মঙ্গলবার, ৩০ মার্চ, ২০২১

২০২১ সালে মেয়েদের সেরা ১০টি বিউটি টিপস


আজ আমরা আলোচনা করবো মেয়েদের সেরা ১০টি বিউটি টিপস নিয়ে। শীতকাল হোক কিংবা গরমকাল চুল আর ত্বকের যত্ন কিন্তু আমাদের সবসময় নিতে হয়।নয়তো চুল উস্কো-খুশকো হয়ে পড়ে এবং ph এর মান বেড়ে যায়।আর ph এর মাত্রা বেরে যাওয়া মানেই ত্বকের অম্লত্ব কমে যাওয়া।যার ফলে  জীবানুর আক্রমণও বেড়ে যায়।তাই চুলের যত্ন নেওয়া আবশ্যক।অনেকের ক্ষেত্রে পার্লারে ব্যবহৃত কেমিক্যাল এর নানা ধরনের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা যায়।আর তাছাড়া বর্তমানে করোনা পরিস্থিতির কারণেও অনেকে ই ঘরবন্দি।তাই আজ  ঘরোয়া পদ্ধতিতে থাকছে  মেয়েদের সেরা ১০টি বিউটি টিপস নিয়ে কথাবার্তা।

সেরা ১০টি বিউটি টিপস

রুক্ষ চুল প্রতিরোধে করনীয় বিউটি টিপস

কথায় বলে নারীর সৌন্দয্য নারীর চুলে।কিন্তু সেই চুল যদি হয় রুক্ষ এবং উষ্কোখুশকো তাহলে দেখতে যেমন অসুন্দর লাগে আর চুলে পরজীবী এবং জীবাণুর আক্রমণের কারণে চুলের বৃদ্ধিও প্রতিহত হয়।রুক্ষ শুষ্ক চুল আমাদের মেয়েদের খুব পরিচিত একটা সমস্যা।রুক্ষ শুলের মূল কারন আদ্রতার অভাব।

রুক্ষতায় চুলের সৌন্দর্য যেমন নষ্ট হয় পাশাপাশি চুলের স্বাস্থ্যও নষ্ট হয়।তাই চুলের রুক্ষতা প্রতিরোধে প্রয়োজন নিয়মিত তেল মাসাজ করা। ১দিন পর পর তেল দেওয়া অপরিহার্য। 

এছাড়া চুলে  ডিমপর কুসুম এবং জলপাই তেল এর মিশ্রন চুলের শুষ্কতা দূরীকরণে সহায়তা করে।অতিরিক্ত শ্যাম্পু ব্যবহার করা ঠিক নয়।সপ্তাহে দুদিন শ্যাম্পু করায় যথেষ্ট। তবে আপনার ত্বক অতিরিক্ত তৈলাক্ত হলে আপনি চুলে ড্রাই শ্যাম্পু তৈরি করে ব্যবহার করতে পারেন। আর শ্যাম্পুর পর প্রোটিন ও তেল সমৃদ্ধ কন্ডিশনার ব্যবহার করলে চুল আরো স্বাস্থ্যজ্জ্বল হয়।

চুল সিল্কি করতে করনীয় বিউটি টিপস

সিল্কি এবং স্ট্রেট চুল কে না চায়!আমরা অনেকে চুল সিল্কি করার জন্য পার্লারে যাই।কিন্তু পার্লারে ব্যবহৃত বিভিন্ন কেমিক্যাল এ পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া থাকায় অনেকের জন্যই এটা ক্ষতিকর। তাছাড়া যারা হিজাব ব্যবহার করেন তাদের চুলগুলো বেশি উষ্কখুষ্ক থাকে।আর এজন্য ঘরোয়া কিছু টিপস ব্যবহার করলে মন্দ হয় না!

  • শ্যাম্পু করে চুল হালকা শুকিয়ে যাওয়ার পর অ্যালভেরা জেল এবং দুই চামচ লেবুর রস এর পেষ্ট বানিয়ে চুলে প্রয়োগ করলে চুল সিল্কি হয়।
  • আর একটি উপায় হলো কলাকে ব্লেড করে  চুলের পরিমাণ অনুযায়ী মধু এবং তেল মিশিয়ে পেষ্ট বানিয়ে সবগুলো চুলে লাগালে খুব তাড়তাড়ি ফল পাওয়া যায়।
  • চাপাতার রস(পানি এবং চাপাতার ভিজিয়ে রেখে) সাথে দু ফোঁটা ই-ক্যাপসুল এবং পারলে আধ চামচ গ্লিসারিন এর মিশ্রণ চুলে প্রয়োগ করলেও চুলের কার্যকরী ফল পাওয়া সম্ভব।
চুলের খুশকি দূরীকরণ বিউটি টিপস

চুলের খুশকি ঝামেলায় শুধু মেয়েরা নয় ছেলেরা পড়েন।এটি আবহাওয়া পরিবর্তনের সময় বেশি দেখা যায়।খুশকির কারণে চুলের বৃদ্ধি থেমে যায়।কারো কারো ক্ষেত্রে মাথা চুলকায়।আর এজন্য কিছু ঘরোয়া সমাধান আছে।

  • শ্যাম্পুর সাথে কিছু পরিমান লেবুর রস এবং এক চামচের মতো চিনি দিয়ে পেষ্ট বানিয়ে মাথার ত্বকে ব্যবহার করলে খুশকি দূর করা সম্ভব হয়
  • চুলের উপকারিতার জন্য পিঁয়াজের কোনো বিকল্প নেই।পিঁয়াজ চুলের বৃদ্ধি এবং খুশকি দূরীকরণে সহায়তা করে।পিঁয়াজের রস এর  সাথে অ্যালভেরা জেল মিশিয়ে সাথে দুটি ভিটামিন-ই দিয়ে তৈরিকৃত পেষ্ট চুলের গোড়ায় প্রয়োগ করে এর এক ঘন্টা পর শ্যাম্পু করে ফেললে চুলের খুশকি অনেকাংশেই কমে যায়।এই প্রক্রিয়াটি কয়কদিন ধরে করলে চুল পড়া রোধ এবং খুশকি দূর হয়।

চুল পড়া রোধে করনীয় বিউটি টিপস

চুল পড়ে যাওয়া,চুল পাতলা হয়ে যাওয়া এই সমস্যায় পড়েন নি এমন কাউকে পাওয়া বিরল।নানা কারণে চুল পড়ে।চুলে খুশকি বা উকুন থাকলে,চুলের গ্রোথ কমে গেলে,চুলের পুষ্টির অভাব হলে এবং আরো নানা কারণে আমাদের চুল পড়ে।চুল পড়া রোধে করনীয় চুলের বিশেষ যত্ন নেওয়া।আর এরজন্য প্রয়োজন কিছু কার্যকরী টিপস মেনে চলা। নয়তো চুল পড়ার হার আরো বৃদ্ধি পাবে।

  • প্রথমে মেথি ব্লেন্ড করে এর রস পিঁয়াজের রসে মিশিয়ে  দুই চামচ নারকেল তেল দিয়ে ভালো করে পেষ্ট বানিয়ে মাথার ত্বকে সপ্তাহে তিনদিন ব্যবহার করলে চুল পড়া রোধ করা সম্ভব।
  • চুল পড়া রোধে আরেকটি উপকরণ হলো নিম তেল। নিম শুধু চুলের জন্য নয় ত্বকের জন্যেও খুবই উপকারী।নিমে রয়েছে এন্টি-অক্সিড যা মাথার ত্বকের রকৃত সঞ্চালনে সহায়তা করে।নিম তেল চুলের বৃদ্ধিতে খুবই গুরত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।তাই চলুন ছটফট জেনে নিই কিভাবে ঘরে বসেই নিম তেল বানানো যায়। কিছু ফ্রেশ নিম পাতা এবং অ্যালভেরা কুচি করে ব্লেন্ড করে নারিকেল তেল মিশিয়ে গরম পানিতে দশমিনিটের মতো চুলায় রেখে এরপর চাকনি দিয়ে শুধু রসটুকু নিলেই নিম তেল তৈরি হয়ে যায় এবং এটি সপ্তাহে তিনদিন ব্যবহার করে শ্যাম্পু করলে চুল পড়া কমে যায়।

আশা করি  চুলের যত্নে এই ৪টি  বিউটি টিপস এর মধ্যে  কয়কটি টিপস সঠিকভাবে প্রয়োগ করলে চুলের গ্রোথ বৃদ্ধি, চুল পড়া রোধে,চুলের খুশকি দূরীকরণে কার্যকরী ফল পাওয়া যাবে।এছাড়াও শুধু চুলের যত্ন নয় সঠিক পরিমাণে খাদ্য গ্রহণ বিশেষ করে ভিটামিনযুক্ত খাদ্যগ্রহণ করাও চুলের জন্য অপরিহার্য।

লম্বা বেণীতে বা বিশাল খোঁপায় নিজেদের সাজাতে কার না মন চায় বলুন।কে না চায় পাতলা চুল ঘন করতে?এই আপনি ই ত একদিন রাস্তা দিয়ে যখন যাইতেছিলেন তখন সবাই আপনার খোপার দিকে বড় বড় চোখ দিয়ে তাকিয়ে থাকত। মা-খালাদের বা দাদা-দাদুদের কাছে শুনেছি কয়েক শ বছর আগেও দেখা যেত মেয়েরা এই মোটা বেণী করে বাইরে যাচ্ছে। আর এখন চারদিকের ব্যস্ততায় আমরা আজ কেমিক্যাল নির্ভর হয়ে গেছি। আবহাওয়া, ধুলোবালির কারণে আমাদের মাথা থেকে চুল উধাও হয়ে যাচ্ছে কিন্তু সেই অনুপাতে চুল গজাচ্ছে না। তাহলে জেনে নেয়া যাক এমন ১০টি উপায় যা ব্যবহার করে আপনার পাতলা চুলকে ঘন করতে সাহায্য করবে।

১)পাতলা চুল ঘন করবে অ্যালোভেরা তেল

চুলকে ঘন ও মোটা করতে অ্যালোভেরা খুবই উপকারী। যারা রুপচর্যা করেন তারা ঠিক ভাল করেই জানেন যে অ্যালোভেরা কতটা কাজে লাগে। আপনার যদি মাথার চুল পাতলা হয়ে থাকে তাহলে চোখ বন্ধ করে আপনি অ্যালোভেরার তেল ব্যবহার করতে পারেন ।

এতে আপনার পাতলা চুল ঘন করতে সাহায্যে করবে। অ্যালোভেরার পাতা সমান দুই ভাগে ভাগ করে সমস্ত রস টি বের করে নিন। তারপর একটি পাত্রে নারিকেলের তেল গরম করুন, এবার তেল গরম হয়ে গেলে আঁচ কমিয়ে খুস সাবধানে এ্যলোভেরার রসটি ঢালুন। এবার ৬/৭ মিনিট অনড়বড়ত নাড়তে থাকুন। দেখবেন অ্যালোভেরার রসটি তেলের সাতে মিশে গেছে। এখন তেল ঠান্ড হয়ে এলে এটি একটি বোতলে ভরে রেখে দিন। রাতে ঘুমানোর সময় একটি পাত্রে রেখে গরম করে চুলে ম্যাসাজ করুন। এই তেল টানা ১৪দিন পর্যন্ত ভাল থাকবে।

২) পাতলা চুল ঘন করতে আমলকির অবদান

পাতলা চুলকে ঘন করতে আমলকির উপকারিতা অনেক। তাই নিয়মিত আমলকীর তেল ব্যবহার করুন।আমলকী ভালোভাবে পরিষ্কার করে একটি পাত্রে আমলকী থেকে ভিতরের বীজটি বাহির করে ফেলুন । এবার আমলকিগুলো কে হালকা পানি দিয়ে বেটে তার রসটি বের করে নিন।এবার নারেকেল তেল গরম করে আমলকির রসের সাথে ৫/৭ মিনিট ধরে মিশিয়ে নিন। যথন দেখবেন তেল বাদামী রং ধারন করছে আর হালকা শুকিয়ে আসছে তখন ঠান্ডা করে একটি বোতলে সংরক্ষন করুন। প্রতিদিন রাতে আপনার মাথার স্ক্যাল্প এ ম্যাসাজ করুন। এতে আপনার পাতলা চুল ঘন হয়ে উঠবে।

৩) পেয়াজে এর তেল

এই মিশ্রণটি আপনার তৈরী করতে প্রয়োজন হবে ২টি ছোট সাইজের পেঁয়াজ, ১কাপ নারকেলের তেল এবং ৪টি রসুনের কোয়া।প্রথমে রসুনের কেয়াগুলি পরিষ্কার করে নিন।তারপর পেয়াজ স্লাইস করে কেটে নিন।এবার নারকেলের তেলটি একটি পাত্রে গরম করে রসুন ও পেঁয়াজ এর স্লাইসগুলি দিয়ে হালকা করে নাড়তে থাকুন যতক্ষন না পেঁয়াজ বাদামী কালার হয়ে আসলে তা ছেকে একটি বোতলে সংরক্ষনে রাখুন।প্রতিদিন রাতে এই তেল আপনার স্ক্যাল্প এ ব্যবহার করুন। সকারে উঠে হালকা গরম পানি দিয়ে শ্যাম্পু করে ফেলুন।

৪) আদার তেল

আদার তেল চুলের গোড়া মজবুত ও শক্ত করার পাশাপাশি নতুন চুল গজাতে সাহায্যে করে। আপনি চাইলে আদার তেল বাজার থেকে ও সংগ্রহ করতে পারবেন। আর যদি টাকা বাচানোর প্লান থাকে তাহলে আপনার জন্য রয়েছে গরোয়া টিপস। আশা করছি কিছুটা হলেও হেল্প করতে পেরেছি।


কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন