শুক্রবার, ২৭ মে, ২০২২

ভাঁজ পড়া ত্বক টানটান হয়ে উঠতে করণীয়


এমন সমস্যায় সবচাইতে কার্যকরী হচ্ছে ঘরোয়া সমাধান। কারণ এক্ষেত্রে চাই নিয়মিত যত্ন করা। ভাঁজ পড়া ত্বক আবার টানটান করে তোলার জন্য থাকছে খুব সহজ একটি রূপচর্চা পদ্ধতি। প্রতিদিন এই কাজটি চালিয়ে গেলে ৭ দিনেই বিস্ময়কর পরিবর্তন দেখতে পাবেন। নিয়মিত চালিয়ে গেলে ত্বকে আবারও ফিরে আসবে যৌবনের দীপ্তি।

যা লাগবে:
ডিমের সাদা অংশ একটি
খুব ভালো মানের অলিভ অয়েল
টক দই
লেবুর রস হাফ চা চামচ
যা করবেন:
-ডিমের সাদা অংশ ও লেবুর রস খুব ভালো করে ফেটিয়ে ফোম করে নিন। কেক তৈরি করার সময়ে যেমন ফোম তৈরি করা হয়, তেমন।
-ত্বক ভালো করে ধুয়ে পরিষ্কার করে নিন। তারপর এই সাদা অংশের ফোম ভালো করে ত্বকে মেখে নিন। একটু শুকিয়ে গেলে ওপরে আবারও মাখুন।
-২০/২৫ মিনিট পর ত্বক ধুয়ে নিন। এবার ত্বকে মেখে নিন তাজা ও ঘন টক দই।
-আবারও ২০/২৫ মিনিট রেখে ধুয়ে ফেলুন।
-ভালো করে তোয়ালে দিয়ে মুছে অলিভ অয়েল ম্যাসাজ করে লাগিয়ে নিন। অন্তত ৪/৫ মিনিট ম্যাসাজ করবেন। এতে রক্ত সঞ্চালন বাড়বে।
খুব ভালো হয় যদি রাতে শোবার আগে এই কাজটি করতে পারেন। নিয়মিত ধৈর্য নিয়ে করলে ত্বকের সৌন্দর্য বৃদ্ধিতে অন্য কিছুর প্রয়োজন হবে না। বাড়তি পাওনা হিশেবে থাকবে নরম ও কোমল ত্বক, দূর হবে কালো দাগ, ব্রণের সমস্যাও চলে যাবে।

শুক্রবার, ১৩ মে, ২০২২

ওজন কমাতে অ্যাপেল সাইডার ভিনেগার

কীভাবে খাবেন:

১ থেকে ২ চামচ অ্যাপেল সাইডার ভিনেগার এর সাথে ১ গ্লাস হাল্কা গরম পানি মিশিয়ে নিন।এই মিশ্রণ ৩ বার খাবার গ্রহণের ৩০ মিনিট আগে পান করুন। তারপর নিয়ম মাফিক খাবার গ্রহণ করুন। তবে কেউ চাইলে এই মিশ্রন এ লেবুর রস এবং মধু মিশিয়ে নিতে পারেন।
তবে খুব বেশি পরিমাণ এ গ্রহণ না করাই ভালো। কারণ সকল ভিনেগারে অ্যাসিটিক এসিড থাকে যা অতিরিক্ত গ্রহনের ফলে গলায় ক্ষতি করতে পারে।

এবার জেনে নিই, এটি আসলে কীভাবে কাজ করে-
(১) এটি ক্ষুদা কমায়ঃ ACV খুব তাড়াতাড়ি খাবারের তৃপ্তি এনে দেয়। ফলে বেশি খাবার গ্রহণ থেকে বিরত থাকা যায়।
(২) ACV রক্ত শর্করাকে কন্ট্রোল করেঃ শরীর এর রক্ত শর্করা যখন স্থির থাকে তখন শুধুমাত্র যখন দরকার তখনই ক্ষুদা অনুভব হয়। অন্যান্য সময় খাবার গ্রহণ এড়িয়ে চলা যায়।
(৩) ACV চর্বি জমাট বাধাকে প্রতিরোধ করেঃযারা প্রতিদিন অ্যাপেল সাইডার ভিনেগার পান করে তাদের বিপাক ক্রিয়া বেড়েযায় এবং খুব দ্রুত চর্বি বার্ন করতে সাহায্য করে। এতে প্রচুর পরিমান এ অরগানিক এসিড এবং এনজাইম রয়েছে যা বিপাক বাড়াতে সাহায্য করে এবং যা চর্বি গলাতেও সাহায্য করে থাকে।
(৪) ইন্সুলিন-এর ক্রিয়াঃ ইনসুলিন চর্বি সঞ্চয়কে প্রভাবিত করে। এই হরমোনটি ব্লাড গ্লুকজ-এর সাথে সম্পর্কিত। এই হরমনের ঘাটতির কারনেই ডায়বেটিস দেখা দেয়। তাই যারা ডায়বেটিস রোগী বিশেষকরে টাইপ ২ ডায়বেটিস রয়েছে যাদের, তাদের জন্য অ্যাপেল সাইডার ভিনেগার সাহায্যকারী হিসেবে কাজ করতে পারে।
(৫) শরীরকে রোগ মুক্ত করতেঃ এই পানীয় টি হজমে সাহায্য করে, সেই সাথে বিপাক হার বাড়িয়ে শরীর থেকে বর্জ্য বের করে দিতে সাহায্য করে। যার ফলে শরীর সুস্থ্য ও রোগ মুক্ত থাকে।
শুধুমাত্র ওজন কমানো ছাড়াও আ্যপেল সাইডার ভিনেগার গায়ের চামড়া সুন্দর রাখতে, খসখসে ভাব দূর করতে এবং চুল পড়া রোধে সাহায্য করে। তাই গ্রীন টি’র মত এই পানীয়টি করে তুলতে পারে আপনাকে আরো সুন্দর ও আকর্ষণীয়।

শনিবার, ৩০ এপ্রিল, ২০২২

মেহেদির রঙ গাঢ় এবং হালকা করার উপায়



মেহেদির রঙ গাঢ় করার উপায়
০১. মেহেদি লাগানোর পরে যখন মেহেদি একটু একটু করে শুকাতে শুরু করবে তখন একটি পাত্রে সামান্য লেবুর রস আর চিনি মিশিয়ে তুলার বল দিয়ে রস টা নিয়ে হাতে মিশ্রণটি লাগান। মেহেদির উপর ঘষা ঘষি করবেন না। আলতো করে শুকিয়ে যাওয়া মেহেদির একটু উপর থেকে তুলার বল চিপে ফোটা ফোটা করে লেবু আর চিনির মিশ্রণটি পুরো হাতে লাগাবেন। লেবুর রস মেহেদির রঙটা পুরোপুরি মেহেদির পেস্ট থেকে বের করতে সাহায্য করে আর চিনি সেই রঙ আর মেহেদি অনেক্ষণ হাতে আটকে রাখতে সাহায্য করে। নিচে মেহেদির উপর লেবু আর চিনির মিশ্রণ দেয়ার ফলে যেরকম রঙ হয় সেই ছবি দেয়া হলো –

০২. রাতে ঘুমাতে যাওয়ার ২/৩ ঘণ্টা আগে লাগান, এবং সারা রাত হাতে মেহেদি রেখে দিন। মেহেদি শুকিয়ে গেলেও হাত ধুবেন না। আপনা আপনি কিছু পড়ে যাবে আর বাকি গুলো হাতে রেখেই ঘুমাতে পারেন অথবা হাত ঘষে মেহেদি ফেলে দিতে পারেন। অন্তত ৮ ঘণ্টা পানি থেকে হাত দূরে রাখুন। যত দেরীতে পানি লাগাবেন হাতে তত বেশি রঙ গাঢ় হবে।

০৩. রঙ গাঢ় করার আরেকটি উপায় হলো চুলার কাছে দাঁড়িয়ে মেহেদি শুকানো অথবা হেয়ার ড্রায়ারের সাহায্যে মেহেদি শুকানো। শুকিয়ে গেলে মেহেদি ফেলে দিবেন না। লেবু আর চিনির মিশ্রণ দিয়ে যতক্ষণ পারেন রাখবেন।

০৪. পুরো হাতে চিকন করে ডিজাইন না করে কিছু কিছু ডিজাইন ভরাট করে দেয়া উচিত। তাহলে মেহেদির রঙ টা বেশি ফুটে উঠবে।

০৫. মেহেদি তুলে ফেলার পর Vicks Balm লাগান এবং ৪/৫ ঘণ্টা হাতে রেখে দিন। এতে নিলগিরি তেল থাকে যা রঙ গাঢ় করবে। আমি হাতের মেহেদি তুলে Vicks Balm দেয়ার পর মেহেদীর রঙ এরকম হয়েছে।

০৬. মেহেদি একটু শুকিয়ে আসা শুরু করলে জিরা ভেজানো পানিও দিতে পারেন। এতেও রঙ হবে।

০৭. ব্যথা কমানোর বিভিন্ন Balm দিলেও বলা হয় যে মেহেদির রঙ গাঢ় হয়। ধারণা করা হয় যে ব্যথা কমানোর Balm ত্বকের নিচে তাপ তৈরির মাধ্যমে মেহেদির রঙ গাঢ় করে তুলে।

০৮. চুলার উপর একটি শুকনো তাওয়ায় কয়েকটি লবঙ্গ রেখে দিন। মেহেদি তোলার পর হাত ২ টি গরম তাওয়া থেকে একটু দূরে রেখে হালকা ভাপ লাগান হাতে। এতে রঙ গাঢ় হবে।

০৯. মেহেদি পাতা সরাসরি বেটে হাতে দিলে অনেকের হাতে কমলা রঙ হয়ে থাকে। এক্ষেত্রে নিচের যে কোনটি করা যাতে পারে –

• মেহেদি পাতা বাটার আগে মেহেদি পাতা গুলো সারা রাত গরম পানিতে ডুবিয়ে রাখতে হবে।
• চা পাতা জ্বাল দিয়ে সেটার মধ্যে সারা রাত মেহেদি পাতা বা মেহেদি গুঁড়ো রেখে দিন। পরের দিন বেটে হাতে লাগালে গাঢ় রঙ হবে।
• এক চা চামচ কফি পাউডার মিশিয়ে নিন মেহেদি গুঁড়োর সাথে। এতেও মেহেদির রঙ গাঢ় হবে।
( এখানে ৮ এবং ৯ নাম্বার আমি নিজে চেষ্টা করে দেখিনি। এ তথ্য গুলো আমি বিভিন্ন ভাবে সংগ্রহ করেছি)

মেহেদির রঙ তুলে ফেলার উপায়ঃ
ঈদ অথবা বিয়ের অনুষ্ঠান সব শেষ কিন্তু মেহেদির রঙ যাচ্ছেনা। এ অবস্থায় কি করবেন? সাধারণত যারা ধোয়া মোছার কাজ বেশি করেন, রান্নার কাজ করেন তাদের হাত থেকে খুব সহজেই মেহেদির রঙ উঠে যায়। কিন্তু যারা এসব কাজ করেন না, তারা অন্য ভাবে হাত থেকে রঙ তুলতে পারেন। যেমন –
০১. যে কোন ব্লিচ ক্রিম হাতে লাগিয়ে শুকিয়ে নিন। এরপর হাত ঘষে দেখুন মেহেদির রঙ অনেকটাই হালকা হয়ে গিয়েছে।
০২. বেকিং সোডার সাথে লেবুর রস মিশিয়ে হাতের লাগান, শুকিয়ে গেলে ধুয়ে ফেলুন।
০৩. দোকানের মেহেদি দিলে ঘন ঘন ২/১ দিন সাবান দিয়ে হাত ধুলেই চলে যাবে তবে সেক্ষেত্রে ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করতে হবে হাতে।
০৪. টুথপেস্ট হাতে মেখে শুকিয়ে নিন। তারপর ২ হাত ঘষলে দেখবেন মেহেদির রঙ উঠে আসছে।

মেহেদি লাগানোর ক্ষেত্রে সতর্কতাঃ
• কালো মেহেদি ত্বকের জন্য ভালো নয়, তাই এটি ব্যবহার না করাই ভালো।
• মেহেদির কোন কেনার সময় সেটার মেয়াদ দেখে কিনুন। পুরনো হলে রঙ হবে না একটু-ও।
• পার্লারে গিয়ে মেহেদি লাগাতে চাইলে আগে দেখে নিন ভালো নতুন মেহেদি দিচ্ছে কিনা। প্রয়োজনে নিজেই মেহেদি কোন কিনে নিয়ে যান।
• মেহেদির কোন ফ্রিজে রেখে দিলে হাতে দেয়ার আগে কিছুক্ষণ স্বাভাবিক তাপমাত্রায় রেখে দিন। তারপর হাতে লাগান।
• শিশুদের হাতে দিতে চাইলে দোকানের মেহেদি না দিয়ে বাসায় বেটে সেই মেহেদি দিন। হয়ত খুব সুক্ষ ডিজাইন হবেনা, কিন্তু তারপরেও দিন কারণ আপনার শিশুর ত্বকের চাইতে মেহেদির ডিজাইন নিশ্চয়ই গুরুত্বপূর্ন নয়। এখন বিভিন্ন মেহেদি পাওয়া যাচ্ছে যা ৫ মিনিটেই অনেক গাঢ় রঙ হয়ে যায়, কিন্তু এগুলো শিশুদের হাতে ঘন ঘন লাগানো উচিত না, যেহেতু এগুলোতে প্রচুর কেমিকেল থাকে। এমন কি বড়দের-ও ৫ মিনিটে রঙ হয় এমন মেহেদি ব্যবহার করা ঠিক না। এগুলো দিলে অনেক সময় হাত খসখসে হয়ে যায় এবং আঙ্গুলে ঝিম ঝিম করতে থাকে। তাছাড়া এগুলো যত তাড়াতাড়ি রঙ হয় ঠিক তত তাড়াতাড়ি এগুলোর রঙ চলে যায়।

শনিবার, ১৬ এপ্রিল, ২০২২

ঘরে বসেই পার্লারের মত পেডিকিউর-মেনিকিউর


প্রতিদিনের রোদ ও ধুলোবালিতে আমাদের মুখের পাশাপাশি হাত ও পাও ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এতে ত্বক কালো ও রুক্ষ হয়ে যায়। কিন্তু রূপচর্চায় আমরা হাত ও পাকে সবচেয়ে বেশি অবহেলা করে থাকি। হাত পায়ের উজ্জ্বলতা ধরে রাখার জন্য আমাদের নিয়মিত পেডিকিউর ও মেনিকিউর করা উচিত। কিন্তু পার্লারে গিয়ে পেডিকিউর ও মেনিকিউর করার তো আর সবার পক্ষে সম্ভব না। তাই আপনি বাসায় বসেই করে নিতে পারেন পার্লারের মত পেডিকিউর ও মেনিকিউর।

যা যা লাগবেঃ
পায়ের গোড়ালি ডোবে এমন একটি বড় বাটি
ব্রাশ
নেইল কাটার
ফাইলার
বাফার
কিউটিকল কাটার
শ্যাম্পু অথবা তরল সাবান
নেল পলিশ রিমুভার
পেট্রোলিয়াম জেলি/ লোশন
লেবু এবং চালের গুঁড়া, শসা গাজরের রস মিশিয়ে বানানো স্ক্রাব।

যেভাবে করবেনঃ
-প্রথমে নেইলপলিশ লাগানো থাকলে তা উঠিয়ে ফেলুন।
-গামলায় কুসুম গরম পানি নিয়ে এতে কিছু শ্যাম্পু মেশান। এরপর এতে ৫ মিনিট হাত ও পা ভিজিয়ে রাখুন। পায়ে ব্যথা থাকলে পানিতে একটু লবণ ছিটিয়ে নিন।
-এরপর পা মুছে নখ কেটে নিন। কিউটিকলে সমস্যা থাকলে কিউটিকল কাটার দিয়ে সাবধানে অতিরিক্ত কিউটিকল সরিয়ে নিন।
-এবার ঝামাপাথর দিয়ে পায়ের নিচে ও গোড়ালি ঘষে নিন। এতে করে পায়ের মরা চামড়া উঠে যাবে।
-এরপর নখে পেট্রোলিয়াম জেলি মেখে আবার ভিজিয়ে রাখুন কিছুক্ষণ। এরপর ম্যাসাজ করে পরিষ্কার করে নিন। একটি শুকনা তোয়ালা দিয়ে পা মুছে ফেলুন।
এরপর আসবে স্ক্রাবের পালা। প্রথমে পায়ে স্ক্রাব মেখে রাখুন তিন মিনিট। তারপর ম্যাসাজ করে নিন দুই মিনিট, তারপর ব্রাশ দিয়ে ঘষে পানিতে ধুয়ে ফেলুন।
-আবার পা ধুয়ে এবার নখে ও আঙুলে লেবুর রস মেখে পরিষ্কার করে নিন। নখ চকচকে করতে বাফার ঘষে নিতে পারেন। সবশেষে পা ধুয়ে মুছে ময়েশ্চারাইজার বা লোশন লাগিয়ে নিন।
ব্যাস হয়ে গেল পেডিকিওর। ঠিক একই ভাবে হাতেও সেরে নিন মেনিকিউর। প্রথমে পেডিকিউর করার পর মেনিকিউর, এতে হাতে বাড়তি চাপ পড়বে না। মাসে দুবার পেডিকিউর মেনিকিউর করলে হাত ও পায়ের কালো দাগ দূর হয়ে যায়।

শুক্রবার, ১১ মার্চ, ২০২২

গরমে ত্বকের যত্নের গোপন ফর্মুলা


পানি পান :
পানি শরীরে আর্দ্রতা আনার পাশাপাশি ত্বককে করে তোলে সজীব। গ্রীষ্মে ত্বক সুন্দর রাখতে প্রয়োজন প্রচুর পানি পান করা।

ত্বক পরিষ্কার রাখা :
গরমে ত্বক পরিষ্কার রাখা জরুরি। সকালে ঘুম থেকে জেগে ও রাতে ঘুমাতে যাওয়ার আগে অবশ্যই ত্বক পরিষ্কার করুন। নিয়ম করে ত্বক পরিষ্কার করতে ভুলবেন না। কমলালেবুর রস ময়েশ্চার হিসেবে ভালো কাজ করে। সঙ্গে দুধ ও ময়দা মিশিয়ে মুখের ত্বক পরিষ্কার করুন। ত্বকে অতিরিক্ত খসখসে ভাব থাকলে রাতে ঘুমানোর সময় ত্বক পরিষ্কার করে পেট্রোলিয়াম জেলি লাগিয়ে ম্যাসাজ করুন।

রোদ এড়িয়ে চলা :
গ্রীষ্মে ত্বকের সুস্থতার অন্যতম শর্ত হচ্ছে রোদ থেকে দূরে থাকা। নইলে রোদে পুড়ে ত্বকে দেখা দেবে কালচে ভাব। রোদে পোড়া দাগ দূর করতে লেবুর রস কার্যকর। পেঁপে প্রাকৃতিক ক্লিনজার হিসেবে ভালো কাজ করে। ত্বক পরিষ্কার করতে দুই টেবিল চামচ পেঁপের পেস্টের সঙ্গে এক চা চামচ মধু ও একটা ডিমের সাদা অংশ মিশিয়ে ফেসপ্যাক হিসেবে ব্যবহার করলে ভালো ফল পাওয়া যাবে।

ত্বক শীতল রাখা :
এই সময়ে ত্বকের শীতলতা খুব প্রয়োজন। এক টেবিল চামচ কোরানো শসার সঙ্গে এক টেবিল চামচ টক দই মিশিয়ে ত্বকে মাখুন। ২০ মিনিট পর ধুয়ে ফেলুন। এ ছাড়া মুখ ধোয়ার পানিতে দু-এক ফোঁটা গোলাপজল মিশিয়ে নিন; সতেজ অনুভূতি পাবেন।
ওয়াটার বেজ্ড ময়েশ্চারাইজার :
গরমের সময় ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার বন্ধ করবেন না। ময়েশ্চারাইজার ত্বকে আর্দ্রতা জোগানোর পাশাপাশি ত্বককে নরম রাখে। গরমের সময় ওয়াটার বেজ্ড ময়েশ্চারাইজার বেছে নিন ত্বকের যত্নে। এ ছাড়াও ওয়াটার বেজ্ড বা পানিনির্ভর প্রসাধনী ব্যবহার করুন। তেলের প্রাধান্য আছে এমন প্রসাধনী ব্যবহার থেকে দূরে থাকুন।

এসবের পাশাপাশি আরও কিছু দিক খেয়াল রাখা জরুরি:

_গরমে যাদের ঘামাচি হয়, নিমপাতার রস ব্যবহারে তারা উপকার পাবেন। ঘাম বেশি হলে ট্যালকম পাউডারের সঙ্গে এক চিমটি খাবার সোডা ব্যবহার করুন।

_গ্রীষ্মে ত্বক তৈলাক্ত হয়ে পড়ে। শসা বাটা ও মসুর ডাল বাটা পেস্ট করে মুখে মেখে ১৫ মিনিট পর ধুয়ে ফেলুন। মুখের তৈলাক্ত ভাব কেটে যাবে।

_রোদেপোড়া ভাব দূর করে ত্বকের উজ্জ্বলতা ও মোলায়েম ভাব আনতে লাউয়ের রস, তরমুজের রস বরফ করে মুখে ঘষুন।

_গরমে অনেকের ত্বকে হিট র‌্যাশ দেখা দেয়। এটি এড়াতে দইয়ের সঙ্গে হলুদ বা নিমপাতা বাটা মিশিয়ে ত্বকে মাখুন। খানিকটা লাউ থেঁতো করে সঙ্গে তুলসীপাতা ও চালের গুঁড়া মিশিয়ে ব্যবহার করলে র‌্যাশ হবে না। বাড়বে ত্বকের উজ্জ্বলতাও।

রবিবার, ৩০ জানুয়ারি, ২০২২

পায়ের যত্নে ঘরোয়া ফুট স্ক্রাব ও মাস্ক

পা নরম কোমল করতে স্ক্রাবঃ
যা যা লাগবে-
-ব্রাউন সুগার ২ টেবিল চামচ
-লেবুর রস ১ টেবিল চামচ
-মধু ১ টেবিল চামচ
-অলিভ অয়েল ১ টেবিল চামচ

রেসিপি-
একটি বাটিতে সব উপাদান একসাথে নিয়ে ভালোভাবে মেশাতে থাকুন যতক্ষণ না এটি নরম পেস্ট আকার ধারণ করে। এবার আপনার পা দুটি একটি বড় গামলায় গরম পানি নিয়ে সেই পানিতে ১০ থেকে ২০ মিনিট ডুবিয়ে রাখুন। এতে করে আপনার পায়ের আলগা ময়লা স্তর নরম হয়ে যাবে, বাটি থেকে পেস্ট নিয়ে আপনার পায়ে লাগান এবং আলতো হাতে ঘষতে থাকুন। একই উপায়ে অপর পায়েও এই স্ক্রাব লাগান। কিছু সময় এভাবে পায়ে এই স্ক্রাব ম্যাসাজ করে পা ধুয়ে ফেলুন।
এটি আপনার পায়ের ডেডসেল ও শক্ত ভাব দূর করে পা নারিশ আর সফট করে।

কলা ফুট মাস্কঃ
যা যা লাগবে-
-পাকা কলা
-হালকা গরম পানি(প্রয়োজন মতো)

রেসিপি-
পাকা কলা চটকে আপনার পায়ের গোড়ালিতে লাগান। এটি লাগিয়ে ১৫ মিনিট অপেক্ষা করুন এবং এরপর হালকা গরম পানি দিয়ে আপনার পা ধুয়ে ফেলুন।
এই মাস্কের বিশেষত্ব হচ্ছে যাদের পায়ের গোড়ালি ফাটা বা খসখসে তারা এই ফুট মাস্ক ব্যবহার করার ফলে পা ফাটা থেকে মুক্তি পাবেন ও পায়ের গোড়ালি নরম কোমল আর সুন্দর হয়ে উঠবে। কারণ কলা আপনার পায়ের জন্য ভালো ফুট ময়েশ্চারাইজারের কাজ করে।

ফুট ময়েশ্চারাইজার-
যা যা লাগবে-
-পেট্রোলিয়াম জেলি ১ টেবিল চামচ
-লেবুর রস ২ থেকে ৩ ফোঁটা
-গরম পানি
-পায়ের কটন মোজা

রেসিপি-
পেট্রোলিয়াম জেলি ও লেবুস রস দিয়েই আপনি ঘরে বসে আপনার ফুট ময়েশ্চারাইজার বানিয়ে ফেলতে পারেন। এই দুই উপাদান একসাথে নিয়ে ভালোভাবে মিশিয়ে নিন। তবে পায়ে এটি লাগানোর আগে আপনার পা হালকা গরম পানিতে ১০ মিনিট ডুবিয়ে রাখুন। রাতে ঘুমাতে যাওয়ার আগে আপনার পায়ে এই ময়েশ্চারাইজার লাগিয়ে আলতো ম্যাসাজ করে পায়ে মোজা দিয়ে রাখুন। পরদিন সকালে উঠেই পাবেন সুন্দর কোমল এক জোড়া নজরকাড়া আকর্ষণীয় পা।

ফুট মশ্চারাইজার ক্রিম-
-অলিভ অয়েল ১ টেবিল চামচ
-ল্যাভেন্ডার অয়েল ২ থেকে ৩ ফোঁটা

রেসিপি-
অলিভ অয়েল ও ল্যাভেন্ডার অয়েল একসাথে ভালোভাবে মিশিয়ে নিন। এরপর এই মিশ্রণ যখন আপনার প্রয়োজন বা ইচ্ছে হয় ব্যবহার করতে পারেন।
শুধু মনে রাখবেন যখনই এই ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করবেন ক্রিমটা ভালো ভাবে ঝাঁকিয়ে নেবেন। এটি ব্যবহারে আপনার পায়ের সৌন্দর্য কয়েক গুণ বেড়ে যাবে।

পায়ের যত্নে কিছু হ্যান্ডি টিপসঃ
-পর্যাপ্ত পানি পান করুন সাথে তাজা সবজি ও ফলমূল খান।
-পায়ের নিয়মিত যত্ন করুন, পায়ের নখ বেশি বড় না করাই ভালো।
-শুধু মুখের ত্বকে নয় পায়েও ময়েশ্চারাইজার লাগান।
-পায়ে সব সময় হিলজুতো পড়া থেকে বিরত থাকুন। আবার একেবারে খুব পাতলা সোলের জুতাও পরবেন না।
-গরমকালে বেশি পায়ে ঘাম হয় তাই বাইরে থেকে এসে অবশ্যই পা ধুয়ে ফেলবেন।

বুধবার, ২৬ জানুয়ারি, ২০২২

শীতে চুলের খুশকি দূর করার সহজ ৫টি উপায়

মাথার তালুর সাদা বর্ণের মৃত চামড়াকে খুশকি বলে। মাথার তালু শুষ্ক হলে অথবা সেবোরহেইক ডারমাটাইটিস এর জন্য খুশকি হয়। এছাড়াও এক্সিমা, সোরিয়াসিস বা ম্যালাসেজিয়া নামক ছত্রাকের আক্রমনেও খুশকি হতে পারে। যে কোন বয়সের মানুষেরই খুশকির সমস্যা হতে পারে, তবে টিনএজার ও প্রাপ্তবয়স্কদের বেশি হয়ে থাকে। এটা বিরক্তিকর ও অস্বস্তিকর একটি সমস্যা তবে মারাত্মক কোন সমস্যা নয়। খুশকির পরিমাণ বেশি হলে ব্রণ ও চুলকানির সমস্যা হতে পারে। খুশকি নিয়ন্ত্রণের জন্য সহজ ও কার্যকরী কিছু ঘরোয়া পদ্ধতি আছে। আসুন সেই পদ্ধতি গুলো জেনে নেই।

১। ভিনেগার

খুশকি দূর করার জন্য সবচেয়ে কার্যকরী উপাদান হচ্ছে ভিনেগার যা সস্তা ও সহজ লভ্য।আপেল সিডার ভিনেগার বা সাদা ভিনেগার দুইটাই খুশকি নির্মূলের কাজে ব্যাবহার করা যায়।
-এক কাপের ৪ভাগের ১অংশ ভিনেগার এবং ৪ভাগের ৩অংশ পরিমাণ পানি একসাথে মিশিয়ে চুল ধোয়ার পর ব্যাবহার করুন।
-ভিনেগার দেয়ার পর আর চুল ধোবেন না।তোয়ালে দিয়ে মুছে নিন।চুল শোকানোর সাথে সাথে ভিনেগারের গন্ধও চলে যাবে।
-যতদিন না খুশকি দূর হচ্ছে নিয়মিত ভিনেগার ব্যবহার করুন।

২। নিম

নিমে ছত্রাক নাশক ও ব্যাকটেরিয়া নাশক উপাদান আছে।তাই শুধু খুশকি দূর করার জন্যই না মাথার তালুর অ্যাকনি,চুলকানি এবং চুল পড়া বন্ধ করতেও নিম ব্যাবহার করা হয়।নিমকে ইন্ডিয়ান লাইলাক ও বলা হয়।
– চার কাপ পানিতে এক মুঠো নিম পাতা দিয়ে সিদ্ধ করুন
– ঠান্ডা করে মিশ্রণটি ছেকে নিন
– এই মিশ্রণটি চুলে ব্যবহার করুন সপ্তাহে ২-৩বার।

৩। নারিকেল তেল

ক্রাঞ্চিবেটি ডট কম এর মতে খুশকির চিকিৎসায় নারিকেল তেল প্রয়োগ কার্যকরী প্রমাণিত হয়েছে।
-গোসলের আগে ৩-৫ টেবিল চামুচ নারিকেল তেল মাথার তালুতে লাগান এবং এক ঘন্টা রাখুন
-তারপর শ্যাম্পু দিয়ে চুল ধুয়ে ফেলুন।

৪। মাউথওয়াশ

খুশকির সমস্যা দূর করার জন্য মাউথ ওয়াশ ব্যাবহার করলে উপকার পাওয়া যায়। খুশকির সমস্যা অনেক বেশি হলে চুল ধোয়ার পর মাথার তালুতে মাউথ ওয়াশ লাগান। এভাবে ৫-১০মিনিট রেখে চুল ধুয়ে ফেলুন।চোখে যেন না লাগে সে ব্যাপারে সতর্ক থাকুন। সপ্তাহে একবার এটা করতে পারেন।

৫। লেবু

খুশকি দূর করতে লেবু চমৎকার কাজ করে। গোসলের আগে মাথার তালুতে ভালো ভাবে লেবু ম্যাসাজ করুন। কিছুক্ষণ পর ধুয়ে ফেলুন। লেবু খুশকি দূর করার পাশাপাশি চুলের আঠালো ভাব দূর করে এবং উজ্জ্বলতা দান করে।
নিয়মিত চুল আঁচড়ান, এতে মাথার তালুর রক্ত চলাচল বাড়বে এবং তেল এর নিঃসরণ বাড়বে। স্ট্রেস এর কারনে খুশকি বাড়তে পারে।তাই স্ট্রেস মুক্ত থাকার চেষ্টা করুন।স্বাস্থ্যকর খাবার খান।অস্বাস্থ্যকর খাবার যেমন- ফাস্ট ফুড ও চিনি সমৃদ্ধ খাবার কম খান।ভিটামিন বি৬ ও জিঙ্ক সমৃদ্ধ খাবার খান,কারণ এগুলো চুল ও তালুর ত্বক ভালো রাখে।পর্যাপ্ত পানি পান করুন।