বুধবার, ১২ জুলাই, ২০১৭

মুখের কালো দাগ দূর করতে রাতে ঘুমানোর আগে করণীয়

মুখের কালো দাগ দূর করতে রাতে ঘুমানোর আগে টিপস

কী ব্যবহার করবেন?

মুখের দাগ দূর করতে আমরা ব্যবহার করবো লেবু। একটু লক্ষ্য করলেই দেখবেন যে সকল অ্যান্টি স্পট ফেয়ারনেস ক্রিম লেবুর কথা বলে। কারণ একটাই, লেবু প্রাকৃতিক ব্লিচ হিসাবে কাজ করে। তবে লেবু এই রূপচর্চাটি কেবল রাতের বেলায় করতে হবে এই কারণে যে সূর্যের আলো আপনার ত্বকে রিঅ্যাকশন করতে পারে। রাতের বেলায় রূপচর্চাটি করলে সূর্যের আলো বা গরমে ত্বকের ক্ষতি হওয়ার সম্ভাবনা নেই এবং ত্বক সম্পূর্ণ ৮-১০ ঘণ্টা পাচ্ছে দাগ দূর করার জন্য।

কী করবেন?

দুটি পদ্ধতি অবলম্বন করতে পারেন আপনি। যদি আপনার ত্বক হয়ে থাকে স্বাভাবিক, তাহলে মাত্র ৫ মিনিটের একটি কাজ করতে হবে আপনাকে। যদি শুষ্ক বা সেনসিটিভ হয়ে থাকে, তাহলে সময় লাগবে ৩০ মিনিট।
-মুখ খুব ভালো করে পরিষ্কার করে নিন। ফেসওয়াশ দিয়ে মুখ ধুয়ে তোয়ালে দিয়ে মুছে নিন।
-যদি স্বাভাবিক বা তৈলাক্ত ত্বক হয়, তাহলে তাজা পাকা লেবুর রস (যে লেবু পেকে হলদে হয়ে গেছে, অর্থাৎ লেমন) সরাসরি মুখের কালো দাগে লাগিয়ে নিন। লেবুর রসের সাথে সামান্য মধুও মিশিয়ে নিতে পারেন। তারপর শুকাতে দিন। এবং লেবুর রস মুখে নিয়েই ঘুমিয়ে যান। স্বাভাবিক বা তৈলাক্ত ত্বকে কোন সমস্যা হবে না। সকালে ঠাণ্ডা পানি দিয়ে মুখ মুছে নিন।
-আর যদি শুষ্ক বা সেনসিটিভ ত্বক হয়, তাহলে পাকা লেবুর রসের সাথে মুলতানি মাটি ও মধু মিশিয়ে নিন। এই মিশ্রণ ধোয়া মুখে লাগিয়ে ৩০ মিনিট রাখুন। তারপর ধুয়ে ফেলুন। নিয়মিত ব্যবহারে ত্বকের কালো দাগ মিলিয়ে যাবে।

টিপস-

ত্বকে লেবুর রস দেয়ার পর যদি কোন রকম অস্বস্তি অনুভব করেন, তাহলে অবিলম্বে মুখে ধুয়ে ফেলুন এবং পুনরায় ব্যবহার করবেন না।

সোমবার, ১০ জুলাই, ২০১৭

পিঠের ব্রণ দূর করার কিছু উপায়

ধাপ ১

উপকরণ

পুদিনা পাতা : পুদিন পাতায় রয়েছে মেন্থল, ব্রণ দূর করতে এবং ব্রণ থেকে হওয়া পেইন কমাতে সাহায্য করে। এটি ব্রণ শুকাতে সাহায্য করে এবং পোর ক্লিন করে। এছাড়াও এতে রয়েছে অ্যান্টি অক্সিডেন্ট,  যা ব্যাক্টেরিয়াল ইনফেকশনের সাথে লড়াই করে। এটি  স্পট দূর করতেও হেল্প করে।
লেবুর রস : লেবুর রসে থাকা সাইট্রিক এসিড, খুবই শক্তিশালি অ্যাস্ট্রিঞ্জেন্টস হিসেবে কাজ করে, যা ব্রণ শুকাতে সাহায্য করে এবং স্পট দূর করে। এতে রয়েছে অ্যান্টি ব্যাক্টেরিয়াল এজেন্ট যা, ব্যাক্টেরিয়া দূর করে এবং ব্রণের বৃদ্ধি হ্রাস করে।

যেভাবে ব্যবহার করবেন

– পুদিনা পাতা ক্রাশ করে এর জুস বের করে নিন, যেন তা ২ চা চামচ পরিমানে হয়।
– এবার একটি বাটিতে ২ চা চামচ পুদিনা পাতার জুস এবং ২ চা চামচ লেবুর রস নিয়ে মিক্স করে নিন।
– একটি কটন বল সেই মিশ্রণে চুবিয়ে নিন এবং পিঠের যে যে অংশে ব্রণ রয়েছে সেখানে লাগিয়ে নিন।  ২০ মিনিট রেখে দিবেন। প্রতিদিন গোসলের আগে এটি করবেন।

ধাপ ২

উপকরণ

টি ট্রি অয়েল টি ট্রি অয়েলে রয়েছে অ্যান্টি ব্যাক্টেরিয়াল এবং অ্যান্টি সেফটিক প্রোপার্টি যা, ব্যাক্টেরিয়া দূর করে এবং ব্রণ দূর করতে সাহায্য করে।

যেভাবে ব্যবহার করবেন

– গোসলের সময় আপনার গোসলের পানিতে ২-৩ ফোটা টি ট্রি অয়েল মিশিয়ে নিন। এটি দিয়ে গোসল সেরে নিন। তবে, এই পানি আপনার চুলে/ মাথার ত্বকে ব্যবহার করবেন না যেন।

ধাপ ৩ 

উপকরণ

অ্যালোভেরা জেল :  অ্যালোভেরা জেল এ রয়েছে অ্যাস্ট্রিঞ্জেন্টস এবং অ্যান্টি ফাংগাল প্রোপার্টি যা, ফাংগাল ইনফেকশন দূর করে। ব্রণের স্পট দূর করে,  স্কিনকে স্মুদ এবং ঠান্ডা রাখে।

যেভাবে ব্যবহার করবেন

– গোসলের পর আপনার পিঠের স্কিনকে মুছে নিন। অ্যালোভেরা জেল নিয়ে এটি এফেক্টিভ এরিয়াগুলোতে লাগিয়ে নিন। এটি ধুয়ে ফেলার কোনো প্রয়োজন নেই।
– এই ৩ টি ধাপ প্রথম এক সপ্তাহ প্রতিদিন ফলো করুন। এরপর সপ্তাহে ২ দিন করবেন।
পিঠের ব্রণ হওয়ার মূল কারণ হলো স্ট্রেস। তাই যতটা পারবেন নিজেকে স্ট্রেস মুক্ত রাখার চেষ্টা করবেন। এই তো জেনে নিলেন, কীভাবে মাত্র ৩ টি ধাপের মাধ্যমে পিঠের ব্রণ থেকে মুক্তি পাবেন। আশা করছি, এ থেকে আপনাদের উপকার হবে।

শনিবার, ৮ জুলাই, ২০১৭

স্বল্প ব্যায়ে প্রাকৃতিক উপায়ে করে নিন কার্যকরী রূপচর্চা

১. আটা

ক. রান্না ঘরের আটা আপনার ত্বক পরিচর্যায় অনেক সহায়ক হতে পারে। যেধরনেরই ত্বক হোক না কেন, আটা সব ত্বকের জন্যেই ভালো কাজ করে। ১ টেবিলচামচ পরিষ্কার আটা নিয়ে তার সাথে গরুর কাঁচা দুধ, একটু কাঁচা হলুদ বাটা মিশিয়েমুখে মেখে ১০/১৫ মিনিট রেখে মুখ ধুয়ে ফেলবেন।
খ. আটা পানিতে ফুটিয়ে পেস্টের মতো করে মুখমন্ডলে লাগালে মুখের ছিটছিট তিলে দাগ অনেক হালকা হয়ে যায়।
গ. বেসনের মতো আটা হাতে নিয়ে পানি দিয়ে পেস্ট করে মুখে লাগিয়েসাবানের মতো মুখ পরিষ্কার করা যায়।
ঘ.দুধের সরের সাথে আটা ও কাঁচা হলুদ মিশিয়ে মুখে মেখে ১৫ মিনিট রেখেধুয়ে ফেলবেন।

২. হলুদ

হলুদের গুণের কথা বর্ণনা করে শেষ করা যাবে না। রূপচর্চায় হলুদের ভূমিকাঅনেক। অতীতে নানী-দাদীরাও হলুদ ব্যবহার করতেন। নানান রোগের জন্যে কাঁচাহলুদের রসও খেতেন। ঘরোয়া চিকিৎসাতেও হলুদের অবদান অনেক।
অনেক ফেসপ্যাক কাঁচা হলুদ দিয়ে তৈরি করা হয়। অনেকের গায়ের রং ফ্যাকাসেসাদা। তারা যদি একটু কাঁচা হলুদ বেটে তার সাথে অলিভ অয়েল মিশিয়ে গায়ে, হাতে এবং পায়ে মেখে প্রতিদিন গোসল করেন, তাহলে দেখবেন ফ্যাকাসে ভাবনেই। সুন্দর সোনা বর্ণের আভা চলে আসছে দেহে। কাঁচা হলুদের সাথে দুধের সরওমিশিয়ে নিতে পারেন।
হলুদ লোমনাশক, নিয়মিত মাখলে শরীরের লোম বাড়ে না। এতে ওয়াক্সিং-এর কাজহয় ভালো। আগেকার দিনে মা-দাদীরা কাঁচা হলুদ বাটার সাথে নিম পাতা বেটে বড়িবানিয়ে রোদে শুকিয়ে রাখতেন। তারপর প্রতিদিন বাসি পেটে খেতেন। এতে পেটেরদোষ হতো না, লিভার ভালো থাকতো। এতে মুখে লিভার স্পট পড়ে না। অনেকমেয়েলি অসুখেও ফল পাওয়া যায়। কাঁচা হলুদ আখের গুড়ের সাথে খালি পেটেখেলে রক্ত পরিশোধিত হয় বলে স্বাস্থ্য রক্ষা ও রূপচর্চায় হলুদের দান অতুলনীয়।

৩. ডাব

ক.ডাবের পানিতে ১৯টি খনিজ উপাদান রয়েছে। প্রতিদিন অন্ততপক্ষে দুটোডাব খেলে ত্বকের কমনীয়তা বাড়ে।
খ.বসন্ত হলে কচি ডাবের পানি দিয়ে মুখ ধুলে দাগ চলে যায়।
গ. মুখে ব্রণের দাগ হলে ডাবের পানি দিয়ে ধুলে দাগ চলে যায়।
ঘ.একটু তুলো ডাবের পানিতে ভিজিয়ে মুখে লাগিয়ে শুকোতে দিন। তারপরহাত দিয়ে আস্তে আস্তে মুখ ঘষে দেবেন। এতে মুখে সুন্দর উজ্জ্বল একটা ভাব চলেআসবে। মুখের ত্বক কোমল ও মসৃণ হবে।
নানী-দাদীরা সেকালে নারকেল দিয়ে চুল ধুতেন। এতে চুলের উজ্জ্বলতা যেমনবাড়তো তেমনি চুলও পড়তো না। অনেক সময় ঝুনো নারকেল নষ্ট হয়ে যায়। এইনষ্ট নারকেল না ফেলে শিলে পিষে মাথায় ঘষে দিয়ে ঘণ্টা খানেক পরে মাথা ধুলে চুলশুকোনোর পর দেখবেন চুল তেল দেয়ার মতো হয়েছে। চুলের পরিচর্যায় নারকেলবেশ উপকারী।
ঙ.একটা নারকেলের অর্ধেক নিয়ে কুড়িয়ে আধা কাপ অথবা এক কাপ গরমপানির সাথে ভালো করে চটকে দুধ বের করে নিয়ে পরিষ্কার দুধের সাথে একটাকাগজী লেবুর রস মিশিয়ে মাথায় বিলি কেটে চামড়ায় ভালো ভাবে ম্যাসাজ করে২০-৩০ মিনিট রেখে হালকা গরম পানিতে চুল ধুয়ে নিন। এ পদ্ধতি সপ্তাহে একদিনকরলে চুল ওঠা বন্ধ হবে। তারপরেও চুল উঠলে ভিটামিন ও আয়রন খেতে হবে।ক্যালসিয়ামের অভাবেও চুল ওঠে। সেজন্যে ডাক্তারের পরামর্শে ক্যালসিয়াম খেতেপারেন।

৪. গোলাপ জল

গোলাপ জল চেনে না এমন লোক বোধ হয় খুঁজে পাওয়া যাবে না। বিয়ে বাড়ি বলুন, মিলাদ মাহফিল বলুন, রূপচর্চা বলুন- গোলাপ জলের চাহিদা আছেই। রান্না-বান্নায়গোলাপ জল তো চাই-ই চাই। গোলাপ ফুলের নির্যাস থেকেই এ পানি বানানো হয়।পানি সুগন্ধি করতে গোলাপ জলের দরকার হয়। গ্লিসারিনের সাথে সমপরিমাণগোলাপ জল মিশিয়ে ঠোঁটে মাখলে ঠোঁট ফাটে না এবং ঠোঁটের রং-ও সুন্দর হয়।গোলাপ জল দিয়ে স্কিন-ফ্রেশনার টনিক আপনি নিজেই বানাতে পারেন। আধা কাপগোলাপ জল, একটা লেবুর রস, ক-ফোঁটা মধু একত্রে মিশিয়ে নিলে স্কিন-ফ্রেশনারটনিক হয়ে গেল।
এ টনিক দিনে দুবার তুলোয় করে মুখে লাগাতে পারেন। যাদেরমুখের চামড়া খসখসে তারা রাতে মুখ ভালো ভাবে ধুয়ে সমপরিমাণ গোলাপ জলেরসাথে গ্লিসারিন মুখে, হাতে এবং পায়ে মেখে নিতে পারেন। ভোরে কুসুম গরম পানিদিয়ে মুখ ধুয়ে ফেলবেন। এতে মুখের খসখসে ভাব থাকবে না এবং ত্বক কোমলহবে।

৫. মধু

মধুর গুণের কথা বর্ণনা করে শেষ করা যাবে না। মধু এবং দুধকে বলা হয়বেহেশতের নিয়ামত। মধু ত্বকের জন্যে খুবই উপকারী। বহু ফেসপ্যাক মধু দিয়েতৈরি হয়। কয়েক ফোঁটা মধু ও কাঁচা দুধ একত্রে মুখে মাখলে মুখের রং উজ্জ্বল, কোমল ও মসৃণ হয়।
মধু ও বেসন একত্রে মিশিয়ে ফেসপ্যাক বানিয়ে মুখে মেখে ১৫/২০ মিনিট রেখেহালকা গরম পানি ও পরে ঠান্ডা পানি দিয়ে ধুলে মুখের ত্বক খুব সুন্দর ও মসৃণ হয়।
কয়েক ফোঁটা মধু + কয়েক ফোঁটা লেবুর রস + ১ চা চামচ গাজরের রস + ১ চাচামচ ছোলার ডালের বেসন একত্রে পেস্টের মতো করে মুখে মেখে ২০/৩০ মিনিটরেখে স্বাভাবিক পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। দেখবেন মুখ মসৃণ ও কোমল হয়ে উঠবে।এ প্যাকটি শুষ্ক ও স্বাভাবিক ত্বকের জন্যে উপকারী।
মধু খেলেও নানা রোগের হাত থেকে রেহাই পাওয়া যায়। মধু কফনাশক। প্রতিদিন১ চামচ মধু খেলে ঠান্ডা লাগতে পারে না। আয়ুর্বেদী বহু চিকিৎসায় মধু ব্যবহৃত হয়।বাসক পাতার রসের সাথে কয়েক ফোঁটা মধু নিয়মিত খেলে ঘুম ভালো হয়।

৬. খাবার সোডা

খাবার সোডা রুটি, বিস্কুট, চটপটি ইত্যাদি বহুবিধ রান্নায় ব্যবহার হয়ে থাকে। কিন্তুরূপচর্চা বা কোনো কিছু পরিষ্কার করার কাজেও যে সেটি ব্যবহার হয় তা হয়তোঅনেকেই জানেন না। রূপোর গয়না একটু খাবার সোডা দিয়ে ব্রাশ করে ধুলেদেখবেন ঝকঝকে হয়ে উঠছে। অনেকের মুখের দাঁত দেখতে হলদেটে ভাব। তারাযদি একটু খাবার সোডা দাঁত মাজার ব্রাশের ওপর নিয়ে মেজে নেন, তাহলে দেখবেনদাঁতগুলো মুক্তোর মতো ঝকঝকে হয়ে উঠেছে। তবে, এ পদ্ধতিটি আপনি রোজকরতে যাবেন না। এতে মাঢ়ির ক্ষতি হবে।

৭. আলু

শুধু রান্না-বান্না, খাবার-দাবারে যে আলুর ব্যবহার হয় তা নয়। রূপচর্চায় আলুরঅবদান একেবারে কম নয়। অনেকে গায়ের রং ফর্সা করার জন্যে নানান জিনিসব্যবহার করে থাকেন। তারা হয়তো অনেকেই জানেন না আলু ব্যবহার করেওশরীরের রং উজ্জ্বল করা যায়। গোল আলু খোসাসহ গোল গোল করে কেটে নিয়েকিছুক্ষণ ঠান্ডা পানিতে ভিজিয়ে রেখে তারপর পানি থেকে তুলে হাতে পায়ে মুখেগলায় ঘষে ঘষে মেখে নিয়ে কিছুক্ষণ পর ধুয়ে ফেলুন। এভাবে নিয়মিত করলেদেখবেন গায়ের রং উজ্জ্বল হয়ে উঠেছে।

৮. ডিম

সৌন্দর্য চর্চায় ডিম এক অতুলনীয় ভূমিকা পালন করে। ডিম দিয়ে মাথা ধোয়া,ডিমের তৈরি প্যাক বিভিন্নভাবে ত্বকের জন্যে ব্যবহার হয়ে থাকে। ডিমের প্যাকেমুখের লাবণ্য ফিরে আসে। ডিমের কুসুমের প্যাক শুকনো ত্বকের পক্ষে খুবই ভালো।শুকনো ত্বকের জন্যে ডিমের কয়েকটি প্যাক :
ক.ডিমের হলুদ অংশ + আধা চা চামচ অলিভ অয়েল + কয়েক ফোঁটা লেবুররস। এ প্যাকটি মুখ ধুয়ে, পরিষ্কার মুখে লাগিয়ে ১৫ থেকে ২০ মিনিট পরে প্রথমেহালকা কুসুম গরম পানিতে মুখ ধুয়ে ও পরে ঠান্ডা পানি দিয়ে ধুয়ে নিলে ত্বকেরজন্যে খুবই ভালো ফল হবে।
খ.ডিমের কুসুম ও তার সাথে অ্যালমন্ড অয়েল অথবা অলিভ অয়েল আধাচা চামচ মিশিয়ে মুখে মেখে ১৫ মিনিট রেখে প্রথমে হালকা কুসুম গরম পানি, পরেঠান্ডা পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলবেন। সাধারণত সপ্তাহে ২/৩ দিনের বেশি লাগানোরদরকার নেই। এতে আপনার ত্বক সতেজ হয়ে উঠবে।

৯. ময়দা

প্রত্যেক বাড়িতেই রান্না ঘরে ময়দা পাওয়া যায়। আর এ ময়দা রূপ চর্চার কাজেব্যবহার করে আপনি হতে পারেন রূপবতী নারী। সাবানের পরিবর্তে ময়দা পানিতেগুলিয়ে হাতে, পায়ে ও মুখে মেখে গোসল করতে পারেন। আবার ময়দা + কাঁচা হলুদবাটা + দুধের সর মিশিয়ে হাতে, পায়ে, মুখে আস্তে আস্তে মেখে প্রথমে হালকা কুসুমগরম পানিতে, পরে ঠান্ডা পানিতে ধুয়ে নিলে দেখবেন গায়ের রং কিছু দিনের মধ্যেউজ্জ্বল হয়ে উঠছে।

১০. পেঁয়াজ

রূপচর্চায় পেঁয়াজের বিরাট ভূমিকা রয়েছে। বহু রোগ সারাতেও পেঁয়াজের জুড়িনেই। কাঁচা পেঁয়াজে ভিটামিন-বি ও ভিটামিন-সি রয়েছে। কাঁচা পেঁয়াজের রস ওআদার রস সমপরিমাণে নিয়ে সামান্য গরম করে ১ বা ২ চা চামচ খেলে নতুন সর্দিরউপশম হয়। যদি কারো নাক থেকে অনবরত পাতলা পানির মতো শ্লেষ্মা পড়েতাহলে কাঁচা পেঁয়াজ ও আদা সামান্য তেলে ভেজে নিয়ে খেলে শ্লেষ্মা ঘন হয়।মাথার খুশকিতে কাঁচা পেঁয়াজের রস ওষধি হিসেবে কাজ করে। তাছাড়া কাঁচাপেঁয়াজের সাথে সামান্য কয়েকটি সর্ষে বেটে মাথায় বিলি কেটে দিলে নতুন চুলগজায়।

১১. শসা

শসার গুণের কথা বর্ণনা করে শেষ করা যাবে না। শসা যেমন রান্না-বান্নায়, খাওয়া-দাওয়ায় ব্যবহৃত হয় তেমনি ব্যবহৃত হয় রূপচর্চায়।
ক.মুখে কোনো কালো দাগ পড়লে কচি শসার রস মুখে লাগিয়ে ১৫ মিনিটরেখে ঠান্ডা পানিতে ধুয়ে নেবেন। এভাবে কিছুদিন নিয়মিত লাগালে দাগ উঠে যায়।
খ.শসার রসের সাথে কয়েক ফোঁটা লেবুর রস মুখে মেখে শুকিয়ে গেলে ঠান্ডাপানিতে ধুয়ে নিলে মুখের রং উজ্জ্বল ও কোমল হয়। তবে নিয়মিত কিছুদিন করতেহবে।
গঅনেক সময় দেখা যায় চোখের নিচে অনেকেরই কালো দাগ পড়ে। শসাররস নিয়মিত মাখলে এ দাগ দূর হবে।
ঘ.মনে রাখবেন যদি কেউ ফর্সা হতে চান তবে নিয়মিত শসার রসের সাথেকয়েক ফোঁটা লেবুর রস মিশিয়ে মুখে, হাতে ও গায়ে নিয়মিত মাখলে গায়ের রংফর্সা হয় অথবা শসা পাতলা পাতলা করে কেটে মুখে ঘসে নিতে পারেন। পরেশুকোলে ঠান্ডা পানিতে ধুয়ে নেবেন। তৈলাক্ত ত্বকের জন্যে শসা খুবই উপকারী।তবে কাঁচা ব্রণের ওপর লেবুর রস লাগালে দাগ হয়। তার জন্যে শুধু শসার রসইভালো।
ঙ.মুখকে রোদ থেকে বাঁচাতে, মুখের দাগ তুলতে ও ময়লা থেকে যদি রেহাইপেতে চান তবে শসার সাহায্যে একটি ফেসপ্যাক বানিয়ে ২৫/৩০ মিনিট রেখেপ্রথমে গরম পানি, পরে ঠান্ডা পানি দিয়ে ধুয়ে নিয়ে আপনি নিশ্চিন্তে বাইরে বেড়িয়েআসতে পারেন। এতে ত্বক সারাদিনের জন্যে যেমন চকচকে, মসৃণ ও কোমলথাকবে তেমনি বাইরের নানান জীবাণু থেকে ত্বক রেহাই পাবে।
এবার জেনে নিন কীভাবে প্যাকটি তৈরি করবেন। একটি কচি শসা পাতলা করেকেটে থেঁতো করে তার সাথে একটি ডিমের কাঁচা কুসুম, এক টেবিল চামচ গুঁড়ো দুধমিশিয়ে মিক্সার মেশিন অথবা ব্লেন্ডারে মিশিয়ে নিয়ে মুখে, গলায় ও হাতে মেখেনেবেন। ব্লেন্ডার না থাকলে হাতেই ভালো করে মিশিয়ে নেবেন।

১২. গাজর

রূপচর্চায় গাজরের এক বিশেষ ভূমিকা রয়েছে। গাজরে প্রচুর ভিটামিন-এ এবংক্যারোটিন রয়েছে। প্রতিদিন একটি করে কাঁচা গাজর খেলে আপনার শরীরেভিটামিন-এ-এর অভাব হবে না। এতে চোখ, ত্বক- উভয়ের জন্যেই উপকার।আমাদের দেশে শীতকালে প্রচুর গাজর পাওয়া যায় এবং দামও খুব কম থাকে। তাইসস্তায় আপনি প্রচুর ভিটামিন গ্রহণ করতে পারেন। গাজর খেলে দাঁতও চকচকেহয়। গায়ের রং ফর্সা হয়। পায়খানা পরিষ্কার হয়। চুল পড়ে না।
চুলের উজ্জ্বলতাবাড়ে। মনে রাখবেন, ভিটামিন-এ ত্বকের সৌন্দর্যের জন্যে খুবই দরকার আর তাআপনি গাজর থেকে অল্পতেই পেতে পারেন। অর্থাৎ গাজর খেলে আপনার ত্বক চোখদাঁত ঠোঁট চুল- সব কটি অঙ্গেরই উপকার হচ্ছে। আবার গাজর দিয়ে সুন্দরফেসপ্যাকও তৈরি করে নিতে পারেন। এ প্যাক মিশ্র ত্বকের পক্ষে খুবই উপকারী।কীভাবে প্যাক তৈরি করবেন জেনে নিন :
১ টেবিল চামচ অথবা আপনার পরিমাণ মতো ছোলার ডালের বেসন + গাজরের রস+ অলিভ অয়েল কয়েক ফোঁটা নিয়ে পেস্টের মতো বানিয়ে মুখে মেখে ১৫/২০মিনিট রেখে প্রথমে হালকা গরম পানিতে, পরে ঠান্ডা পানিতে ধুয়ে ফেলবেন। গাজরদিয়ে আপনি আরও একটি ফেসপ্যাক তৈরি করে নিতে পারেন। এ প্যাক স্বাভাবিকও শুষ্ক- উভয় ত্বকের জন্যেই উপকারী।
১টি (মিহি কোড়ানো) গাজর + ২ চা চামচ গরুর দুধ + ১ চা চামচ বেসন মিশিয়েমুখে মেখে ১৫ থেকে ২০ মিনিট রেখে ধুয়ে ফেলুন। কাঁচা গাজর নিয়মিত খেলে রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়বে।

১৩. টমেটো

শীতকালে আমাদের দেশে প্রচুর টমেটো পাওয়া যায়। এ সময় দামও কম থাকে।টমেটোতে প্রচুর ভিটামিন-সি থাকে। তাই কাঁচা টমেটো খাওয়া খুবই উপকারী।টমেটোতে ভিটামিন-বিও রয়েছে। ভিটামিন-বি, ভিটামিন-সি এগুলো ত্বকের জন্যেবেশ উপকারী। টমেটো খেয়ে এবং ফেসপ্যাক তৈরি করে আপনি রূপচর্চা করতেপারেন অনায়াসে।

ফেসপ্যাক তৈরির পদ্ধতি

মাঝারি ধরনের গোটা তিনেক টমেটোর রসের সঙ্গে ২ চা চামচ গ্লিসারিন, ৩ চামচলেবুর রস, ৪ চামচ অলিভ অয়েল নিয়ে ভালো করে মিশিয়ে প্যাক তৈরি করে মুখে, গলায় ও হাতে ভালো করে মেখে নিয়ে ১৫/২০ মিনিট রেখে ঠান্ডা পানিতে ধুয়েফেলুন। দেখবেন মুখটি কেমন সুন্দর মনে হচ্ছে।

১৪. বাঁধাকপি

বাঁধাকপিতে রয়েছে ভিটামিন-বি, ভিটামিন-এ ও ভিটামিন-সি। এছাড়া বাঁধাকপিতেভিটামিন-কে-ও রয়েছে। ভিটামিন-কে রক্ত জমাট বাঁধতে বিশেষভাবে সাহায্য করে।দেহের হাড় গঠন ও পুষ্টিতে ভিটামিন-কে বিশেষ প্রয়োজন। বাঁধাকপিতে সালফাররয়েছে প্রচুর। সালফার আমাদের চুল ও দেহের স্বাভাবিক স্বাস্থ্য ও সৌন্দর্য রক্ষাকরে।
বাঁধাকপির সাহায্যে আমরা মুখের ত্বককে অনায়াসে কোমল করে তুলতে পারি।প্রথমে বাঁধাকপির পরিষ্কার দু-তিনটি পাতা নিয়ে রস বের করুন। এবার এর সঙ্গে ১চামচের চার ভাগের ১ ভাগ ইস্ট মেশান এবং এর সাথে ১ চামচ মধু মিশিয়ে ঘনপেস্টের মতো তৈরি করে নিয়ে সমস্ত মুখে মেখে ১৫ মিনিট রেখে প্রথমে হালকাগরম পানি, পরে ঠান্ডা পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। এছাড়া বাঁধাকপির সাহায্যে সুন্দরস্কিন-ফ্রেশনার টনিক বানাতে পারেন নিজ হাতেই।
প্রথমে বাঁধাকপির কয়েকটিটাটকা পাতা পরিষ্কার করে ধুয়ে নিয়ে কুচিয়ে ১ কাপ পানিতে কুচানো কপি ফুটিয়েভালো করে সেদ্ধ করে সেই পানি ভালো ভাবে ছাঁকনিতে ছেঁকে নিন। তৈরি হয়ে গেলআপনার স্কিন-ফ্রেশনার। মুখ ভালো ভাবে বেসন অথবা সাবান দিয়ে পরিষ্কার করেধুয়ে একটু তুলো ঐ পানিতে ভিজিয়ে সারা মুখে, হাতে ও পায়ে লাগিয়ে নিন এবংশুকোতে দিন। মুখ মুছে ফেলবেন না। এতে এর গুণ নষ্ট হয়ে যাবে। পানি গরমঅবস্থায় দেবেন না। ঠান্ডা করে দেবেন। যেদিন বানাবেন সে দিন ব্যবহার করবেন।বাসি করবেন না।

১৫. লেটুস পাতা

বাঁধাকপির মতো লেটুস পাতায়ও রয়েছে ভিটামিন-সি। এছাড়াও আছে ম্যাঙ্গানিজ।লেটুস হজমকারক। তাই লেটুস পাতা খাওয়া খুবই ভালো। আমরা সালাদে লেটুসব্যবহার করে থাকি। লেটুস দিয়ে আবার স্কিন-ফ্রেশনার টনিকও তৈরি করা যায়।শীতকালে ঘরে বসেই আপনি স্কিন-ফ্রেশনার টনিক বানাতে পারেন। বাঁধাকপিরমতোই লেটুস কুচিয়ে পানিতে ফুটিয়ে ভালো ভাবে সেদ্ধ করে ছেঁকে নিয়ে ঠান্ডা হলেতুলোয় করে মুখে, হাতে ও পায়ে মেখে নিতে পারেন।

১৬. মটর দানা

মটরেও রয়েছে নানান ভিটামিন। মটর খেতে আমরা সবাই ভালবাসি। মটর দিয়েওসুন্দর ফেসপ্যাক তৈরি করা যায়। তৈলাক্ত ত্বকের জন্যে মটরের সাহায্যে আপনিসুন্দর ফেসপ্যাক বানাতে পারেন। মটর প্রসেস করে রেখে বহু দিন ব্যবহার করতেপারবেন।

প্রস্ত্তত প্রণালী

এক কাপ মটর নিয়ে গরুর দুধে সারা রাত ভিজিয়ে রাখুন। পরেরদিন দুধ থেকে তুলে নিয়ে শুকিয়ে নেবেন এবং এই শুকনো মটর গ্রাইন্ডারে গুঁড়োকরে অথবা শিলপাটায় গুঁড়ো করে রেখে দিতে পারেন। যখন প্রয়োজন হবে কিছুটানিয়ে পানি মিশিয়ে পেস্টের মতো করে মুখে লাগাতে পারবেন। ১৫ মিনিটের মতোমুখে রেখে ধুয়ে ফেলবেন। এ প্যাকটি ব্রণের জন্যে খুবই উপকারী।

১৭. পুদিনা পাতা

পুদিনা পাতার চাটনি অত্যন্ত মজাদার। আর এই পুদিনা পাতা রূপ চর্চারও অনবদ্যউপকরণ। তৈলাক্ত মুখে সারা সময়ই একটা-দুটো ব্রণ লেগে থাকে। আর তা সারাতেপুদিনা পাতার জুড়ি নেই। শীতের সময় এর ফলন হয় বেশি এবং সারা বছরওবাজারে কম-বেশি পাওয়া যায়।

এবার জেনে নিন রূপচর্চায় এর ব্যবহার-

প্রথমে পুদিনা গাছ থেকে শুধু পাতা নিন। ভালো ভাবে ধুয়ে মিহি করে বেটে পেস্টেরমতো বানিয়ে রাতে মুখে ভালো ভাবে লাগিয়ে রেখে দিন। পরের দিন ভোরে মুখ ধুয়েফেলুন। এভাবে মাস খানেক লাগানোর পর দেখবেন আপনার মুখে আর আগের ব্রণনেই। দাগও নেই।
মনে রাখবেন, যেকোনো রূপচর্চাই ধৈর্য ধরে বহুদিন না করলে আপনি তার সঠিকফল ভোগ করতে পারবেন না।
ঘরের জিনিস দিয়েই অনেক কম খরচে সৌন্দর্য চর্চা করে আপনি হয়ে উঠতে পারেনসুকোমল ত্বকের অধিকারিণী। বিউটি পার্লারে গিয়ে পয়সা ও সময় নষ্ট করেআপনাকে এসব করতে হবে না। অনায়াসে নিজেই এগুলো তৈরি করে নিতে পারেন।আর প্রাকৃতিক উপাদানে তৈরি বলে এর কোনো পার্শব প্রতিক্রিয়া নেই। শুধু দেখেনিন কোনটি আপনার জন্যে বেশি প্রযোজ্য।

স্থায়ী ভাবে ত্বকের উজ্জ্বলতা ফিরে পাবার কিছু কৌশল

টম্যাটো –

একটি টম্যাটো স্লাইস করে কেটে ত্বকে ম্যাসেজ করুন। পুরো মুখে ভালো করে ম্যাসেজ করার পর ১৫ মিনিট অপেক্ষা করুন তারপর ঠাণ্ডা পানি দিয়ে মুখ ধুয়ে ফেলুন। টম্যাটোতে আছে প্রাকৃতিক ব্লিচিং উপাদান। যা ত্বকের উজ্জ্বলতা বৃদ্ধি করে।

কলা ও অলিভ অয়েল ফেসপ্যাক –

একটি পাকা কলা নিয়ে পেস্ট করে নিন। কলার পেস্ট এর সাথে ১/২ চামচ অলিভ অয়েল মিশিয়ে নিন। এখন মুখে লাগিয়ে ২০ মিনিট অপেক্ষা করুন তরপর ধুয়ে ফেলুন।

সবুজ আপেল –

ত্বকের হারিয়ে যাওয়া উজ্জ্বলতা ফিরিয়ে আনতে সবুজ আপেল অনেক উপকারী। সবুজ আপেল কেটে গ্রেট করে নিইয়ে মুখে লাগান। শুকিয়ে গেলে ধুয়ে ফেলুন। সবুজ আপেল শুধু ত্বক উজ্জ্বল করেন না সাথে সাথে মুখের ত্বকে রক্ত সঞ্চালনও বৃদ্ধি করে।

ময়দা, দুধ ও লেবুর রস –

২ চামচ ময়দা নিন সাথে ১ চামচ লেবুর রস ও ১ চাবচ দুধ দিয়ে পেস্ট তৈরি করে মুখে লাগিয়ে নিন এবং না শুকানো পর্যন্ত অপেক্ষা করুন। ১৫/২০ পর কুসুম গরম পানি দিয়ে মুখ ধুয়ে ফেলুন। এই টিপসটি সব ধরণের ত্বকের জন্য উপযোগী।

শুক্রবার, ৭ জুলাই, ২০১৭

ত্বকের যত্নে কমলার তৈরী ফেসপ্যাক

খুব সহজেই বিভিন্ন প্রাকৃতিক উপাদানের সঙ্গে মিশিয়ে তৈরি করে ফেলতে পারেন কমলার ফেসপ্যাক। জেনে নিন কীভাবে তৈরি করবেন-

কমলা, মধু ও হলুদ

ত্বকের ক্লান্তি দূর করতে পারে এই ফেসপ্যাক। ১ টেবিল চামচ কমলার রসের সঙ্গে ১ চা চামচ মধু ও ১ চিমটি হলুদ মেশান। ভালো করে পেস্ট তৈরি করে ত্বকে লাগান। আধা ঘণ্টা পর ধুয়ে মুছে নিন ত্বক।

কমলার খোসা গুঁড়া ও দই

এই ফেসপ্যাক ত্বকের রুক্ষতা দূর করে নরম ও কোমল করে ত্বক। প্রথমেই কমলার খোসা রোদে শুকিয়ে গুঁড়া করে নিন। ১ চা চামচ কমলার খোসা গুঁড়ার সঙ্গে ১ টেবিল চামচ ঠাণ্ডা দই মেশান। ভালো করে নেড়ে পেস্ট তৈরি করুন। পাতলা করে ত্বকে লাগান ফেসপ্যাকটি। আধা ঘণ্টা পর ধুয়ে ফেলুন।

কমলার খোসা গুঁড়া ও দুধ

ত্বকের ভেতর থেকে ময়লা দূর করার পাশাপাশি ব্রণ দূর করতেও সাহায্য করবে এই ফেসপ্যাক। ১ টেবিল চামচ কমলার খোসা গুঁড়ার সঙ্গে দুধ মিশিয়ে পেস্ট তৈরি করুন। মিশ্রণটি পরিষ্কার ত্বকে লাগিয়ে রাখুন না শুকানো পর্যন্ত। শুকিয়ে গেলে সামান্য পানি ছিটিয়ে স্ক্রাব করে ঠাণ্ডা পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন ত্বক।

কমলার খোসা গুঁড়া, গোলাপজল ও চন্দন

রোদে পোড়া দাগ দূর করতে খুবই কার্যকর এই ফেসপ্যাক। ১ চা চামচ কমলার খোসা গুঁড়ার সঙ্গে সমপরিমাণ চন্দন গুঁড়া মেশান। গোলাপজল মিশিয়ে পেস্ট তৈরি করুন। নরম ব্রাশের সাহায্যে পাতলা করে মুখ ও গলার ত্বকে লাগান মিশ্রণটি। ২০ মিনিট পর ত্বক ধুয়ে মুছে নিন।

কমলার রস, আখরোট ও ওট

মরা চামড়া দূর করে ত্বক উজ্জ্বল ও সুন্দর করতে ব্যবহার করতে পারেন এই ফেসপ্যাক। ১ চা চামচ আধা-ভাঙা আখরোট ও ১ চা চামচ ওট গুঁড়ার সঙ্গে পরিমাণ মতো কমলার রস মিশিয়ে তৈরি করুন পেস্ট। ত্বকে ২০ মিনিট লাগিয়ে রাখুন মিশ্রণটি। ২ মিনিট স্ক্রাব করে ত্বক ধুয়ে মুছে ময়েশ্চারাইজার লাগিয়ে নিন।

বৃহস্পতিবার, ৬ জুলাই, ২০১৭

বর্ষাকালে পায়ের যত্ন

১) পা পরিষ্কার রাখুন: সারাদিন বৃষ্টির সাথে দৌড়ঝাঁপ করে বাড়ি ফিরেছেন তো? এবার একটি পাত্রে হালকা গরম পানি নিয়ে তাতে অল্প পরিমাণে স্যাভলন বা ডেটল। ৫-৭ মিনিট পা ডুবিয়ে রেখে তুলে ফেলুন। হালকা হাতে লুফা দিয়ে পরিষ্কার করে নিন। তারপর কোন অ্যানটিব্যাকটেরিয়াল সাবান দিয়ে পা ধুয়ে ভালোভাবে মুছে ফেলুন। বর্ষায় পায়ের নখ যত ছোট রাখা যায় ততই ভালো, নয়তো নখের নিচের জমে থাকা ময়লা প্রচুর ভোগান্তি কারন হয়ে দাঁড়াতে পারে।

২) এক্সফলিয়েট: এসময় প্রতিদিন গোসলের সময় লুফা দিয়ে  পা  ঘষে পরিষ্কার করা উচিত। যদি হাতে সময় থাকে তবে ১০ মিনিটের জন্য শাওয়ার জেল অথবা স্যাম্পু গোলা পানিতে পা ভিজিয়ে রেখে, ভালোভাবে পরিষ্কার করে নেবেন।

৩) বাড়িতেই করুন পেডিকিউর: প্রথমেই নিমপাতা দিয়ে পানি ফুটিয়ে নিন। তারপরে এতে পাতিলেবুর রস, অল্প লবন ও শ্যাম্পু মিশিয়ে পা ডুবিয়ে রাখুন ১৫ মিনিট। এরপরে পিউমিস স্টোনের সাহায্যে গোড়ালি এবং পায়ের তলা ভালোভাবে পরিষ্কার করুন। পা শুকনো করে মুছে ভালো কোন ক্রিম পুরো পায়ে লাগিয়ে নিন।

৪) পায়ের কালো ছোপ দূর করতে: এসময় অনেকের পায়েই কালো কালো ছোপ পড়তে দেখা যায়। এই সমস্যা থেকে বাঁচতে, মসুর ডাল বাটা, ২ টো  অ্যালমণ্ড বাটা, দুধ এবং ১ চা চামচ গ্লিসারিন দিয়ে মিশ্রণ বানিয়ে নিন। পায়ে লাগিয়ে রাখুন, শুকিয়ে গেলে দুধ দিয়ে ভালো করে ঘষে তুলে ফেলুন। তারপর হালকা গরম জলে পা ধুয়ে ভালো ভাবে ধুয়ে পরিষ্কার কাপড় দিয়ে মুছে নিন।

৫) ফুট মাস্ক: মুখে যদি মাস্ক লাগাতে পারেন, তবে পায়ে কেন নয়? ২ টেবিল চামচ মুলতানি মাটির সাথে, হলুদ বাটা, নিম পাতা বাটা মিশিয়ে পায়ে লাগিয়ে রাখুন ২০ মিনিট । তারপরে হালকা গরম পানিতে ঘষে ঘষে পা ধুয়ে নিন। পা ভালো করে মুছে লাগিয়ে নিন হালকা একটু অলিভ অয়েল। এরপরে ঘুমিয়ে পড়ুন। সকালে উঠে দেখবেন নরম মসৃণ পা।

৬) ক্লান্ত পা: পায়ের ক্লান্তি দূর করতে ঠাণ্ডা পানিতে লেবুর রস মিশিয়ে পা ডুবিয়ে রাখুন। ক্লান্তিও দূর হবে। সান ট্যান ও কমাবে আশা করি।

৭) গোড়ালির শক্ত চামড়া তুলতে: ক্যাস্টর অয়েল, অলিভ অয়েল এবং নারকেল তেল সমপরিমাণে মিশিয়ে নিয়ে এর সাথে মেশান ২ চা চামচ চিনি ও লেবুর রস। পায়ের শক্ত চামড়ায় ঘষতে থাকুন যতক্ষন না তেল ত্বকে শুষে নিচ্ছে।
৮) পায়ে গন্ধ হলে, নিয়মিত পেডিকিউর রুটিন মেনে চলুন। পা পরিস্কার করে মুছে নিয়ে ময়েশ্চারাইজার লাগান হালকা করে। এরপরে একটু খানি ট্যালকম পাওডার লাগিয়ে নিন। সব সময় বন্ধ জুতো না পরে খোলা জুতো বা স্যান্ডেল পড়ুন। অফিসে যদি জুতো পরতেই হয় তাহলে সুতি মোজা পড়ুন। আর মাঝে মাঝে জুতো খুলে রাখুন, বাতাস চলাচলের জন্য।
হয়ে গেলো তো বর্ষায় পায়ের যত্নের সমাধান। তাহলে এবার বর্ষা উপভোগ করুন অন্যসব ঋতুর মতন।

সানট্যান দূর করার ঘরোয়া পদ্ধতি

টকদই ও টমেটো
টকদই এবং টমেটো দুটোতেই প্রাকৃতিক ব্লিচিং উপাদান আছে। এজন্য সানট্যান দূর করতে এদের জুড়ি নেই। এক টেবিল চামচ টকদই আর এক টেবিল চামচ টমেটো বাটা একসাথে মিশিয়ে মুখে ও গলায় লাগিয়ে রাখুন ২০ মিনিট। এরপর ভালো করে ধুয়ে ফেলুন। একটানা সাতদিন করলেই দেখবেন ট্যান তো দূর হয়েছেই, সেই সাথে ত্বকের রংও কিছুটা হালকা হয়ে গেছে।

বেসন, লেবুর রস ও টকদই
বেসন প্রাকৃতিকভাবে ত্বক পরিষ্কার করে। আর লেবুর রস এবং টকদই ব্লিচিং এর মাধ্যমে ত্বকের রঙ হালকা করে। ফলে এই প্যাকটি নিয়মিত ব্যবহারে সানট্যান দূর হওয়ার সাথে সাথে ত্বকে লেগে থাকা ধুলো-ময়লা সাফ হয়ে যাবে। এর জন্য এক চা চামচ বেসন, এক চা চামচ টকদই ও এক চা চামচ লেবুর রস ভালো করে মিশিয়ে ট্যানড ত্বকের উপর লাগিয়ে রাখতে হবে ২০ থেকে ২৫ মিনিট। তারপর ভালো করে ধুয়ে ফেললেই হবে । ভালো ফল পেতে সপ্তাহে অন্তত তিনদিন ব্যবহার করতে হবে ।

মসুর ডাল বাটা , টকদই ও হলুদ
এই তিনটি উপাদানই ত্বকের রঙ হালকা করে। ফলে এদের নিয়মিত ব্যবহারে অনেক কড়া ট্যানও আস্তে আস্তে দূর হয়ে যায়। এক টেবিল চামচ মসুর ডাল বাটা নিন। এর সাথে মিশান এক চামচ টকদই ও এক চিমটি হলুদ গুঁড়ো । এবার এই প্যাকটি মুখে লাগিয়ে রাখুন আধা ঘন্টা। এরপর ভালো করে মুখ ধুয়ে ফেলুন। তবে একটা বিষয় খেয়াল রাখবেন। হলুদ গুঁড়োটা যেন খাটি হয়। বাজারের যেনতেন নকল হলুদ গুঁড়ো ব্যবহারে উল্টো ফল হতে পারে।

চন্দন , বেসন ও লেবুর রস
এক চা চামচ চন্দনের গুঁড়ো , এক চা চামচ বেসন আর এক চা চামচ লেবুর রস ভালো করে মশিয়ে মুখে ও গলায় লাগিয়ে রাখুন ২০ থেকে ২৫ মিনিট। এরপর ঠান্ডা পানি দিয়ে মুখ ধুয়ে ফেলুন। নিয়মিত ব্যবহারে ট্যান আস্তে আস্তে কমে যাবে।

অ্যালোভেলা জেল ও লেবুর রস
এক চা চামচ অ্যালোভেরা জেলের সাথে হাফ চা চামচ লেবুর রস ভালো করে মিশিয়ে নিন। এবার এটি মুখে লাগিয়ে রাখুন কিছুক্ষণ। প্যাকটি হালকা শুকিয়ে আসলে হাত দিয়ে আলতোভাবে মিনিট দুই ম্যাসাজ করে মুখ ধুয়ে ফেলুন। একটা বিষয় খেয়াল রাখবেন। এই প্যাকটি দেবার এক ঘন্টার মধ্যে রোদে বের হবেন না বা চুলায় রান্না করবেন না। তাহলে ত্বক আরো পুড়ে যাবে।

আলুর রস ও লেবুর রস
সমপরিমাণ আলু ও লেবুর রস মিশিয়ে ট্যানড ত্বকে ২০ মিনিট লাগিয়ে রাখুন। এরপর ত্বক ধুয়ে ফেলুন। প্রতিদিন একবার করে এই প্যাকটি লাগিয়ে দেখুন। ট্যান কমবেই।