা হওয়ার পর ব্যায়াম করা প্রসঙ্গে পরামর্শ দিয়েছেন পারসোনা হেলথের প্রধান প্রশিক্ষক ফারজানা খানম। জেনে নিন তাঁর পরামর্শ।
স্বাভাবিক প্রক্রিয়ায় যাঁদের শিশুর জন্ম হয়েছে
  শিশুর জন্মের তিন মাস পর থেকেই তাঁরা সব ধরনের ব্যায়াম করতে পারেন। তবে ব্যায়ামের মাত্রা ধীরে ধীরে বাড়ানো উচিত।
  তিন মাসের পর থেকে বাইরে হাঁটাহাঁটি করা উচিত। এর পাশাপাশি কিছু ফ্রি হ্যান্ড এক্সারসাইজও করতে পারেন। এগুলোর মধ্যে আছে পুশ আপ, ফিট আপসহ অন্যান্য ব্যায়াম।
  আর ব্যায়ামাগারে গিয়ে ব্যায়াম করার ক্ষেত্রে ট্রেডমিল বা অন্যান্য আনুষঙ্গিক ব্যবস্থার সাহায্যে ওজন কমানো যেতে পারে। কিছুদিন এসব ব্যায়াম করার পরে তাঁদের এসবের পাশাপাশি টোনিং এক্সারসাইজও করা উচিত। আর তাঁকে সপ্তাহে কতটা সময় ব্যায়াম করতে হবে, তা প্রয়োজন অনুসারে প্রতিষ্ঠানের প্রশিক্ষক বলে দেবেন।
অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে যাঁদের শিশুর জন্ম হয়েছে
 শিশুর জন্মের তিন মাস পর থেকে দিনে ৪৫ মিনিট করে হাঁটাহাঁটি করা ভালো। চাইলে কিছু ফ্রি হ্যান্ড ব্যায়ামও করতে পারেন।
 ছয় মাস পর থেকে অন্যান্য ব্যায়াম শুরু করা ভালো। তবে হালকা ব্যায়াম দিয়েই শুরু করা উচিত।
 পেটের ব্যায়ামগুলো আট-নয় মাস পর শুরু করা ভালো।


 

বিয়ের আগে বরের প্রস্তুতি


Biyete-borer-sajguj

বিয়ে মানুষের জীবনে একটি অতি আকাঙ্ক্ষিত বিষয়। তবে বিয়ের সময় যত সামনে আসতে থাকে ততই  বাড়তে থাকে ব্যস্ততা। আর তাতে অনেকসময় ঠিকভাবে প্রস্তুতি নেয়া সম্ভব হয় না বরের। চারিদিকের নানা কাজের চাপে শেষমেশ দেখা যায় নিজের প্রতিই আর নজর দেওয়া হয়নি। আর তাই বিয়ের আগে চাই কিছু প্রস্তুতি। অনেকে মনে করেন বিয়েতে কেবল মেয়েদেরই প্রস্তুতির প্রয়োজন আছে। কিন্তু ব্যাপারটা আসলে তেমন নয়, ছেলেদেরও সমানভাবে প্রয়োজন রয়েছে প্রস্তুতির।

ত্বকের যত্ন

বিয়ের আগে ছেলেদের ত্বকের যত্ন নেওয়া বেশ জরুরি। স্বাভাবিকভাবেই ছেলেদের ত্বক কিছুটা রুক্ষ হয়ে থাকে। আর তাই বিয়ের আগে সপ্তাহে অন্তত দুই থেকে তিনবার স্ক্রাব করুন। এখন বাজারে অনেক রকমের স্ক্রাব পাওয়া যায়। বিশেষ করে গ্লিসারিন, সাইট্রিক এসিড, এগুলো ছেলেদের ত্বকের জন্য খুব ভালো। এটি ত্বকের ভেতর থেকে ময়লা পরিষ্কার করে ত্বককে করে তোলে মসৃণ আর উজ্জ্বল।

চুলের যত্ন

ছেলেদেরকে দিনের একটি বড় সময় কাটাতে হয় বাইরের রোদ এবং ধুলাবালিতে। যার প্রভাব পড়ে চুলে। ফলে দেখা দেয় চুল পড়া, চুলে খুশকিসহ নানা সমস্যা। আর তাই বিয়ের আগে এই সমস্যাগুলো থেকে মুক্ত থাকতে চুলের যত্নে ব্যবহার করতে পারেন পেঁয়াজের রস। এটি খুশকির সমস্যা দূর করে নতুন চুল গজাতে সাহায্য করে।

এছাড়া চুলের রক্ষতা দূর করতে ব্যবহার করতে পারেন ঘরোয়া একটি প্যাক। ১ টেবিল চামচ মধু, লেবুর রস আর অলিভ ওয়েল মিশিয়ে নিন। এবার তা চুলে মাখিয়ে ২৫ মিনিট রেখে ধুয়ে ফেলুন। এটি আপনার চুলকে করে তুলবে আরো সিল্কি ও মোলায়েম।

খাদ্যাভাস

খাবারের তালিকায় আনুন কিছুটা পরিবর্তন। এই সময় তেল-চর্বিযুক্ত খাবার না খাওয়াই ভালো। আর এর পাশাপাশি ভিটামিন যুক্ত খাবার খাওয়ার অভ্যাস করুন। সকালে ঘুম থেকে উঠে হাঁটার অভ্যাস গড়ে তুলতে পারেন। ধূমপানের অভ্যাস থাকলে চেষ্টা করুন তা পরিহার করার।

ঘুম

বিয়ের আগে পর্যাপ্ত ঘুমের ব্যাপারটা খুবই জরুরি। পরিবার, বন্ধু এবং আশেপাশের মানুষদের সময় দিতে দিতে দেখা যায় ঘুমই ঠিক মতো হচ্ছে না। যা মারাত্মকভাবে  ক্ষতিকর আপনার স্বাস্থ্যের জন্য।

যতই ব্যস্ত থাকুন সময় রাখুন নিজের জন্য। নিজেকে ধীরে ধীরে মানসিকভাবে প্রস্তুত করুন। নিজের মাঝে আত্মবিশ্বাস গড়ে তুলুন এবং বিয়ের এই সুন্দর মুহূর্তকে নিজের মাঝে ধারণ করু

 

মঙ্গলবার, ২০ এপ্রিল, ২০২১

শিশুর পরিচর্যা 😍


সব মা-বাবাই চান শিশুর সঠিক যত্ন। কিন্তু আমরা অনেকেই সচেতনতার অভাবে কমবেশি ভুল করি।

জন্মের পরপর শিশুর মুখে মধু দিলে মুখ মিষ্টি হয়?
কথাটা কেবল ভুলই নয়, বিপজ্জনকও। জন্মের পর পর শিশুকে মায়ের প্রথম শালদুধ দিতে হবে। হলুদ তরল বলে অনেকে এটা ফেলে দিতে বলেন। কিন্তু এই শালদুধেই আছে শিশুর প্রথম প্রয়োজনীয় পুষ্টি। তাই নবজাতককে মধু, চিনির পানি, মিছরির পানি বা কৌটার দুধ কিছুই দেওয়া যাবে না।

ঘুমের মধ্যে বোতলে করে দুধ খাওয়ালে শিশু পর্যাপ্ত খেতে পারে?

জন্মের প্রথম ছয় মাস শিশুকে শুধু মায়ের দুধ খাওয়াতে হবে। সম্পূর্ণ বা আংশিকও টিনের দুধ দেওয়া যাবে না। মা বাইরে গেলে বুকের দুধ তুলে রেখে যাবেন। সেটা বোতলে নয়, বাটি-চামচ দিয়ে খাওয়াতে হবে। তাই ঘুমের মধ্যে বা জাগরণে—কখনোই বোতলের দুধ শিশুকে দেবেন না। ছোট শিশুদের কান্না থামানোর জন্য চুষনিতে অভ্যাস করানোও ঠিক নয়।

শিশুর খাবার ব্লেন্ডারে মিহি করে দেওয়া উচিত?

শিশুর বয়স ছয় মাস পেরোলে তাকে বাড়িতে তৈরি খাবার দিন, দোকান থেকে কেনা সিরিয়াল নয়। অতিরিক্ত চালের গুঁড়া, সুজি, বার্লি ইত্যাদি খাওয়াবেন না। সব ধরনের খাবারই দেবেন, কিন্তু ব্লেন্ডারে মিহি করার প্রয়োজন নেই। ভাত বা খিচুড়ি, সবজি, মাছ, ডাল, তেল মিশিয়ে নরম করে রান্না করতে হবে। ব্লেন্ডারে তৈরি খাবার খেলে শিশুর স্বাদগ্রন্থির বিকাশ বাধা পায়। তাকে জোর করে খাওয়ানো ঠিক নয়। খাবার নিয়ে শিশুর পেছনে দৌড়ানো এবং টিভি দেখিয়ে, গেম খেলতে বসিয়ে মনোযোগ সরিয়ে খাওয়ানো ঠিক নয়। খিদে পেলে সে এমনিতেই খাবে। একসঙ্গে অনেক পদের খাবার পরিবেশন করলে শিশু দ্বিধায় পড়ে যায়। আবার সব সময় শুধু তার পছন্দের খাবার দিতে হবে, তা-ও ঠিক নয়। এতে অন্য খাবারের প্রতি আগ্রহ জন্মাবে না।

ছোটবেলা থেকেই সবকিছু চাই?

শিশুদের একেবারে ছোট থেকে সব বিষয়ে (যেমন বইপড়া, নাচ-গান, ছবি আঁকা ইত্যাদি) পারদর্শী করে তুলতে অনেকে অস্থির হয়ে পড়েন। মুঠোফোনে গেমস, আইপ্যাড চালাতে দেখে বিস্মিত ও খুশি হন। এর কোনোটাই ভালো লক্ষণ নয়। অনেক বাবা-মা আবার আদবকায়দা ইত্যাদি নিয়ে অতিরিক্ত সংবেদনশীল হয়ে পড়েন। কোনো কিছু নিয়েই বাড়াবাড়ি ঠিক নয়। অনেকে সন্তানকে এত ভালোবাসেন ও প্রশ্রয় দেন যে তাকে সব কাজ থেকেই বিরত রাখেন। জামাকাপড় পরানো বা স্কুলব্যাগ বহন করার জন্যও লোক রাখেন। দৈনন্দিন কাজকর্ম, যেমন খাওয়াদাওয়া, জুতা ও পোশাক পরা, ব্যাগ গোছানো ও বহন করা এসবে শিশুকে সাহায্য করতে পারেন, কিন্তু পুরোটাই করে দেবেন না। তাকে স্বাবলম্বী হতে শেখান।

শিশুকে সময় দিন

সন্তানকে আরামে রাখার জন্য হয়তো দিনমান খাটাখাটনি করছেন। কিন্তু শিশুরা আসলে এই রেডিমেড আরাম বা সুখ নয়, চায় আপনার মূল্যবান সময়। ওর সঙ্গে ভাবের আদানপ্রদান, গল্পগুজব, খেলাধুলা তার বিকাশে সাহায্য করবে। কাজে ব্যস্ত থাকলেও তাকে সঙ্গী করে নিন। যেমন মা ঘরের কাজে শিশুকে সঙ্গে নিতে পারেন, টুকটাক এটা-ওটা এগিয়ে দিতে দিতে অনেক সময় কাটানো হবে। শিশুকে টিভির সামনে বসিয়ে বা মুঠোফোনে গেমস ধরিয়ে দিয়ে নিশ্চিন্ত থাকবেন না।

শিশুর সামনে সংযত আচরণ করুন

শিশুরা কোনো প্রশ্ন করলে তার উত্তর না দিয়ে বরং ধমক দিয়ে তাকে থামিয়ে দেন অনেকে। অতিথির সামনে কথা বললে বিরক্ত হন। এটা ঠিক নয়। সব অবস্থাতেই তাদের কথা গুরুত্বের সঙ্গে শুনবেন। শিশুর সামনে নিজেরা কথা কাটাকাটি, চিৎকার, ঝগড়া করা বা কাউকে মারধর বা গালাগাল করা একেবারেই উচিত নয়। ধূমপান বর্জন করুন। শিশুর সামনে মিথ্যা বলবেন না কখনো। কোনো কিছুতে দক্ষতা কম বলে তাকে অন্যের সঙ্গে তুলনা করে বকাবকি করবেন না। শিশুর সাফল্যে প্রশংসা করুন এবং উৎসাহ দিন। ভুল বা অন্যায় করলে বুঝিয়ে বলুন, শাস্তি দেবেন না।

হবু কনেদের জন্য ১০টি মেকআপ টিপস



আপনি দেখতে যেমনই হোন না কেন, বিয়ে-বউভাতের দিনটিতে আপনাকে যাতে সেরা দেখতে লাগে, সেই ইচ্ছে সকলেরই মনের কোনে ঘাপটি মেরে থাকে। কিন্তু বিয়ের সাজের প্ল্যানিং ঠিকঠাক না হলে এটি কোনওমতেই সম্ভব নয়। বিয়ে-বউভাতের সাজ নিয়ে বেশিরভাগ বাঙালি মেয়েই একটা বাঁধা গত ধরে চলে। একটি লাল বেনারসি, লাল ওড়না, একগাদা গয়না এবং পার্লারের বিউটিশিয়ান বা মেকআপ আর্টিস্টের ইচ্ছে অনুযায়ী মেকআপ ও চন্দন এর বাইরে কিচ্ছুটি নেই। নিজের পোশাক কিনতে, হানিমুনের প্ল্যানিং করতে হবু কনেটি যতটা ব্যস্থ থাকে, ততটা ব্যস্ততা কিন্তু বিয়ের সাজ ভাবতে থাকে না। অথচ, আপনি যেমন দেখতে, সেই অনুযায়ী যদি আপনার সাজ না হয়, তা হলে সেদিনের সন্ধেটাই কিন্তু মাটি! পরে সারা জীবন অ্যালবাম দেখবেন আর দীর্ঘশ্বাস ফেলবেন! কারণ, বেশিরভাগ মেকআপ আর্টিস্টই বিয়ের কনের কয়েকটা বাঁধা লুক নিজেদের মাথায় রেখে দিয়েছেন, কনে যে-ই হোক না কেন, তাঁরা সেগুলোই একটু এদিকওদিক করে চালিয়ে যান। তাই হবু কনেদের জন্য আমরা নিয়ে এসেছি একটি ছোট অথচ এফেক্টিভ প্র্যাক্টিকাল মেকআপ  গাইডবুক। শুধু হবু কনেই নন, আপনি কনের  মাসি-পিসি-মা-কাকিমা-বেস্ট ফ্রেন্ড, যে কেউ হতে পারেন। আপনার আশেপাশে কোনও হবু কনে থাকলে এটি তাঁকেও পড়ান কিংবা নিজে পড়ে তাঁকে উপদেশ দিন। দেখবেন, আখেরে লাভই হবে।

হবু কনের জন্য প্র্যাক্টিকাল মেকআপ গাইড

বিয়ের সাজ চূড়ান্ত করার আগে মাথায় রাখুন এই বিষয়গুলি...

১) আপনার সাজ কেমন হবে, তা নিয়ে একটা মোটামুটি ধারণা আগে থেকেই ছকে রাখুন। ইন্টারনেটের সাহায্য নিন। ইনস্টাগ্রাম কিংবা পিনটারেস্টে বাঙালি কনেদের উপযোগী মেকআপের অনেক নমুনা একটু খুঁজলেই পেয়ে যাবেন। সেগুলো দেখে কয়েকটি লুক নিজেই ফাইনাল করুন। 

২) বিয়ের মেকআপ বা পুরো সাজ কেমন হবে, তার একটা মহড়া আগে একবার দিয়ে নেওয়া প্রয়োজন। আজকাল ডেমো মেকআপ বলে একটা ব্যাপার ওয়েডিং পোর্টালগুলোতে খুব জনপ্রিয়। সেখানে কোনও মেকআপ আর্টিস্ট ফাইনালি বুক করার আগে আপনি একদিন তাঁর নমুনা মেকআপ নিজের উপর প্রত্যক্ষ করতে পারেন। এর চেয়ে ভাল কথা আর হয় না। অনেকসময় বন্ধুর বিয়েতে অমুক মেকআপ আর্টিস্ট ভাল সাজিয়েছিল বলে লোকে তাঁকে বুক করে ফেলে। কিন্তু তিনি আপনার জন্যও সমান ভাল কিনা, সেটা জানতে আগে একবার চেখে নেবেন না? 

৩) অনেক মেকআপ আর্টিস্ট আবার ডেমো দিতে পছন্দ করেন না। সেক্ষেত্রে তাঁদের সঙ্গে আগে একটা মিটিং বুক করুন। তারপর নিজের বেছে রাখা লুক ও তাঁর সাজেশন নিয়ে একটা বিশেষ সাজ ফাইনাল করুন। তা হলে আগে থেকেই সেদিনের সাজ সম্বন্ধে একটা ধারণা আপনার মাথায় থাকবে।

Instagram

৪) নিজস্ব বেস মেকআপ প্রোডাক্ট দিয়েই সেদিন সাজবেন। প্রয়োজন হলে মেকআপ আর্টিস্টের কাছ থেকে জেনে নিন যে, তাঁর কী-কী দরকার। সেই অনুযায়ী প্রোডাক্টস কিনে রাখুন। কারণ, মেকআপ আর্টিস্ট কিন্তু ওই একই সরঞ্জাম দিয়ে সকলের মেকআপ করছেন। সুতরাং, আপনার স্কিন সেনসিটিভ হলে, কোনওরকম অ্যালার্জির আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যাবে না।

৫) বিয়ের কনেকে বিয়ের দিন লাল রংয়ের লিপস্টিক লাগাতেই হবে, এমন কোনও বাধ্যবাধকতা নেই। বরং লিপস্টিক নুড শেডের লাগান, যাতে বাকি জমকালো সাজের সঙ্গে তা ভাল করে যায়।

৬) মেকআপে বসার আগে ভাল করে মুখে অয়েল-ফ্রি ময়শ্চারাইজার লাগিয়ে নেবেন। বিশেষ করে যদি শীতকালে বিয়ে হয়, তা হলে তো স্কিন হাইড্রেট থাকাটা জরুরি। যে ক্রিম কিংবা ময়শ্চারাইজার লাগিয়ে আপনার পুরো দিনটা এমনিতে চলে যায়, সেটাই লাগান। নতুন কোনও প্রোডাক্ট ট্রাই করতে যাবেন না সেদিন।

৭) মেকআপ যতটা সম্ভব ন্যাচারাল রাখার চেষ্টা করবেন। চড়া সাজ অনেককেই মানায় না। কিন্তু স্নিগ্ধ সাজে কাউকে দেখতে খারাপ লাগতে পারে না।

৮) মেকআপ আর্টিস্টের কাছে জেনে নিন, প্রয়োজন পড়লে টাচ আপ করবেন কী করে। অনেকসময় এটা খুব জরুরি হয়ে পড়ে।

৯) বিয়ের রাতে যে লিপস্টিকটি লাগাবেন, সেটি যেন আপনার নিজস্ব হয়। তা হলে পরে দরকার হলে সেটি আবার লাগিয়ে নিতে পারবেন।

১০) শীত, গ্রীষ্ম, বর্ষা, যখনই বিয়ে করুন না কেন, একটু চড়া পারফিউম লাগাতে ভুলবেন না যেন।

সোমবার, ১৯ এপ্রিল, ২০২১

শিশুর মুখের ঘা দূর করতে যা করবেন


শিশুরা অনেক সময় আজে-বাজে জিনিস মুখে নিয়ে থাকে। যার ফলে তাদের মুখে জীবাণু ঢুকতে পারে সহজেই। এ ছাড়াও শিশুরা বিভিন্ন জিনিস হাত দিয়ে ধরে এরপর মুখে হাত নেয়। এসব কারণে তাদের মুখে সহজেই জীবাণু ঢুকে সংক্রমণ ঘটায়। বিশেষ করে মুখের আলসারে সব শিশুরাই কম-বেশি ভুগে থাকে।

বেশ কয়েকটি কারণে শিশুর মুখের আলসার বা ঘা হতে পারে। যেমন- আঘাত, ভিটামিন বা খনিজ পদার্থের অভাব ইত্যাদি। যদিও মুখের আলসার সংক্রামক হয় না। কিছু পরামর্শ মানলেই বাড়িতে এর চিকিৎসা করা যেতে পারে। চলুন তবে জেনে নিন শিশুর মুখের ঘা দূর করার ঘরোয়া টোটকা-

>> মধু জীবাণুনাশক হিসেবে কাজ করে। এজন্য ১-৩ বছর বয়সী শিশুর মুখে ঘা হলে মধু ব্যবহার করাই সবচেয়ে নিরাপদ ও কার্যকর দাওয়াই।

>> শিশুর মুখের আলসারের চিকিৎসায় হলুদ ব্যবহার করতে পারেন। এতে রয়েছে অ্যান্টি-ফাঙ্গাল, অ্যান্টিসেপটিক এবং অ্যান্টি-ব্যাকটেরিয়াল বৈশিষ্ট্য। যা সব ধরনের ক্ষত নিরাময় করে।

>> নারকেল দুধ দিয়ে গার্গল করলে ব্যথা বা জ্বলুনিভাবে কমবে। এ ছাড়াও ক্ষতে নারকেল তেল ব্যবহার করা যেতে পারে। ৬ মাসের কম বয়সী শিশুদের মুখের দূষিত ক্ষতের চিকিৎসা নারকেল তেল কার্যকরী ভূমিকা রাখে।

>> দই দিয়েও শিশুর মুখের ঘা নিরাময় করা যায়। দইয়ে রয়েছে ল্যাকটিক অ্যাসিড, যা ক্ষত এলাকায় ব্যাকটেরিয়া বৃদ্ধিতে বাধা দেয়।

>> তুলসি পাতার স্বাস্থ্য উপকারিতা সম্পর্কে সবারই কমবেশি জানা আছে। ২-৫ বছর বয়সী শিশুদের মুখে ঘা হলে তুলসি পাতা চিবিয়ে খাওয়াবেন। এতেই ঘা সেরে যাবে।

>> শিশুর মুখে যদি কিছুদিন পরপরই ঘা হতে থাকে; তাহলে পোস্ত দানা ও নারকেলের ক্যান্ডি খেতে দিন। মিছরির গুঁড়ো, পোস্ত দানা ও কোড়া নারকেল ব্লেন্ড করে ছোট ছোট বড়ি বানিয়ে নিন। এই ক্যান্ডি শিশুকে চুষতে দিন। শিশুর শরীরের তাপ বাড়ার কারণে যদি আলসার হয়ে থাকে; তবে এটি হলো প্রতিরোধ করার উপায়।

>> ঘি শিশুর মুখের ঘা সারাতে বিস্ময়কর কাজ করে। ভালো ফলাফল পেতে শিশুর মুখের আক্রান্ত স্থানে দিনে অন্তত তিনবার ঘি ব্যবহার করুন। ঘি দ্রুত ক্ষত নিরাময় করে এবং ব্যথা কমায়।
>> অ্যালোভেরার জেল পানিতে মিশিয়ে শিশুকে কুলি করতে বলুন। ভালো ফলাফলের জন্য দিনে তিনবার এটি দিয়ে মুখ ধোয়াতে পারেন।

>> ২ কাপ পানিতে এক টেবিল চামচ যষ্টিমধু ভিজিয়ে রাখুন। এ পানি দিয়ে শিশুকে প্রতিদিন কয়েকবার গার্গল করালে মুখের আলসার সেরে যাবে।